13/04/2026
চৈত্র সংক্রান্তি বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। আর এই দিনটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো 'পাচন' বা 'পাঁচন' তরকারি। মূলত বৈশাখকে বরণ করে নেওয়ার আগে শরীরকে প্রস্তুত করতেই এই বিশেষ খাবারের প্রচলন।
চৈত্র সংক্রান্তির পাচন নিয়ে কিছু মজার ও প্রয়োজনীয় তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. বহু সবজির সমাহার
পাচন কোনো সাধারণ তরকারি নয়; এতে হরেক রকমের সবজি ব্যবহার করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে বলা হয়, এতে কমপক্ষে ১০৮ রকমের শাক-সবজি থাকার কথা, তবে বর্তমানে সামর্থ্য অনুযায়ী ৫, ৭, ৯ বা ২১ রকমের সবজি দিয়ে এটি রান্না করা হয়।
২. উপকরণ ও ওষুধি গুণ
এই তরকারিতে সাধারণত এমন সব সবজি দেওয়া হয় যেগুলোর ওষুধি গুণ রয়েছে। যেমন:
তেঁতো সবজি: নিম পাতা বা করলা (রক্ত পরিষ্কার রাখার জন্য)।
দেশি সবজি: কাঁচকলা, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, শজিনা ডাটা, ডুমুর, কাঁঠালের বিচি ইত্যাদি।
অন্যান্য: কাঁচা আম বা তেঁতুলের টকও অনেকে ব্যবহার করেন স্বাদে ভিন্নতা আনতে।
চৈত্র মাসের শেষে গরমের তীব্রতা বাড়ে, তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই তিতো-মিষ্টি সবজির মিশ্রণ অত্যন্ত উপকারী।
৩. রান্নার বিশেষত্ব
পাচন রান্নায় সাধারণত খুব বেশি মসলা ব্যবহার করা হয় না। সর্ষের তেল, পাঁচফোড়ন আর শুকনো মরিচ ফোড়ন দিয়েই এর আসল স্বাদ ফুটে ওঠে। কোনো কোনো অঞ্চলে এতে ডালের বড়ি বা ভেজানো ছোলাও দেওয়া হয়।
৪. সাংস্কৃতিক তাৎপর্য
বাঙালি হিন্দু পরিবারে এই রান্নাটি শুধু খাবারের জন্য নয়, বরং এটি একটি আচার। মনে করা হয়, বছরের শেষ দিনে এই পাচন খেলে সারা বছর রোগবালাই দূরে থাকে। আদিবাসী বিশেষ করে ত্রিপুরা ও চাকমা সম্প্রদায়ের মধ্যে 'পাচন' বা 'পাজন' উৎসবের একটি অপরিহার্য অংশ।