02/09/2026
ভাজাপোড়া রান্না হচ্ছে। বেশ পরিমাণেই হচ্ছে। একদম গরম গরম। ফিলারটাও দেখতে সুস্বাদু লাগছে।
আর মানুষ তো খাচ্ছেই—নইলে এত পরিমাণে রান্নাই বা কেন হবে?
তবে রান্নাটা হচ্ছে খোলা ড্রেনের ওপর। মানে ড্রেনের ওপর ঢাকনা দেওয়া, যেখানে ভেন্টিলেটরের মতো বড় বড় ছিদ্র আছে।
সুতরাং বাতাসের মাধ্যমে আশেপাশের নানা জীবাণু ও দূষিত কণা খাবারের আশেপাশে আসার সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
গন্ধ বা smell molecule-এর কথাও না হয় বাদই দিলাম।
আর রান্নাটা হচ্ছে কোথায়? একটা পুরো দমে ব্যস্ত রাস্তার ঠিক পাশে। ধুলোবালি, গাড়ির ধোঁয়া, মানুষের চলাচল—সবকিছুর মাঝখানে।
যিনি খাবার বানাচ্ছেন, তাঁর personal hygiene নিয়ে নতুন করে কিছু না-ই বললাম।🙂
কিন্তু আমার প্রশ্নটা আসলে অন্য জায়গায়।🤨
এই খাবার খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে। কারও পেট খারাপ হয়। কারও হয়তো food poisoning।
আবার কেউ একই খাবার খেয়েও সেদিন দিব্যি সুস্থ থাকে। এমনকি এমন মানুষও আছে, যারা বছরের পর বছর এ ধরনের খাবার খেয়েছে কিন্তু দৃশ্যমান কোনো বড় সমস্যার মুখোমুখি হয়নি।
তাহলে প্রশ্ন হলো—কাকে অসুস্থ হতে দেওয়া হবে আর কাকে হবে না, এই selectionটা কীভাবে হয়?🤔
শুধু immune system বললে কি পুরো উত্তর পাওয়া যায়?
Psychology আমাদের একটি interesting বিষয় শেখায়—মানুষ পৃথিবীতে randomness বা uncertainty খুব সহজে গ্রহণ করতে পারে না।🤗
আমাদের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই pattern খোঁজে। তাই ভালো কিছু ঘটলে আমরা কারণ খুঁজি, খারাপ কিছু ঘটলেও কারণ খুঁজি।
আর যখন কোনো ঘটনার পেছনের সব কারণ আমাদের জানা থাকে না, তখন আমরা সেটাকে হয়তো luck, chance, fate কিংবা destiny বলে ব্যাখ্যা করি।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—একটি outcome-এর পেছনে অসংখ্য variable কাজ করতে পারে।
একই খাবার হলেও কার শরীরে কতটা জীবাণু প্রবেশ করল, কার শরীরের বর্তমান অবস্থা কেমন, আগে কী exposure ছিল, শরীর কীভাবে react করল—সবকিছু এক নয়।
আমরা outcome দেখি, কিন্তু পুরো process দেখতে পাই না‼️
আর এখানেই ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিটা আমার কাছে আরও গভীর মনে হয়।😌
ইসলাম আমাদের কারণ গ্রহণ করতে বলে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে বলে। ক্ষতিকর জিনিস থেকে দূরে থাকতে বলে।
অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে বলে। অর্থাৎ, সতর্কতা নেওয়া ঈমানের বিপরীত নয়; বরং দায়িত্বের অংশ।
কিন্তু একই সঙ্গে ইসলাম এটাও শেখায়—সব কারণ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা মানুষের হাতে নেই।
তুমি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারো, তবুও অসুস্থ হতে পারো।
আবার কেউ বছরের পর বছর অবহেলা করেও আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ থাকতে পারে।
এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে:
কারণ কাজ করে—কিন্তু কারণের ফলাফল ঘটানোর পূর্ণ ক্ষমতা কারণের নিজের নেই।💥
আগুন পোড়ানোর মাধ্যম, কিন্তু আগুন নিজে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয় না কাকে পোড়াবে। ওষুধ আরোগ্যের মাধ্যম, কিন্তু প্রতিটি ওষুধ প্রতিটি মানুষের শরীরে একই ফল দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
খাবারে জীবাণু থাকতে পারে, exposure হতে পারে, risk বাড়তে পারে—কিন্তু একই exposure সবার জন্য একই outcome তৈরি করবে না।
ইসলামের ভাষায়, আমরা হয়তো বলতে পারি—মানুষ চেষ্টা করে, কারণ গ্রহণ করে, ঝুঁকি কমায়; কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফলাফলের ওপর মানুষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।
তাহলে কি সত্যিই “কেউ” সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কে অসুস্থ হবে আর কে হবে না⁉️
বিশ্বাসের জায়গা থেকে একজন মুসলিমের উত্তর হতে পারে—হ্যাঁ, এই মহাবিশ্বের ঘটনাগুলো শেষ পর্যন্ত আল্লাহর জ্ঞান ও ইচ্ছার বাইরে নয়।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, “যেহেতু আল্লাহ সিদ্ধান্ত নেন, তাই আমি ড্রেনের ওপর রান্না করা খাবার নিশ্চিন্তে খাব।”
বরং ব্যাপারটা উল্টো।
আমার দায়িত্ব হলো ঝুঁকি বুঝে সতর্ক হওয়া। আর আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ফলাফলকে মেনে নেওয়া।
Psychology হয়তো আমাকে শেখাবে uncertainty tolerate করতে। বুঝতে শেখাবে যে সব outcome predict করা সম্ভব নয়।
Islam আমাকে শেখাবে—uncertainty মানেই chaos নয়। আমি সবকিছু বুঝি না বলেই সবকিছু অর্থহীন হয়ে যায় না।
আমরা হয়তো জানি না কেন একই খাবার খেয়ে একজন অসুস্থ হলো আর আরেকজন হলো না।
আমরা risk factor ব্যাখ্যা করতে পারি, probability বুঝতে পারি, কিন্তু প্রতিটি individual outcome-এর সম্পূর্ণ গল্প সবসময় জানতে পারি না।
হয়তো এখানেই মানুষের সীমাবদ্ধতা।
আমরা কারণ দেখতে পাই, কিন্তু সব কারণ দেখি না।😪
আমরা probability হিসাব করতে পারি, কিন্তু নিশ্চিত ভবিষ্যৎ জানি না।
আমরা সতর্ক হতে পারি, কিন্তু সব ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।
আর সম্ভবত এই জায়গাটাতেই Psychology আর Islam একে অপরের বিপরীত নয়।🤝
একটি আমাকে শেখায়—মানুষের mind uncertainty-এর সঙ্গে কীভাবে deal করে।
আর অন্যটি আমাকে শেখায়—সব uncertainty-এর মাঝেও দায়িত্ব নিয়ে বাঁচতে, চেষ্টা করতে এবং শেষ পর্যন্ত নিজের সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করতে।
সুতরাং প্রশ্নটা হয়তো শুধু এতটুকু নয়—“কে অসুস্থ হবে আর কে হবে না?”
প্রশ্নটা আরও বড়: আমি কি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারি❓