20/07/2026
আমার স্ত্রী গোপনে অপরিচিত কয়েকজনের সাথে নিজের সুখ-দুঃখের কথা, নানা অনুভূতির কথা মেসেজ দিয়ে আদান প্রদান করে। গতকাল রাতে জানতে পারি। কোনো দিন সন্দেহ করিনি। গতকাল তার ফোনে একটা মেসেজ দেখলাম, সেটা সরাতে গিয়ে সিন হয়ে গেছে। তখন সে ঘুমে। ভাবছি কাজিন হয়ত। কিন্তু দেখি কথাবার্তা, রিপ্লাই গুলো কেমন যেন। শুরুতে যেভাবে প্রেমিক প্রেমিকা ভাবের আদান প্রদান করে। তারপর স্ক্রল করে আমি পুরো অবাক হয়ে যাই। কিছু কিছু কথা ছিল আমার আত্মসম্মানে আঘাত লাগার মতো।
এমনিতে আমাদের সম্পর্ক আগের মতো গভীর নেই। কিন্তু সেটা এমন না যে তৃতীয় কোনো ছেলের সাথে আলাপ করা যায়। আমার ১টা মেয়ে সন্তান আছে।
কথাবার্তা দেখে বুঝলাম, সে আমার জীবনে অনেক কষ্টে আছে। কিন্তু সেটার স্বরূপ প্রকাশ করেনি। উল্টো আমি কম রোমান্টিক, এলিয়েন, অপর পক্ষের এমন সম্বোধনে সে হা হা দেয়। মেসেজগুলো আমি ঘুমে কিংবা অফিসে থাকলে করত। তিন মাস পর্যন্ত মেসেজ পড়ে যা বুঝলাম, সে আমার থেকে মুক্তি চায়। কিন্তু স্পষ্ট কোনো কারণ ছিল না।
অন্য অপরিচিত ছেলেদের সাথেও আছে এরকম। এমনকি সে নিজে থেকেই নক দেয় সেই ছেলেগুলোকে। মেসেঞ্জারে কথাও বলেছে, ভয়েস পাঠায়।
তবে ইরোটিক কিছু ছিল না। আমার ও আমার মেয়ের সম্পর্কে বলত। ব্যক্তিগত বিষয়ও জানিয়ে দিত কথারছলে।
এটা আমাকে ভীষণ আঘাত করে। কারণ আমার দাম্পত্য জীবন ৯ বছর চলমান। আমি খুব শান্ত প্রকৃতির ছেলে। অফিস, সংসার এটাই আমার পদচারণা। এর মধ্যে এসব দেখে নিজেকে খুব অসহায় লাগছে।
আমার কী করা উচিত?
(উল্লেখ্য, তার অতীত জেনেই নিজ দায়িত্বে বিয়ে করেছি। কিন্তু একবার মন ভাঙলে স্বর্ণের টুকরা দিয়েও আমার মন জোড়া লাগবে কিনা সন্দেহ।)
আপডেট: একজন দূরসম্পর্কের কাজিন আছে। জানতে পেরেছি, সে হুজুর। আমি কি তার সাথে দেখা করব? আমার ওয়াইফ তার কাছে আসলে কি চায় সেটা জানার জন্য?
এর আগে আমাদের মনোমালিন্য হলে আমি যেচে তাকে সমাধানের জন্য কথা বলার ট্রাই করি। সে চুপ থাকে। কোনো রেসপন্স করে না। তাই তাকে আস্ক করে কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না। আর যারা বলছেন যে, আমি আনরোমান্টিক, তাদের বলতে চাই, আমার লেখা + কোথায় সে প্রেমে পড়েছে। আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, জীবনে কোনো মেয়েকে প্রপোজ করব না। করিও নি। সেই আমাকে তার ভালোলাগা জানায়, পড়ে সে তার পাস্ট বলে। তবুও, সে ভালোবেসে প্রপোজ করেছে ভেবে তাকে আর হতাশ করিনি।
আসলে পুরো দাম্পত্য জীবন কেমন ছিল সেটা তো এখানে প্রকাশ করা যায় না। আমি আসলেই ভালো একটা ছেলে। জাস্ট, একটা উদাহরণ দিব: বউয়ের কষ্ট হবে ভেবে কোনোদিন সকালে নাস্তা বানাতে বলি না। কারণ সে বেশিরভাগ সময় সিক থাকে। ঘুম থেকে উঠতে পারে না। আবার, অফিস থেকে ফিরে রান্না করি, হেল্প করি, দুপুরের খাবার বিকেলে খাই। এটা প্রতিদিনের ব্যাপার হয়ে গেছে।
আমি অনেকেরই পরামর্শ মতো তাকে আরো সময় দেবো। কিন্তু সেটা কেমন? আমি এখন যা করি: রান্না করি, বউয়ের কাপড় ধুই, মেয়ের পটি করাই, মেয়ের সাথে খেলি, চা বানাই, তাকে বেডে টাইম দিই। আমার জানা মতে কোনো দায়িত্ব অপূর্ণ রাখি না। আমাকে স্পষ্ট করে কিছু হোমওয়ার্ক এর মত সাজেশন দেন।
আমি আমার সংসার বাঁচাতে আর কী কী করতে পারি ?
-- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক