30/11/2024
খালেদা জিয়াকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় কিছুই লেখা হয়নি।
শুরুতে কিছুটা দ্বিধা ছিলো, কারণ খালেদারে নিয়ে লিখতে গেলে লোকে বিএনপি বলবে। বাট এরপর মনে হলো, এসব মনে করলে কি হুমায়ূন দেয়াল লিখতে পারতেন?
যাইহোক, খালেদারে নিয়ে পড়তেছি। খুবই ইন্টারেস্টিং একটা জিনিস। নির্বাচনী রাজনীতি এই মহিলার মতো এতো ভালো কেউ বুঝে নাই। আই রিপিট, কেউ না।
৮৬ র ইলেকশনের আগ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ দেশের সবচে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। ৮৬ র ইলেকশন হলো এরশাদের আন্ডারে। ঐ যে হাসিনার ইলেকশনের মতোই। ভোট চুরির ইলেকশন।
তো আওয়ামীলীগ বিএনপি সবাই ডিসিশন নিলো, নির্বাচন বর্জন করা হবে। সমস্যা হলো, খালেদা জিয়ার এই ডিসিশন আওয়ামীলীগ বা জামাত কেউই মানলো না।
দুই দলই পল্টি মেরে ইলেকশনে চলে গেল। কথিত আছে, শেখ হাসিনা এরশাদের কাছে ২০ কোটি টাকা নিয়েছিলেন এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য।
আগে অবিশ্বাস্য মনে হলেও হাসিনা যে টাকার কুমির ছিলো, এইটা তো এখন জানা কথাই।
৯১ তে এরশাদ পড়ে গেল। হাসিনা ইলেকশনের আগেই মন্ত্রীসভা ঠিক করে ফেলেছিলেন। নির্বাচন হলো। নির্বাচনে জিতলো খালেদা জিয়ার বিএনপি।
বলা হয়ে থাকে, ইভেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা পর্যন্ত এই নির্বাচনে খালেদার মাথার সাথে হেরে যায়। তারাও প্রেডিক্ট করতে পারে নাই যে বিএনপি চলে আসবে।
তো ৯১ এর নির্বাচনে খালেদার এই জনপ্রিয়তা কোথা থেকে এসেছিলো জানেন?
ঐ যে, ৮৬ র ইলেকশনে দালালি না করার জন্য। এই সময় থেকেই খালেদার নাম হয়ে গেল আপোষহীন নেত্রী। বড় বড় নেতারা নিজেদের মধ্যে কথা বলার সময় খালেদাকে ইঙ্গিত করে বলতেন, এই মহিলার জেদের সাথে পারা মুশকিল।
এই অসম্ভব জেদি মহিলাকেই আমরা আপোষ করতে দেখি ১৯৯৬ তে।
৯৬ তে জনমত ছিলো বিএনপির বিরুদ্ধে। জনগণের বাইরে যাইয়া ইলেকশন করেও ফেলেছিলেন, যেটা ছিলো খালেদার জন্য বিশাল এক রাজনৈতিক ভুল।
এই ভুলটাই হাসিনা ১৪ তে করেছিলেন। খালেদা করেছিলেন ৯৬ এ।
বাট খালেদা ভুলটা ধরে বসে থাকলেন না। একজন লোকের উপরেও গুলি করেন নাই। যখন দেখলেন, মানুষ বিরুদ্ধে, সাথে সাথে নতুন ইলেকশন দিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছেন।
৯৬ তে খালেদা যদি এই কাজ না করতেন, ক্ষমতায় উনি টিকে যেতেন। বাট পরিণতি হতো হাসিনার মতো। দলের রাজনীতি শেষ হয়ে যেত।
৯৬ এর এই ডিসিশনের ফলাফল জোট সরকার পাইলো ২০০১ এ। বিপুল ভোটে জিতে গেল।
আমার কাছে সবচে অবাক লাগছে, ২০০৮ এর ইলেকশনে খালেদার অনীহা। ২০০৮