শ্রী শ্রী ঠাকুর রামচন্দ্র দেব স্মরণে

  • Home
  • Bangladesh
  • Chittagong
  • শ্রী শ্রী ঠাকুর রামচন্দ্র দেব স্মরণে

শ্রী শ্রী ঠাকুর রামচন্দ্র দেব স্মরণে যবনোহপি হি যৎ সঙ্গাল্লেভেবৈ পরমং পদম
তং নমামিঃ গুরুং ভক্তা রামচন্দ্রং দয়াময়ং।
(1)

30/10/2025

বেদবাণী ২/২০০ - ভবিতব্য যাহা করেন তাহার হাত এড়ান যায় না। শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর

29/10/2025

I got over 10,000 reactions on my posts last week! Thanks everyone for your support! 🎉

27/10/2025

সত্যমঃ শিবমঃ সুন্দরমঃ
গুরু কৃপাহী কেবলম্

27/10/2025

🌺শ্রী শ্রী কৈবল্য ধাম আশ্রম চট্টগ্রাম এ শিব শক্তি বট বৃক্ষের নীচে মা কালির আরাধনা ও নাম সংকীর্তন অনুষ্ঠিত হয়।🌺

🌷শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর💐🌹💐শক্তি ও জ্ঞানের তুঙ্গ শিখরে রামঠাকুর আপন মহিমায় অধিষ্ঠিত, তাই উচ্চ নীচ, ভাল মন্দের পার্থক্য তাঁহার ...
26/10/2025

🌷শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর💐

🌹💐শক্তি ও জ্ঞানের তুঙ্গ শিখরে রামঠাকুর আপন মহিমায় অধিষ্ঠিত, তাই উচ্চ নীচ, ভাল মন্দের পার্থক্য তাঁহার কাছে কিছু নাই। সন্ন্যাস আর সংসারাশ্রমের ভেদ রেখাও তাহার কাছে অবলুপ্ত। তাই দেখা যায়, নিতান্ত সাধারণ মানুষের মতো এসময়ে দিন যাপন করিতেছেন, গৃহস্থদের মধ্যে অবলীলায় করিতেছেন ঘোরাফেরা।
🌹ডিঙামাণিক গ্রামে নিজ ভবনে গিয়াও এসময়ে এক একবার তিনি উপস্থিত হন। প্রয়োজন হইলে মুমূর্ষু স্বজনদের রোগশয্যার পাশেও কল্যাণ হস্তটি প্রসারিত করিয়া তিনি দাঁড়াইয়া থাকেন। বাড়ীর জীর্ণ, পতনোন্মুখ রান্নাঘরটির হয়তো সংস্কার চলিতেছে। দেখা যায়, পরম উৎসাহে তিনি সেই কাজেই নামিয়া পড়িয়াছেন, কুষাণদের কাজের যোগান দিতেছেন। এ দৃশ্য দেখিয়া কে বলিবে যে, ইনিই সেই অপরিমেয় ঋদ্ধিসিদ্ধির অধিকারী মহাব্রহ্মজ্ঞ রামঠাকুর?
সে-বার এক ভ্রাতুষ্পুত্র তাঁহাকে জোর করিয়া চাপিয়া ধরিলেন আর এমন ঘরছাড়া বিরাগী হইয়া থাকা তাঁহার চলিবে না। এবার তাঁহাকে বিবাহ করিয়া সংসারী হইতেই হইবে, গৃহ ও আত্মপরিজনের দায়িত্ব গ্রহণ করিতে হইবে।
বাড়ীর আর সকলেও মহা উৎসাহী হইয়া উঠিলেন। সকলের এ অনুরোধ ঠাকুরকে রাখিতেই হইবে। বিবাহ না করিলে কোন মতেই এবার আর তাঁহাকে ছাড়া হইবে না। ভ্রাতুপুত্রটি তো আবেগভরে ঠাকুরের পায়ের উপরই পড়িয়া গেলেন, তাঁহার মুখের কথা না নিয়া তিনি ভূমিশয্যা ত্যাগ করিবেন না। ঠাকুরের যুক্তিতর্ক, অনুরোধ, উপরোধ সমস্ত কিছুই ব্যর্থ হইল।
🌹ঠাকুর যেন এক মহা সমস্যায় পড়িয়া গিয়াছেন। তাই তো কি করা যায়? সকলে এমন করিয়া ধরিয়াছে, এবার তো আর এড়ানো যাইবে না। অবশেষে নিরুপায় হইয়া তিনি সম্মতি দিলেন। বাড়ীর লোকদের কহিলেন, "আচ্ছা, কি আর করা যায়, এবার তবে তোমরা ভাল করে পছন্দসই কনের খোঁজ খবর কর।"
🌹কিন্তু পরক্ষণেই আবার কহিলেন, "হ্যাঁ, ভাল কথা মনে পড়েছে। কোলকাতায় কৃষ্ণবাবু নামে এক ইঞ্জিনিয়ার আছেন, তাঁর বড় ইচ্ছে, আমায় তাঁর একটি কন্যা দান করেন। আমিও কথা দিয়েছি, বিয়ে যদি করতেই হয়, তাঁর মেয়েকেই করবো। তাঁকেই বরং, এজন্য এক জরুরী চিঠি দেওয়া যাক।"
🌹সেই দিনই ব্যস্ত সমস্ত হইয়া কৃষ্ণবাবুর কন্যার পাণি গ্রহণের প্রার্থনা জানাইয়া তিনি চিঠি দিলেন। বেশ কিছুদিন কাটিয়া গেল, কিন্তু কলিকাতা হইতে কোন উত্তর আর আসিল না। ইতিমধ্যে ঠাকুরও একদিন সুযোগমত বাড়ী হইতে অন্তহিত হইলেন।
🌹মাসাধিককাল পরে কৃষ্ণবাবুর বহু প্রত্যাশিত পত্রটি পাওয়া গেল। লিখিয়াছেন, ঠাকুর কৃপা করিয়া তাঁহার কন্যাকে গ্রহণ করিবেন জানিয়া তিনি মহা আনন্দিত। তাঁহার পরম সৌভাগ্য যে তাঁহার বংশ এভাবে ধন্য হইতে যাইতেছে। আরো জানাইলেন, কলিকাতায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব হওয়ায় তিনি সপরিবারে সিমলায় আসিয়াছেন, তাই পত্র দিতে এত বিলম্ব হইল।
🌹বলা বাহুল্য, ভাবী বর ইতিপূর্ব্বেই সুযোগ বুঝিয়া কোথায় সরিয়া পড়িয়াছেন। ঠাকুরের সেদিনকার এই সুচতুর অভিনয়টি প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে শ্রীমহেন্দ্র চক্রবর্তী লিখিতেছেন--
🌹"এই বিবাহ ব্যাপারে ঠাকুর যে একটু রসিকতার অবতারণা করিয়াছিলেন, তাহা সে সময় বেশ উপভোগ্য হইয়াছিল। রাত্রিতে বিছানায় বসিয়া বিবাহের প্রসঙ্গ তিনি করিতেছিলেন। আমরা ছোট ছোট বালক হাঁ করিয়া তাঁহার কথা গিলিতেছিলাম। প্রথমতঃ তিনি, কৃষ্ণবাবু ও তাঁহার কন্যার কথা বলিলেন, কন্যাটি অতি ধর্ম্মপরায়ণা, সচ্চরিত্রা, সেও যোগ অভ্যাস করে ইত্যাদি। তারপর বিবাহের কথা-বিবাহ কলিকাতায় হইবে, আমরা তাঁহার বিবাহে বরযাত্রী হইয়া কলিকাতায় যাইব। কলিকাতা প্রকাণ্ড শহর, খুব সাবধান হইয়া চলাফেরা করিতে হয়। কৃষ্ণবাবু খুব বড়লোক, আমাদের মত তাঁহারা নোংরা থাকেন না। আমাদিগকে ভব্যসভ্য হইয়া চলিতে হইবে। আমাদের বাড়ীর ঘর দরজা, পথঘাট সব পরিষ্কার করিতে হইবে। একখানা নতুন ঘরও তৈয়ার করা আবশ্যক, ইত্যাদি কত কথাই তিনি বলিলেন।
🌹"আমরা অবোধ বালক কয়েকদিন বিবাহ বাড়ীর লুচিমণ্ডা আর আজব শহর কলিকাতার স্বপ্ন দেখিলাম। এখন বুঝিতে পারি, দাদা (ঠাকুরের অন্যতম ভ্রাতুষ্পুত্র) সেদিন কত বড় একটা হঠকারিতার পরিচয় দিয়াছিলেন। আমরা পিপীলিকার শক্তি নিয়া সেদিন অভ্রভেদী বিশালকায় অচল অটল হিমগিরিকে স্থানচ্যুত করিতে প্রয়াস পাইয়াছিলাম। ধৃষ্টতা আর কাহাকে বলে? অতঃপর বহুদিন আমরা ঠাকুরের আর কোন সংবাদ পাই নাই।"💐🌹
ক্রমশঃ

🌹জয় রাম জয় গোবিন্দ💐

🌼শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর🌼🌼🌸এসময়ে হঠাৎ একদিন গুরুদেবের নির্দ্দেশে ফেনী শহর তিনি ত্যাগ করেন, আবার বাহির হইয়া পড়েন নূতন তপশ্চর্য...
25/10/2025

🌼শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর🌼

🌼🌸এসময়ে হঠাৎ একদিন গুরুদেবের নির্দ্দেশে ফেনী শহর তিনি ত্যাগ করেন, আবার বাহির হইয়া পড়েন নূতন তপশ্চর্য্যার পথে। শক্তিধর সাধকের জীবনে শুরু হয় আর এক বিশিষ্ট অধ্যায়।
🌸এই সময়কার রহস্যময়, প্রচ্ছন্ন জীবনেই রামঠাকুর অতিক্রম করেন তাঁহার সাধন জীবনের শেষ স্তর। দুশ্চর তপস্যা ও নিগূঢ় তন্ত্রোক্ত ক্রিয়াদি সম্পন্ন করিয়া কৃপালু গুরুর নিকট হইতে মহাসাধক লাভ করেন তাঁহার পরম প্রাপ্তি। যোগ ও তন্ত্র সাধনার উচ্চতম শিখরে তিনি হন অধিরূঢ়। সারা ভারতের উচ্চকোটি সাধক সমাজে এক মহাব্রহ্মজ্ঞ পুরুষরূপে তিনি পরিচিত হইয়া উঠেন।
🌸ফেনী হইতে রহস্যময় অন্তর্দ্ধানের পর প্রায় সতের বৎসর কাটিয়া গিয়াছে। দীর্ঘ অজ্ঞাতবাসের শেষে, আবার তিনি লোকালয়ে ফিরিয়া আসিয়াছেন।
🌸ব্রহ্মবিদ্ মহাসাধক পূর্ব্ববৎ প্রচ্ছন্নভাবেই তাঁহার এসময়কার দিনগুলি অতিবাহিত করিতে থাকেন। গুরুর আদেশে এবার তিনি গ্রহণ করেন লোক-হিতৈষণার পথ। আপন করুণার স্পর্শে চিহ্নিত ভক্তদের জীবনে ফুটাইয়া তুলিতে থাকেন অধ্যাত্মজীবনের চরম সার্থকতা। সাধারণ ভক্ত মানুষের কাছেও তিনি আগাইয়া আসেন এক পরমাশ্রয়রূপে।🌼🌸
ক্রমশঃ

🌺💐এ সময়ে প্রায়ই তাঁহাকে কলিকাতা, হুগলী, উত্তরপাড়া প্রভৃতি অঞ্চলে অবস্থান করিতে দেখা যাইত।
🌷সে-বার ঠাকুর বাঁশবেড়ের নিকটে এক ভক্ত দম্পতি গৃহে অবস্থান করিতেছেন। কিছুদিনের মধ্যে গৃহকর্তার বালক পুত্রটি বাতরোগে আক্রান্ত হয়। রোগ ক্রমে দুঃসাধ্য হইয়া উঠে এবং বালক একেবারে শয্যাশায়ী হইয়া পড়ে।
🌷অভিজ্ঞ ডাক্তারদের দিয়া বহু চিকিৎসাই করা হইল, কিন্তু রোগীর অবস্থার কোন উন্নতি দেখা গেল না, বরং সঙ্কট আরো ঘনাইয়া আসিল। বালকের পিতা একেবারে অনন্যোপায়। ঠাকুরের কাছে তাঁহারা আত্মসমর্পণ করিলেন। অশ্রুরুদ্ধ স্বরে বার বার অনুরোধ করিতে লাগিলেন, যে করিয়াই হোক এই বালককে বাঁচাইতেই হইবে, ঠকুরের কৃপা ছাড়া আর গত্যন্তর নাই।
🌷প্রথমটায় ঠাকুর তাঁহাদের এড়াইবার চেষ্টা করেন। কিন্তু অবশেষে এই দম্পতির ক্রন্দন ও আর্ত্তিতে তাঁহার হৃদয় বিগলিত হয়।
🌷গৃহের নিকটেই পুণ্যতোয়া গঙ্গার ধারা বহিয়া চলিয়াছে। সেদিন গভীর রাত্রিতে নদীতীরের এক কাশবনে গিয়া তিনি তাঁহার আসন পাতিয়া বসিলেন।
🌷স্বল্পকাল মধ্যে বালকটি নিরাময় হইয়া যায়, কিন্তু এই দুঃসাধ্য রোগ ঠাকুরের দেহকে আশ্রয় করিয়া বসে। সারা দেহ একেবারে অসাড় হইয়া উঠে, অঙ্গ প্রত্যঙ্গ একটুও নড়ানোর উপায় থাকে না।
🌷কিছুক্ষণ পরেই কিন্তু দেখা গেল, ঠাকুরের গুরুদেব তাঁহার সম্মুখে আবির্ভূত হইয়াছেন। কোনরূপ কথাবার্তা না বলিয়া তিনি শিষ্যের পশ্চাৎ দিকে চলিয়া গেলেন। তারপর সেখানে দাঁড়াইয়া তাঁহার উপর হানিলেন এক প্রচণ্ড পদাঘাত। সঙ্গে সঙ্গে ঠাকুরের দেহটি দূরে ছিটকাইয়া পড়িল।
গুরুদেব গম্ভীর কণ্ঠে কহিলেন, "রাম, এবার আমার কাছে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে চেষ্টা কর।"
অতি কষ্টে হাঁটুর উপর ভর দিয়া ঠাকুর নিকটে আসিলেন
গুরুদেব আবার কহিলেন, "দেখছি, দোষ কিছুটা থেকেই গেল। দেহ যতদিন আছে, ততদিন মাঝে মাঝে এই বাতের আক্রমণে তোমায় ভুগতে হবে।"
🌷কথা কয়টি বলার সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেল, যেমনি আকস্মিকভাবে গুরুদেব আসিয়াছিলেন, তেমনিভাবে ঘটিয়াছে তাঁহার অন্তর্দ্ধান।
🌷এ বাতব্যাধিটি পরবর্তীকালে মাঝে মাঝে আত্মপ্রকাশ করিত। মুক্তির মহাকাশে ব্রহ্মবিদ্‌ ঠাকুরের মন সদাই থাকিত উড্ডীয়মান। কে জানে, এই ব্যাধির মাধ্যমে গুরুদেব তাঁহার মনকে নীচেকার জনজীবনের স্তরে টানিয়া রাখিতে চাহিয়াছিলেন কিনা? 🌺💐
ক্রমশঃ

🌼জয় রাম জয় গোবিন্দ 🌼

🌲শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর🌲🌲🌻"সে সময়ে নোয়াখালি হইতে বহুদূরে ভবানীগঞ্জে গিয়া ষ্টীমারে উঠিতে হইত। রামঠাকুর একদিন একটি আত্মীয়কে ষ্ট...
24/10/2025

🌲শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর🌲

🌲🌻"সে সময়ে নোয়াখালি হইতে বহুদূরে ভবানীগঞ্জে গিয়া ষ্টীমারে উঠিতে হইত। রামঠাকুর একদিন একটি আত্মীয়কে ষ্টীমারে তুলিয়া দিয়া ফিরিতে রাত্রি হইলে একটি মসজিদে আশ্রয় গ্রহণ করিল। গভীর রাত্রিতে দেখিল মসজিদ আলোকিত হইয়াছে এবং তাহার গুরুদেব আর দুইজন সন্ন্যাসীর সঙ্গে তাহার সমক্ষে দাঁড়াইয়া আছেন। তিনি বলিলেন, তাঁহারা কৌষিকী পর্ব্বত হইতে চন্দ্রনাথ যাইতেছেন-নির্জন স্থানে একাকী গভীর রাত্রে রাম ঠাকুর ভীত হইয়াছে দেখিয়া তাহাকে দেখিতে আসিলেন।
🌲"আর একটি গল্প বহু লোকের মুখে, সর্ব্বশেষ রাম ঠাকুরের নিজ মুখেও, শুনিয়াছিলাম। সে বৎসর শিব চতুর্দশীতে চন্দ্রনাথে তাহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবেন বলিয়া তাহার গুরুদেব প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলেন। রামঠাকুর ছুটির দরখাস্ত করিয়াছিল, কিন্তু এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পরিদর্শনে আসিবেন বলিয়া ওভারসিয়ার ছুটি দিলেন না। রামঠাকুর শিব চতুর্দ্দশীর দিন প্রাতে মনের দুঃখে বসিয়া, গুরুদেব কেন তাহাকে দর্শন হইতে বঞ্চিত করিলেন, ভাবিতেছেন। এমন সময় টেলিগ্রাম আসিল যে, সাহেব আসিবেন না। তাহার ছুটি মঞ্জুর হইল।
🌲"রামঠাকুর আনন্দে আত্মহারা হইয়া চন্দ্রনাথ দর্শনে ছুটিল কিন্তু 'অকস্মাৎ উত্তেজনায় ভ্রান্ত হইয়া দক্ষিণমুখে না গিয়া উত্তরমুখে চলিল। কিছুদূর গেলে একজন লোকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হইল। সে বলিল, রামঠাকুর চন্দ্রনাথের বিপরীত দিকে যাইতেছে।
🌲"তখন ভ্রম বুঝিয়া এক বৃক্ষ তলায় সন্তপ্ত হৃদয়ে বসিয়া আছে। এমন সময় এক সন্ন্যাসী আসিয়া উপস্থিত হইয়া, রামঠাকুর কি চন্দ্রনাথ যাইবে,-জিজ্ঞাসা করিল।
"রামঠাকুর বলিল, সে ভ্রমবশতঃ বিপরীত দিকে আসিয়াছে! অতএব সেদিন আর চন্দ্রনাথ পৌঁছিবার সম্ভাবনা নাই।
"সন্ন্যাসী তাঁহার সঙ্গে যাইতে বলিলেন এবং পাহাড়ের ভিতর প্রবেশ করিয়া পার্ব্বত্য পথে তাঁহাকে সন্ধ্যার পূর্ব্বে চন্দ্রনাথ পর্ব্বতের সামুদেশে উপস্থিত করিলেন। সে স্থান হইতে চন্দ্রনাথ চল্লিশ মাইল এবং ফেণী হইতে ত্রিশ মাইল পথ। চতুর্দশী রাত্রি সীতাকুণ্ডে অতিবাহিত করিবার পরদিন আবার সেরূপ অজ্ঞাত ভাবে তাহাকে আনিয়া ফেনীর উত্তর দিকে একটি স্থানে রাখিয়া গেলেন। এখানে প্রত্যুষে একজন পেয়াদার সঙ্গে রাম ঠাকুরের সাক্ষাৎ হইলে সে জঙ্গলে লুকাইতেছিল। পেয়াদা তাহাকে পাকড়াও করিল এবং তাহার দ্বারা, মহম্মদের এক রাত্রিতে বিশ্বভ্রমণের মত, এই অদ্ভুত তীর্থদর্শন কাহিনী প্রথম প্রচারিত হইল।
🌲"রামঠাকুর দেখিতে ক্ষীণাঙ্গ, সুন্দর ও শান্ত-মূর্তি। নিতান্ত পীড়াপীড়ি না করিলে কাহারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করে না, কাহারও সঙ্গে কথা কয় না। পূর্ব্বেই বলিয়াছি, তাহার আট হইতে বার বৎসর বয়স পর্য্যন্ত সামান্য বাঙ্গালা শিক্ষামাত্র হইয়াছিল। কিন্তু ধর্ম্মের নিগূঢ় তত্ত্ব, এমনকি প্রণবের অর্থ পর্যন্ত সে জলের মত বুঝাইয়া দিত। আমি তাহাকে বড় শ্রদ্ধা করিতাম, মধ্যে মধ্যে আমি তাহাকে বড় পীড়াপীড়ি করিয়া আমার গৃহে আনাইতাম, এবং পতি পত্নী মুগ্ধচিত্তে তাহার অদ্ভুত ব্যাখ্যা সকল শুনিতাম। বলাবাহুল্য, সে পেশাদারি হিন্দু প্রচারকের ব্যাখ্যা নহে।
🌲"একদিন রাণাঘাটে ঊষাক্ষণে জাগিয়া স্ত্রী বলিলেন যে, তিনি সে-বার কালী দর্শন করিতে গিয়া শুনিয়াছিলেন, রামঠাকুর কালীঘাটে আসিয়াছিল। আমাদের সঙ্গে কেন দেখা করিল না, তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন। আমি বলিলাম, কেমন করিয়া বলিব? মুখ প্রক্ষালন করিয়া আমি হাকিম কক্ষে 'সোফার' উপর বসিয়া যেই বাহিরের দিকে দেখিতেছি, দেখি, আমার সম্মুখে বারাণ্ডায় অধোমুখে স্থিরভাবে রামঠাকুর দাঁড়াইয়া আছে। আমার বোধ হইল যেন, রামঠাকুর আকাশ হইতে সে স্থানে অবতীর্ণ হইয়াছে। অন্যথা আমি তাহাকে আসিতে দেখিতে পাইতাম। তাহার সঙ্গে আমার আর দেখা হয় নাই।"
অসামান্য যোগবিভূতির অধিকারী এই রামঠাকুর। কিন্তু ঐশী নির্দিষ্ট কর্ম্মব্রত উদযাপনের জন্য এক নিতান্ত সাধারণ মানুষের মতই তিনি দিন যাপন করিতেছেন। তবে এ প্রচ্ছন্নতা এবার হইতে আর রাখা চলিল না। ধীরে ধীরে তাঁহার চারিদিকে জড়ো হইতে লাগিল কৌতূহলী দর্শনার্থী ও গুণমুগ্ধ ভক্তের দল।🌲🌻
ক্রমশঃ

🌻জয় রাম জয় গোবিন্দ🌻

🌹শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর🌹🌻🪷পরবর্তীকালে নোয়াখালির কর্ম্মস্থল হইতে রামঠাকুর ফেনীতে বদলী হইয়া আসেন। কবি নবীনচন্দ্র সেন তখন মহকুমা...
22/10/2025

🌹শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর🌹

🌻🪷পরবর্তীকালে নোয়াখালির কর্ম্মস্থল হইতে রামঠাকুর ফেনীতে বদলী হইয়া আসেন। কবি নবীনচন্দ্র সেন তখন মহকুমার ভারপ্রাপ্ত অফিসার। তরুণ সাধক রামঠাকুরের সহিত এ সময়ে তাঁহার বেশ ঘনিষ্ঠতা জন্মে।
🥀ঠাকুরের অলৌকিক জীবনের কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কবিবর জানিতে সক্ষম হন। তাঁহার দুই একটি বিশেষ বিভূতিলীলা দর্শনের সৌভাগ্যও তিনি লাভ করেন। নবীনচন্দ্র ঠাকুর সম্বন্ধে যে সংক্ষিপ্ত বিবরণ আত্মজীবনীতে লিখিয়াছেন, ঠাকুরের তৎকালীন জীবনের একটি মনোজ্ঞ রেখাচিত্র তাহার মধ্য দিয়া ফুটিয়াছে।
🥀তিনি এ গ্রন্থে লিখিয়াছেন: "ফেনীতে যে নুতন জেলখানা প্রস্তুত হইতেছিল রামঠাকুর তাহার সরকার হইয়া আসিল। লোকে বলিতে লাগিল যে, কখনও তাহাকে গৃহে আহ্নিক করিতে দেখা গেল, এবং পরের মুহূর্তে রামঠাকুর অদৃশ্য হইয়া গেল। কেহ কেহ তাহাকে রাত্রিশেষে রক্তচন্দন চর্চিত অবস্থায় কোনও বৃক্ষ হইতে অবতরণ করিতে দেখিয়াছে। সর্প দংশন করিয়া গরু মহিষ মারিতে আসিতেছে, আর রামঠাকুর হাত তুলিয়া বারণ করা মাত্র চলিয়া গিয়াছে। নিজে কিছুই আহার করে না, ক্বচিৎ দুগ্ধ বা ফল আহার করে, অথচ তাহার সুস্থ সবল শরীর। পর সেবায় তাহার পরমানন্দ। জেলখানার ইঁটখোলার গৃহে পাবলিক ওয়ার্কস প্রভুদের বারাঙ্গনাগণ কখন পালে পালে উপস্থিত হয়। কিন্তু রামঠাকুর তাহাদের ঘৃণা করা দূরে থাকুক বরং সন্তোষের সহিত নিজে রাঁধিয়া তাহাদের অতি যত্নে আহার করায় এবং মাতাল হইয়া পড়িলে তাহাদের আপন মাতা ও ভগিনীর মত শুশ্রূষা করে।🌻🪷
ক্রমশঃ

🌺জয় রাম জয় গোবিন্দ 🌺

20/10/2025

শ্রী শ্রী কৈবল্য ধাম আশ্রম চট্টগ্রাম,
জয় শ্রী শিব শক্তি

Address

Eashan Mohajon Road
Chittagong
4217

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শ্রী শ্রী ঠাকুর রামচন্দ্র দেব স্মরণে posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to শ্রী শ্রী ঠাকুর রামচন্দ্র দেব স্মরণে:

Share