15/03/2026
ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত যেমন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম! মন্দিরের পুরোহিত এবং এরকম বিভিন্ন ধর্মের আরও যারা আছেন তাদেরকে মাসিক ভাতা বা সম্মানি দেয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে সিদ্ধান্ত সেটাকে এপ্রিশিয়েট করছি।
তবে এখানে কিছু কথা থেকে যায়। বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের যে পরিমাণ ধর্মীয় উপাসনালয় আছে এবং সেখানে যে পরিমাণ লোক আছে সবাইকে এই ভাতার আওতায় আনা কখনো সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি না! কারণ ভাতার পাওয়ার দাবিদার সারাদেশে এত লক্ষ লক্ষ লোক আছে, এটা বিশাল অর্থ বাজেটের একটা ব্যাপার।
এক্ষেত্রে কার্যকরী হবে সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেসব ধর্মীয় উপাসনালয়ের লোকগুলো খুব ই অল্প টাকা বেতন হিসেবে পায় তাদেরকে এই ভাতার আওতায় নিয়ে আসা।
আমি মসজিদ দিয়ে উদাহরণ দিই, যেমন সিটি কর্পোরেশন বা উপজেলার সদরে যে মসজিদের ইমাম বা মুয়াজ্জিন রা আছেন, তারা কিন্তু মোটামুটি একটা সম্মানজনক বা পরিবার চালানোর মতো একটা বেতন পান। তাছাড়া তারা শহর এলাকায় বা সদরে থাকার কারণে বেতনের বাইরে দাওয়াত বা বিভিন্ন হাদিয়া মিলে আরও কিছু বাড়তি ইনকাম করেন। সুতরাং এদের কিন্তু এই ভাতার ৫০০০/৩০০০/২০০০ টাকার প্রয়োজন নেই।
পক্ষান্তরে ইউনিয়ন পর্যায়ে, পাহাড়ি দুর্গম এলাকায়, চরাঞ্চলে বা একদম প্রান্তিক পর্যায়ে যেসব মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন আছেন, আমি এমন ও দেখেছি তাদের অনেকের বেতন ১০ হাজার টাকার ও নীচে এবং পরিবার নিয়ে তারা জীবন নির্বাহ করতে হিমশিম খেয়ে যায়।
যাচাই-বাছাই করে যার প্রয়োজন তাকেই এই ভাতা দেয়া উচিত! অন্যদিকে তেলা মাথায় তেল দিলে অর্থাৎ যার আছে তাকে আরও দিলে এটা অন্যদেরকে বঞ্চিত করা হবে।
একটা প্রকল্প চালু করার পর সেটা যদি পরবর্তীতে অর্থ সংকটের কারণে চালিয়ে নেয়া না যায় তবে সেটা সরকারের জন্য বিব্রতকর হবে! সুতরাং এই বিষয়ে সরকারের উচিৎ কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া যাতে প্রকল্প ক চলমান থাকে এবং যার নিতান্তই প্রয়োজন সে ই যেন সুবিধাভোগী হয়।