Black Mirror

Black Mirror তোমার কালো স্মৃতি

18/08/2026

দাম
🖊️:- প্রান্ত কুমার নাথ

দাম কত জীবনের?
সে কথা কে জানে!
কথায় কথায় মানুষ মরে,
ধ্বংস হয় পরিবার।
হাতের তালুর জীবনরেখা,
স্পষ্ট হয় সময়ে।
কারো একটু লম্বা হয়,
কারো হারায় মায়ের গর্ভে।
মানুষ ভাবে, টাকায় জীবন কিনে
বাঁচা যায়,
তাই তো এত কিছু করেও
মৃত্যুকেই সত্য মনে হয়।
দাম কত জীবনের?
কে জানে সে কথা!
সম্পর্কগুলো দামী হয়,
কেউ আগলে রাখে,
কেউ আবার মূল্য দিতে
না জেনে
সম্পর্ক নষ্ট করে।
দাম কি তবে
দিতে হয়, নাকি নিতে হয়—
কে বা বলতে পারে?

13/08/2026

প্রান্তর জীবন যুদ্ধ

পর্ব–২ | বন্ধুত্বের পরীক্ষা

দোকানে কাস্টমার থাকায় প্রান্ত খেয়ালই করেনি যে রনি দোকানে এসেছে।

—বন্ধু, শুনতেছিস?

রনি ডাক দিল।

প্রান্ত কাজের ফাঁকে কে ডাকছে দেখার জন্য তাকাতেই দেখল, রনি এসেছে।

—বন্ধু, আসছিস?

এটা বলে সে রনিকে বসতে বলল।

রনির জন্য কড়া করে একটা চা বানিয়ে দিল প্রান্ত।

চা খেতে খেতে রনি বলল,

—বন্ধু, কিছু মনে করিস না। আমি তোর কাছে এখন টাকা চাইতাম না। জানি, তুই এখন খুব কষ্ট করছিস।

এগুলো বলতে বলতেই প্রান্ত বলে উঠল,

—আরে বন্ধু, এভাবে বলিস না। আমি তো জানি, আন্টির চিকিৎসার জন্য টাকা না লাগলে তুই এখন চাইতিস না।

কিন্তু রনি একটা জিনিস খেয়াল করল—কথাগুলো বলার সময় প্রান্ত মাথা নিচু করে কথা বলছে। তার দিকে তাকাচ্ছেই না।

চায়ের কাপটা রেখে রনি প্রান্তের পাশে গিয়ে দাঁড়াল।

—কি হয়েছে তোর? তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন?

—কই, কী হবে? কিছুই তো হয়নি।

—সত্যি করে বল, প্রান্ত। কী হয়েছে?

রনি একটু থেমে বলল,

—তুই তো কথা বলার সময় এভাবে নিচের দিকে তাকিয়ে কথা বলিস না। তাহলে আজ কেন নিচের দিকে তাকিয়ে কথা বলছিস?

প্রান্ত রনির দিকে তাকাতেই রনি দেখল—প্রান্তের চোখে জল ঝলমল করছে।

রনি আর কিছু না বলে প্রান্তের ক্যাশবক্সটা খুলে দেখল।

সব মিলিয়ে হয়তো হাজার দুয়েক টাকা হবে সেখানে।

আর সেখানে একটা কাগজ ছিল।

রনি কাগজটা হাতে নিয়ে দেখল—বৃষ্টির দেওয়া বাজারের লিস্ট।

রনি লিস্টটা নিয়ে জিজ্ঞেস করল,

—কিরে, ভাবি বুঝি বাজার নিয়ে যেতে বলেছে?

প্রান্ত কিছুই বলতে পারছিল না।

রনি বলল,

—বন্ধু, শুন, একটা কথা বলি। আজ আমার হয়তো টাকার দরকার, হ্যাঁ, এটা ঠিক। কিন্তু তুই আমার বন্ধু। ছোটবেলা থেকে তোকে দেখে আসতেছি। তুই সবার ভালো-খারাপের সময়ে সবার আগে এগিয়ে এসেছিস।

রনি একটু থেমে বলল,

—তোর লাইফ তো এমন ছিল না। আজকের পরিস্থিতিও তো এমন হতো না, যদি না তুই পরিবারের অবাধ্য হয়ে তোর ভালোবাসার মানুষটাকে নিজের করে নিতি।

এগুলো বলতে বলতেই প্রান্তের মোবাইলটা বেজে উঠল।

বৃষ্টি কল করেছে।

প্রান্ত কলটা ধরতে পারছিল না।

রনি জিজ্ঞেস করল,

—কিরে, কল ধরছিস না কেন? কে কল করেছে?

—তোর ভাবি কল করেছে।

—তো ধরছিস না কেন? দে আমাকে দে।

রনি কলটা রিসিভ করল।

—ভাবি, ভালো আছেন? আমি রনি বলতেছি।

ও পাশ থেকে বৃষ্টি বলল,

—ভালো আছি। ভাইয়া, আপনার বন্ধু কই? ওকে একটু দেন না।

রনি প্রান্তের দিকে মোবাইলটা এগিয়ে দিয়ে বলল,

—এই নে, কথা বল।

প্রান্ত মোবাইলটা নিয়ে হ্যালো বলার সঙ্গে সঙ্গেই বৃষ্টি কান্না করতে করতে বলল,

—তোমার কী হয়েছে, সত্যি করে বলতো? তুমি হাজার ব্যস্ত হলেও এই তিন মাসে একদিনও দুপুরে কল না দিয়ে থাকো না। আর আজ তুমি কল দাওনি। আমি কল দেওয়ার পরও তুমি ভালোভাবে কথা বলোনি।

—আমি জানি, তুমি আজ দুপুরে খাওনি। তুমি না বললেও আমি বুঝতে পারি।

—চারটা বছর তোমার সাথে আছি আমি। আমাকে মিথ্যা বলেও কি কখনো কিছু লুকাতে পেরেছো? আজও মিথ্যা বলছো, আমি বুঝতে পেরেছি।

প্রান্ত কিছু না বলে বৃষ্টির কথাগুলো শুনছিল।

রনি এদিকে প্রান্তের দোকানের কাজে সাহায্য করছিল।

বৃষ্টির কান্নামাখা কণ্ঠ শুনে প্রান্ত তাকে বাড়ি গিয়ে সব বলবে বলে সান্ত্বনা দিয়ে কল রেখে দিল।

রনি প্রান্তের দিকে তাকিয়ে তাকে আর কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পাচ্ছিল না।

সে প্রান্তকে জড়িয়ে ধরল।

তারপর বলল,

—প্রান্ত, শুন। আমি আছি। তুই কখনো ভেঙে পড়বি না।

—আমার টাকা তোর এখন দিতে হবে না। আমি মায়ের চিকিৎসার জন্য টাকা ম্যানেজ করে নেব। তুই আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যাবি। আর যে টাকা আছে, ঐগুলো দিয়ে ঘরের বাজার নিয়ে যাবি।

—তুই আমার জন্য অনেক করেছিস। আমার খারাপ সময়ে তুই পাশে ছিলি। আর আজ তোর এই সময়ে আমি তোর পাশে যদি দাঁড়াতেই না পারি, তাহলে কেমন বন্ধু আমি?

—তুই আমার টাকার কথা একদম ভাববি না। তোর হাতে টাকা আসলে তখন দিবি।

রনি একটু থেমে বলল,

—আর হ্যাঁ, ভাবির সাথে কী হয়েছে, আমি জানি না। সব ঠিক করে নিবি।

—আমি আজ গেলাম।

রনি চলে যাওয়ার সময় প্রান্ত তাকে জড়িয়ে ধরে ধন্যবাদ জানাল।

কিন্তু রনি চলে যাওয়ার পর প্রান্তের সামনে তখনও একটা প্রশ্ন—বৃষ্টি কেন তাকে এতটা চিন্তিত হয়ে ফোন করেছিল?

চলবে…

পর্ব–৩: তুমিই আমার শক্তি

11/08/2026

প্রান্তর জীবন যুদ্ধ

পর্ব–১

“প্রান্ত, এই প্রান্ত, উঠো। কয়টা বাজে খেয়াল আছে?”

প্রতিদিনকার মতোই ভোরে উঠে বৃষ্টি ঘর ঝাড়ু দেয়, ঘর মোছে, আমার জন্য নাস্তা তৈরি করে, তারপর আমাকে ডেকে তোলে।

ভাবছেন বোধহয় সরকারি চাকরি করি?

না, না। আমি বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করে একটা ছোট্ট টংয়ের দোকান করি। তাই রাতে একটু দেরি করেই বাসায় ফিরি। পাশের টং দোকানদাররা একটু তাড়াতাড়িই দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যায়। ফলে আমি যদি একটু বেশি রাত পর্যন্ত দোকানে থাকি, বেচাকেনা একটু বেশি হয়।

প্রান্ত ঘুম থেকে উঠতেই বৃষ্টি তাকে বাজারের একটা লিস্ট ধরিয়ে দিল।

প্রান্ত বুঝেই উঠতে পারছিল না কী করবে। আজ তাকে তার বন্ধু রনিকেও টাকা দেওয়ার কথা ছিল। সে এখন বাজার করবে, নাকি রনিকে টাকা দেবে?

এসব চিন্তা করতে করতেই সে দোকান খুলতে চলে গেল। বৃষ্টি পেছন থেকে কী যেন বলছিল, প্রান্ত খেয়ালই করেনি।

বাইরে বের হতেই কিছুদূর যাওয়ার পর ঝড় শুরু হয়ে গেল। ভিজতে ভিজতেই প্রান্ত দোকানে এসে দোকান খুলল।

টানা এক ঘণ্টা ঝড় হলো। এতক্ষণে দোকানে বেচাকেনাও তেমন হয়নি।

প্রান্ত কী করবে, বুঝতে পারছিল না।

মনে মনে শুধু বলছিল—

“আজকের দিনটা যেন কোনোভাবে সামলে নিতে পারি।”

টানা ঝড় থামতে না থামতেই প্রান্তের মোবাইলে একটা কল এল।

কলটা দেখে প্রান্ত খুব চিন্তায় পড়ে গেল। সাহসই হচ্ছিল না কলটা ধরার।

কল করেছে তার বন্ধু রনি।

না ধরায় কলটা কেটে গেল।

কিছুক্ষণ পর রনি আবার কল করল।

এবার প্রান্ত সাহস করে কলটা ধরল।

রনি জানাল,

—বিকেল পাঁচটার দিকে আমি তোর দোকানে আসব। টাকা নিতে।

প্রান্ত কিছু বলার আগেই রনি কল কেটে দিল।

প্রতিদিন প্রান্ত হাজার ব্যস্ত থাকলেও দুপুর হলেই বৃষ্টিকে কল দিত। কিন্তু আজ দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চলেছে, অথচ বৃষ্টিকে কল করার কথা তার মনেই ছিল না।

হঠাৎ প্রান্তের মোবাইলে আবার কল এল।

মোবাইল বের করতেই দেখল—বৃষ্টি কল দিয়েছে।

কল রিসিভ করতেই বৃষ্টি বলল,

—কি করতেছো? কয়টা বাজে?

প্রান্ত মোবাইলের সময়ের দিকে তাকাল।

৩টা ৪৫ বাজে।

তার মনে পড়ল, আজ সে বৃষ্টিকে কলই দেয়নি।

—সরি। আজকে একটু বেশিই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। তাই কল করতে পারিনি।

বৃষ্টি কিছু না বলে জিজ্ঞেস করল,

—খেয়েছো তুমি?

প্রান্ত খায়নি। হয়তো বৃষ্টি সেটা বুঝতে পেরেছিল।

কিন্তু প্রান্ত মিথ্যা বলল,

—হ্যাঁ, খেয়েছি।

কাজের বাহানা দিয়ে বৃষ্টির সঙ্গে কথা শেষ করে দিল সে।

তারপর প্রান্ত কিছুক্ষণ ক্যাশবক্সের দিকে তাকিয়ে রইল।

রনিকে দেওয়ার মতো টাকা এখনো জমেনি।

প্রান্তের চোখে জল যেন ঝলমল করছিল। কিন্তু দোকানে কাস্টমার থাকায় সে নিজেকে সামলে নিল।

দেখতে দেখতে বিকেল পাঁচটা হয়ে গেল।

আর ঠিক তখনই রনি দোকানে এসে হাজির।

চলবে…

পর্ব–২: বন্ধুত্বের পরীক্ষা

12/04/2026

মাঝিহীন নৌকা
-----------

কই গো মাঝি,
দেশের পালটা ছেড়ে গেলে কই!
সব কিছু এলোমেলো আজ, মাঝি—
তুফান বয়ে ভাঙছে নীতি,
নিম্নচাপে ছুটছে চাকা,
তলানিতে ঠেকছে অর্থনীতি।
শেকলে বাঁধা সময় এখন,
দীর্ঘ লাইন—অসহায় জনতা।
কোথায় শিক্ষা? কোথায় চিকিৎসা?
কোথায় আইন, কোথায় ন্যায়তা?
চোখ যে বুজে আছে আজ
ন্যায়মূর্তিরও বিচার—
সব ফেলে চলে গেলে মাঝি,
কে ধরবে আবার হাল?
বল মাঝি—
কে ধরবে আজ দেশের পাল?
কে-ই বা করবে পাড়
এই বৈতরণীর সমুদ্র?
সোনার বাংলায় আগুন জ্বলে—
মাঝি,
বল...
পাল আজ ধরবে কে?

Address

Chittagong
4336

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Black Mirror posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share