17/05/2026
#বিদ্যাধরদের নিয়মে ঔষুধ প্রার্থনা
মাটি, পানি, বায়ু ও আগুন এই চারিমহাভূত দ্বারা গঠিত শরীর প্রতিনিয়ত ৯৬ প্রকারের রোগ-ব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত হয়। বর্তমান যুগের বায়োলজিকাল অস্ত্র বা ল্যাবে নির্মিত বিভিন্ন ভাইরাস ও বিষাক্ত ক্যামিক্যালের অপব্যবহারের কারণে বিভিন্ন রোগ ব্যাধি বৃদ্ধি পাচ্ছে ও মৃত্যু হচ্ছে। অনেক রোগ-ব্যাধির চিকিৎসা প্রচুর ব্যয়বহুল, আবার অনেক দুরারোগ্য রোগের কোন চিকিৎসাও নাই।
ভবিষ্যতে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী ও নতুন নতুন ভাইরাস সংক্রমণের কারণে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাওয়া যাওয়ার সম্ভবনাও থাকবে না। সেই সময়ে বেচে থাকতে চাইলে, রোগ নিরাময় করতে চাইলে এবং ভবিষ্যৎ নতুন নতুন রোগ ব্যাধি শরীর উৎপন্ন না করতে চাইলে বিদ্যাধরদের নিয়মে ঔধুধ প্রার্থনা করতে জানাটা প্রয়োজন। কিভাবে করবেন তা উল্লেখ করা হলো-
#১ম ধাপ- প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলা বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘ (ত্রিরত্ন), অরহতবৃন্দ, আর্যবিদ্যাধর গুরুবৃন্দ এবং মার্গফলপ্রাপ্ত দেব-ব্রহ্মার উদ্দেশ্যে পূজার আসনে ৬ গ্লাস পানিয় জল দান করতে হবে (৫-৬ গ্লাস বা সামর্থ অনুযায়ী যতটুকু পারেন) ।
#২য় ধাপ- পরেরদিন সকালবেলা পূজার আসন থেকে বাসি পানিয় জলগুলো একটু একটু করে নিয়ে একটি গ্লাসে ঔষুধ বানানোর জন্য রাখতে হবে।
#৩য় ধাপ- তারপর বুদ্ধের আসনে প্রতিদিনের মতো বন্দনা ও পূজাকর্ম সম্পাদনের পর সেই ঔষুধ বানানোর জন্য রাখা গ্লাসের পানি দুই হাতে জোড় (বন্দনা যেভাবে করি সেভাবে) করে নিয়ে বলতে হবে-
১) বুদ্ধাং সরণং গচ্ছামি, ধম্মং সরণং গচ্ছামি, সংঘং সরণং গচ্ছামি,
২) সংঘং সরণং গচ্ছামি, ধম্মং সরণং গচ্ছামি, বুদ্ধাং সরণং গচ্ছামি,
৩) বুদ্ধাং সরণং গচ্ছামি, ধম্মং সরণং গচ্ছামি, সংঘং সরণং গচ্ছামি,
১) বুদ্ধো গুণো অনন্তো, ধম্মো গুণো অনন্তো, সংঘো গুণো অনন্তো, মাতা-পিতু গুণো অনন্তো, গুরু-আচরিয় গুণো অনন্তো।
২) গুরু-আচরিয় গুণো অনন্তো, মাতাপিতু গুণো অনন্তো, সংঘো গুণো অনন্তো, ধম্মো গুণো অনন্তো, বুদ্ধো গুণো অনন্তো।
৩) বুদ্ধো গুণো অনন্তো, ধম্মো গুণো অনন্তো, সংঘো গুণো অনন্তো, মাতা-পিতু গুণো অনন্তো, গুরু-আচরিয় গুণো অনন্তো।
#৪র্থ ধাপ- ত্রিরত্নের শরণ ও পঞ্চগুণো অনন্তো বন্দনা করার পর নিজের শরীর ও মন (পঞ্চস্কন্ধ) এবং কোন নির্দিষ্ট রোগ-ব্যাধি থাকলে সেই রোগ-ব্যাধি (যেমন- ক্যান্সার, থাইরয়েড, চর্মরোগ ইত্যাদি) বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘ, অরহতবৃন্দ, গুরুআচরিয়বৃন্দ ও মার্গফলপ্রাপ্ত দেব-ব্রহ্মাকে দান করে দিতে হবে। অর্থাৎ রোগ-ব্যাধি যা আছে সব কিছু দান করতে হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার এভাবে দান করতে হবে।
#৫ম ধাপ- তারপরে ঔষুধের জন্য প্রার্থনা করতে হবে-
"বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘ, অরহতবৃন্দ, গুরআচরিয়বৃন্দ ও মার্গফলপ্রাপ্ত দেব-ব্রহ্মাবৃন্দ, আমার শরীরে ক্যান্সার (যে যে রোগ আছে সেই রোগের নাম) রোগ আছে, সেই ক্যান্সার রোগ ধ্বংস করার জন্য, পরিপূর্ণ সুস্থ হওয়ার মহাঋদ্ধি ও সিদ্ধিসম্পন্ন ঔষুধ প্রার্থনা করছি। আমাকে মৈত্রী ও করুণাবশত ঔষুধ প্রদান করুন। দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার এভাবে প্রার্থনা করতে হবে।
যাদের শরীরে কোন রোগ-ব্যাধি নাই, তাদের যেন ভবিষ্যতে রোগ ব্যাধি উৎপন্ন না হয় সেভাবেই প্রার্থনা করতে হবে।
#৬ষ্ঠ ধাপ- সত্যক্রিয়া করতে হবে।
" বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘ, অরহতবৃন্দ, গুরুআচরিয়বৃন্দ ও মার্গফলপ্রাপ্ত দেব-ব্রহ্মাগণের অনন্তো গুণপ্রভাবে ও মহানুভবে এই গ্লাসের জল ক্যান্সার রোগের মহাঋদ্ধি ও সিদ্ধিসম্পন্ন ঔষুধে পরিণত হোক। দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার এভাবে বলতে হবে।
জন্ম-জন্মান্তর বা এইজন্মে যদি কাউকে ঔষুধ দান করে থাকেন, তাহলে সেই পুণ্যেরফলেও সত্যক্রিয়া করতে পারেন। যেমন- মধু পূর্ণিমা দিবসে আমরা প্রায় সবাই বুদ্ধকে মধু দান করে থাকি। এই মধু হচ্ছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাকৃতিক ঔষুধ। তখন এভাবে সত্যক্রিয়া করতে হবে-
"আমি প্রতিবছর মধু পূর্ণিমায় বুদ্ধকে মধু দান করেছি। এই মধুরূপ ঔষুধ দানের পুণ্যফলে এই গ্লাসের জল আমার ক্যান্সার রোগের মহাঋদ্ধি ও সিদ্ধিসম্পন্ন ঔষুধে পরিণত হোক। দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার এভাবে বলতে হবে।
#৭ম ধাপ- ১ম থেকে ৬ষ্ঠ ধাপ ভালমতো শেষ করার পর সেই গ্লাসের জল সম্পূর্ণ খালি পেটে খাবেন। এই পদ্ধতিতে প্রতিদিন করতে হবে ও খেতে হবে।
বিদ্যাধরেরা এভাবেই প্রতিদিন এরূপ সিদ্ধি ঔষুধ খেয়ে থাকে। বান্দরবানে গুরুভন্তের আসনে বুদ্ধকে জল ছোয়াইং দান করা হলে তা বাসি হয়ে গেলে বোতল করে রাখা হতো। গুরুভন্তে প্রতিদিন এই জল পান করতেন এবং আমরা গেলে ঔষুধ হিসেবে খেতাম।
লেখাটি অনেক বড় হলেও এই পদ্ধতিতে ঔষুধ তৈরি করতে ৫-৬ মিনিট এর বেশি সময় লাগবে না। শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস যাদের বেশি, তারা ততবেশি ফল প্রাপ্ত হবেন। কর্মফল জনিত রোগ হলে, যতদিন পাপকর্ম ক্ষয় না হয়, ততদিন রোগ ভাল নাও হতে পারে, তবুও চেষ্টা করে যেতে হবে যেহেতু অনেক পুণ্যকর্মের কথা এই পদ্ধতিতে উল্লেখ আছে।
যাদের ডাক্তারি চিকিৎসায় রোগ ভালো হয়না, টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছে না, তারা এই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন। দুই-একদিন এরূপ করলেই রোগ ভাল হবে তা আশা করা বোকামি। রোগ হতে যেমন সময় লাগে, তদ্রুপ রোগ ভালো হতেও সময় লাগে। কমপক্ষে তিন থেকে ছয় মাস বা একবছর এরূপ পদ্ধতিতে ঔষুধ বানিয়ে খেয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
@বসু চন্দ্র মারমাগ্রী