05/09/2026
জামায়াত-শিবিরের সিফাত আব্দুল্লাহ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি সরকারের নামে গুজব ছড়িয়েছেন।
সিফাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, তাঁর দুই মাসে ৯ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে এবং তাঁর খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা।
কিন্তু প্রকৃত তথ্য হলো, সিফাত আব্দুল্লাহ যে বাড়িতে থাকেন, সেই বাড়িতে তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে। মে, জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই চার মাসে তিনটি মিটারে মোট বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা। গড় হিসাবে প্রতিমাসে তিনটি মিটারে হিসাব করলেও মোট বিল দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা।
সিফাত আব্দুল্লাহর বাড়িতে থাকা তিনটি মিটারের চার মাসের বিলের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো।
তবে সরেজমিনে সিফাত আব্দুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুৎ মিটার পরিদর্শন, কাস্টমারের লেজার প্রিন্ট এবং গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়।
অভিযুক্ত সিফাত আব্দুল্লাহর পিতার নাম সিকান্দার আলী। গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁদের দোতলা বাড়িতে মোট তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ রয়েছে। বাড়িটিতে আরও ভাড়াটিয়া পরিবার বসবাস করেন।
মিটার নম্বর: S000433*7
মে ২০২৬: ৪৫ ইউনিট — বিল ৩১৭ টাকা।
জুন ২০২৬: ৫০ ইউনিট — বিল ৩৪২ টাকা।
জুলাই ২০২৬: ১৫০ ইউনিট — বিল ১,১৮২ টাকা
আগস্ট ২০২৬: ৭৫ ইউনিট — বিল ৫১৩ টাকা
চার মাসে মোট ব্যবহার: ৩২০ ইউনিট।
চার মাসে মোট বিল: ২,৩৫৪ টাকা
মিটার নম্বর: S000218*5
মে ২০২৬: ২৫০ ইউনিট — বিল ১,৮১২ টাকা।
জুন ২০২৬: ২০০ ইউনিট — বিল ১,৫৮৪ টাকা।
জুলাই ২০২৬: ৪০০ ইউনিট — বিল ৩,৫৯৪ টাকা।
আগস্ট ২০২৬: ২৮৫ ইউনিট — বিল ২,৩৯৭ টাকা।
চার মাসে মোট ব্যবহার: ১,১৩৫ ইউনিট।
চার মাসে মোট বিল: ৯,৩৮৭ টাকা।
মিটার নম্বর: S000424*7
মে ২০২৬: ১২৫ ইউনিট — বিল ৮৪৭ টাকা।
জুন ২০২৬: ১২০ ইউনিট — বিল ৬৯০ টাকা।
জুলাই ২০২৬: ২০৫ ইউনিট — বিল ১,৬৩৩ টাকা।
আগস্ট ২০২৬: ১৭৫ ইউনিট — বিল ১,৩৬২ টাকা।
চার মাসে মোট ব্যবহার: ৬২৫ ইউনিট।
চার মাসে মোট বিল: ৪,৫৩২ টাকা।
অর্থাৎ, মে থেকে আগস্ট ২০২৬—এই চার মাসে তিনটি আবাসিক মিটার মিলিয়ে মোট ২,০৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে এবং মোট বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।
জামায়াত-শিবির সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ায়—এমন অভিযোগের আরও একটি উদাহরণ হিসেবে বিষয়টি সামনে এসেছে।
সিফাত আব্দুল্লাহ গুজব ছড়ানোর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে অশালীন ভাষায় গা-লা-গা-লির করেছে।
জামায়াতের আমির আজ সিফাত আব্দুল্লাহর মুক্তি চেয়েছেন। তাঁদের প্রতি প্রশ্ন—আপনাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও কেন তাঁদের পক্ষ নেওয়া হচ্ছে?
সিফাত আব্দুল্লাহর আইন অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত। গুজব ছড়ানোর দায়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সিফাত আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা সঠিক হয়েছে। জামাত-শিবির যে নোংরা রাজনীতি করে দেশবাসী আরেকবার দেখেছে।