16/11/2025
এই দেশের রাজনীতিতে নেতার অভাব নেই, কিন্তু মানুষের অধিকারের জন্য আজীবন আপসহীন লড়াই করা নেতার সংখ্যা খুবই কম। সেই বিরলদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম মওলানা ভাসানী। তিনি ছিলেন ক্ষমতার নয়, জনগণের রাজনীতির প্রতীক। শোষিত মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল নিখাদ, নির্লোভ এবং অটল।
দারিদ্র্য থেকে উঠে এসে তিনি গড়েছিলেন সংগ্রামী এক জীবনপথ। মজুর, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট ছিল তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। তিনি বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্র যখন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তখন আন্দোলনই মানুষের শেষ ভরসা। আর সেই আন্দোলনের সামনের সারিতেই তিনি ছিলেন সবসময়।
যে সময় শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় চরমে ওঠে, সেই সময়েই তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন সবচেয়ে দৃঢ়ভাবে। তিনি দেখিয়েছেন, রাজনীতির আসল শক্তি আসে জনগণের আস্থায়, ক্ষমতার প্রাসাদে নয়। তাঁর দৃঢ় অবস্থান এবং জনপ্রীতি তাঁকে পরিণত করেছিল নিপীড়িত মানুষের নির্ভরতার নাম হিসেবে।
জাতীয় স্বার্থ, সীমান্ত-সংকট, কৃষকের অধিকার—এসব প্রশ্নে তিনি কখনো নত হননি। তিনি জানতেন, রাষ্ট্র যখন দুর্বল হয়, তখন শক্তি হয়ে দাঁড়াতে হয় জনগণের পক্ষে। সেই শক্তির প্রতীকই ছিলেন তিনি।
আজকের বাংলাদেশ নানা সংকটে ঘেরা। দুর্নীতি, ভয়, অনিয়ম, অন্যায়ের চাপ সমাজকে ক্লান্ত করে তুলেছে। এই সময়ে মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক নীতি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। তিনি শিখিয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা দায়িত্ব, আর অধিকার রক্ষা করা রাজনীতির মূল চেতনা।
তাঁর প্রয়াণ দিবসে আমরা তাঁকে স্মরণ করি এক অনন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে, যিনি জীবনভর মানুষকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছেন।
মওলানা ভাসানী আজও আমাদের অনুপ্রেরণা, আমাদের পথ দেখানো আলোক।
মজলুম জনতার এই মহাপুরুষকে গভীর শ্রদ্ধা।
তানিম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়