26/08/2026
📌আমার ছোট বোনের গর্ভাবস্থার শেষ সময় চলছে। স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় সে আমার কাছে এসে বলল,
“আপু, বাবু না হওয়া পর্যন্ত তোর কাছেই থাকব।”🙂
মায়ের পেটের ছোট বোন, তার ওপর এই অবস্থায়—ওকে কী করে বলি, “থাকিস না”?
মন থেকে চেয়েছিলাম, যতদিন থাকবে, অন্তত নিজের বাড়ির মতো একটু স্বস্তি আর ভালোবাসা পাক।🙂
বোন এসে বলল, “আপু, আমার জন্য কী রান্না করবি তুই তো জানিসই!”
আমি হেসে বললাম, “তোর পছন্দের হাঁসের মাংসই রান্না করব।”
স্বামীকে বললাম একটা ভালো হাঁস নিয়ে আসতে। কিন্তু আমার শাশুড়ি সেটা শুনেই ছেলেকে ইশারা করে নিষেধ করলেন। স্বামীও চুপচাপ বলল, “এখন হাতে টাকা নেই, পরে একদিন আনব।”
সেদিন বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠেছিল। মনে হচ্ছিল, নিজের আপন মানুষটার একটা ছোট্ট ইচ্ছাও পূরণ করার ক্ষমতা আমার নেই। তখন শুধু মনে হচ্ছিল—ইশ, যদি নিজের কিছু উপার্জন থাকত!🥺
কিছুদিন পর আমার ননদ বাড়িতে আসবে শুনে শাশুড়ি নিজেই ছেলেকে বললেন, “তোর বোন আসছে, ভালো দেখে একটা হাঁস নিয়ে আসিস।”
সেদিন হাঁস ঠিকই এলো।
আমি কিছু বলিনি। মনে মনে শুধু বললাম, “থাক, যার জন্যই হোক, বাড়িতে তো এসেছে।”
দুপুরে পুরো হাঁস রান্না করতে বলা হলো। আমিও কোনো কথা না বলে রান্না করলাম। আমার বোন তখন প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত। গর্ভাবস্থার শেষ সময়, তার ওপর অনেকক্ষণ না খেয়ে আছে। রান্না শেষ হতেই আমি ওকে ভাত বেড়ে দিলাম।
ঠিক সেই সময় শাশুড়ির এমন কিছু কথা শুনতে হলো, যা অন্তঃসত্ত্বা বোনের সামনে বলা উচিত নয়।
শাশুড়ি বলে “তোমার বোনের মতো তোমারও দেখছি খাওয়ার লোভ কম না! নিজের সংসার তো খেয়েছই, এখন আবার বোনের সংসারও খেতে এসেছ?”
কথাগুলো আমার বোনের কানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওর মুখটা বদলে গেল।🥺
ও প্লেটটা সরিয়ে রেখে শুধু আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আপু, তুই এই সংসারে কীভাবে আছিস, আজ সেটা আমি বুঝে গেলাম।”
আর কোনো কথা বলেনি।
খাওয়া ছেড়ে হাত-মুখ ধুয়ে ব্যাগটা নিয়ে বেরিয়ে গেল।
আমি ওকে আটকাতে পারিনি। কী বলব, সেটাও বুঝতে পারিনি। আমার স্বামীও চুপ করে রইল। কারণ মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহস তার কোনোদিনই ছিল না।😅
সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে এই ভেবে—আমার বোনটা গর্ভাবস্থার শেষ সময়ে, ক্ষুধার্ত অবস্থায় আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল। অথচ আমি কিছুই করতে পারলাম না।🥺
সেদিন নিজের ওপর খুব রাগ হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, নিজের মানুষকে ভালোবেসেও যদি তাদের জন্য সামান্য কিছু করার ক্ষমতা না থাকে, তাহলে সেই অসহায়ত্বের চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে?
আমার বোন হয়তো সেদিন হাঁসের মাংস না খেয়েই চলে গেছে, কিন্তু তার চেয়েও বড় একটা জিনিস নিয়ে গেছে—আমার সংসার সম্পর্কে একটা তিক্ত সত্য।
আর আমি?
আমি সেদিনও কাঁদিনি।
অনেকবার ভেঙে যেতে যেতে মানুষ একসময় কাঁদতেও ভুলে যায়। আমি ও ভুলে গেছি 🥺 বাইরে থেকে খুব শক্ত মনে হয়, এই ঘটনা শুধু আমার মতো অসহায় বোনের হৃদয় ভেঙে দেয়নি ভিতর থেকে শেষ করে দিয়েছে।🥲
(এক আপুর জীবনের গল্প)