19/08/2026
أَقْوَالُ الْعُلَمَاءِ فِي مَشْرُوعِيَّةِ الِاحْتِفَالِ بِالْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ الشَّرِيفِ
(পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনের শরয়ী বৈধতা প্রসঙ্গে উলামায়ে কেরামের বাণীসমূহ)
১. আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যাহ
> «... فَتَعْظِيمُ الْمَوْلِدِ وَاتِّخَاذُهُ مَوْسِمًا قَدْ يَفْعَلُهُ بَعْضُ النَّاسِ وَيَكُونُ لَهُ فِيهِ أَجْرٌ عَظِيمٌ لِحُسْنِ قَصْدِهِ وَتَعْظِيمِهِ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ»
> “...অতএব, মিলাদকে সম্মান প্রদর্শন করা এবং একে একটি মৌসুম হিসেবে গ্রহণ করা—যা কিছু মানুষ করে থাকে—এতে তার উত্তম নিয়ত এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কারণে সে বিরাট সওয়াব লাভ করবে।”
> — আস-সীরাতুল হালাবিয়্যাহ (১/৮৩-৮৪); ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম
>
২. ইমাম ইবনে হাজার আল-হাইতামী (রহ.)
> «وَالْحَاصِلُ أَنَّ الْبِدْعَةَ الْحَسَنَةَ مُتَّفَقٌ عَلَى نَدْبِهَا، وَعَمَلُ الْمَوْلِدِ وَاجْتِمَاعُ النَّاسِ لَهُ كَذَلِكَ؛ أَيْ: بِدْعَةٌ حَسَنَةٌ»
> “সারকথা হলো, বিদ‘আতে হাসানা (উত্তম নতুন রীতি) মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত। আর মিলাদের আমল এবং এর জন্য মানুষের একত্রিত হওয়াও তদ্রূপ; অর্থাৎ এটিও একটি বিদ‘আতে হাসানা।”
>
৩. ইমাম আবু শামা (ইমাম নববীর উস্তাদ) (রহ.)
> «وَمِنْ أَحْسَنِ مَا ابْتُدِعَ فِي زَمَانِنَا مَا يُفْعَلُ كُلَّ عَامٍ فِي الْيَوْمِ الْمُوَافِقِ لِيَوْمِ مَوْلِدِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ مِنَ الصَّدَقَاتِ وَالْمَعْرُوفِ وَإِظْهَارِ الزِّينَةِ وَالسُّرُورِ، فَإِنَّ ذَلِكَ مَعَ مَا فِيهِ مِنَ الْإِحْسَانِ لِلْفُقَرَاءِ مُشْعِرٌ بِمَحَبَّتِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ وَتَعْظِيمِهِ فِي قَلْبِ فَاعِلِ ذَلِكَ، وَشُكْرًا لِلَّهِ عَلَى مَا مَنَّ بِهِ مِنْ إِيجَادِ رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ الَّذِي أَرْسَلَهُ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ»
> “আমাদের যুগে উদ্ভাবিত সর্বউত্তম কাজের অন্যতম হলো—প্রতি বছর নবী (সা.)-এর জন্ম দিবসের সাথে মিলিয়ে সদকা করা, নেক আমল সম্পাদন এবং সৌন্দর্য ও আনন্দ প্রকাশ করা। কেননা দরিদ্রদের প্রতি উপকারের পাশাপাশি তা আমলকারীর অন্তরে নবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এবং আল্লাহ তাআলা যে তাঁর রাসূলকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ অস্তিত্ব দান করেছেন, সেই নিয়ামতের শুকরিয়া প্রকাশ করে।”
৪. ইমাম আস-সাখাভী (রহ.)
> «لَمْ يَفْعَلْهُ أَحَدٌ مِنَ السَّلَفِ فِي الْقُرُونِ الثَّلَاثَةِ وَإِنَّمَا حَدَثَ بَعْدُ، ثُمَّ لَا زَالَ أَهْلُ الْإِسْلَامِ مِنْ سَائِرِ الْأَقْطَارِ وَالْمُدُنِ يَعْمَلُونَ الْمَوْلِدَ وَيَتَصَدَّقُونَ فِي لَيَالِيهِ بِأَنْوَاعِ الصَّدَقَاتِ وَيَعْتَنُونَ بِقِرَاءَةِ مَوْلِدِهِ الْكَرِيمِ وَيَظْهَرُ عَلَيْهِمْ مِنْ بَرَكَاتِهِ كُلُّ فَضْلٍ عَمِيمٍ»
> “প্রথম তিন শতাব্দীর সালাফদের কেউ এটি করেননি, বরং পরবর্তীতে এর প্রচলন ঘটেছে। অতঃপর সকল অঞ্চল ও শহরের মুসলিমগণ মিলাদ উদযাপন করে আসছেন, এর রাতগুলোতে নানা প্রকার সদকা দিয়ে থাকেন, নবীজির সম্মানিত বেলাদতের বিবরণ পাঠে যত্নবান হন এবং এর মাধ্যমে তাঁদের ওপর ব্যাপক বরকত ও অনুগ্রহ প্রকাশ পায়।”
> — আস-সীরাতুল হালাবিয়্যাহ (১/৮৩-৮৪)
৫. ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.)
> «مِنْ خَوَاصِّهِ أَنَّهُ أَمَانٌ فِي ذَلِكَ الْعَامِ وَبُشْرَى عَاجِلَةٌ بِنَيْلِ الْبُغْيَةِ وَالْمَرَامِ»
> “মিলাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এটি সেই বছরের জন্য একটি নিরাপত্তার মাধ্যম এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা ও উদ্দেশ্য পূরণের তাৎক্ষণিক সুসংবাদ।”
> — আস-সীরাতুল হালাবিয়্যাহ (১/৮৩-৮৪)
৬. ইমাম জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (রহ.)
> «هُوَ مِنَ الْبِدَعِ الْحَسَنَةِ الَّتِي يُثَابُ عَلَيْهَا صَاحِبُهَا لِمَا فِيهِ مِنْ تَعْظِيمِ قَدْرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ وَإِظْهَارِ الْفَرَحِ وَالِاسْتِبْشَارِ بِمَوْلِدِهِ الشَّرِيفِ»
> “এটি এমন উত্তম নতুন রীতির (বিদ‘আতে হাসানা) অন্তর্ভুক্ত যার ওপর আমলকারী সওয়াব লাভ করবে; কারণ এতে নবী (সা.)-এর মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর শুভ জন্ম উপলক্ষে আনন্দ ও সুসংবাদ প্রকাশ বিদ্যমান রয়েছে।”
> — আল-হাবী লিল ফাতাওয়া (১/২৯২)
> «يُسْتَحَبُّ لَنَا إِظْهَارُ الشُّكْرِ بِمَوْلِدِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ وَالِاجْتِمَاعُ وَإِطْعَامُ الطَّعَامِ وَنَحْوُ ذَلِكَ مِنْ وُجُوهِ الْقُرُبَاتِ وَإِظْهَارِ الْمَسَرَّاتِ»
> “আমাদের জন্য নবী (সা.)-এর শুভ জন্ম উপলক্ষে শুকরিয়া প্রকাশ করা, একত্রিত হওয়া, খানা খাওয়ানো এবং আনন্দ প্রকাশের মতো বিভিন্ন নৈকট্যপূর্ণ ভালো কাজ করা মুস্তাহাব।”
> — আল-হাবী লিল ফাতাওয়া (১/১৯৬)
> «مَا مِنْ بَيْتٍ أَوْ مَحَلٍّ أَوْ مَسْجِدٍ قُرِئَ فِيهِ مَوْلِدُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ إِلَّا حَفَّتِ الْمَلَائِكَةُ أَهْلَ ذَلِكَ الْمَكَانِ وَعَمَّهُمُ اللَّهُ تَعَالَى بِالرَّحْمَةِ وَالرِّضْوَانِ»
> “যে ঘর, স্থান বা মসজিদে নবী (সা.)-এর মিলাদ পাঠ করা হয়, ফেরেশতারা সেই স্থানের অধিবাসীদের বেষ্টন করে নেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে রহমত ও সন্তুষ্টি দ্বারা আবৃত করে দেন।”
> — আল-ওয়াসাইল ফী শারহিল মাসাইল
৭ ও ৮. ইমাম ইবনুল হাজ্জ আল-মালিকী (রহ.)
> «فَكَانَ يَجِبُ أَنْ نَزْدَادَ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ الثَّانِيَ عَشَرَ فِي رَبِيعٍ الْأَوَّلِ مِنَ الْعِبَادَاتِ وَالْخَيْرِ شُكْرًا لِلْمَوْلَى عَلَى مَا أَوْلَانَا مِنْ هَذِهِ النِّعَمِ الْعَظِيمَةِ وَأَعْظَمُهَا مِيلَادُ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ»
> “আমাদের ওপর আল্লাহর দেওয়া এই মহান নিয়ামতসমূহের—যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো মুস্তফা (সা.)-এর বেলাদত—শুকরিয়া হিসেবে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবারে আমাদের ইবাদত ও নেক কাজ আরও বৃদ্ধি করা উচিত ছিল।”
> — আল-মাদখাল (১/৩৬১)
> «وَمِنْ تَعْظِيمِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ الْفَرَحُ بِلَيْلَةِ وِلَادَتِهِ وَقِرَاءَةُ الْمَوْلِدِ»
> “আর নবী (সা.)-কে সম্মান প্রদর্শনের অন্যতম একটি দিক হলো তাঁর জন্মলগ্নের রাতে আনন্দ প্রকাশ করা এবং মিলাদ পাঠ করা।”
> — আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ (পৃ. ১৯০)
৯. হাফেজ আব্দুর রাহীম আল-ইরাকী (রহ.)
> «إِنَّ اتِّخَاذَ الْوَلِيمَةِ وَإِطْعَامَ الطَّعَامِ مُسْتَحَبٌّ فِي كُلِّ وَقْتٍ، فَكَيْفَ إِذَا انْضَمَّ إِلَى ذَلِكَ الْفَرَحُ وَالسُّرُورُ بِظُهُورِ نُورِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الشَّهْرِ الشَّرِيفِ، وَلَا يَلْزَمُ مِنْ كَوْنِهِ بِدْعَةً كَوْنُهُ مَكْرُوهًا؛ فَكَمْ مِنْ بِدْعَةٍ مُسْتَحَبَّةٍ بَلْ قَدْ تَكُونُ وَاجِبَةً»
> “ওয়ালিমা ও খানা খাওয়ানোর আয়োজন করা সর্বদাই মুস্তাহাব; তাহলে এই সম্মানিত মাসে নবী (সা.)-এর নূরের আবির্ভাবের আনন্দ এতে যুক্ত হলে কেমন হতে পারে?! আর কোনো বিষয় নতুন (বিদ‘আত) হলেই তা মাকরূহ হওয়া আবশ্যক নয়; কারণ কত বিদ‘আতই তো মুস্তাহাব, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তা ওয়াজিবও হতে পারে।”
> — শারহুল মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ লিজ-যারকানী
>
১০. শায়খুল ইসলাম হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী (রহ.)
> «أَصْلُ عَمَلِ الْمَوْلِدِ بِدْعَةٌ لَمْ تُنْقَلْ عَنْ أَحَدٍ مِنَ السَّلَفِ الصَّالِحِ مِنَ الْقُرُونِ الثَّلَاثَةِ، وَلَكِنَّهَا مَعَ ذَلِكَ قَدِ اشْتَمَلَتْ عَلَى مَحَاسِنَ وَضِدِّهَا، فَمَنْ تَحَرَّى فِي عَمَلِهَا الْمَحَاسِنَ وَجَنَّبَ ضِدَّهَا كَانَ بِدْعَةً حَسَنَةً وَإِلَّا فَلَا. وَقَدْ ظَهَرَ لِي تَخْرِيجُهَا عَلَى أَصْلٍ ثَابِتٍ فِي الصَّحِيحَيْنِ مِنْ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَوَجَدَ الْيَهُودَ يَصُومُونَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، فَسَأَلَهُمْ، فَقَالُوا: هُوَ يَوْمٌ أَغْرَقَ اللَّهُ فِيهِ فِرْعَوْنَ وَنَجَّى مُوسَى فَنَحْنُ نَصُومُهُ شُكْرًا لِلَّهِ تَعَالَى؛ فَيُسْتَفَادُ مِنْهُ الشُّكْرُ لِلَّهِ عَلَى مَا مَنَّ بِهِ فِي يَوْمٍ مُعَيَّنٍ مِنْ إِسْدَاءِ نِعْمَةٍ أَوْ دَفْعِ نِقْمَةٍ، وَيُعَادُ ذَلِكَ فِي نَظِيرِ ذَلِكَ الْيَوْمِ مِنْ كُلِّ سَنَةٍ، وَالشُّكْرُ لِلَّهِ يَحْصُلُ بِأَنْوَاعِ الْعِبَادَةِ كَالسُّجُودِ وَالصِّيَامِ وَالصَّدَقَةِ وَالتِّلَاوَةِ، وَأَيُّ نِعْمَةٍ أَعْظَمُ مِنَ النِّعْمَةِ بِبُرُوزِ هَذَا النَّبِيِّ نَبِيِّ الرَّحْمَةِ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ؟ وَعَلَى هَذَا فَيَنْبَغِي أَنْ يُقْتَصَرَ فِيهِ عَلَى مَا يُفْهِمُ الشُّكْرَ لِلَّهِ تَعَالَى مِنَ التِّلَاوَةِ وَالْإِطْعَامِ وَإِنْشَادِ شَيْءٍ مِنَ الْمَدَائِحِ النَّبَوِيَّةِ الْمُحَرِّكَةِ لِلْقُلُوبِ إِلَى فِعْلِ الْخَيْرِ وَالْعَمَلِ لِلْآخِرَةِ، وَأَمَّا مَا يَتْبَعُ ذَلِكَ مِنَ السَّمَاعِ وَاللَّهْوِ وَغَيْرِ ذَلِكَ فَيَنْبَغِي أَنْ يُقَالَ: مَا كَانَ مِنْ ذَلِكَ مُبَاحًا بِحَيْثُ يَقْتَضِي السُّرُورَ بِذَلِكَ الْيَوْمِ لَا بَأْسَ بِإِلْحَاقِهِ بِهِ، وَمَا كَانَ حَرَامًا أَوْ مَكْرُوهًا فَيُمْنَعُ، وَكَذَا مَا كَانَ خِلَافَ الْأَوْلَى»
> “মিলাদের মূল ভিত্তি একটি বিদ‘আত, যা প্রথম তিন শতাব্দীর সালাফে সালেহীনের কারও থেকে বর্ণিত হয়নি। তবে তা সত্ত্বেও এতে যেমন ভালো কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তেমনি এর বিপরীত কিছু বিষয়ও রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এতে ভালো কাজগুলোর অনুসরণ করবে এবং এর বিপরীত বিষয়গুলো বর্জন করবে, তবে তা বিদ‘আতে হাসানা হবে, অন্যথায় নয়।
> আর এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শরয়ী মূলনীতির ওপর স্থাপন করা আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে; তা হলো সহীহাইনে (বুখারি ও মুসলিম) প্রমাণিত রয়েছে যে, নবী (সা.) যখন মদিনায় আসলেন, তখন ইহুদিদের আশুরার দিন রোজা রাখতে দেখলেন। তিনি তাদের কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল: ‘এটি এমন এক দিন যেদিন আল্লাহ ফেরাউনকে ডুবিয়েছিলেন এবং মূসাকে রক্ষা করেছিলেন; তাই আমরা আল্লাহর শুকরিয়া হিসেবে এই দিন রোজা রাখি।’
> এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোনো নির্দিষ্ট দিনে কোনো বিশেষ নিয়ামত দান বা বিপদ দূরীকরণের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা যায় এবং প্রতি বছর সেই নির্দিষ্ট দিনে এর পুনরাবৃত্তি করা যায়। আর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে হয়ে থাকে—যেমন সিজদা, রোজা, সদকা ও তিলাওয়াত। আর এই দিনে রহমতের নবী হিসেবে বিশ্বনবীর আবির্ভাবের চেয়ে বড় নিয়ামত আর কী হতে পারে?!
> অতএব, এতে যা করা উচিত তা হলো: যেসব কাজে আল্লাহর শুকরিয়া প্রকাশ পায় কেবল সেগুলোর মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ রাখা—যেমন তিলাওয়াত, খানা খাওয়ানো এবং নবীজির প্রশংসামূলক এমন কিছু কাব্য আবৃত্তি করা যা হৃদয়কে নেক কাজ ও আখিরাতের আমলের প্রতি আলোড়িত করে। আর এর অনুগামী যেসব গান-বাজনা ও বিনোদন রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে বলা যায়: যা আনন্দ প্রকাশের জন্য মুবাহ (বৈধ) সীমার মধ্যে থাকবে তা যুক্ত করতে অসুবিধা নেই; আর যা হারাম বা মাকরূহ হবে তা নিষিদ্ধ হবে, তেমনি যা অনুত্তম (খেলাফে আওলা) তাও বর্জনীয়।”
> — আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা (১/১৯৬)
১১. আল্লামা ইবনে আবেদীন আশ-শামী (রহ.)
> «اعْلَمْ أَنَّ مِنَ الْبِدَعِ الْمَحْمُودَةِ عَمَلَ الْمَوْلِدِ الشَّرِيفِ مِنَ الشَّهْرِ الَّذِي وُلِدَ فِيهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ»
> “জেনে রাখুন, নবী (সা.) যে মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন সে মাসে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা প্রশংসনীয় বিদ‘আতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।”
> «فَالِاجْتِمَاعُ لِسَمَاعِ قِصَّةِ صَاحِبِ الْمُعْجِزَاتِ عَلَيْهِ أَفْضَلُ الصَّلَوَاتِ وَأَكْمَلُ التَّحِيَّاتِ مِنْ أَعْظَمِ الْقُرُبَاتِ لِمَا يَشْتَمِلُ عَلَيْهِ مِنَ الْمُعْجِزَاتِ وَكَثْرَةِ الصَّلَوَاتِ»
> “মুজিযার অধিকারীর (নবীজির) জীবনী শোনার জন্য একত্রিত হওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৈকট্য লাভের মাধ্যম; কারণ এতে মুজিযাসমূহ এবং প্রচুর পরিমাণে দরূদ পাঠের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে।”
> — শারহু মাওলিদি ইবনে হাজার
১২. শায়খ হাসানাইন মুহাম্মদ মাখলুফ (রহ.)
> «إِنَّ إِحْيَاءَ لَيْلَةِ الْمَوْلِدِ الشَّرِيفِ وَلَيَالِي هَذَا الشَّهْرِ الْكَرِيمِ الَّذِي أَشْرَقَ فِيهِ النُّورُ الْمُحَمَّدِيُّ إِنَّمَا يَكُونُ بِذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى وَشُكْرِهِ لِمَا أَنْعَمَ بِهِ عَلَى هَذِهِ الْأُمَّةِ مِنْ ظُهُورِ خَيْرِ الْخَلْقِ إِلَى عَالَمِ الْوُجُودِ، وَلَا يَكُونُ ذَلِكَ إِلَّا فِي أَدَبٍ وَخُشُوعٍ وَبُعْدٍ عَنِ الْمُحَرَّمَاتِ وَالْبِدَعِ وَالْمُنْكَرَاتِ، وَمِنْ مَظَاهِرِ الشُّكْرِ عَلَى حُبِّهِ مُوَاسَاةُ الْمُحْتَاجِينَ بِمَا يُخَفِّفُ ضَائِقَتَهُمْ وَصِلَةُ الْأَرْحَامِ، وَالْإِحْيَاءُ بِهَذِهِ الطَّرِيقَةِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مَأْثُورًا فِي عَهْدِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ وَلَا فِي عَهْدِ السَّلَفِ الصَّالِحِ إِلَّا أَنَّهُ لَا بَأْسَ بِهِ وَسُنَّةٌ حَسَنَةٌ»
> “মিলাদুন্নবীর রাত এবং এই সম্মানিত মাসের রাতগুলো—যে মাসে মুহাম্মদী নূর উদ্ভাসিত হয়েছিল—উদযাপনের মাধ্যম হলো আল্লাহর জিকির এবং সৃষ্টির সেরা মানবের শুভাগমনে এই উম্মত যে নিয়ামত লাভ করেছে তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। আর তা হতে হবে কেবল আদব ও একাগ্রতার সাথে এবং যাবতীয় হারাম, বিদ‘আত ও পাপাচার বর্জনের মাধ্যমে। নবীপ্রেমের শুকরিয়ার অংশ হলো অভাবীদের দুর্দশা লাঘবে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা। এই পন্থায় পালন করা যদিও নবীজি (সা.) ও সালাফে সালেহীনের যুগে প্রচলিত ছিল না, তবুও এতে কোনো দোষ নেই এবং এটি একটি সুন্নাতুল হাসানা (উত্তম রীতি)।”
> — ফাতাওয়া শারইয়্যাহ (১/১৩১)
১৩. শায়খ মুহাম্মদ মুতাওয়াল্লী আশ-শাওরাভী (রহ.)
> «وَإِكْرَامًا لِهَذَا الْمَوْلِدِ الْكَرِيمِ فَإِنَّهُ يَحِقُّ لَنَا أَنْ نُظْهِرَ مَعَالِمَ الْفَرَحِ وَالِابْتِهَاجِ بِهَذِهِ الذِّكْرَى الْحَبِيبَةِ لِقُلُوبِنَا كُلَّ عَامٍ، وَذَلِكَ بِالاحْتِفَالِ بِهَا مِنْ وَقْتِهَا...»
> “এই সম্মানিত জন্ম উপলক্ষে আমাদের অন্তরের প্রিয় এই স্মৃতিতে প্রতি বছর যথাসময়ে উদযাপনের মাধ্যমে আনন্দ ও প্রফুল্লতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো আমাদের জন্য সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ...।”
> — আলা মাইদাতিল ফিকরিল ইসলামী (পৃ. ২৯৫)
১৪. শায়খ আল-মুবাশশির আত-তিরাযী (রহ.)
> «إِنَّ الِاحْتِفَالَ بِذِكْرَى الْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ الشَّرِيفِ أَصْبَحَ وَاجِبًا أَسَاسِيًّا لِمُوَاجَهَةِ مَا اسْتَجَدَّ مِنَ الِاحْتِفَالَاتِ الضَّارَّةِ فِي هَذِهِ الْأَيَّامِ»
> “বর্তমান যুগে যেসব ক্ষতিকর উৎসবের সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলোর মোকাবিলার জন্য পবিত্র মিলাদুন্নবীর স্মৃতি উদযাপন করা একটি মৌলিক ওয়াজিবে পরিণত হয়েছে।”