23/05/2026
🇮🇹 ইতালিতে আপন ভাইকে 💔 খুন করা সেই ঘাতক হুমায়ুন ইতালীয় আদালতের কাঠগড়ায়; বেরিয়ে এলো নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য! ⛔
○ বিচারক আঞ্জেলো জিজ্জারির সামনে হাজির করা হলো ঘাতককে; "বুঝতে পারিনি কেন এমন হলো" বলে কান্নায় ভেঙে পড়লেও আদালত জামিন না দিয়ে পাঠাল লেচ্চে কেন্দ্রীয় কারাগারে।
📍 লেচ্চে, ইতালি | ২২ মে, ২০২৬ - 🎙️
📅 ইতালীয় আদালতের বিশেষ শুনানির রোমহর্ষক প্রেক্ষাপট:
ইতালির কাপো দি লেউকা অঞ্চলের ত্রিকাসে (Tricase) শহরে গত ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে আপন ছোট ভাই শেখ মো. নয়নকে (২৮) নৃশংসভাবে খুন করার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ঘাতক বড় ভাই শেখ মো. হুমায়ুনকে (৩৩) অবশেষে ইতালির লেচ্চে জুডিশিয়াল কোর্টের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়েছে। ইতালীয় দণ্ডবিধির অধীনে ‘স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ড’ বা ওমিচিদিও ভোলোনতারিও (Omicidio Volontario) অপরাধে অভিযুক্ত হুমায়ুনকে ইতালীয় ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারক আঞ্জেলো জিজ্জারি (Angelo Zizzari) এর বিশেষ আদালতে জবানবন্দির জন্য তোলা হয়।
ডিফেন্স আইনজীবী দারিও পাইয়ানোর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে ঘাতক হুমায়ুনের জবানবন্দি এবং ইতালীয় কারাবিনিয়েরি পুলিশের ইনভেস্টিগেশন ইউনিট প্রধান কর্নেল ক্রিস্তিয়ানো মারেল্লার দেওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্যে আদালত কক্ষে এক থমথমে এবং আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
🎬 ইতালীয় লেচ্চে কোর্ট রুম থেকে পাওয়া ৩টি প্রধান চাঞ্চল্যকর মোড় ও আপডেট:
ইতালির স্বনামধন্য আইনি সংবাদপত্র ও স্থানীয় ক্রাইম ব্যুরো ‘লেচ্চেপ্রিমা’ (LeccePrima)-র ভেরিফাইড জুডিশিয়াল রিপোর্ট এবং ডেপুটি প্রসিকিউটর দোনাতিনা বুফেল্লি (Donatina Buffelli)-র দাখিল করা চার্জশিট অনুযায়ী, কোর্টে যে নতুন তথ্যগুলো উন্মোচিত হয়েছে, তা নিচে ক্রমানুসারে তুলে ধরা হলো:
১. "আমি কেন এমন করলাম জানি না"—কোর্টে ঘাতকের বিভ্রান্তিকর জবানবন্দি: শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ঘাতক হুমায়ুনকে চরম বিপর্যস্ত, মানসিকভাবে ভেঙে পড়া এবং বিভ্রান্ত দেখাচ্ছিল। বিচারকের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন স্বীকার করেন যে ঘটনার দিন ৩০ এপ্রিল বিকেলে তাদের ভিয়া লুইজি কাদোর্নার (Via Luigi Cadorna) ফ্ল্যাটে নয়নের সাথে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি (Colluttazione) হয়েছিল।
সে সময় রাগের মাথায় সে রান্নাঘর থেকে ২৩ সেন্টিমিটার ধারালো ব্লেডের একটি বড় ছুরি (Coltello da Cucina) এনে নয়নের পিঠে ও মাথায় সজোরে আঘাত বা কোপ (Fendente) মারে। তবে কেন সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাল, তার মূল নেপথ্যের কারণ বা মোটিভ বিচারকের সামনে স্পষ্টভাবে বলতে অস্বীকৃতি জানায়। হুমায়ুন আদালতে বলে, "আমি কখনোই চাইনি এমন একটা ঘটনা ঘটুক। আমি আসলে বুঝতেই পারছি না যে পরিস্থিতি কেন এতদূর পর্যন্ত পৌঁছাল।"
২. বাবার সাথে দীর্ঘদিনের তীব্র ক্ষোভ ও পারিবারিক কলহের কথা স্বীকার: যদিও হুমায়ুন পরকীয়া প্রেমিকা তায়েবা বা ২২ লাখ টাকার লালসার কথা ইতালীয় পুলিশের কাছে সরাসরি মুখ খোলেনি, তবে সে আদালতের কাছে স্বীকার করেছে যে বাংলাদেশে থাকা তার বাবা দেলোয়ার হোসেন এবং ছোট ভাই নয়নের সাথে তার দীর্ঘদিনের তীব্র পারিবারিক মনমালিন্য ও বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক (Rapporto Conflittuale) চলছিল। বাড়িতে টাকা পাঠানো এবং পারিবারিক কর্তৃত্ব নিয়ে নয়নের সাথে তার এই ক্ষোভ জমেছিল, যা ঘটনার দিন বিকেলে বিস্ফোরণ ঘটে।
৩. বাংলাদেশে করা সেই পৈশাচিক ভিডিও কলের ডিজিটাল রেকর্ড জব্দ: কারাবিনিয়েরি পুলিশ আদালতে নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনার দিন হত্যার ঠিক পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে হুমায়ুন চরম উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশে তার বাবা-মার ইমো বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি ভিডিও কল দিয়েছিল। সেই পৈশাচিক ভিডিও কলে হুমায়ুন তার নিজের রক্তাক্ত হাত, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ২৩ সেন্টিমিটারের ছুরি এবং মেঝেতে পড়ে থাকা ছোট ভাই নয়নের নিথর দেহ দেশের পরিবারকে লাইভ দেখায়।
বাংলাদেশে থাকা পরিবারের এক সদস্য তখন উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে অন্য একটি স্মার্টফোন দিয়ে সেই ভিডিও কলের স্ক্রিন ও ছবি রেকর্ড করে রাখেন। ইতালীয় তদন্তকারী দল বাংলাদেশ থেকে সেই ভিডিও কলের সমস্ত ডিজিটাল ফুটেজ ও স্ক্রিনশট আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় নিজেদের হেফাজতে (Acquisite dai Carabinieri) নিয়েছে, যা আদালতে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ফাঁসির দড়ি বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিশ্চিত করার সবচেয়ে বড় প্রমাণ (Smoking Gun) হিসেবে কাজ করবে।
🚨 প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও লেচ্চে কারাগার থেকে সর্বশেষ আপডেট:
পুলিশের রিপোর্টে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সময় ওই ফ্ল্যাটে আরও একজন বাংলাদেশী রুমমেট বা প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন। তিনিই প্রথম রক্তাক্ত নয়নকে দেখে দ্রুত ইতালির জরুরি মেডিকেল সার্ভিস ১১৮ (118) নম্বরে কল করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন। কিন্তু ডাক্তাররা পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নয়ন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পুলিশ যখন ফ্ল্যাটে ঢোকে, হুমায়ুন তখন সম্পূর্ণ শোকাচ্ছন্ন ও বাকরুদ্ধ অবস্থায় লাশের পাশে বসে ছিল এবং সে পুলিশকে কোনো বাধা না দিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেয়। গত ৫ মে অনুষ্ঠিত এই শুনানি শেষে বিচারক আঞ্জেলো জিজ্জারি ঘাতক হুমায়ুনের কোনো প্রকার জামিন আবেদন গ্রাহ্য না করে তাকে লেচ্চে সেন্ট্রাল কারাগারে (Carcere di Lecce) কঠোর প্রহরায় বন্দি রাখার চূড়ান্ত আদেশ বহাল রেখেছেন।
#ইতালি_নিউজ ্যা_মামলা #ঘাতক_হুমায়ুন_আদালতে #ভিডিও_কল_জব্দ #লেচ্চে_কারাগার াই_খুন #জাহিদ_নিউজ #সঠিক_তথ্য