08/06/2026
বর্তমানে কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়
আজ কাক দেখেছেন?
তাহলে উত্তর দিতে অনেককেই একটু ভেবে নিতে হয়।
এই একটুকু বাস্তবতাই বলে দেয়, কোনো পরিসংখ্যান ছাড়াই, আমাদের চারপাশে কাকের সংখ্যা কতটা কমে গেছে।
একসময় যে পাখিটি ছিল আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী, আজ তার দেখা মেলে খুবই কম।
ছোটবেলায় বারান্দায় খাবার নিয়ে দাঁড়ালেই কোথা থেকে যেন ঝাঁকে ঝাঁকে কাক এসে হাজির হতো। রান্নাঘর থেকে খাবার এনে কত কাককে যে ছিটিয়ে খাইয়েছি, তার হিসাব নেই।
তাদের কা-কা ডাক, ওড়াউড়ি আর খাবার নিয়ে টানাটানি ছিল আমাদের প্রতিদিনের জীবনেরই অংশ।
কয়েক বছর আগেও আমার মেয়েকে ভাত খাওয়ানোর সময় কাক ছিল এক বড় সহায়। “খেয়ে নাও, না হলে কাক এসে খেয়ে ফেলবে”
এই কথা বললেই সে তাড়াতাড়ি খেতে শুরু করত। সত্যি বলতে, কাকগুলোও যেন ব্যাপারটা বুঝত! বারান্দায় এসে বসে থাকত, আর আমার মেয়ে অবাক চোখে তাদের দেখত। কাক আর শিশুর সেই ছোট্ট বন্ধুত্বের দৃশ্যগুলো আজও মনে পড়ে।
কিন্তু এখন আর সেই দৃশ্য দেখা যায় না। বারান্দায় কাক এসে বসে না, তাদের ডাকও খুব একটা শোনা যায় না। শহর বদলেছে, পরিবেশ বদলেছে, আর সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের পরিচিত অনেক প্রাণীও।
কখনো কখনো মনে হয়, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো একদিন বইয়ের পাতায় ছবি দেখে পড়বে কাক নামে এক ধরনের পাখি ছিল, যারা মানুষের খুব কাছাকাছি বসবাস করত।
তখন হয়তো আমরা স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বলব, “হ্যাঁ, একসময় আমাদের উঠান, গাছ আর বারান্দা জুড়ে তাদেরই রাজত্ব ছিল।”
প্রকৃতির এই নীরব পরিবর্তন সত্যিই ভাবিয়ে তোলে।
কাক হারিয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি পাখির সংখ্যা কমে যাওয়া নয়, বরং আমাদের শৈশব, স্মৃতি আর প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কের একটি অংশ ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাওয়া।
🖊️ Samina Chowdhury