18/06/2024
বই: আর্দশ হিন্দু হোটেল
লেখক: বিভূতি-ভূষণ বন্দোপাধ্যায়।
প্রকাশনী: সূর্যোদয় প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৪
রানাঘাটে বেচু চক্কত্তির সাত টাকা মাইনে কাজ করেন হাজারী ঠাকুর।
স্বপ্ন একটা হোটেল খোলার রান্নার কাজে বেশ পটু। কলকাতার বাবুরা এসেও ওনার হাতের রান্না করা খাবার খেয়ে প্রশংসা করেন। হোটেলের কর্মচারী পদ্ম ঝি'র বাজে ব্যবহার, হাজারী ঠাকুরকে সবসময় নানা বিপাকে ফেলায় ছিলো তার প্রধান কাজ। সবকিছু মেনে নিয়ে হোটেলে কাজ করতেন হাজারী ঠাকুর।
কখনো আদপেটা খেয়েছেন কখনো বা, মাংসের তরকারী মাংসটুকু ও রাখা হতো না ওর জন্য। তবুও, তিনি হোটেলের কাজে কখনো ফাঁকি দিতেন না নিজের সবটুকু দিয়ে রান্না করতেন চমৎকার সব নানান পদের খাবার।
হাজারী ঠাকুর হোটেলের কাজ শেষে চূর্ণী নদীর ঘাটে গিয়ে বসতেন আর, স্বপ্ন দেখতেন একটা নিজের হোটেল খোলার সেখানে বড় বড় অক্ষের লেখা থাকবে "আর্দশ হিন্দু হোটেল "। এইসব ভেবেই তার আনন্দ।
তার গ্রামের মেয়ে অতসী ও কুসুমের সাথে তার বেশ সখ্যতা গড়ে উঠে এবং, তিনি তার স্বপ্নের কথা তাদেরকে জানায় তারা সবাই ভীষণ উৎসাহ দেয় হোটেল খোলার জন্য। একদিন চুরির মিথ্যে অপবাদে হাজারী ঠাকুরকে চাকরি থেকে বের করে দিয়ে গারদে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে এক গৃহস্তের বাড়ীতে কাজ নেয় মাইনে পত্র ও বেশ ভালো।
কিন্তু, তার মন গ্রামে ঠিকছিলো না তার নির্জনতা খুব একটা পছন্দ না সে চাইতে সারাদিনের কাজের চাপ, কোলাহল, শহুরে জীবন। সে একদিন রানাঘাটে আসে চক্কত্তি বাবুর সাথে দেখা করতে গিয়ে জানতে নতুন রাধুনি রাখা হয়েছে রান্নার কাজের জন্য। বেচা বিক্রী ও কমে গেছে আগের তুলনায় লোকজন এসেই হাজারী ঠাকুরের কথা জিজ্ঞেস করে।
চক্কত্তি মশাই আবার তাকে রান্নার কাজে বহাল করে। তবুও, পদ্ম ঝি'র বাজে কথা থেকে রেহাই পাই না হাজারী ঠাকুর।
পরে কুসুম ও অতসীর টাকা দিয়ে রানা ঘাটে নিজের একটা হোটেল খুলে বসে হাজারী ঠাকুর। দূর দূরান্ত থেকে লোকজন আসতো শুধুমাত্র তার হাতের রান্না করার জন্য। বেশ ভালোই চলছে হোটেলের ব্যবসা।
শেষ পর্যন্ত হাজারী ঠাকুরের স্বপ্ন সত্যি হয়েছিলো। চমৎকার একটা উপন্যাস সত্যি কথা বলতে যারা উপন্যাসটি এখনো পড়েন নি তারা অসাধারণ কিছু মিস করছেন। তাই এক্ষুনি বইটা পড়ে ফেলার দরকার।