02/07/2026
এমন চুমু তো ফুলশয্যার রাতেও প্রেমিক তার প্রেমিকাকে দেয় না!
সেই কবে ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনা জিতিয়ে দিয়ে গিয়েছিলো। তারপর থেকে আকাশী-নীল দলে ভক্তেরা অপেক্ষা করছিলো আবারো কোনো এক ম্যারাডোনা আসবে, তাদের বিশ্বকাপ জেতার আনন্দ দিবে।
তারপর ২০০৬ সালে এক বাবরি চুলের কিশোর এলো, সবাই বলতে লাগলো এই ছেলে দ্বিতীয় ম্যারাডোনা।
কথামত ছেলেটি ম্যারাডোনা নয় বরং ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে ম্যারাডোনাকেও ছাড়িয়ে অনেক উপরে উঠে গেলো।
কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ?
২০০৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ!
২০১০ সালেও একই!
২০১৪ তে ফাইনালে গেলো কিন্তু সবচেয়ে কাছে থেকেও না পাওয়ার তীব্র বেদনা!
এরপর ২০১৫ ও ২০১৬ সালে নিজস্ব মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়েও ফাইনালে গিয়ে পরাজয়! যেনো মনে হচ্ছিলো দলটা অভিশপ্ত হয়ে গেছে! এরা বারবার ফাইনালে গিয়েও কেনো জিততে পারে না?
এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপে ২য় রাউন্ডেই বাদ! ৩১ বছর বয়সী সেই দ্বিতীয় ম্যারাডোনার বাবরি চুল আর নেই। সবাই বলছে, "এই মানুষটা শ্রেষ্ঠ হতে পারে না, কারণ এর কোনো আন্তর্জাতিক খেতাব জেতা হয় নি"
এরপর ২০২১ এলো, অতীতের সকল নৈরাশ্যকে হঠাৎ ধুয়েমুছে দিয়ে মানুষটি জিতে গেলো তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক খেতাব। ৩৪ বছর বয়সে!
এরপর ২০২২। পুরো বিশ্বকাপটা গল্পের মত লেগেছে! প্রথম ম্যাচ সামান্য একটা দলের কাছে হেরেও যে শেষে বিশ্বকাপ জেতা যায় এটা গল্প ছাড়া আর কোথায় মানায়?
মানুষটি ৩৫ বছর বয়সে, যে বয়সে ফুটবলাররা ফুটবলটা ঠিক মত খেলতেও পারে না, সেই বয়সে এসে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জিতলো।
বিশ্বজুড়ে আমরা কোটি কোটি আকাশী-নীলের ভক্তরা রাস্তায় আনন্দ-মিছিলে ব্যস্ত।
একটু থেমে দাড়ালাম। দেখলাম মানুষটি তাঁর জীবনের পাহাড়সম প্রাপ্তিকে ক্ষণিকের মধ্যে ভুলে গিয়ে নতুন এক সোনালী ট্রফিকে এমনভাবে চুমু দিচ্ছে যেমনকরে হয়ত ফুলশয্যার রাতে প্রেমিকও তার প্রেমিকাকে দেয় না!
এমন হৃদয় নিঙড়ানো চুমুর দৃশ্য ভক্ত-হৃদয়ে বইয়ে নিয়ে যায় এক অন্যরকম আবেগের স্রোত। যা ভক্তের চোখ ভিজিয়ে যে আনন্দ-অশ্রুতে।
হ্যাঁ, আমিও সেই রাতে রাস্তার মিছিল থেকে হঠাৎ দাঁড়িয়ে দেখেছিলাম এই চুমুর দৃশ্য! এবং তৎক্ষনাৎ আমার মনে পরে গেছিলো কতটা বছর ধরে এমন দৃশ্যের অপেক্ষায় ছিলাম আমি!
তাই চোখের জল আটকে রাখা আমার পক্ষেও সম্ভব হয় নি!
Leo Messi 🇦🇷