Buddhism - বৌদ্ধধর্ম

Buddhism - বৌদ্ধধর্ম To spread Buddhism and To spread the truth!

ত্রিপিটকের আলোকে “প্রবারণা পূর্ণিমা” (সংস্কৃতে Pravāraṇā-pūrṇimā, পালিতে Pavāraṇā-puṇṇamī) বৌদ্ধ ধর্মে এক গভীর ধর্মীয় ও ...
06/10/2025

ত্রিপিটকের আলোকে “প্রবারণা পূর্ণিমা” (সংস্কৃতে Pravāraṇā-pūrṇimā, পালিতে Pavāraṇā-puṇṇamī) বৌদ্ধ ধর্মে এক গভীর ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এটি বর্ষাবাস (বসবাস) সমাপ্তির দিন — যেখানে ভিক্ষুরা তিন মাস বর্ষা ঋতুতে এক স্থানে অবস্থান করে কঠোর সাধনা, ধ্যান ও শীলচর্চা করেন। নিচে এর ত্রিপিটক-ভিত্তিক ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো —

---

🕊️ ১. প্রবারণার উৎপত্তি (ত্রিপিটকের সূত্র অনুযায়ী)

ত্রিপিটকের “Vinaya Pitaka”-এর Mahāvagga ও Cullavagga অংশে প্রবারণার উৎপত্তির কথা পাওয়া যায়।
বুদ্ধের সময় ভিক্ষুরা বর্ষাকালে এক স্থানে অবস্থান করতেন (vassa-vāsa), যেন জীবজন্তু, বৃক্ষ ও পথচারীদের ক্ষতি না হয়। বর্ষাবাস শেষে, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস শেষে, প্রবারণা পূর্ণিমায় তারা পরস্পরকে নিমন্ত্রণ করেন —

> “Āvuso, ahaṃ āvuso diṭṭhena vā sutena vā parisaṅkāya vā āpattiṃ passāmi, taṃ vadetha, passanto paṭikarissāmi.”
(Vinaya Cullavagga, Pavāraṇākhandhaka)

অর্থাৎ —

> “ভদ্রজন, যদি আমার কোনো অপরাধ বা ত্রুটি তোমার চোখে, কানে বা ধারণায় আসে, তবে তা বলো; আমি তা দেখলে সংশোধন করব।”

👉 এই উক্তিই প্রবারণার মূলমন্ত্র — যা পারস্পরিক সততা, বিনয়, এবং আত্মশুদ্ধির প্রকাশ।

---

🌕 ২. আচার ও প্রক্রিয়া

প্রবারণা দিবসে ভিক্ষুসমাজে একটি বিশেষ সংঘকর্ম অনুষ্ঠিত হয় —

প্রতিটি ভিক্ষু অপর ভিক্ষুদের কাছে অপরাধ বা ত্রুটি প্রকাশের অনুমতি দেন।

এটি uposatha-এর মতোই একটি সংঘ-সম্মিলন (Saṅghakamma)।

প্রবারণার মাধ্যমে তিন মাসের ধ্যান, শীল, ও শিক্ষার পর আত্মসমালোচনা ও পরিশুদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়।

---

🌿 ৩. ধর্মীয় ও নৈতিক তাৎপর্য

ত্রিপিটকের ব্যাখ্যানুযায়ী, প্রবারণার মাধ্যমে প্রকাশ পায় —

আত্মসমালোচনার মানসিকতা (Self-reflection)

অহংকারবর্জন ও বিনয়চর্চা (Humility and Discipline)

সঙ্ঘের ঐক্য ও সম্প্রীতি (Harmony in the Saṅgha)

শুদ্ধাচার ও সততা (Purity and Sincerity)

বুদ্ধ বলেছেন, একজন সত্য সাধক কেবল নিজের ধ্যানেই নয়, অপরের সমালোচনাকেও গ্রহণ করে উন্নতির পথে চলেন।

---

🪷 ৪. ঐতিহাসিক ও সামাজিক দিক

বুদ্ধের সময়ে প্রবারণার দিনেই ভিক্ষুগণ বর্ষাবাস শেষে নতুন গন্তব্যে যাত্রা করতেন, এবং সাধারণ গৃহীরা তাঁদের কঠিন চীবর দান (Kathina Civara Dāna) প্রদান করতেন।
এই দানই পরবর্তীতে কঠিন চীবর দান উৎসব নামে পরিচিত হয়, যা আজও বিশ্বের সব বৌদ্ধ সমাজে প্রবারণার পর পালিত হয়।

---

☸️ ৫. সারসংক্ষেপ

দিক তাৎপর্য

ধর্মীয় আত্মশুদ্ধি, সততা ও বিনয়চর্চার দিন
আধ্যাত্মিক অপরের পরামর্শ ও সমালোচনাকে গ্রহণ করে মন ও চরিত্র পরিশুদ্ধ করা
সামাজিক সংঘে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব স্থাপন
ঐতিহাসিক বর্ষাবাস সমাপ্তির পর যাত্রার সূচনা

---

🔹 সংক্ষেপে:
প্রবারণা পূর্ণিমা হলো সেই দিন, যেদিন ভিক্ষুরা একে অপরের ত্রুটি স্বীকারের মাধ্যমে অহংকার ত্যাগ করেন, শীলকে শুদ্ধ করেন এবং সত্য সাধনার পথে নব উদ্যমে যাত্রা করেন।
এটি বৌদ্ধ সঙ্ঘের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য, এবং সত্যনিষ্ঠ জীবনের প্রতীক।

"৯. যে কামরাগাদি কলুষযুক্ত হইয়া গৈরিক বস্ত্র পরিধান করে, অথচ সত্য ও দমগুণ-বিহীন, সে প্রকৃতপক্ষে গৈরিক বসনের অনুপযুক্ত।" ...
03/10/2025

"৯. যে কামরাগাদি কলুষযুক্ত হইয়া গৈরিক বস্ত্র পরিধান করে, অথচ সত্য ও দমগুণ-বিহীন, সে প্রকৃতপক্ষে গৈরিক বসনের অনুপযুক্ত।"

্যাখ্যা

#“কামরাগাদি কলুষ”

এখানে কাম, রাগ, লোভ, দোষ, মোহ, অহংকার ইত্যাদি মানসিক অশুদ্ধিকে বোঝানো হয়েছে।

যদি কেউ এখনও এসব অশুভ গুণের দ্বারা আচ্ছন্ন থাকে, তবে তার মন কলুষিত থাকে।

#“গৈরিক বস্ত্র পরিধান”

গৈরিক (গেরুয়া/কমলা/হলুদাভ) বসন হল বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পোশাক।

এটি ত্যাগ, সংযম ও পবিত্রতার প্রতীক।

#“সত্য ও দমগুণ-বিহীন”

সত্য → সততা, সত্যবাদিতা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা।
দমগুণ → ইন্দ্রিয়সংযম, লোভ ও আসক্তি দমন, নৈতিক শৃঙ্খলা।
যদি এগুলো না থাকে, তবে কেবল পোশাক পরে ভিক্ষু হওয়া যায় না।

#মূল_বার্তা

শুধু গেরুয়া পোশাক পরিধান করলেই কেউ সত্যিকার ভিক্ষু নয়।

ভিক্ষুত্ব বা সন্ন্যাস মানে হলো অন্তরের শুদ্ধি, নৈতিকতা, সত্যবাদিতা, এবং আসক্তি দমন।

যদি কেউ এসব গুণ ছাড়াই কেবল বাহ্যিক চিহ্ন (পোশাক) ধারণ করে, তবে সে ভিক্ষুর মর্যাদার অনুপযুক্ত।
আজকাল দেখা যায় অমুক গ্রামের ভান্তে অমুকের বৌ/ঝি নিয়ে পালাইছে, অমুকের বৌ/ঝি এর সাথে পরকিয়া করছে, গিফট আদান প্রদান করছে। এসব নামে ভিক্ষু , আদতে দক্ষিণা খাওয়া ভন্ড।

#দৈনন্দিন_জীবনের_সাথে_মিল

এই বাণী শুধু ভিক্ষুদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও শিক্ষণীয়:

বাইরে ধর্মীয় পোশাক বা প্রতীক ব্যবহার করলেই কেউ ধার্মিক হয় না।

প্রকৃত ধর্মচর্চা হলো অন্তরের পরিশুদ্ধি, সত্যনিষ্ঠা, সংযম ও দয়া।

ভণ্ডামি করে বাইরের সাজসজ্জায় ধর্মীয়তা দেখানো কোনো মূল্য রাখে না।
কোনো ভান্তে/শ্রমণ কে দোষ করতে দেখলে বাধা না দিয়ে উল্টো তার সহায়ক হ‌ওয়া গৃহীরাও এই শ্রেণীভুক্ত।

👉 সংক্ষেপে:
ত্রিপিটক শেখাচ্ছে—সন্ন্যাসের আসল পরিচয় বাহ্যিক গেরুয়া বসন নয়, বরং সত্য, সংযম, এবং অন্তরের শুদ্ধতা। যিনি কাম-রাগে কলুষিত থেকে এসব গুণহীন, তিনি সেই বসনের যোগ্য নন।

"৮. যিনি [বাহ্য] শোভা দর্শনে বিরত [অশুভ ভাবনায় রত], ইন্দ্রিয়সমূহে সুসংযত, ভোজনে মাত্রা রাখেন, শ্রদ্ধাবান ও আরব্ধবীর্য, ব...
02/10/2025

"৮. যিনি [বাহ্য] শোভা দর্শনে বিরত [অশুভ ভাবনায় রত], ইন্দ্রিয়সমূহে সুসংযত, ভোজনে মাত্রা রাখেন, শ্রদ্ধাবান ও আরব্ধবীর্য, বায়ুতে অবিচলিত শিলাময় পর্বতের ন্যায় মার তাঁহাকে কখনো অভিভূত করিতে পারে না।"

ব্যাখ্যা (ত্রিপিটকের আলোকে):

১. “যিনি বাহ্য শোভা দর্শনে বিরত [অশুভ ভাবনায় রত নয়]”

এখানে বুদ্ধ বলেছেন, বাহ্য সৌন্দর্য, রূপ-লাবণ্য, অলঙ্কার বা দেহের মোহে মগ্ন হওয়া আধ্যাত্মিক জীবনের অন্তরায়।

ত্রিপিটকে (ধম্মপদ, পাপবর্গ, ২৪২–২৪৪) উল্লেখ আছে যে, যারা দেহের বাহ্যিক সৌন্দর্যে আসক্ত হয়, তারা মনের প্রকৃত উন্নতি থেকে দূরে থাকে।

তাই এখানে বোঝানো হয়েছে, জ্ঞানী জন বাহ্য সৌন্দর্যে মগ্ন না হয়ে অন্তরের বিশুদ্ধতা অন্বেষণ করেন।

২. “ইন্দ্রিয়সমূহে সুসংযত”

এটি ইন্দ্রিয়সংবর নামে পরিচিত।

মজ্ঝিমনিকায় (সালায়তনসংযুক্ত সূত্রসমূহ) বলা হয়েছে, চোখ, কান, নাক, জিহ্বা, দেহ ও মন—এই ছয় ইন্দ্রিয় সংযত রাখতে না পারলে মানুষ কাম, ক্রোধ ও মোহে পতিত হয়।

ইন্দ্রিয়নিয়ন্ত্রণই সম্যক আচরণের ভিত্তি।

৩. “ভোজনে মাত্রা রাখেন”

বুদ্ধ বারবার শিষ্যদের বলেছেন—ভোজন অতিরিক্ত করলে অলস্য, ঘুম ও আসক্তি জন্মে।

মজ্ঝিমনিকায় (ভোজপরিমাণ সূত্র) বর্ণিত আছে, ভিক্ষুগণকে সীমিত ভোজন করতে হবে, কেবল দেহধারণের জন্য, লালসা বা আসক্তির জন্য নয়।

এভাবেই মন সতেজ থাকে, ধ্যান সহজ হয়।

4. “শ্রদ্ধাবান ও আরব্ধবীর্য”

শ্রদ্ধা (সদ্ধা) হলো চারটি প্রধান পুণ্যশক্তির একটি—যা ধম্ম, সংঘ, বুদ্ধের প্রতি আস্থা।

আরব্ধবীর্য মানে অক্লান্ত সাধনা ও উদ্যম।

অঙ্গুত্তরনিকায় (চতুষঙ্গ সূত্র) বলা আছে—যার কাছে সদ্ধা, বিরিয়, সতি, সমাধি ও প্রজ্ঞা আছে, সে কখনো পতিত হয় না।

তাই ভক্তি ও সাধনার উদ্যম ছাড়া নির্বাণের পথে অগ্রগতি সম্ভব নয়।

৫. “বায়ুতে অবিচলিত শিলাময় পর্বতের ন্যায়”

এটি ধম্মপদে একটি বিশেষ উপমা।

ধম্মপদ (৮১ পদ)—
“যেমন শক্ত পর্বত ঝড়-বাতাসে নড়তে পারে না, তেমনি জ্ঞানী মনুষ্যের মন সুখ-দুঃখে বিচলিত হয় না।”

অর্থাৎ সত্যিকারের সাধক সুখে-দুঃখে, লাভে-ক্ষতিতে, প্রশংসা-নিন্দায় সমভাবে অবিচল থাকেন।

৬. “মার তাঁহাকে কখনো অভিভূত করতে পারে না”

মার মানে হলো মোহ, কাম, ক্রোধ, মৃত্যুভয় ইত্যাদি সব অশুভ শক্তি।

ত্রিপিটকে বলা আছে, মার শুধু তাদের জয় করতে পারে যারা ইন্দ্রিয়নিয়ন্ত্রণ ও প্রজ্ঞায় দুর্বল।

কিন্তু যিনি সংযত, সচেতন ও প্রজ্ঞাবান—তাকে মার জয় করতে পারে না।

সম্যুক্তনিকায় (মারসংযুক্ত সূত্রসমূহ)-এ দেখা যায়, বুদ্ধকে বহুবার মার প্রলুব্ধ করতে চেয়েছে, কিন্তু সফল হয়নি।

**সারমর্ম**

ত্রিপিটকের আলোকে এই শিক্ষা আমাদের শেখায়—

বাহ্য সৌন্দর্যের প্রতি আসক্তি না রেখে,

ইন্দ্রিয়নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে,

ভোজন ও ভোগে সংযমী থেকে,

শ্রদ্ধা ও উদ্যম ধরে রেখে,

মনকে শিলার মতো স্থির করে তুললে,
তাহলেই মানুষ মার (অশুভ শক্তি) জয় করতে পারে এবং নির্বাণের পথে অগ্রসর হয়।

৭. "যে [দেহের বাহ্য] শোভাদর্শী, ইন্দ্রিয়সমূহে অসংযত, ভোজনে মাত্রাজ্ঞানহীন, আলস্যপরায়ণ ও হীনবীর্য, বায়ুবিধ্বস্ত দুর্বল বৃ...
01/10/2025

৭. "যে [দেহের বাহ্য] শোভাদর্শী, ইন্দ্রিয়সমূহে অসংযত, ভোজনে মাত্রাজ্ঞানহীন, আলস্যপরায়ণ ও হীনবীর্য, বায়ুবিধ্বস্ত দুর্বল বৃক্ষের ন্যায় মার [রিপুগণ] তাহাকেই অভিভূত করে।"

মূল অংশ বিশ্লেষণ

“যে দেহের বাহ্য শোভাদর্শী”
👉 কেবল দেহের বাহ্যিক সৌন্দর্য, রূপ, পোশাক-পরিচ্ছদ বা দেহের জৌলুস প্রদর্শনে যারা আসক্ত, তারা ভেতরের গুণ-চর্চাকে অবহেলা করে। ত্রিপিটকে বারবার বলা হয়েছে — দেহ নশ্বর, ক্ষণস্থায়ী, অস্থির; তাই এটিকে মুখ্য করে তোলা মূর্খতার লক্ষণ।

“ইন্দ্রিয়সমূহে অসংযত”
👉 চোখ, কান, নাক, জিহ্বা, দেহ, মন – এই ছয় ইন্দ্রিয়ের সংযম না রাখলে মানুষ কাম-লোভে পড়ে যায়। সংযুক্ত নিকায় ও ধম্মপদে বলা হয়েছে:

> “সংযমে সুখ, অসংযমে দুঃখ।”
অসংযম ইচ্ছাকে উসকে দেয়, আর ইচ্ছা দুঃখের মূল।

“ভোজনে মাত্রাজ্ঞানহীন”
👉 বুদ্ধ শিষ্যদের ভোজনকে সীমিত রাখতে বলেছেন (যেমন দিনে একবার ভিক্ষুদের ভোজন)। অতিভোজন শরীর ও মনের ওপর প্রভাব ফেলে, আলস্য বাড়ায়, ধ্যান-অভ্যাস নষ্ট করে।

“আলস্যপরায়ণ”
👉 ত্রিপিটকে আলস্য (থীন-মিদ্ধ) কে এক ধরণের মানসিক কলুষ (অবস্থানদোষ) বলা হয়েছে। এটি ধ্যান, অধ্যবসায়, কর্মে অনিচ্ছা সৃষ্টি করে।

“হীনবীর্য”
👉 যিনি মানসিক দৃঢ়তা বা শক্তি রাখেন না, সহজে ভেঙে পড়েন, তার আত্মোন্নতি সম্ভব হয় না। বীর্য (উদ্যম/অধ্যবসায়) বৌদ্ধ অনুশীলনের অন্যতম প্যারামিটার (ষড়পরমিতা বা আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গে সম্যক প্রয়াস)।

“বায়ুবিধ্বস্ত দুর্বল বৃক্ষের ন্যায়”
👉 যেমন দুর্বল শিকড়ের গাছ ঝড়ে টিকতে পারে না, তেমনি দেহ-শোভা, অসংযম, আলস্য, উদ্যমহীনতা নিয়ে থাকা মানুষ সহজেই রিপুগণের আক্রমণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

“মার রিপুগণ তাহাকেই অভিভূত করে।”
👉 এখানে “মার” মানে মার সেনা বা “মৃত্যুর প্রভু”, যে অজ্ঞতা, লোভ, দোষ-দুর্বলতার প্রতীক। মার সেনার মধ্যে কাম, রাগ, মোহ, আলস্য, ভয়, সন্দেহ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
ত্রিপিটকে বলা হয়েছে—যে ব্যক্তি সতর্ক নয় (অপ্পমত্ত), সংযমহীন, আলস্যে ঢেকে থাকে, তাকেই মার সহজে জয় করে।

!!সারকথা!!

কেবল বাহ্যিক শোভা বা রূপচর্চা নয়, ভেতরের শৃঙ্খলা, সংযম, অধ্যবসায় আসল গুণ।

ইন্দ্রিয়নিয়ন্ত্রণ না থাকলে কাম-রাগ-মোহ মানুষকে গ্রাস করে।

ভোজনসংযম ও অধ্যবসায় ছাড়া আধ্যাত্মিক জীবন অগ্রসর হয় না।

আলস্য ও দুর্বল মন মার সেনাকে জেতার সুযোগ দেয়।

তাই বুদ্ধ শিষ্যদের সংযম, সতর্কতা, অধ্যবসায়, ভোজনমিতাচার ও চিন্তার দৃঢ়তা বজায় রাখতে বলেছেন।

👉 এই বাণীটি মূলত বোঝায়— “যে ব্যক্তি বাহ্যিক সৌন্দর্যে আসক্ত, কিন্তু আত্মসংযম, উদ্যম ও সতর্কতা হারায়, সে দুর্বল বৃক্ষের মতো পতিত হয়, রিপুগণ (মার) তাকে জয় করে।”

World Alliance of Buddhists

29/09/2025

বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ করছি, দলাদলি প্রভাব প্রতিপত্তি ভুলে নিজেদের ঐতিহ্য নিজেদের সম্পদ নিজেদের শেকড় রক্ষায় মনোযোগ দিন, এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করুন, ওদিকের বৌদ্ধদের আর্থিক ও ধর্মীয় স্বচ্ছলতা আনয়নে কাজ করুন।
World Alliance of Buddhists - WAB United Buddhist WORLD

https://www.facebook.com/share/v/19wEA1mHXt/

28/09/2025

Save hill Buddhists in Bangladesh..

20/09/2025

**বুদ্ধের ৯ গুণ বন্দনা**
ইতি’পি সো ভগবা অরহং, সম্মাসম্বুদ্ধো, বিজ্জাচরণং সম্পন্নো, সুগতো, লোকবিদু, অনুত্তরো, পরিসদম্ম সারথি, সত্থা দেব মনুস্সানং, বুদ্ধো ভগবা’তি।
বুদ্ধং যাব মহাপরিযন্তং সরণং গচ্ছামি,
যে চ বুদ্ধা অতীতা চ, যে চ বুদ্ধা অনাগতা।
পচ্চুপন্না চ যে বুদ্ধা, অহং বন্দামি সব্বদা।
নত্থে মে সরণং অঞ্ঞং, বুদ্ধো মে সরণং বরং,
এতে সচ্চবজ্জেন হোতু মে জয় মঙ্গলং।
উত্তমঙ্গেন বন্দে’হং, পাদপংসু বরুত্তমং,
বুদ্ধো যো খলিতো দোসো, বুদ্ধো খমতু তং মমং।

10/08/2025

বুদ্ধ কে?
পৃথিবীতে যে কয়টি প্রধান ধর্ম প্রচলিত আছে সে ধর্মগুলোর ধর্মপ্রচারকদের মধ্যে বুদ্ধের সবচেয়ে বড় ভিন্ন বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তিনি একজন মানুষ। কোনো অতিপ্রাকৃতিক শক্তি, দেবতা বা সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে যার কোনো রকম সম্পর্ক নেই। তবে মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন একজন মহামানব।
খ্রিষ্টধর্মের প্রচারক যীশু খ্রিষ্ট নিজেকে একজন ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে দাবি করতেন। আর ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক পয়গম্বর হযরত মোহাম্মদ দাবি করতেন, তিনি ঈশ্বরের প্রেরিত সর্বশেষ নবী। কিন্তু বৌদ্ধধর্মের প্রচারক গৌতম বুদ্ধ নিজেকে একমাত্র একজন দুঃখ হতে মুক্ত হওয়া সাধারণ মানুষ ব্যতীত কখনো এর বেশি কিছু দাবি করেন নি। তিনি অবতার ছিলেন না, ঈশ্বরের পুত্রও ছিলেন না, নবী বা ঈশ্বরের বাণীবাহক বিশেষ দূতও ছিলেন না। তাঁর সাফল্য ও সাধনার জন্য কোনো অপৌরুষেয় শক্তির মুখাপেক্ষী তিনি হন নি, নির্ভর করেন নি কোনো রকম অলৌকিকতার ওপর। এখানেই তাঁর মহামহিমাময় গৌরব, এখানেই এ রক্তে-মাংসে গড়া মানবপুত্রের মহিমা। বুদ্ধ নিজেকে অবিরাম শক্তির ওপর নির্ভর করিয়ে কোনো স্বর্গীয় সাহায্য ছাড়াই নিজ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যে বুদ্ধিবৃত্তিক সাফল্য ও সর্বোচ্চ মানসিক সুখ অর্জন করেছেন এবং আজীবন তা-ই তিনি শিক্ষা দিয়েছেন।
একসময় দ্রোণ ব্রাহ্মণ ভগবান গৌতম বুদ্ধের অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য দেখে প্রশ্ন করলেন, ‘আপনি নিশ্চয় আমাদের দেবতা (সৃষ্টিকর্তা/ঈশ্বর) হবেন?
ব্রাহ্মণের প্রশ্নের উত্তরে বুদ্ধ বললেন, ‘হে ব্রাহ্মণ, আমি দেবতা/ঈশ্বর নই।’
ব্রাহ্মণ—‘গন্ধর্ব হবেন?’
বুদ্ধ—‘ব্রাহ্মণ, আমি গন্ধর্বও নই।’
ব্রাহ্মণ—‘যক্ষ হবেন?’
বুদ্ধ—‘ব্রাহ্মণ, আমি যক্ষও নই।’
ব্রাহ্মণ—‘মানব হবেন?’
বুদ্ধ—‘ব্রাহ্মণ, আমি মানবও নই।’
ব্রাহ্মণ—‘যখন আমি জিজ্ঞেস করেছি, আপনি আমাদের দেবতা হবেন? আপনি বলেছেন, আমি দেবতা নই। যখন আমি জিজ্ঞেস করেছি, আপনি গন্ধর্ব হবেন? আপনি বলেছেন, আমি গন্ধর্বও নই। যখন আমি জিজ্ঞেস করেছি, আপনি যক্ষ হবেন? আপনি বলেছেন, আমি যক্ষও নই। যখন আমি জিজ্ঞেস করেছি, আপনি মানব হবেন? আপনি বলেছেন, আমি মানবও নই। তাহলে আপনি কিভাবে অবস্থান করেন?
বুদ্ধ বললেন, ‘যেসব আসব আমার প্রহীন হয়েছে, গোড়া কেটে ফেলা তালগাছের মতো তা আর ভবিষ্যতে উৎপন্ন হবে না। হে ব্রাহ্মণ, আমাকে ‘বুদ্ধ’ বলে ধারণা করো। [দ্রোণ-সূত্র, অঙ্গুত্তরনিকায়]
খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে মহামানব গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব হয়। বুদ্ধের জন্ম তারিখ নিয়ে বহুদিন ধরে বিদগ্ধ পণ্ডিতমহল অনেক বিতর্কে জড়িত ছিলেন। পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন ও ভারতের সংবিধানপ্রণেতা ড. আম্বেদকরের মতে বুদ্ধের জন্ম ৫৬৩ অব্দে এবং বৌদ্ধ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব বৌদ্ধ সম্মেলনে বৌদ্ধ পণ্ডিতদের মতে বুদ্ধের জন্ম ৬২৩ অব্দে শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে। শেষ পর্যন্ত বুদ্ধের জন্ম তারিখ নিয়ে এ বিতর্কের অবসান ঘটে ২০১৩ সালে এক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায়। সেই গবেষণা খননকার্যের headline ছিল ‘Discovery of earliest Buddhism Shoine at Lumbini sheds new light on life of Buddha.’ এই গবেষণায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে বুদ্ধের জন্ম হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে, যা বৈজ্ঞানিক জার্নাল Antiguity-তে প্রকাশিত হয়। এ গবেষণায় প্রত্নতত্ত্ববিদেরা বলেছেন, ‘For the first time we actually have scientific end leading to the establishment of the major Buddhist Shriness’ Professor Robin Coningham of Durham University. UK―who carried the investigation said in press conference on Monday, the 25th November, 2013.

Coningham's reseasch indicates the temple found of Lumbini in Nepal date book to the 6th Century B.C. The discovery is the first archeoligical evidence linking the life of the Buddha to a specific century.

**কল্পের ধারণা সহজভাবে ব্যাখ্যা**বৌদ্ধ ধর্মে “কল্প” বলতে এমন বিশাল সময়কাল বোঝায়, যা সাধারণ সংখ্যায় প্রকাশ করা কঠিন। এ...
27/07/2025

**কল্পের ধারণা সহজভাবে ব্যাখ্যা**

বৌদ্ধ ধর্মে “কল্প” বলতে এমন বিশাল সময়কাল বোঝায়, যা সাধারণ সংখ্যায় প্রকাশ করা কঠিন। এটি স্বর্গ, নরক ও পৃথিবীর অনন্ত সময়ের পরিমাপ। এটি এত বড় যে কল্পনার মাধ্যমেই এটি বোঝানো হয়, তাই এর নাম “কল্প”।

# # # কল্পের প্রকার
চার ধরনের কল্প:
1. **সাধারণ কল্প**: ১.৬৭ কোটি বছর।
2. **ছোট কল্প**: ১৬০০ কোটি বছর (সাধারণ কল্পের ১০০০ গুণ)।
3. **মধ্যম কল্প**: ৩২০০ কোটি বছর (ছোট কল্পের ২০ গুণ)।
4. **মহাকল্প**: ১.২৮ ট্রিলিয়ন বছর (মধ্যম কল্পের ৪ গুণ)।

# # # স্বর্গ ও ব্রহ্মলোকের আয়ু
- **পরনির্মিত বসবত্তি স্বর্গ**: ৯২১ কোটি ৬০ লক্ষ বছর।
- **ব্রহ্মপরিসজ্জ**: এক কল্পের এক-তৃতীয়াংশ।
- **ব্রহ্মপুরোহিত**: এক কল্পের অর্ধেক।
- **মহাব্রহ্মা**: এক পূর্ণ কল্প।

**সংশয়**: পরনির্মিত বসবত্তির আয়ু (৯২১ কোটি বছর) সাধারণ কল্প (১.৬৭ কোটি) বা ছোট কল্প (১৬০০ কোটি) থেকে বেশি হলেও এটিকে কল্প বলা হয়নি। সম্ভবত সাধারণ বা ছোট কল্প ৩০০০ কোটি বছরের বেশি হতে পারে।

# # # বুদ্ধ ও কল্প
সময় দুই ভাগে বিভক্ত:
1. **শূন্য কল্প**: যেখানে বুদ্ধ জন্মান না। এ সময়ে নির্বাণ ধর্ম বা সংঘ গঠিত হয় না। এটি অষ্ট অক্ষণের (অশুভ সময়) একটি, যেমন প্রেতলোক, নরকলোক, মিথ্যা দৃষ্টির পরিবারে জন্ম ইত্যাদি।
2. **বুদ্ধ কল্প**: যেখানে বুদ্ধ জন্মান।

আমরা এখন **ভদ্র কল্পে** আছি, যেখানে পাঁচজন বুদ্ধ জন্মান। চারজন (ককুসন্ধ, কোণাগমন, কশ্যপ, গৌতম) এসেছেন, পঞ্চম বুদ্ধ **আর্য মৈত্রেয়** ভবিষ্যতে আসবেন। গৌতম বুদ্ধ পারমী পূর্ণ করতে ১১টি বুদ্ধ কল্পে চার অসংখ্য ও লক্ষাধিক কল্প সময় কাটিয়েছেন।

# # # কল্পের প্রকার
বুদ্ধ কল্প পাঁচ প্রকার:
1. **সার কল্প**: একজন বুদ্ধ।
2. **মণ্ড কল্প**: দুজন বুদ্ধ।
3. **বর কল্প**: তিনজন বুদ্ধ।
4. **সারমণ্ড কল্প**: চারজন বুদ্ধ।
5. **ভদ্র কল্প**: পাঁচজন বু�দ্ধ।

# # # প্রধান চার কল্প
1. **আয়ু কল্প**: মানুষের গড় আয়ু, ১০ থেকে ৮০,০০০ বছর। গৌতম বুদ্ধের সময়ে ছিল ১০০ বছর, এখন ৮০ বছর। ভবিষ্যতে ১০ বছরে নামবে।
2. **অন্তর কল্প**: আয়ু ৮০,০০০ থেকে ১০ বছরে নেমে আবার বাড়ার চক্র। এর সময় এত বিশাল যে গঙ্গার বালি গুণেও শেষ হয় না।
3. **অসংখ্য কল্প**: ২০টি অন্তর কল্প। এটি এত বড় যে ১-এর পিছনে ১৪০টি শূন্য দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
4. **মহাকল্প**: চার ভাগে বিভক্ত:
- **সংবর্ত কল্প**: পৃথিবী ধ্বংসের শুরু থেকে শেষ।
- **সংবর্ত স্থায়ী কল্প**: ধ্বংসের পর সৃষ্টির আগ পর্যন্ত।
- **বিবর্ত কল্প**: পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে বাসযোগ্য হওয়া পর্যন্ত।
- **বিবর্ত স্থায়ী কল্প**: পৃথিবী বাসযোগ্য হওয়ার পর ধ্বংস শুরুর আগ পর্যন্ত।

# # # পৃথিবীর ধ্বংস
পৃথিবী আগুন, জল বা বায়ু দ্বারা ধ্বংস হবে। আগুন দ্বারা ধ্বংস হলে রূপ ব্রহ্মলোকের আভস্সর, জল দ্বারা সুভকিণ্হ, বায়ু দ্বারা বেহপ্ফল পর্যন্ত ধ্বংস হয়।

# # # বর্তমান কল্প
আমরা **অন্তর কল্পে** আছি। গড় আয়ু কমছে। গৌতম বুদ্ধের সময়ে ছিল ১০০ বছর, এখন ৮০। ভবিষ্যতে ১০ বছরে নামবে। তখন মানুষ অধর্মে লিপ্ত হবে, কিন্তু কিছু ধার্মিক আয়ু বাড়াবে। তখন **আর্য মৈত্রেয়** আসবেন (আয়ু ৮০,০০০ বছর)। তাঁর পর ভদ্র কল্প শেষ হবে।

# # # মহাকাশ্যপ ভন্তে
গৌতম বুদ্ধের শাসন শেষ হলেও পৃথিবী ধ্বংস নাও হতে পারে। **মহাকাশ্যপ ভন্তে**, যিনি বুদ্ধের চীবর আর্য মৈত্রেয়কে দান করবেন, পৃথিবীতে বা শুদ্ধবাস ব্রহ্মলোকে থাকতে পারেন। পৃথিবী ধ্বংস হলে তিনি শুদ্ধবাস ব্রহ্মলোকে থাকতে পারেন।

---

27/07/2025

$অপণ্ণক-জাতক$

শ্রাবস্তী নগরের কাছে জেতবন মহাবিহারে ভগবান বুদ্ধ অবস্থান করছিলেন। সেখানে তিনি ধ্রুবসত্যের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একটি ঘটনা বর্ণনা করেছিলেন। ঘটনার পটভূমি এই:

অনাথপিণ্ডিক নামে এক শ্রেষ্ঠী ছিলেন। তাঁর পাঁচশো বন্ধু বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ না করে অন্য গুরুদের শিষ্য হয়েছিলেন। একদিন অনাথপিণ্ডিক তাঁদের সঙ্গে নিয়ে জেতবনে যান। তিনি সঙ্গে প্রচুর ফুল, গন্ধদ্রব্য, তেল, মধু, গুড়, কাপড় ও অন্যান্য উপহার নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ভগবানের পূজা করলেন, ভিক্ষুসঙ্ঘকে কাপড় ও ওষুধ দান করলেন এবং শান্তভাবে একপাশে বসলেন। তাঁর বন্ধুরাও ভগবানের পায়ে প্রণাম করে তাঁর পাশে বসে তাঁর অলৌকিক সৌন্দর্য ও প্রভা দেখে মুগ্ধ হলেন। ভগবানের মুখমণ্ডল ছিল পূর্ণচন্দ্রের মতো, তাঁর দেহ বুদ্ধত্বের লক্ষণে ভরা এবং আলোর রশ্মিতে ঘেরা।

ভগবান তখন তাঁদের উপদেশ দেওয়ার জন্য গম্ভীর কিন্তু মধুর কণ্ঠে ধর্মের কথা বলতে শুরু করলেন। তাঁর কথা শুনে যেন আকাশ থেকে গঙ্গা নেমে আসছে বা রত্নের মালা গাঁথা হচ্ছে। এই উপদেশ শুনে বন্ধুরা প্রসন্ন হয়ে ভগবানের শরণ নিলেন। তারপর থেকে তারা প্রতিদিন অনাথপিণ্ডিকের সঙ্গে বিহারে যেতেন, ধর্ম শুনতেন, দান করতেন, শীল পালন করতেন এবং উপোসথ দিনে সংযমী জীবনযাপন করতেন।

কিন্তু ভগবান যখন শ্রাবস্তী ছেড়ে রাজগৃহে গেলেন, তখন এই পাঁচশো ব্যক্তি বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করে আগের শরণে ফিরে গেলেন। ভগবান সাত-আট মাস পর জেতবনে ফিরে এলে অনাথপিণ্ডিক আবার তাঁদের নিয়ে ভগবানের কাছে গেলেন। তিনি ভগবানকে পূজা করে বন্ধুদের আগের আচরণের কথা জানালেন।

ভগবান জিজ্ঞাসা করলেন, “উপাসকরা, তোমরা কি ত্রিশরণ ত্যাগ করে অন্য শরণ নিয়েছ? এটা কি সত্যি?” তাঁর মুখ থেকে বের হওয়া দিব্য গন্ধে চারদিক আমোদিত হয়ে উঠল। বন্ধুরা সত্য গোপন করতে না পেরে বললেন, “হ্যাঁ, ভদন্ত, এটা মিথ্যা নয়।”

ভগবান বললেন, “উপাসকরা, নরক থেকে স্বর্গ পর্যন্ত এই বিশ্বে এমন কেউ নেই যিনি শীল ও গুণে বুদ্ধের সমকক্ষ হতে পারেন। ত্রিরত্নের শরণ নিলে কেউ নরকে যায় না, সে পুনর্জন্মের দুঃখ থেকে মুক্তি পায় এবং দেবলোকে সুখ ভোগ করে। তোমরা এই শরণ ত্যাগ করে ভুল করেছ।” তিনি ত্রিরত্নের গুণ ব্যাখ্যা করে গাথা আবৃত্তি করলেন:

> বুদ্ধের শরণ নিলে নরকে যেতে হয় না,
> মানুষের জন্ম ছেড়ে দেবলোকে স্থান পায়।
> ধর্মের শরণ নিলে নরকে যেতে হয় না,
> মানুষের জন্ম ছেড়ে দেবলোকে স্থান পায়।
> সঙ্ঘের শরণ নিলে নরকে যেতে হয় না,
> মানুষের জন্ম ছেড়ে দেবলোকে স্থান পায়।
> পাহাড়ের গুহা বা জনহীন বন,
> শান্তির জন্য মানুষ শত শরণ নেয়।
> কিন্তু ত্রিরত্নের শরণ সব দুঃখ দূর করে,
> তাই এই শরণ নিতে সবসময় এগিয়ে যাও।

তিনি আরও বললেন, “বুদ্ধ, ধর্ম ও সঙ্ঘের স্মরণের মাধ্যমে মানুষ স্রোতাপত্তি, সকৃদাগামী, অনাগামী এবং অর্হত্ত্ব ফল লাভ করে। তোমরা এই শরণ ত্যাগ করে মূর্খতা করেছ।” তিনি আরও বললেন, “পূর্বে যারা অসত্যের পথে চলেছিল, তারা যক্ষের হাতে ধ্বংস হয়েছিল। কিন্তু যারা সত্যের পথে চলেছিল, তারা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছিল।”

অনাথপিণ্ডিক তখন বললেন, “প্রভু, এই উপাসকরা ভুল করেছে, তা বুঝলাম। কিন্তু অতীতে যক্ষের কান্তারে তার্কিকদের ধ্বংস ও সত্যপথীদের সাফল্যের কথা আমরা জানি না। দয়া করে সেই কাহিনী বলুন।”

ভগবান বললেন, “আমি সর্বজ্ঞত্ব লাভ করেছি জগতের সংশয় দূর করার জন্য। তোমরা মন দিয়ে শোনো।”

*অতীতের কাহিনী*

প্রাচীনকালে বারাণসীতে ব্রহ্মদত্ত নামে এক রাজা ছিলেন। সেই সময় বোধিসত্ত্ব এক বণিকের ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন। বড় হয়ে তিনি বাণিজ্য শুরু করেন। তাঁর ছিল পাঁচশো গরুর গাড়ি। তিনি এই গাড়িতে মাল বোঝাই করে পূর্ব বা পশ্চিমে বাণিজ্য করতে যেতেন। বারাণসীতে আরেক তরুণ বণিক ছিল, যে ছিল খুবই নির্বোধ।

একবার বোধিসত্ত্ব মূল্যবান দ্রব্য নিয়ে দূর দেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি শুনলেন, নির্বোধ বণিকও একই জায়গায় পাঁচশো গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। বোধিসত্ত্ব ভাবলেন, “একসঙ্গে এক হাজার গাড়ি গেলে রাস্তা নষ্ট হবে, খাবার-জলের অভাব হবে। তাই একজন আগে, আরেকজন পরে যাওয়া উচিত।” তিনি নির্বোধ বণিককে ডেকে বললেন, “তুমি আগে যাবে, না আমি?” নির্বোধ বণিক ভাবল, আগে গেলে ভালো রাস্তা, ভালো ঘাস, ফলমূল ও জল পাওয়া যাবে। তাই সে বলল, “আমি আগে যাব।”

বোধিসত্ত্ব বললেন, “ঠিক আছে, তুমি আগে যাও।” তিনি ভাবলেন, পরে গেলে সুবিধা বেশি। নির্বোধ বণিকের গাড়ি রাস্তা সমান করবে, বলদের জন্য নতুন ঘাস গজাবে, ফলমূল পাওয়া যাবে, আর তিনি নির্বোধ বণিকের স্থির করা দামে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন।

নির্বোধ বণিক পাঁচশো গাড়ি নিয়ে যাত্রা করল। কিছুদিন পর সে এক ভয়ঙ্কর কান্তারে পৌঁছল, যেখানে ষাট যোজন পথে জলের কোনো চিহ্ন ছিল না। এই কান্তারে যক্ষরা বাস করত। বণিকের লোকেরা জলের ভাণ্ড বোঝাই করে নিয়েছিল। কিন্তু কান্তারের মাঝখানে পৌঁছতেই যক্ষরাজ ভাবল, “এই নির্বোধ বণিককে বোঝাতে হবে জল ফেলে দিতে। তাহলে তারা পিপাসায় কাতর হয়ে পড়বে, আর আমরা তাদের মাংস খেতে পারব।”

যক্ষরাজ মায়াবলে একটি সুন্দর শকট সৃষ্টি করল। সেটি টানছিল সাদা ষাঁড়। তার মাথায় নীল ও সাদা পদ্মের মালা, কাপড় ভিজে, শকটের চাকা কাদায় মাখা। তার সঙ্গে দশ-বারোজন যক্ষ অস্ত্র হাতে ছিল, তাদেরও কাপড় ভিজে, মুখে পদ্মের ডাঁটা।

বণিক তখন দলের সামনে ছিল। যক্ষরাজ তার কাছে গিয়ে বলল, “আপনি কোথা থেকে আসছেন?” বণিক বলল, “বারাণসী থেকে। আপনার কাপড় ভিজে, শকটে কাদা। পথে বৃষ্টি হয়েছে? পদ্মের জলাশয় দেখেছেন?” যক্ষরাজ বলল, “এই যে নীল বন দেখছেন, ওখানে প্রচুর জল, বৃষ্টি হচ্ছে, পদ্মে ভরা সরোবর আছে।” তারপর সে জিজ্ঞাসা করল, “আপনার গাড়িতে কী আছে?” বণিক বলল, “শেষের গাড়িতে জল।” যক্ষরাজ বলল, “জল আনা ভালো করেছেন, কিন্তু এখন আর দরকার নেই। সামনে প্রচুর জল পাবেন। জল ফেলে দিন, গাড়ি হালকা হবে।”

নির্বোধ বণিক তার কথায় ভুলে সব জল ফেলে দিল। তারা আরও এগিয়ে গেল, কিন্তু কোথাও জল পেল না। পিপাসায় সবাই কাতর হয়ে পড়ল। সূর্যাস্তের পর তারা গাড়ি থামিয়ে বলদ বাঁধল, গাড়ি দিয়ে ঘেরা স্কন্ধাবার তৈরি করল। কিন্তু জল না পেয়ে কেউ ভাত রাঁধতে পারল না। সবাই ক্ষুধায়-পিপাসায় ক্লান্ত হয়ে মাটিতে পড়ে রইল। রাতে যক্ষরা এসে সবাইকে মেরে মাংস খেয়ে চলে গেল। গাড়ি ও মাল অক্ষত রইল, কিন্তু কঙ্কাল ছড়িয়ে পড়ল।

দেড় মাস পর বোধিসত্ত্ব পাঁচশো গাড়ি নিয়ে যাত্রা করলেন। কান্তারে পৌঁছে তিনি প্রচুর জল নিলেন এবং অনুচরদের সাবধান করে বললেন, “এই কান্তারে জল নেই, বিষাক্ত গাছও আছে। আমার অনুমতি ছাড়া জল বা ফল-ফুল খাবে না।”

কান্তারের মাঝখানে যক্ষরাজ আবার সেই বেশে এল। বোধিসত্ত্ব তাকে দেখে বুঝলেন, এ যক্ষ। তার চোখ লাল, ছায়া পড়ে না। তিনি উচ্চৈঃস্বরে বললেন, “দূর হও, পাপী! আমরা বণিক, জলাশয় না দেখলে জল ফেলি না।” যক্ষরাজ চলে গেল।

অনুচররা বলল, “মহাশয়, ওই লোক বলল, সামনে জল আছে। জল ফেলে দিই?” বোধিসত্ত্ব গাড়ি থামিয়ে সবাইকে জিজ্ঞাসা করলেন, “এখানে জলাশয় আছে বলে কখনও শুনেছ? ঠান্ডা হাওয়া, মেঘ, বিদ্যুৎ বা গর্জন দেখেছ?” সবাই বলল, “না।” তিনি বললেন, “ওরা যক্ষ। নির্বোধ বণিক ওদের কথায় ভুলে জল ফেলে ধ্বংস হয়েছে। আমরা সাবধানে চলব।”

তারা এগিয়ে গিয়ে নির্বোধ বণিকের গাড়ি ও কঙ্কাল দেখল। বোধিসত্ত্ব বিশ্রামের ব্যবস্থা করলেন, বলদদের খাওয়ালেন, জীর্ণ গাড়ি ফেলে ভালো গাড়ি নিলেন, মূল্যবান দ্রব্য বেছে নিলেন। তারপর গন্তব্যে পৌঁছে দ্বিগুণ-ত্রিগুণ মূল্যে মাল বিক্রি করে সবাই নিরাপদে ফিরলেন।

# # # # উপসংহার

ভগবান বললেন, “পূর্বে তার্কিকরা ভুল পথে গিয়ে ধ্বংস হয়েছিল, কিন্তু সত্যের পথে চলা বোধিসত্ত্ব নিরাপদে ফিরেছিলেন।” তিনি গাথা বললেন:

> সত্যপথ সব সুখের কারণ,
> পণ্ডিতরা সদা তা প্রদর্শন করে।
> তার্কিকরা কিন্তু কুপথে চালায়,
> লোকের অহিত করে।
> তাই বিচার করে বুদ্ধিমান মানুষ,
> সত্যের শরণ নেয়, যা সব দুঃখ দূর করে।

তিনি আরও বললেন, “সত্যপথে চললে ত্রিবিধ কুশল, কামস্বর্গ, ব্রহ্মলোক এবং অর্হত্ত্ব পাওয়া যায়। অসত্যপথে চললে নরক ও নীচকুলে জন্ম হয়।” তাঁর উপদেশ শুনে পাঁচশো উপাসক স্রোতাপত্তি ফল লাভ করলেন।

ভগবান শেষে বললেন, “তখন দেবদত্ত ছিল নির্বোধ বণিক, তার শিষ্যরা ছিল তার অনুচর। আমার শিষ্যরা ছিল বোধিসত্ত্বের অনুচর, আর আমি ছিলাম সেই বুদ্ধিমান বণিক।”

Address

Chittagong

Opening Hours

10:00 - 22:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Buddhism - বৌদ্ধধর্ম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share