30/04/2026
মনে আছে এ ভার্জিন কোলার কথা?
৯০ দশকের সবচেয়ে পশ এবং অ্যাটিটিউডওয়ালা সফট ড্রিংকগুলোর একটা ছিলো এই Virgin Cola ! কিন্তু ভার্জিন কোলার গল্পটা যতটা হাইপ দিয়ে শুরু, শেষটাও হয়েছিলো ততটাই দ্রুত। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, ভার্জিন কোলার সর্বশেষ কারখানা ছিলো বাংলাদেশে। অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষরাই শেষবারের মত ভার্জিন খেয়ে দেখতে পেরেছিলো !
কুমারী নারী দেহের অবয়বের আদলে তৈরি করা হয়েছিলো ভার্জিন কোলার প্লাস্টিক বোতল। তখনকার দিনে এমন অদ্ভুত শেপের বোতল আগে কেউ কখনো দেখেনি। ভেতরের বেভারেজটাও ছিলো খেতে খুব দুর্দান্ত। বাংলাদেশে কোক-পেপসির আগে ফেমাস হয়েছে এই ভার্জিন কোলা এবং আরসি কোলা। ১৯৯৪ সালে রিচার্ড ব্রানসন প্রথম Virgin Cola চালু করেন। তার লক্ষ্য ছিলো সরাসরি Coca-Cola আর Pepsi কে চ্যালেঞ্জ করা।
ইংল্যান্ডে প্রোডাক্টটি লঞ্চের সময় বিশাল মার্কেটিং স্টান্ট করেছিলেন ব্রানসন। তিনি ট্যাঙ্কার চালিয়ে Coke এর কয়েক হাজার বোতল পিষিয়ে দিয়েছিলেন। কোকের আকাশচুম্বী সাইনবোর্ডের উপর ভার্জিনের সাইনবোর্ড স্থাপন করে দিয়েছিলেন। সফলও হয়েছিলেন খুব। ইউকেতে তখন প্রায় ১৫% মার্কেট তার হাতে চলে আসে। আর সেসময় কোকাকোলা অলরেডি খুব জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী একটি কোম্পানি। তারা সব দোকানগুলোতে বিনামূল্যে ফ্রিজ দিতে থাকে এবং পণ্যও সহজলভ্য করে দেয়। দোকানে সেসময় কেবল একটি ফ্রিজই রাখা যেত, এবং সেটা কোক বিনামূল্যে দিত। যার ফলে দোকানদাররা ভার্জিন কোলা রাখতে পারত না। রাখলেও নরমাল টেম্পারেচারের ভার্জিন খেয়ে কেউ তেমন মজাও পেত না।
ধীরে ধীরে ভার্জিন কোলা সারাবিশ্বে থেকে উঠে যাচ্ছিলো এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকেও ভার্জিন কোলা বিলীন হয়ে যায়। বাংলাদেশই ছিলো সর্বশেষ দেশ, সেখানে শেষবারের মত মানুষ ভার্জিন কোলার দেখা পেয়েছে…
আর এভাবেই বাজার থেকে হারিয়ে গেলো দুর্দান্ত স্বাদের এই কোলাটি; যা কিনা কোকাকোলা, পেপসি, ড. পিপারের মত সফট ড্রিংকসগুলোর স্বাদকেও হার মানিয়ে দেয়।