06/11/2025
পৃথিবীতে এখন কেবল যুদ্ধটাই বেঁচে আছে। কোথাও কোনো মানুষ নেই,নেই কোনো সভ্যতা।পৃথিবীর তিনভাগ পানির উপর রাজত্ব করছে এখন 'লালরঙা এক তরল'।
কোলাহলমুক্ত একটা জীবন যাপন করবার ইচ্ছা আমরা প্রায় সকলেই করি।কেউ আবার তাতে বেদনার রঙ মিশিয়ে হয়তো বা ফেসবুক স্ট্যাটাস ও দিই 'যদি এই কোলাহল ছেড়ে সম্পূর্ণ একা হয়ে যেতাম' লিখে।কোনো এক ভোরে ঘুম থেকে উঠে চোখ কচলাতে কচলাতে টের পেলেন আপনার ফেসবুক স্ট্যাটাসটা মুখোশ পড়েছে বাস্তবের। কোথাও কেউ নেই।কিন্তু সেই কোলাহলহীন জীবনও কি আপনার খুব ভালো লাগবে! হয়তো বা মনে পড়তে পারে সযতনে ড্রয়ারে তুলে রাখা মোটা সেই রশিটার কথা,যেটার সাহায্যে এই নির্জনতা লাভ করেছেন। কিন্তু, সেটা ব্যবহার করে কি আর ফিরতে পারবেন কোলাহলে?
জানে সে চাহিদাই তৈরী করে কষ্ট তাই সুখ কে দীর্ঘস্থায়ী করতে হারাতে চায় ক্ষুধাশক্তি,চুমুর তৃষ্ণা এবং শরীরের প্রতি আকর্ষণ।হয়তো সে পেয়ে যায় এসবই,কিন্তু সুখ? তার সুখ কি স্থায়িত্ব পায় নাকি নামের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখতে গিয়ে কোনো 'নির্জন অরণ্যে ঝরাপাতা' হয়ে ঝরে যায়?
প্রথম দু'তিনটা গল্প শেষ করে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম সবগুলো গল্পই যৌনতা নির্ভর হয় কি না ভেবে। সবকিছু পরিমিতই সুন্দর। ( লেবু বেশি চিপলে তিতা হয়া যায় )
যে ট্রেন ছেড়ে যায় না স্টেশন, হারিকেন,অরণ্যে নির্জন ঝরাপাতা,লাইক শেয়ার কমেন্ট,যুদ্ধ গল্পগুলোর জন্য বইটার কথা মনে থাকবে অনেকদিন।
গরীবের উপর ধনীর,দুর্বলের উপর সবলের এত জুলুম,অত্যাচার দেখেও নিজ সৃষ্টির প্রতি দরদী হচ্ছেন না কেনো সৃষ্টিকর্তা (?) অবচেতনে অনেকের মনে-মগজেই ঘুরপাক খায় এই প্রশ্ন। লেখকের মনেও তার অবাধ বিচরণ। সেই প্রশ্নকেই টেনে নামিয়েছেন নামগল্প 'হেলফেরিয়নে'।
প্রেম,যৌনতা থেকে শুরু করে একাকীত্বতা, বিষণ্ণতা, কল্পনাপ্রবণতা, দার্শনিকতা, সৃষ্টিশীলতা এবং নির্মমতা ইত্যাদি মিলেমিশে একাকার হয়েছে ছোট এই কলেবরে।
পড়ে দেখতে পারেন,ভিন্ন স্বাদ পাবেন আশাকরি তবে যাত্রার সম্পূর্ণ দায়ভার নিজ কাঁধেই বহন করতে হবে।
রিভিউ: সাজিদ হৃদয়
ছবি: মাইশা রশিদ
বই: হেলফেরিয়ন
লেখক: মাহবু্ব ময়ূখ রিশাদ
প্রকাশনী: চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন
বইটি সংগ্রহ করতে পেইজে ম্যাসেজ করুন অথবা, কল করুন ০১৯৭৯৩০১১৭৫ এই নাম্বারে।