31/05/2026
পাবলিক বনাম প্রাইভেট? আসল গল্পটা গবেষণার প্রভাব নিয়ে।
প্রতি বছর আমাদের দেশে একই বিতর্ক শুরু হয়— পাবলিক ভালো, নাকি প্রাইভেট?
কিন্তু বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং আবেগ, রাজনৈতিক পরিচয় বা ঐতিহ্য দেখে না।
তারা দেখে—
• গবেষণা (Research Output)
• গবেষণার প্রভাব (Research Impact & Citations)
• আন্তর্জাতিক সহযোগিতা (International Collaboration)
• একাডেমিক সুনাম (Academic Reputation)
• নিয়োগদাতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা (Employer Reputation)
• বৈশ্বিক উপস্থিতি ও প্রভাব (Global Impact)
গবেষণার মান পরিমাপের অন্যতম স্বীকৃত মাধ্যম হলো Scopus Indexed Publication।
যারা বিষয়টি জানেন না, তাদের জন্য Scopus হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা ডেটাবেস, যেখানে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন Peer-reviewed Journal, Conference Proceedings এবং Academic Publications সংরক্ষিত হয়। কোনো গবেষণা Scopus-indexed হলে সেটি বৈশ্বিক গবেষণা সম্প্রদায়ের কাছে দৃশ্যমান হয় এবং বিশ্বের অন্যান্য গবেষকরা সেটিকে উদ্ধৃত (cite) করতে পারেন।
অর্থাৎ, এটি শুধুমাত্র একটি প্রকাশনা নয়; এটি বৈশ্বিক জ্ঞানভাণ্ডারে একটি অবদান।
QS World University Rankings 2026 অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান:
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU): ৫৮৪
• BUET: ৭৬১–৭৭০
• নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (NSU): ৯৫১–১০০০
• ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি (BRAC): ১২০১–১৪০০
র্যাঙ্কিংয়ের দিক থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনও বাংলাদেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়।
এবার গবেষণার সংখ্যাগুলো দেখা যাক।
Scopus ডেটা (২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী):
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU)
• ১৪,০০০+ Scopus-indexed গবেষণা প্রকাশনা
• ১,৬৭,০০০+ Citation
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি (BRAC)
• ৫,০০০+ Scopus-indexed গবেষণা প্রকাশনা
• ৬৮,০০০+ Citation
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (NSU)
• ২,০০০+ Scopus-indexed গবেষণা প্রকাশনা
• ২৭,০০০+ Citation
এখন একটু প্রেক্ষাপট যোগ করা যাক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
• প্রতিষ্ঠিত: ১৯২১ সালে
• ১০০ বছরেরও বেশি পুরোনো
• বিশাল সরকারি অর্থায়ন
• শতাধিক বিভাগ ও গবেষণা কেন্দ্র
• দেশের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সংখ্যা
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি:
• প্রতিষ্ঠিত: ১৯৯২ সালে
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি:
• প্রতিষ্ঠিত: ২০০১ সালে
অর্থাৎ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে এক শতাব্দীর গবেষণা ঐতিহ্য নিয়ে এগিয়েছে, সেখানে NSU ও BRAC-এর বয়স মাত্র কয়েক দশক।
তাই প্রশ্নটা শুধু কে কতগুলো গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে, সেটি নয়।
প্রশ্ন হওয়া উচিত—
• একজন শিক্ষক গড়ে কতটা গবেষণা করছেন?
• সেই গবেষণা বিশ্বব্যাপী কতবার উদ্ধৃত হচ্ছে?
• আন্তর্জাতিক গবেষকদের সঙ্গে কতটা কাজ হচ্ছে?
• সেই গবেষণা বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলছে?
কারণ আধুনিক বিশ্বে গবেষণার পরিমাণের চেয়ে গুণগত মান ও প্রভাব বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গবেষণা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং দেশের সর্বোচ্চ QS-ranked বিশ্ববিদ্যালয়।
কিন্তু ১৭/১৮ কোটির একটি দেশের লক্ষ্য কি শুধু DU, BRAC আর NSU-এর মধ্যে তুলনা হওয়া উচিত?
আমাদের তুলনা হওয়া উচিত আমাদের প্রতিবেশী সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে।
National University of Singapore (NUS)
• QS Ranking 2026: ৮
• বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়
• AI, Biomedical Science, Computing এবং Engineering-এ বৈশ্বিক নেতৃত্ব
Nanyang Technological University (NTU)
• QS Ranking 2026: ১২
• Engineering ও Technology গবেষণায় বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান
• সিঙ্গাপুরের Innovation Economy-এর অন্যতম চালিকাশক্তি
Peking University
• QS Ranking 2026: ১৪
• চীনের অন্যতম প্রভাবশালী গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়
• প্রতি বছর হাজার হাজার উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন গবেষণা প্রকাশনা
Tsinghua University
• QS Ranking 2026: ১৭
• AI, Semiconductor, Robotics এবং Clean Energy গবেষণায় বৈশ্বিক নেতৃত্ব
• কয়েক লক্ষ Scopus-indexed গবেষণা প্রকাশনা
IIT System (India)
• IIT Delhi: ১২৩
• IIT Bombay: ১২৯
• IIT Madras: ১৮০
ভারত আজ যে Global Tech Talent Powerhouse, তার পেছনে IIT-গুলোর অবদান বিশাল।
University of Malaya (Malaysia)
• QS Ranking 2026: ৫৮
• দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়
• আন্তর্জাতিক গবেষণা ও শিল্পখাতের সঙ্গে গভীর সংযোগ
এখন প্রশ্ন হলো—
সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত এবং মালয়েশিয়া যদি গবেষণাকে কেন্দ্র করে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ কেন পারবে না?
যখন তারা বিশ্বের Top 100-এ জায়গা করে নিচ্ছে, আমরা তখনও Top 600-এ পৌঁছানো উদযাপন করছি।
এটা উদযাপনের বিষয়, অবশ্যই।
কিন্তু একইসঙ্গে আত্মসমালোচনারও বিষয়।
কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠত্ব আজ আর ক্যাম্পাসের আকার, রাজনৈতিক ইতিহাস বা ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতা দিয়ে নির্ধারিত হয় না।
এটি নির্ধারিত হয় একটি প্রশ্নে—
আমরা এমন কতটা জ্ঞান সৃষ্টি করছি, যা বিশ্বের অন্য গবেষকরা ব্যবহার করছে, উদ্ধৃত করছে এবং যার উপর ভিত্তি করে নতুন জ্ঞান তৈরি করছে?
হয়তো বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা নিয়ে আমাদের আলোচনা সেখান থেকেই শুরু হওয়া উচিত।
(সকল ইনফরমেশন ইন্টারনেট থেকে নেওয়া, ইনফরমেশনে কোন ভুল থাকলে জানাবেন, আমি এডিট করে নিব এবং ভুল ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)