17/09/2026
বেশ কয়েকবছর ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা করার পর, চার বছর আগে ভারতের বিজেপি-শাসিত রাজ্য উত্তর প্রদেশের সামলিতে হিন্দু যুবক আয়ুষ মালিক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এবং তার নাম হয় মোহাম্মদ আলী। কয়েকমাস আগে সে চাঁদনী কুরেশি নামের এক মুসলিম যুবতীকে বিয়ে করে। আয়ুষের বাবা তখন আয়ুষকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়।
তারপর কিছু হিন্দুত্ব সংগঠনের সাহায্যে আয়ুষের বাবা পুলিশের কাছে অভিযোগ করে যে চাঁদনী তার ছেলেকে বলপূর্বক ধর্মান্তরণ করিয়েছে। পুলিশ চাঁদনীর পরিবার ও অন্যান্য কয়েকজনের বিরুদ্ধে বলপূর্বক ধর্মান্তরণের মামলা করে ও আয়ুষকে ধরে এনে তার বাবার কাছে ফিরিয়ে দেয়। ভারতের মিডিয়া তখন জানায় যে আয়ুষ স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্মে ফিরে এসেছে ইসলাম ও চাঁদনীকে ছেড়ে।
কয়েক সপ্তাহ আগে আয়ুষের এক বন্ধু এলাহাবাদ হাই কোর্টে পিটিশন দিয়ে জানায় যে আয়ুষকে জবরদস্তি তার বাবা আটকে রেখেছে এবং সে তার বাবার পরিবার থেকে মুক্ত হতে চায়। গতকাল (বুধবার) আয়ুষকে হাই কোর্টে হাজির করার পর সে কোর্টকে জানায় যে সে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলো এবং সে ইসলাম ধর্মে ও চাঁদনীর কাছে ফিরতে চায়। কাল হাই কোর্ট রায় দিয়েছে যে ৩১ বছর বয়সের একজনের অধিকার বা স্বাধীনতা আছে নিজের ইচ্ছায় যে কোনো ধর্ম পালন করার এবং তার পৈতৃক পরিবার তার এই অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
আয়ুষ কাল জানিয়েছে সে এখন থেকে মোহাম্মদ আলী পরিচয়ে একজন মুসলিম হয়েই বাকি জীবন কাটাতে চায়।
জুন মাসে যখন পুলিশ চাঁদনীর পরিবার ও অন্যান্য কয়েকজনের বিরুদ্ধে বলপূর্বক ধর্মান্তরণের মামলা দিয়ে আয়ুষকে তার বাবার পরিবারে ফিরিয়ে দেয় ভারতের গোদি মিডিয়া জানায় যে তাকে বাধ্য করা হয়েছিলো ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য এবং ওই ধর্মগ্রহণের জন্য সে "ভুল স্বীকার" করে হিন্দু ধর্মে ফিরে এসেছে। ভারতের বড় বড় সব কাগজে আয়ুষকে জোর করে ইসলামে ধর্মান্তরণ করানোর খবর তার ভুল স্বীকার করার খবর ফলাও করে প্রকাশিত হয়। কাল আয়ুষ জানিয়েছে যে তাকে তার বাবার পরিবারে ফেরার পর চাপ দিয়ে ভুল স্বীকার করানো হয়েছিলো মিডিয়ার সামনে।
আয়ুষ ছোটবেলা থেকে ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা করে ইসলামের প্রতি অনুরক্ত হয়ে সে চার বছর আগে ইসলাম গ্রহণ করেছিলো স্বেচ্ছায়। কয়েকমাস আগে সে চাঁদনীকে বিয়ে করেছিলো। ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আয়ুষকে জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করার বিষয়ে চাঁদনীর পরিবারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
আয়ুষ কাল কোর্টের রায়ের পর জানিয়েছে যে সে জুন মাসে বার বার পুলিশকে জানিয়েছিল যে সে স্বেছ্বায় চার বছর আগে ইসলাম কবুল করেছিলো এবং চাঁদনীকে বিয়ে করেছে। তবুও পুলিশ চাঁদনীর পরিবার ও অন্য কয়েকজনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তরণের মামলা দেয় ও তাকে চাঁদনীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে। কাল কোর্ট তার রায়ে সামলির পুলিশকে ভর্ৎসনা করে।
মূলতঃ হিন্দুত্ববাদীদের চাপ বা হুমকির ফলেই আয়ুষকে চাঁদনীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিলো ও তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক তার বাবার পরিবারে ফেরানো হয়েছিলো। মুসলমানদের উপর পুলিশ ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সব কীভাবে জুলুম করে ও তাদেরকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসায় তার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ এই ঘটনা।
কোর্টের রায়ে হিন্দুত্ববাদীরা একপ্রকার হার স্বীকার করেছে। এই রায়ের পর এখন আয়ুষ ওরফে মোহাম্মদ চাঁদনীর কাছে ফিরে যেতে ও স্বাধীনভাবে ইসলাম ধর্ম পালন করতে পারবে। কিন্তু হিন্দুত্ববাদীরা বিভিন্নভাবে মোহাম্মদ ও চাঁদনীকে হয়রান করা বা তাদের উপর জুলুম করার চেষ্টা করতে পারে, ভারতের সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকে এমন আশংকা প্রকাশ করেছে।
লেখা - পিনাকী ভট্টাচার্য