13/07/2026
শুধুমাত্র স্কিল, ট্যালেন্ট কিংবা হাইপ দিয়ে 'বিশ্বকাপ' জেতা যায় না। আবার ২০০ মি/লি/য়ন কিংবা ১ বি/ লি/ য়ন সমমূল্যের দল নিয়েও যে আপনি বিশ্বকাপ জিতবেন তাও বলা যায় নাহ।
পৃথিবীতে এমন বহু স্কিল, ট্যালেন্ট অকালে হারায় গিয়েছে কেবল দৃঢ় মনোবল আর পরিশ্রমের অভাবে। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে যদি বলি, ক্লাসে টপার না হয়েও পরিশ্রম আর অক্লান্ত চেষ্টায় এইটুকু জীবনে সে যা করেছে, তা ক্লাস টপারের প্রথম ১০ জনে কেউ করে দেখাতে পারেনি। এমন বহু উদাহরণ আপনারাও নিশ্চয় পেয়ে যাবেন।
স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এমনি এমনিই তো আর সেমিফাইনালে উঠে নি। বলা যায় ২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় দাবিদার এরাই। কিন্তু আপনি যদি বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ দেখে থাকেন, আপনি ও নিশ্চয়ই এটা বলবেন যে আর্জেন্টাইন প্লেয়ারদের মধ্যে যে রকম হার্ড পরিশ্রম কিংবা মনোবল তা বাকি দলগুলোর চেয়ে বেশি।
Unity is strength অর্থাৎ একতাই বল। এই কথার সাথে নিশ্চয়ই সবাই পরিচিত। একতাই বলের নিখুঁত কোনো উদাহরণ দেখেছেন, যদি না দেখে থাকেন তাহলে আর্জেন্টিনা দলে নজর রাখেন।
সম্মানী ব্যক্তিকে যখন আপনি সম্মান করতে না জানবেন, তখন আপনি কিংবা আপনারা বহুতল ভবনের মাঝপথেই থেমে যেতে হবে। আর যদি সম্মান কিভাবে দিতে হয় তা জনতে চান, তাহলে লিওনেল মেসি এবং তার সতীর্থদের লক্ষ্য করুণ। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পুর্তগালের এমন বেহাল দশার কারণ রোনালদোকে উদাসীনতা। যদিও বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবারের পুর্তগাল দল অন্যবারের তুলায় বহু শক্তিশালী।
এবার পয়েন্টে আসুন, ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে যখন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল ফ্রান্স, তখন অনেকেই বলাবলি করছিলেন আর্জেন্টিনাকে ফ্রান্সের সাথে খোঁজে-ই পাওয়া যাবে নাহ। কিন্তু ফাইনালে দেখা গিয়েছিল তার বিপরীত।
আচ্ছা, আপনারাই বলুন তো ২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসি এবং ডি মারিয়া ছাড়া আর কোন মহাতারকা ছিল?
তেমন কেউ-ই ছিল নাহ। তাহলে কিভাবে জিতলো?
উপরের লেখাগুলা পড়লে নিশ্চয় এর উত্তর আপনিও পেয়ে গেছেন।
এন্জো ফার্নান্দেজ, ম্যাক এলিস্টার, আলভারেজ, মন্টিয়েল উনারা কিন্তু ২২ বিশ্বকাপের আগেই তারকা নয়। বিশ্বকাপ তাদের তারকায় রূপান্তর করেছে।
আমি বলছি না ফ্রান্স, স্পেন কিংবা থ্রি লায়ন্স খ্যাত ইংল্যান্ডের ভিতরে এমনসব গুণাগুণ নাই। আছে অবশ্যই আছে। তবে আর্জেন্টিনা তার উর্ধ্বে।
লেখা : Sanaul Haque