03/09/2026
একজন মুসলিম নারী ইসলাম ত্যাগ করে হিন্দু পুরুষকে বিবাহ করলে ইসলামী শরিয়তের বিধান
বিষয়টি রিদ্দাহ (ইসলাম ত্যাগ) ও বিবাহ—দুই দিক থেকে বিবেচনা করতে হবে।
শরয়ি বিধান
১. ইসলাম ত্যাগের বিধান
একজন মুসলিম নারী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলাম ত্যাগ করে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন, তাহলে ইসলামী আকিদার দৃষ্টিতে এটি রিদ্দাহ (ধর্মত্যাগ)।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার দ্বীন থেকে ফিরে যায় এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যায়। আর তারাই আগুনের অধিবাসী; তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে।”
— সূরা আল-বাকারা, ২:২১৭
২. হিন্দু পুরুষকে বিবাহের বিধান
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আর তোমরা মুশরিক পুরুষদের সঙ্গে বিবাহ দিও না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে।”
— সূরা আল-বাকারা, ২:২২১
অতএব, হিন্দু পুরুষ ইসলাম গ্রহণ না করলে তার সঙ্গে এই বিবাহ ইসলামী শরিয়তের বৈধ নিকাহ নয়।
৩. রিদ্দাহ সম্পর্কে সহিহ হাদিস
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে, তাকে হত্যা করো।”
— সহিহ আল-বুখারি, ৩০১৭
তবে এই হাদিসের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা সাধারণ মানুষ নিজের হাতে শাস্তি প্রয়োগ করতে পারে না। এটি বিচারিক কর্তৃপক্ষের বিষয়।
৪. মুরতাদ নারী সম্পর্কে হানাফি ফিকহের বিধান
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী মুরতাদ নারীকে রিদ্দাহর কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় না; বরং তাকে ইসলামে ফিরে আসার জন্য আহ্বান এবং তওবার সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
আর সহিহ বুখারিতে ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যুদ্ধে একজন নারী নিহত হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ ﷺ নারী ও শিশু হত্যাকে নিষেধ করেছিলেন। — সহিহ আল-বুখারি, ৩০১৫।
অতএব, কোনো ব্যক্তি বা পরিবার কোনো মুরতাদ নারীকে নিজ হাতে হত্যা করতে পারবে না।
৫. ইসলামে ফিরে আসার সুযোগ
সে জীবিত অবস্থায় আন্তরিকভাবে তওবা করে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলামে ফিরে এলে মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।”
— সূরা আয-যুমার, ৩৯:৫৩
৬. কুফরের অবস্থায় মৃত্যু
যদি সে ইসলাম ত্যাগ করার পর কুফরের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তাহলে মুসলিমদের জানাজা ও ইসলামী দাফনের বিধান তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।