24/03/2026
আসসালামু আলাইকুম!
আমরা সবাই চাই আমাদের চেহারায় এক স্নিগ্ধতা বা 'নূর' থাকুক এবং আমাদের অন্তর হোক সুন্দর ও প্রশান্ত। পবিত্র কুরআনের ‘সূরা ইউসুফ’ নিয়ে আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত বিশ্বাস আছে যে, এই সূরা পাঠ করলে চেহারায় নূর বাড়ে। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের এই সূরা বেশি বেশি পড়তে বলা হয় যেন সুন্দর সন্তান জন্ম নেয়।
কিন্তু ইসলামের সঠিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সূরার প্রকৃত আমল এবং চেহারায় নূর বৃদ্ধির রহস্যটা আসলে কী? আসুন, বিস্তারিত জেনে নিই! 📖
💡 ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত ‘নূর’ বা সৌন্দর্য কী?
ইসলামে শারীরিক বা জন্মগত গঠন পরিবর্তন করার কোনো ম্যাজিক বা মন্ত্র নেই। শারীরিক সৌন্দর্য মহান আল্লাহর দান। তবে ইসলামে ‘নূর’ বলতে বোঝায় ইবাদত, পবিত্রতা এবং সুন্দর চরিত্রের কারণে চেহারায় ফুটে ওঠা এক স্বর্গীয় স্নিগ্ধতা ও প্রশান্তি। একজন মানুষের অন্তর যখন ঈমান ও নেক আমলে পূর্ণ থাকে, তখন তার চেহারায় প্রাকৃতিকভাবেই এক অদ্ভুত মায়া ও নূর তৈরি হয়।
💖 সূরা ইউসুফ থেকে অন্তরের সৌন্দর্য ও চেহারার নূর বৃদ্ধির ৫টি আমল:
হযরত ইউসুফ (আ.)-এর শুধু বাহ্যিক রূপই সুন্দর ছিল না, তাঁর চরিত্র ছিল অতুলনীয় সুন্দর। সূরা ইউসুফ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা কীভাবে আমাদের জীবন ও চেহারাকে নূরানি করতে পারি, তা নিচে দেওয়া হলো:
* ১. নিয়মিত তেলাওয়াত ও তাহাজ্জুদ: কুরআন তেলাওয়াত করলে অন্তরের কালিমা দূর হয়। সূরা ইউসুফ অর্থ বুঝে তেলাওয়াত করলে আপনার মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি আসবে। আর হাদিস অনুযায়ী, যারা রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে এবং আল্লাহর সাথে সময় কাটায়, দিনে তাদের চেহারায় সবচেয়ে বেশি নূর বা উজ্জ্বলতা থাকে।
* ২. ‘সবরে জামিল’ বা সুন্দর ধৈর্য ধারণ: সূরা ইউসুফে হযরত ইয়াকুব (আ.) ও হযরত ইউসুফ (আ.)-এর ‘সবরে জামিল’ বা সুন্দর ধৈর্যের কথা বলা হয়েছে। রাগ, ক্ষোভ ও দুশ্চিন্তা মানুষের চেহারাকে মলিন করে দেয়। যখন আপনি বিপদে আল্লাহর ওপর ভরসা করে সুন্দরভাবে ধৈর্য ধারণ করবেন, তখন আপনার চেহারায় দুশ্চিন্তার ছাপ থাকবে না, বরং তা প্রশান্তিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
* ৩. চরিত্রের হেফাজত করা (গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা): হযরত ইউসুফ (আ.) সব রকম প্রলোভনের মুখেও নিজেকে পবিত্র রেখেছিলেন। গুনাহ মানুষের অন্তর ও চেহারাকে অন্ধকার করে দেয়। আপনি যখন খারাপ দৃষ্টি, মিথ্যা এবং অন্যান্য গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবেন, তখন আপনার চেহারায় ঈমানের নূর ফুটে উঠবে।
* ৪. মানুষকে ক্ষমা করে দেওয়া: নিজের আপন ভাইয়েরা ইউসুফ (আ.)-কে কূপে ফেলে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতা পাওয়ার পর তিনি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দেন। যার অন্তরে অন্যের প্রতি হিংসা বা ক্ষোভ থাকে না, তার মন থাকে পরিষ্কার। আর পরিষ্কার মনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে হাসিমাখা উজ্জ্বল চেহারায়।
* ৫. তাকওয়া বা আল্লাহভীতি: তাকওয়াই হলো আসল সৌন্দর্য। হযরত ইউসুফ (আ.)-এর সফলতার মূল কারণ ছিল তাঁর তাকওয়া। আল্লাহর ভয়ে যে চোখ কাঁদে এবং যে অন্তর কাঁপে, সেই মানুষের চেহারায় আল্লাহ নিজ থেকে সম্মান ও নূর ঢেলে দেন।
📌 একটি জরুরি বিষয় (বাস্তবতা):
নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতিতে (যেমন: পানিতে ফুঁ দিয়ে মুখে মাখা বা শুধু না বুঝে রিডিং পড়া) সূরা ইউসুফ পড়লেই জাদুকরীভাবে শারীরিক গঠন পরিবর্তন হয়ে যাবে—এমন কোনো সহিহ হাদিসের প্রমাণ নেই। তবে, গর্ভাবস্থায় বা যেকোনো সময় বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করলে মা ও সন্তান উভয়ের ওপরই আল্লাহর রহমত ও বরকত নাজিল হয়।
আসল কথা হলো: সূরা ইউসুফ শুধু পড়ার জন্য নয়, বরং ইউসুফ (আ.)-এর মতো সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হওয়ার জন্য আমাদের জীবনে তা প্রয়োগ করতে হবে। চরিত্র সুন্দর হলেই চেহারা নূরে ঝলমল করবে! সুবহানাল্লাহ।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যে বিকশিত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন। 🤲