11/07/2026
প্রসঙ্গ: ঐতিহাস-ঐতিহ্য: সোনাপুর বাজার ও জিরোপয়েন্ট সংযোগ স্থল:-
১৭৭০-এর দশকে ব্রিটিশ জরিপবিদ James Rennell বাংলার প্রথম বিস্তারিত মানচিত্র প্রস্তুত করেন। সেই মানচিত্রে বর্তমান নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল, মেঘনার মোহনা এবং নদী-খালগুলো দেখানো হলেও "Sonapur" নামে কোনো বাজার বা জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায় না। তবে এটি পুরাতন সুধারাম জেলা সদরের বর্ধিত অংশ হিসেবে এখনও ঐতিহ্যিক ধারা বজায় রেখেছে। বর্তমানেও জেলা প্রশাসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এখানে রয়েছে। জেলা পরিষদ ভবন,সরকারি গ্রন্থাগার, জেলা পরিষদ ডাক বাংলা, বাপাউবো, বিআরটিসি বাস ডিপো, সোনাপুর পুলিশ কেন্দ্র, রেলস্টেশন, পৌর সুপার মার্কেট, কাঁচা বাজার, মাছের আড়ৎ, অজস্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তো রয়েছে।
বিশ শতকের প্রথমার্ধে নোয়াখালীতে সড়ক যোগাযোগ বাড়তে শুরু করলে সোনাপুরের গুরুত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পরে এটি এমন একটি সংযোগস্থলে পরিণত হয়, যেখানে নোয়াখালী–ঢাকা, হাতিয়া, কবিরহাট–বসুরহাট এবং চর জব্বার–রামগতি সড়ক মিলিত হয়েছে। এই অবস্থানই বাজারটিকে জেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত করে।
বাংলা ভাষায় "সোনা" অর্থ স্বর্ণ বা মূল্যবান, আর "পুর" অর্থ জনপদ বা বসতি। সে হিসেবে "সোনাপুর" অর্থ হতে পারে "স্বর্ণসম জনপদ" বা "সমৃদ্ধ গ্রাম"। এতদঞ্চলের বহু স্থানের নাম একই রীতিতে গঠিত হয়েছে—যেমন কৃষ্ণপুর, জয় কৃষ্ণপুর, হরিনারায়নপুর, মধুসূদনপুর, লক্ষীনারায়নপুর ইত্যাদি। তবে এটি ভাষাতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা; নোয়াখালীর সোনাপুরের ক্ষেত্রে এর পক্ষে কোনো ঐতিহাসিক দলিল নেই।
মুক্তিযুদ্ধে সোনাপুর
১৯৭১ সালের ১৫ জুন সোনাপুর ও শ্রীপুর এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা চালায়। বাজার এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু নিরীহ মানুষ শহীদ হন এবং সোনাপুর বাজারের আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাজার পুড়ে ছাই হয়ে যায় ও অনেক লোক আগুনে পুড়েও মারা যান। এই ঘটনা সোনাপুরের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয়। বৃহত্তর নোয়াখালীতে পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আলবদর কর্তৃক যে কয়েকটি গণহত্যা চালানো হয় তন্মধ্যে সোনাপুর ও শ্রীপুর অন্যতম।
তথ্য সংযোগ:-
#বাংলাপিড়িয়া-বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
#বিশ্বতথ্যকোষ
#নোয়াখালীতেগণহত্যা-লে.কর্নেল কাজী সাজ্জাদ আলী জহির
#নোয়াখালীগেজেটিয়ার১৭৭৮১৯১১১৯১২