20/08/2026
বান্দরবান জেলা পরিষদের ১৫ সদস্যের নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক: লামার প্রতিনিধি নেই, প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক | বান্দরবান
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। একজন চেয়ারম্যান ও ১৪ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এই পরিষদের তালিকা প্রকাশের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন মহলে প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে লামা উপজেলার কোনো প্রতিনিধিকে নতুন পরিষদে রাখা হয়নি—এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কমিটিতে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব কী ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটিও এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
“লামার মতো গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা কেন বাদ?”
বান্দরবানের সাতটি উপজেলার মধ্যে লামা অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় অনেকের প্রত্যাশা ছিল, অন্তত একজন প্রতিনিধি লামা থেকে অন্তর্ভুক্ত হবেন। কিন্তু প্রকাশিত তালিকায় লামার কোনো নাম না থাকায় স্থানীয়দের একাংশ বিষয়টিকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন—
«“লামা কি বান্দরবানের বাইরে? জেলার এত বড় একটি উপজেলা থেকে একজন প্রতিনিধিও রাখা হলো না কেন? এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকা উচিত।”»
প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন
নতুন কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সদস্য নির্বাচন করতে কী ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।
তাদের মতে, বান্দরবান একটি বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় জেলা। এখানে পাহাড়ি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বাঙালি মুসলিমও দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। তাই পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে সব সম্প্রদায় এবং সব উপজেলার ভারসাম্যপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে মানুষের আস্থা আরও বাড়ত।
আরেকজন নাগরিক বলেন—
«“এটি কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কথা নয়। আমরা চাই বান্দরবানের প্রতিটি জনগোষ্ঠী এবং প্রতিটি উপজেলার মানুষের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হোক।”»
কীভাবে হলো সদস্য নির্বাচন?
প্রজ্ঞাপনে সদস্যদের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ থাকলেও নির্বাচন বা মনোনয়নের বিস্তারিত মানদণ্ড সেখানে ব্যাখ্যা করা হয়নি। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, যদি সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা, যোগ্যতার মানদণ্ড বা প্রতিনিধিত্বের কাঠামো অনুসরণ করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত।
স্থানীয়দের চার দফা প্রত্যাশা
জেলার বিভিন্ন মহল থেকে কয়েকটি দাবি সামনে এসেছে—
- সদস্য মনোনয়নের মানদণ্ড প্রকাশ করা।
- লামাসহ সব উপজেলার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
- সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
- ভবিষ্যতে জেলা পরিষদ গঠনে স্বচ্ছতা ও জনআস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
শেষ কথা
বান্দরবান সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের জেলা। এখানে পাহাড়ি ও বাঙালি—সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। তাই জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন শুধু একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়, এটি জনআস্থা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের সঙ্গেও জড়িত। নতুন কমিটি নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেগুলোর স্পষ্ট ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যাশা করছেন জেলার অনেক বাসিন্দা।