30/08/2026
হাসিনা আমলে বারবার কারানির্যাতনের কারণে বিরক্ত হয়ে স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে যান। প্রবাসীকে বিয়ে করে বেছে নেন এক নির্ঝঞ্ঝাট জীবন। কারাগার, মামলা, রিমান্ড, পুলিশ, ফেরারি; এসকল প্রতিশব্দের জীবন থেকে চিরমুক্তি ঘটে ভদ্রমহিলার। স্ত্রী যখন বিদেশে নতুন মানুষের সঙ্গে নতুন করে সংসার সাজাচ্ছেন, ভাইটি তখনও পড়ে আছেন জেলখানার বদ্ধজীবনে।
ভদ্রমহিলা এমন একজন ড্যাশিং স্মার্ট যুবাপুরুষকে রেখে চলে গেলেন, যাঁকে যেকোনো তরুণীই পেতে চাইবে জীবনে। ন্যূনতম আন্দোলন বোঝা যেকোনো নারীই বলবে, 'আমি জীবনে কিছুই চাই না, কেবল পাশে থেকে আপনার সংগ্রামটা সহজ করতে চাই। আমি স্ট্র্যাগল করার জন্যই আসতে চাই আপনার জীবনে। আমি কারাশিকলের ওপার থেকে জনম জনম অপেক্ষা করতে চাই আপনার জন্য।' কিন্তু মুক্তো সবাই চিনতে পারে না, কেউ কেউ পারে।
সময় সর্বদা এক থাকে না। ইউসুফ আলাইহিস সালামদের জীবনের একটা সময় কাটাতে হয় কারাগারে, অন্য সময় অপেক্ষা করে সিংহাসন। ভদ্রমহিলা সম্ভবত পৃথিবীর এই চিরায়ত নিয়মটা বিস্মৃত হয়েছিলেন। হাসিনার পতন হলো। ভাইটি কারামুক্ত হলেন এবং নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হয়ে গেলেন সংসদ সদস্য। দূর থেকে এই সংবাদ দেখে আজ কি একটু আফসোস হলো না ভদ্রমহিলার? একবার কি মনে হলো না–মানুষটাকে ছেড়ে না এলেও তো পারতাম!
এখন প্রতিনিয়ত অজস্র বিয়ের প্রস্তাব আসে এমপি সাহেবের। একে তো অসম্ভব সুদর্শন সুপুরুষ, তার ওপর সংসদ সদস্য! কিন্তু তিনি আর রাজি হন না। হয়তো প্রথম ধাক্কার কষ্টটা তুমুল হয়ে ওঠে। বলেন, 'দুনিয়াতে আর সংসার হবে না। তার ওপর প্রচুর কাজের ব্যস্ততা। থাকুক না!' আমরা সঙ্গত কারণেই সংসদ সদস্যের নামোল্লেখ করলাম না। আমরা প্রায়শই নিজেদের ত্যাগ-সংগ্রামের ফিরিস্তি বলে আপ্লূত হই। আমরা জানি না–কত মানুষ হাসিনা আমলে কত কঠিন সব ঈমানী পরীক্ষার ভেতর দিয়ে এসেছে!
'ফেরারি সময়ের উপাখ্যান'/ লাবিব আহসান