CHT Insiders

CHT Insiders Exploring the people, politics, and pulse of the Chittagong Hill Tracts.
(1)

মাটিরাঙ্গায় এক মারমা এতিম শিক্ষার্থীর পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মাসুদ খান।খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বাই...
28/08/2026

মাটিরাঙ্গায় এক মারমা এতিম শিক্ষার্থীর পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মাসুদ খান।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বাইল্যাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এতিম শিক্ষার্থী চাইন্দারী মারমার পড়ালেখার যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছেন মাটিরাঙ্গা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান পিএসসি। তাঁর এ মানবিক উদ্যোগে অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ গঠনের নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে মাটিরাঙ্গা জোনের উদ্যোগে শিক্ষার্থী চাইন্দারী মারমার পড়াশোনার প্রয়োজনীয় খরচ বহনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান পিএসসি। এ সময় মাটিরাঙ্গা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আলতাফ মাহমুদ রুবেল পিএসসি উপস্থিত ছিলেন।

চাইন্দারী মারমা মাটিরাঙ্গা উপজেলার একজন এতিম শিক্ষার্থী। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে তার পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি মাটিরাঙ্গা জোন কমান্ডারের নজরে এলে তিনি শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন এবং তার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

জোন কমান্ডারের এই মানবিক উদ্যোগে শিক্ষার্থী চাইন্দারী মারমা ও তার পরিবারের সদস্যরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এই সহযোগিতা চাইন্দারীর পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে সে ভালোভাবে পড়াশোনা করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে বলে তারা আশাবাদী।

এদিকে, এতিম শিক্ষার্থীর পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়ায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান পিএসসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তারা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগ শুধু একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনকে এগিয়ে নেবে না, বরং সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিকেও অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।

মাটিরাঙ্গা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান পিএসসি বলেন, “অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। চাইন্দারী মারমা যেন আর্থিক সংকটের কারণে পড়ালেখা থেকে ঝরে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই তার শিক্ষাজীবনের প্রয়োজনীয় দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তার পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

কর্মমুখী প্রশিক্ষণে পাহাড়ি যুবসমাজ: সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নতুন আশা।পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক বিশেষ ভৌগোলিক ও সামাজ...
28/08/2026

কর্মমুখী প্রশিক্ষণে পাহাড়ি যুবসমাজ: সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নতুন আশা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক বিশেষ ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতার অঞ্চল, যেখানে বাঙালি ও বিভিন্ন উপজাতি জনগোষ্ঠীর মিশ্র বসবাস। যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা এবং কর্মসংস্থানের অভাবে এই অঞ্চলের যুবসমাজ দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলে শুধু নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন নয়, বরং উন্নয়ন ও সম্প্রীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন রিজিয়নে পরিচালিত কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আজ পাহাড়ি যুবসমাজের জীবনে বাস্তব পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী দেখা যায়, গুইমারা, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি এই চারটি রিজিয়নে একযোগে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বা হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ফুটবল কোচিং, মোবাইল মেরামত প্রশিক্ষণ, যানবাহন মেকানিক্স, মিডওয়াইফ ও নার্সিং প্রশিক্ষণ, এসি ও ফ্রিজ মেরামত, গাড়ি চালনা, কৃষি প্রযুক্তি, যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং সেলাই বা টেইলারিং প্রশিক্ষণ।

এই তালিকা থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে সেনাবাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি কতটা বহুমুখী ও সময়োপযোগী। একদিকে যেমন স্বাস্থ্যসেবা খাতে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে মিডওয়াইফ ও নার্সিং প্রশিক্ষণ একাধিক ব্যাচে পরিচালিত হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর যুগের চাহিদা মেটাতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আবার প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য মোবাইল ও যানবাহন মেরামত, এসি-ফ্রিজ মেরামতের মতো ব্যবহারিক প্রশিক্ষণও যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রশিক্ষণার্থীদের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।

পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি শিক্ষার সুযোগ শহরাঞ্চলের তুলনায় অনেক কম। এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যতা পূরণ করছে। প্রতিটি প্রশিক্ষণে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন কোথাও ১৫ জন, কোথাও ২০ জন, আবার কোথাও তার চেয়েও বেশি। এই সংখ্যাগুলো ছোট মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী, কারণ একজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তি শুধু নিজে স্বাবলম্বী হন না, বরং তার পরিবার ও সমাজেও দক্ষতা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম হয়ে ওঠেন।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো মিডওয়াইফ ও নার্সিং প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া। প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো এমনিতেই কঠিন একটি কাজ। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ ও নার্স তৈরি হলে তা মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে ফুটবল কোচিং-এর মতো ক্রীড়াভিত্তিক উদ্যোগ শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি যুবসমাজকে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতায় সম্পৃক্ত রাখা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

গুইমারা রিজিয়নে মোবাইল মেরামত প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে ১৮ আগস্ট থেকে ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ১৫ দিনের এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী। ফুটবল কোচিং ও যানবাহন মেকানিক্স প্রশিক্ষণের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই রিজিয়নেই মিডওয়াইফ/নার্সিং প্রশিক্ষণ তিনটি ব্যাচে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুটি ব্যাচ ০২ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত (১৪ দিন মেয়াদি), যেখানে যথাক্রমে ১৭ ও ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন, এবং তৃতীয় ব্যাচটি ০৯ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত (১১ দিন) চলছে ১৫ জন প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে।

বান্দরবান রিজিয়নে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসে একযোগে তিনটি প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে এসি ও ফ্রিজ মেরামত, যানবাহন চালনা এবং কৃষি প্রযুক্তি, প্রতিটিতে ২০ জন করে প্রশিক্ষণার্থী। এরপর ধারাবাহিকভাবে অক্টোবর ২০২৬-এ যানবাহন মেরামত প্রশিক্ষণে ২০ জন, নভেম্বর ২০২৬-এ যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণে ২০ জন এবং ডিসেম্বর ২০২৬-এ ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে ১০ জন অংশ নেবেন। এছাড়া মিডওয়াইফ/নার্সিং প্রশিক্ষণ দুটি ব্যাচে অক্টোবর ও ডিসেম্বর ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মোট ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেবেন।

খাগড়াছড়ি রিজিয়নে মেকানিক্স ও মেরামত, মোবাইল মেরামত, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং মিডওয়াইফ/নার্সিং প্রশিক্ষণ এই চারটি বিষয়ে দুটি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ব্যাচ ২৩ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত (প্রায় ১৯ দিন) এবং দ্বিতীয় ব্যাচ ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত (প্রায় ২০ দিন) চলবে।

রাঙামাটি রিজিয়নে চার ধরনের প্রশিক্ষণ, মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণ, টেইলারিং প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও যানবাহন মেকানিক্স প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে যথাক্রমে ১৫, ২০, ২৫ ও ১৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কোনো একবারের আয়োজন নয় বরং আগস্ট থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ধারাবাহিক পরিকল্পনার অংশ। বিভিন্ন মাসে বিভিন্ন রিজিয়নে ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ পরিচালনার এই কৌশল প্রমাণ করে যে এটি কোনো তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি সুচিন্তিত অংশ। এতে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অধিক সংখ্যক যুবক-যুবতী প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন।

সামগ্রিকভাবে বিচার করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কারিগরি দক্ষতা, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি ও ক্রীড়া এই বিভিন্ন ক্ষেত্রে একযোগে উদ্যোগ নেওয়ার মধ্য দিয়ে পাহাড়ি যুবসমাজকে শুধু কর্মসংস্থানের পথ দেখানো হচ্ছে না, বরং তাদের আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাবোধও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এই ধরনের উদ্যোগ যদি টেকসইভাবে অব্যাহত থাকে, তবে তা পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ভিত্তি আরও মজবুত করবে।

বিশ্ব স্বীকৃত আদিবাসীদের মত পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস যথা সমৃদ্ধ নয়।CHT Insiders জাতিসংঘের (UN) তথ্য...
27/08/2026

বিশ্ব স্বীকৃত আদিবাসীদের মত পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস যথা সমৃদ্ধ নয়।

CHT Insiders

জাতিসংঘের (UN) তথ্য মতে, বর্তমানে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশে প্রায় ৪৭ কোটি ৬০ লাখ প্রথাগত আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ। প্রকৃতি ও ভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এদের প্রাচীন জীবনধারা ও সংস্কৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। কিন্তু ঔপনিবেশিক আগ্রাসন ও দখলদারিত্বের কারণে এই প্রাচীন জনগোষ্ঠীগুলো আজ বিলুপ্তির পথে। তাদের অধিকার, মৌলিক ভূমি ও অনন্য সংস্কৃতি রক্ষার তাগিদেই আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এবং জাতিসংঘ ‘আইএলও কনভেনশন ১৬৯ এর ১ এর b’ ও ‘২০০৭ সালের আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র (UNDRIP)’ গ্রহণ করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে দাবি করার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন, ইতিহাস ও নৃবিজ্ঞানের আলোকে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের পার্বত্য উপজাতিরা কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক সংজ্ঞায় স্বীকৃত ‘আদিবাসী’ নয়; বরং তারা বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে এ অঞ্চলে আগমন করা অভিবাসী উপজাতি। (UN DESA - Indigenous Peoples; State of the World's Indigenous Peoples, 2009)।
[https://tinyurl.com/y3k2sudz]

বিভিন্ন দেশের আদিবাসীদের পরিচয় ও স্বীকৃতির কারণ
রেড ইন্ডিয়ান (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র): আনুমানিক ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ বছর আগে এশিয়া থেকে বেরিং প্রণালী পার হয়ে আমেরিকায় এদের আগমন ও বসতি স্থাপন ঘটে। ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের আগ্রাসনে তারা নিজস্ব আদিভূমি হারিয়ে সংরক্ষিত এলাকায় কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ১৯২৪ সালের "ইন্ডিয়ান সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট" (Indian Citizenship Act of 1924, 43 Stat. 253) এবং বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে তারা "নেটিভ আমেরিকান" বা "আমেরিকান ইন্ডিয়ান" হিসেবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম আদিবাসী সার্বভৌমত্বের আইনি স্বীকৃতি লাভ করেছে। (Goebel, T. et al., "The Late Pleistocene Dispersal of Modern Humans in the Americas", Science, 2008) (Title 25 of the United States Code)
[https://tinyurl.com/5ysfp89f]

ফার্স্ট নেশনস (কানাডা): ইউরোপীয়দের আগমনের বহু হাজার বছর আগে থেকে এরা কানাডা ভূখণ্ডে বসবাস করছে। ১৮৭৬ সালের "ইন্ডিয়ান অ্যাক্ট" (Indian Act, R.S.C. 1985) এবং ১৯৮২ সালের কানাডার সংবিধানের সংশোধিত ৩৫ নম্বর ধারার (Section 35, Constitution Act, 1982) মাধ্যমে তারা কানাডার স্বীকৃত ৩টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অন্যতম হিসেবে আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার ও প্রথাগত ভূমির স্বত্ব ভোগ করছে।(Royal Commission on Aboriginal Peoples Report, 1996)
[https://tinyurl.com/9xnvay5c]

আমাজনের আদিবাসী (ব্রাজিল): আনুমানিক ১১,০০০ থেকে ১৩,০০০ বছর আগে আমাজন অববাহিকায় এদের প্রথম আগমন ঘটে। ১৯৮৮ সালের ব্রাজিলের নতুন সংবিধানের ২৩১ নম্বর অনুচ্ছেদের (Article 231, Constitution of Brazil 1988) মাধ্যমে তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রথাগত ভূমির আইনি স্বত্ব ও সুরক্ষার আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
(Roosevelt, A. C. et al., "Paleoindian Cave Dwelling in the Amazon", Science, 1996)
[https://tinyurl.com/yktvxzme]

অ্যাবোরিজিনাল (অস্ট্রেলিয়া): প্রায় ৫০,০০০ থেকে ৬৫,০০০ বছর আগে থেকে এরা অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে বাস করছে। মৌখিক গল্প ও "Dreamtime" বিশ্বাসের মাধ্যমে তারা প্রাচীন সংস্কৃতি ধরে রেখেছে। ১৯৬৭ সালের জাতীয় গণভোট এবং ১৯৯২ সালের অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক 'মাবো বনাম কুইন্সল্যান্ড (নং ২)' মামলার রায়ের (Mabo v Queensland [No 2] [1992] HCA 23) মাধ্যমে তাদের ভূমির মূল স্বত্বাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
(Clarkson, C. et al., "Human occupation of northern Australia by 65,000 years ago", Nature, 2017)
[https://tinyurl.com/k5hz6pt2]

টরেস প্রণালী দ্বীপবাসী (অস্ট্রেলিয়া): প্রায় ২,৫০০ বছর ধরে সমুদ্রনির্ভর মেলানেশীয় বংশোদ্ভূত এই জনগোষ্ঠী টরেস প্রণালীর দ্বীপগুলোতে বসবাস করছে। ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক 'মাবো মামলা' (Mabo Decision 1992) ও 'নেটিভ টাইটেল অ্যাক্ট ১৯৯৩' (Native Title Act 1993)-এর মাধ্যমে এরা মূল ভূখণ্ডের অ্যাবোরিজিনালদের পাশাপাশি দ্বিতীয় পৃথক আদিবাসী জাতি হিসেবে আইনি স্বীকৃতি পায়। রেফারেন্স-৬ [https://tinyurl.com/2edvmwsc]

আফ্রিকান আদিবাসী (দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া, তানজানিয়া): আফ্রিকার প্রাচীনতম অধিবাসী সান (San) ও খোয়েখোয়ে (Khoikhoi)-সহ বিভিন্ন পশুপালক ও শিকারী জনগোষ্ঠী বান্টু ও ইউরোপীয়দের আগমনের বহু পূর্ব থেকে সেখানে বসবাস করছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা IWGIA এবং আফ্রিকান হিউম্যান রাইটস কমিশন (ACHPR)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী এবং দক্ষিণ আফ্রিকার 'ট্র্যাডিশনাল অ্যান্ড খোই-সান লিডারশিপ অ্যাক্ট ২০১৯' (Traditional and Khoi-San Leadership Act of 2019)-এর অধীনে এরা প্রথাগত ভূদৃশ্যের প্রতি আনুগত্য ও ঐতিহ্যের ভিত্তিতে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃত। রেফারেন্স-৭ [https://tinyurl.com/yc657tk9]


আদিবাসীদের রক্ষায় জাতিসংঘের ILO Convention
বিশ্বজুড়ে সভ্যতার বিকাশে অধিকাংশ জাতি আধুনিক হলেও এই জনগোষ্ঠীগুলো আজও তাদের হাজার বছরের প্রাচীন প্রথা, পশু শিকার, প্রকৃতি পূজা ও আদিম জীবনধারা অব্যাহত রেখেছে। এদের অনন্য ও বিচ্ছিন্ন অস্তিত্বের সুরক্ষার্থেই আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) ১৯৮৯ সালে গৃহীত ১৬৯ নম্বর কনভেনশনের ১(b) ধারায় (ILO Convention No. 169, Article 1(1)(b)) ‘আদিবাসী’র আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা ও অধিকার নির্ধারণ করেছে, যা কেবল এই ধরনের ঐতিহাসিক মূল ভূমিপুত্রদের জন্যই প্রযোজ্য। [https://tinyurl.com/yujxycdf]

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
বিশ্বের প্রথাগত আদিবাসীদের সাথে বাংলাদেশের পার্বত্য উপজাতিদের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বিপরীত। নৃবিজ্ঞান ও ইতিহাস (যেমন: Sir Alexander Mackenzie-এর "The North-East Frontier of Bengal", 1884 এবং ১৯০০ সালের "Chittagong Hill Tracts Regulation 1900") প্রমাণ করে যে, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও বমসহ মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত উপজাতিরা মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ বছর আগে মিয়ানমার (আরাকান) ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অভিবাসী হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে আশ্রয় নেয়। এরা এ মাটির মূল ভূমিপুত্র নয়। [https://tinyurl.com/mr22tu22]

প্রান্তিক আদিবাসীদের মতো এরা আধুনিক সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন বা অনগ্রসর নয়। পার্বত্য উপজাতিরা বর্তমানে আধুনিক শিক্ষায় অত্যন্ত শিক্ষিত ও আধুনিক জীবনধারায় অভ্যস্ত। যেমন চাকমাদের শিক্ষার হার দেশের মূল জনগোষ্ঠী থেকেও বেশি। [https://tinyurl.com/5n8y7hdv] [https://tinyurl.com/58n4yy4j]
[https://tinyurl.com/yvffc2s4]

বাংলাদেশে উপজাতিদের জন্য বিসিএস, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, উচ্চ শিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে বিশেষ কোটা সুবিধা দেওয়া রয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ, রাষ্ট্রদূত, সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদে মন্ত্রী-এমপি পদেও তাদের স্বতঃস্ফূর্ত ও ঈর্ষণীয় প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। যেমন: সাচিং প্রু জেরি, পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রী, সাবেক মন্ত্রী, বীর বাহাদুর উশৈসিং, সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সুপ্রদীপ চাকমা উপদেষ্টা, সাবেক সরকারি কর্মকতা ও রাষ্ট্রদূত।
[https://tinyurl.com/3w6wshpe]
[https://tinyurl.com/3bze9vur]
[https://tinyurl.com/5n6kcntp]
[https://akkhor24.com/?p=3218]

অন্যান্য আদিবাসী এবং বাংলাদেশের উপজাতিদের মধ্যে পার্থক্য ঃ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আদিবাসীরা মূলধারার বিশ্ব ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বহুদূরে থেকে আজও আদিম জীবনসংগ্রামে লিপ্ত এবং ভূমি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশের পার্বত্য উপজাতিরা পূর্ণ নাগরিক অধিকার ভোগ করছে, আধুনিক সুট-টাই পরিহিত জীবনধারা বেছে নিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক উচ্চপর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করছে।

কেন জাতিসংঘের ILO কনভেনশন বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়?
ILO Convention No. 169-এর Article 1(1)(a)-তে ‘উপজাতি’ (Tribal Peoples) এবং Article 1(1)(b)-তে ‘আদিবাসী’ (Indigenous Peoples)-এর পৃথক সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু পার্বত্য অধিবাসীরা এ দেশের প্রাচীন মূল ভূমিপুত্র নয়, তাই তারা ১(b) ধারার ‘আদিবাসী’ সংজ্ঞায় পড়ে না। বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক আইন মেনে তাদের ১(a) ধারা অনুযায়ী 'উপজাতি' বা 'ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী সাংবিধানিক অধিকার প্রদান করেছে।রেফারেন্স-১৭ [https://tinyurl.com/4abpm58n]

ঐতিহাসিক বাস্তবতা, সামাজিক জীবনধারা ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট আলোকেই প্রমাণিত হয় যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা ‘উপজাতি’। দেশের সংবিধান এবং ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তির আলোকেই তারা তাদের সমস্ত ন্যায্য অধিকার পূর্ণাঙ্গভাবে ভোগ করছে। বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত প্রথাগত আদিবাসীদের সাথে এদের ইতিহাস মেলানোর কোনো সুযোগ নেই। তাই ঐতিহাসিক ও আইনি সত্য গোপন করে তথাকথিত ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের দাবির নেপথ্যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা নিহিত রয়েছে।

J-10CE কিনছে বাংলাদেশ; আতংকে স্ব-পরিবারে রাজ্য ছাড়ছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাCHT Insiders গতকাল থেকে দেশে...
26/08/2026

J-10CE কিনছে বাংলাদেশ; আতংকে স্ব-পরিবারে রাজ্য ছাড়ছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

CHT Insiders

গতকাল থেকে দেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় টপ নিউজ হয়েছে বাংলাদেশের যু*দ্ধবিমান কেনার বিষয়টি। জানা গেছে চীন থেকে অত্যাধুনিক J-10CE কিনছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তান J-10CE দিয়ে ভারতের ৬টি যু*দ্ধবিমান ভূপাতিত করে। যা ছিল ভারতের কাছে চরম লজ্জার। সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বাংলাদেশের J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার খবর আসাম ও মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর ঘুম হারাম করে দিয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তার পরিবারের জন্য ইতিমধ্যে রাজ্যের বাহিরে বেঙ্গালুরুর সারজাপুর রোড এলাকায় একটি ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়েছে। কারণ, তিনি কিছুদিন আগে বাংলাদেশের রংপুর ও পারত্য চট্টগ্রাম দখলের
হু/ম/কি দিয়েছিলেন। তার ধারণ J-10CE কেনার পর, পাহাড় উক্তপ্ত করলে বাংলাদেশ ছেড়ে কথা বলবে না এবং সেভেন সিস্টার্স শান্তিতে থাকতে পারবেনা। তাই সে তার পরিবারের কথা চিন্তা করে সারজাপুর রোডে ৩৫,০০০ রুপিতে একটি ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া করেছেন। CHT Insiders কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে Suhas Chakma Connect

ইতিমধ্যে রাজ্যে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আসাম রাইফেলস। তবে আসামের বিদ্রোহী গোষ্ঠী NDFB যেকোনো সময় হামলা হামলা করতে পারে তার বাসভবনে। NDFB দাবি করেছে বিশ্ব শর্মা একজন খু*নি। সে রজ্যের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। হিন্দুরা প্রতিনিয়ত হামলার শিকার হচ্ছে তার দলের নেতাকর্মীদের ধারা।



#আসাম


পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবিক সহায়তায় সেনাবাহিনী: পানি, শিক্ষা ও পুনর্বাসনে ধারাবাহিক উদ্যোগ।CHT Insiders পার্বত্য চট্টগ্...
26/08/2026

পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবিক সহায়তায় সেনাবাহিনী: পানি, শিক্ষা ও পুনর্বাসনে ধারাবাহিক উদ্যোগ।

CHT Insiders

পার্বত্য চট্টগ্রামের জনজীবনে সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনীর মানবিক তৎপরতা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রত্যন্ত জনপদে। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি অনুযায়ী স্থানীয় জেলা পরিষদের হাতে মোট ৩০টি বিভাগ ন্যস্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য, সমাজকল্যাণ, যুব উন্নয়নসহ জনজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্র। এর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী সার্কেল চিফ প্রথা ও আঞ্চলিক পরিষদও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় নির্দিষ্ট দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার কথা। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদের মানুষ তাদের নিত্যদিনের মৌলিক চাহিদা মেটাতে এখনো তাকিয়ে থাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দিকে।

খাগড়াছড়ির রেজামনি ও কারিগর পাড়ায় সেনাবাহিনী স্থাপন করেছে বিশুদ্ধ খাবার পানির পয়েন্ট, যা দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগতে থাকা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে। একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে খাগড়াছড়ি সদরের রসূলপুর এলাকায় এবং চিকনচান কার্বারীপাড়ায়, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা দিতে সেনাবাহিনী কাজ করেছে। বান্দরবানের বাকলাই পাড়াতেও বিশুদ্ধ পানির পয়েন্ট স্থাপনের লক্ষ্যে সোলার ব্যাটারি ও পানির ট্যাংক সরবরাহ করেছে সেনাবাহিনী, আর দোপানীছড়া পাড়ায় পানির পাইপ সরবরাহ করে পানির সংকট নিরসনে সহায়তা করেছে।

শুধু পানীয় জলের সংকট নিরসনেই নয়, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনীর ভূমিকা লক্ষণীয়। গুইমারার বাটনাতলী পাড়ার বাটনাতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে, যা প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য পাহাড়ি তরুণদের প্রস্তুত করার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা যেতে পারে। দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনেও সেনাবাহিনী এগিয়ে এসেছে বারবার। রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে নবনির্মিত বসতঘর হস্তান্তর করা হয়েছে, আর গুইমারার তাপ্তা মাস্টার পাড়ায় ভারী বর্ষণে ঘরবাড়ি হারানো পরিবারকে দেওয়া হয়েছে পুনর্নির্মিত বসতঘর।

এই কার্যক্রমগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাহাড়ের উপজাতি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানে জায়গা করে নিয়েছে। সেনাবাহিনীর এসব কার্যক্রম পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি ধারাবাহিক প্রয়াসের অংশ। পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি ও বাঙালি যুবসমাজকে দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে তুলতে এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, শিক্ষা সহায়তা এবং ফুটবলসহ নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নিয়মিত আয়োজন করে চলেছে। সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল দায়িত্বের পাশাপাশি এই ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করাকে অনেকে সেনাবাহিনীর বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেন, বিশেষত যখন প্রশ্ন ওঠে স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্থানীয় জেলা পরিষদের হাতে মোট ৩০টি বিভাগ ন্যস্ত থাকা সত্ত্বেও এবং সার্কেল চিফ ও আঞ্চলিক পরিষদের কাঠামো বিদ্যমান থাকার পরও এসব প্রতিষ্ঠান পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিত্যদিনের প্রয়োজন যেমন বিশুদ্ধ পানি, বসতঘর পুনর্নির্মাণ কিংবা শিক্ষা সহায়তা মেটাতে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে অনেকে মনে করেন। এই শূন্যতা পূরণেই সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক ও প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়ে। যা সেনাবাহিনী নিয়মিত পালন করে যাচ্ছে।




সরকারকে বেকায়দায় পাহাড়ে সায়ত্তশাসনের দাবি জোড়ালো করছে সন্ত্রাসী বাহিনী ইউপিডিএফ।CHT Insiders পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি আর মেঘ...
23/08/2026

সরকারকে বেকায়দায় পাহাড়ে সায়ত্তশাসনের দাবি জোড়ালো করছে সন্ত্রাসী বাহিনী ইউপিডিএফ।

CHT Insiders

পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি আর মেঘের মিতালী যে কাউকেই মুগ্ধ করে। অথচ এই রূপসী পাহাড়ের বুকের গভীরে দীর্ঘদিন ধরে জমে রয়েছে এক ভীতি ও আতঙ্ক, যার পেছনে কাজ করছে অবৈধ অস্ত্রের দাপট আর অস্থিতিশীলতার এক অন্ধকার অধ্যায়। ১৯৯৭ সালের ২-রা ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পুরো দেশ যখন পাহাড়ে শান্তির স্থায়ী সূচনার প্রত্যাশা করছিল, ঠিক তখনই সেই চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে জন্ম নেয় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। ১৯৯৮ সালের ২৬-শে ডিসেম্বরে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পিসিপির সাবেক সভাপতি প্রসীত বিকাশ খীসাকে প্রধান করে আত্মপ্রকাশ ঘটে এই সংগঠনটির। গণতান্ত্রিক অধিকার ও পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের বুলি ছড়িয়ে এটি যাত্রা শুরু করলেও বাস্তবিক অর্থে পথচলার শুরু থেকেই সংগঠনটি বেছে নেয় অসাংবিধানিক ও সশস্ত্র সংঘাতের পথ।

পাহাড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এবং বিশাল সামরিক ব্যয়ের রসদ জোটাতে ইউপিডিএফ শুরু থেকেই গড়ে তোলে চাঁদাবাজির এক বিশাল নেটওয়ার্ক। সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি ব্যবসায়ী, কাঠ-বাঁশ, ঠিকাদার, পরিবহনচালক থেকে শুরু করে দিনমজুর সবাইকেই প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়। এই চাঁদাবাজির বাৎসরিক অংক কোটি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়, যা পরবর্তীতে ব্যবহৃত হয় ভারতে আলিশান জীবন, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনায়।

পাহাড়ি জনগণের অধিকার রক্ষার কথা বলে সংগঠনটি কাজ শুরু করলেও তাদের প্রকৃত সন্ত্রাসী চেহারা উন্মোচিত হয় ২০০১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি, যখন রাঙামাটির নানিয়ারচরে ডেনমার্কের উন্নয়ন সংস্থা ড্যানিডার অর্থে পরিচালিত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের তিন ইউরোপীয় কর্মকর্তা অপহৃত হন। কেমসেক্স ইন্টারন্যাশনাল নামক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রাঙামাটি-মহালছড়ি সড়কের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে তারা এই অপহরণের শিকার হন, যা সে সময় দেশ ও বিদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করার পর প্রায় তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে যে গভীর ষড়যন্ত্র ইউপিডিএফ লুকিয়ে রেখেছিল, সেটি প্রকাশ করে সেনা কর্মকর্তা হত্যার মধ্য দিয়ে। গত ২০০৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর নানিয়ারচর বগাছড়িতে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের শর্ত মোতাবেক শান্তি-সম্প্রতি রক্ষায় এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে গিয়ে ইউপিডিএফ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন নুরুল আলম গাজী।

পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফ কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি ইউপিডিএফের এই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে অন্তত ১৭৪ জন নিরপরাধ বাঙালি ও পাহাড়ি নাগরিককে জীবন দিতে হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও কয়েকশো মানুষ। এছাড়া ২৭৮টিরও বেশি অপহরণের ঘটনায় অন্তত ৩৫০ জন সাধারণ মানুষ তাদের শিকার হয়েছেন।

গত ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল খাগড়াছড়ি সদর থেকে ৫ পাহাড়ি শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে অপহরণ করে ইউপিডিএফ, যা নিয়ে সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামের পাশাপাশি সারাদেশে সমালোচনার ঝড় উঠে৷ নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানে সর্বশেষ উদ্ধার হয় অপহৃত শিক্ষার্থীরা।

একইভাবে গত ২০১৮ সালের ২৩ নভেম্বর দলে যোগ না দেয়ায় রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মিতালী চাকমাকে অপহরণ করে তিন মাস গণধর্ষণ করে ইউপিডিএফ কর্মীরা। নারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানোর অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড মানবাধিকার লঙ্ঘন।

আধিপত্য বিস্তার, চাঁদার পয়েন্ট দখল এবং অস্ত্রের রুট নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিপক্ষ গ্রুপ জেএসএস সন্তু বা অন্যান্য আঞ্চলিক উপ-দলের সাথে এদের একের পর এক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে চলেছে, এখানে শুধু সন্ত্রাসী নিহত নয়, যার বলির পাঁঠা হচ্ছে নিরীহ পথচারী, এমনকি নিষ্পাপ শিশুরাও। পানছড়ির রূপসীর মা, বালাতি ত্রিপুরা ও বাঘাইছড়ির শিশু রোমিও ত্রিপুরাসহ নাম অজানা কত প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বন্দুকের নল।

যেভাবে রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামে সায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়েছিলেন -এম এন লারমা।CHT Insiders সম্প্রতি সামাজি...
23/08/2026

যেভাবে রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামে সায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়েছিলেন -এম এন লারমা।

CHT Insiders

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাজনৈতিক আলোচনা ও কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি প্রশ্ন বারবার উঠে আসছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) কি বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার দিকে এগোচ্ছে? পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একটি কৌশলগত ও সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে “স্বায়ত্তশাসন” ইস্যু, সশস্ত্র তৎপরতা এবং বাঙালি ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা জাতীয় আলোচনায় রয়েছে।

প্রশ্ন হলো কেন কিছু পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠী স্বায়ত্তশাসন চায়, আর কেন তারা সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে? ব্রিটিশ শাসনামলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি বিশেষ শাসন অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ১৯০০ সালের Chittagong Hill Tracts Regulation পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভূমি ও সামাজিক কাঠামো রক্ষায় আলাদা প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেয়। পাকিস্তান আমলেও অঞ্চলটি আংশিক বিশেষ মর্যাদা পায়। তবে সেটা সেই সময়ের জন্য প্রযোজ্য ছিল। বর্তমানে এই অঞ্চল স্বাধীন বাংলাদেশের অংশ। সায়ত্তশাসন কিংবা আলাদা রাষ্ট্রের চিন্তা করাই ভুল ইন্সার্জেন্সী গ্রুপ গুলোর জন্য।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কাছে সরাসরি স্বায়ত্তশাসন দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম তোলা হয় ১৯৭৬–১৯৭৭ সালের দিকে, ঢাকায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের আলোচনায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসেন। এর আগেই পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। পাহাড়ি রাজনৈতিক নেতৃত্ব (বিশেষ করে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ও তাঁর নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি, JSS) তখন দুটি পথে এগোচ্ছিল- ১/ সশস্ত্র তৎপরতা ২/ কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দরকষাকষি। পাহাড়ের ইন্সার্জেন্সী গ্রুপ গুলো মূলত 'পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য একক স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক কাঠামো, ভূমি ও সম্পদের ওপর স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ, আলাদা আইন ও শাসনব্যবস্থা দাবি করেছিল। ফেডারেল ধাঁচের স্বায়ত্তশাসন, যা কার্যত বাংলাদেশের প্রচলিত একক রাষ্ট্র কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার রহমান স্বায়ত্তশাসন বা আলাদা শাসন কাঠামো স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন
তবে তিনি বলেন, উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে জিয়ার সরকার উদ্যোগ নেয় পার্বত্য জেলাগুলোতে উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন জোরদার এবং একদিকে আলোচনা অন্যদিকে সশস্ত্র তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উলেখ্য, ১৯৭২ সালে একই নেতা অর্থ্যাৎ, এম. এন. লারমা- শেখ মুজিবুর রহমানের কাছেও স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলেছিলেন তাও আবার সরাসরি সংসদে৷ দাবি গুলো ছিলো- ১/ পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য বিশেষ মর্যাদা বা উপজাতীয় অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি। ২/ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও নিজস্ব আইন পরিষদ। ৩/ ১৯০০ সালের রেগুলেশন অনুযায়ী শাসনের দাবি।
৪/ বাঙালিদের বসতি স্থাপন বন্ধ করা।

এম এন লারমা ছিলো পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের একজন নেতা। পাহাড়ে ৩০ হাজার বাঙালি হত্যা, গণহত্যা, চাঁদাবাজি ও সেনাবাহিনীর উপর হামলাকারী শান্তিবাহিনী নামক যেই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি আপনারা চিনেন সেটি তার'ই সংগঠন জেএসএস এর সশস্ত্র শাখা। যাই হোক এবার সংঘাতের কারণ বিশ্লেষণ করা যাক। পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, উপেক্ষা, প্রতিক্রিয়া ও সশস্ত্র সংঘাতের ইতিহাস। ১৯৪৭ বিভাজন ও ঐতিহাসিক অসন্তোষ। ভারত–পাকিস্তান বিভাজনের সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম মুসলিম অধ্যুষিত না হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হয়৷

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বড় অংশ এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট ছিল। এখান থেকেই কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রের প্রতি প্রথম আস্থার সংকট তৈরি হয়। আবার অনেকেই বলে থাকেন পাকিস্তান সরকার কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ করে, যার ফলে প্রায় ১ লাখ পাহাড়ি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়,এটাই টার্নিং পয়েন্ট। তবে আমি মনে করি শুধুমাত্র কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে সশস্ত্র হয়নি পাহাড়িদের একটি অংশ। বরং যুগ যুগ ধরে এই অঞ্চলে ছিল অশান্তি, যুদ্ধ, জাতিগত বিদ্ধেস এবং খ্রীষ্টান মিসনারিদের চক্রান্ত। যার ফলে আগে থেকেই পাহাড়িদের ক্ষুদ্র একটি অংশ সশস্ত্র।

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বড় অংশ মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ না নিলেও স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রত্যাশার চোখে দেখে। তবে এই প্রত্যাশা ছিলো সায়ত্তশাসনের প্রত্যাশা। ইংরেজ আমল থেকেই তারা সায়ত্তশাসনের দাবি তুলতে থাকে। ১৯৪৭ এর আগে একবার গিয়েছিল ভারতের কাছে, ৪৭ এর এর পরে গিয়েছে পাকিস্তানের কাছে সায়ত্তশাষনের দাবি তুলতে৷ পরে ১৯৭১ এ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও রাঙামাটিতে ভারতের পতাকা উড়িয়েছিল এম এন লারমার অনুসারিরা। পরে এসে শেখ মুজিব, জেনারেল এরশাদ ও প্রেসিডেন্ট জিয়ার কাছেও সায়ত্তশাসনের দাবি তুলে এম এন লারমা এবং সন্ত লারমা। সম্প্রতি ২০২৫ সালেও সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ এর এর মাইকেল চাকমা এই দাবি তুলেছিল। পরে তীব্র আন্দোলন শুরু হয় পাহাড়ে। বাঙালি সহ সাধারণ উপজাতির নাগরিকগণও মাইকেল চাকমার এই অযৌক্তিক দাবির বিরোধীতা করে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

এম এন লারমা পাশবর্তী একটি দেশের উষ্কানিতে অস্ত্র হাতে পেয়ে শুরু থেকেই পাহাড়িদের ব্রেইন ওয়াস করতে থাকে এই বলে যে- 'বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ বাঙালি, এতে আমাদের জাতিগত পরিচয় হুমকিতে, আমরা এখানে টিকতে পারব না ইত্যাদি'। তিনি শেখ মুজিবকে "বাঙালি জাতীয়তাবাদ" বাদ দিতেও অনুরোধ করেন। ১৯৭৩–১৯৭৫ এম এন লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি রাজনৈতিক দাবির পাশাপাশি সশস্ত্র সংগঠনের কাঠামো তৈরি হতে থাকে।
এর পর পরই জেএসএস এর হাতে ১৯৮৪ সালের ৩০ মে দিবাগত রাতে রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ও আশেপাশে শান্তি বাহিনী নারী ও শিশুসহ ৪ শতাধিক (মতান্তরে সাড়ে ৪০০-এর বেশি) বাঙালিকে হত্যা করে। ১৯৯২ সালের ১০ এপ্রিল খাগড়াছড়ির লোগাং গ্রামে আরেকটি গণহত্যা ঘটে। যেখানে বহু মানুষ প্রাণ হারান। এই সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন অঞ্চলে বাঙালি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর শান্তি বাহিনী হামলা চালায়, যা পরে 'বাঙালি গণহত্যা' নামে পরিচিতি পায়। ১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তির আগ পর্যন্ত এই ধরনের সহিংসতা অব্যাহত ছিল।

21/08/2026

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, রোহিঙ্গারা পরিবেশ ধ্বংস, মাদক চোরাচালানসহ নানা ধরনের অপকর্মে জড়িত।

রোহিঙ্গাদের কারণে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। একইসাথে তিনি উল্লেখ করেন, আল্লাহ যে হিকমা/প্রজ্ঞা আমাদের দিয়েছেন তার বিনিময়ে যেন আমরা দেশের জন্য কাজ করি।

CHT Insiders





20/08/2026

একজন সেনা কর্মকর্তার সালাম ও কিছু কথা

আমি কোনো পক্ষের হয়ে নয়, বরং একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে কিছু কথা বলতে চাই।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ হলেও তা অবশ্যই তথ্য ও বাস্তবতার ওপর দাঁড়ানো উচিত—গুজব, অনুমান কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার ওপর নয়।

৫ আগস্ট ২০২৪ ও পরবর্তী বাস্তবতা

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের পর সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করেনি। বরং সেনাপ্রধান রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বেসামরিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পথ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন। ক্ষমতা গ্রহণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সেনাবাহিনী সেই পথ বেছে না নিয়ে বেসামরিক প্রক্রিয়ার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংকট ও জনসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পুলিশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর ৮ আগস্ট থেকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় বিভিন্ন থানার কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়। ১৮ আগস্ট থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালগুলোতে আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত ও উন্নত জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

পাশাপাশি ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যা ও পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সেনাবাহিনী সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসনকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছে।

কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রসঙ্গে

একটি জাতির ক্রান্তিলগ্নে দেশ ও সেনাপ্রধানকে যারা নেপথ্যে থেকে প্রত্যক্ষ সহায়তা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামস মোহাম্মদ মামুন এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সেলিম আজাদ অন্যতম।

শুধু দক্ষ সমরনায়ক হিসেবে নয়, পদাতিক স্কুলে আমার প্রশিক্ষক ও মেন্টর হিসেবে তাঁদের কাছ থেকে শেখার সৌভাগ্যও আমার হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামস মোহাম্মদ মামুন

শামস স্যার আমার জীবনের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা। বিএমএতে ‘সোর্ড অব অনার’ পাওয়া এই মানুষটি একই সঙ্গে মেধা ও উদারতার এক বিরল প্রতীক। অধীনস্থ ও সহকর্মীদের আপন করে নেওয়ার এক সম্মোহনী ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।

তিনি স্টাফ কলেজে প্রথম হয়ে ইউএসএ থেকেও স্টাফ কলেজ করেন, তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং দেশ-বিদেশ থেকে অর্জিত কৌশলগত জ্ঞান তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ক্লাসরুমে তাঁর প্রজ্ঞা ও দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের প্রতিনিয়ত গন্ডির বাইরে ভাবতে শিখিয়েছে। অত্যন্ত মানবিক শামস স্যারের কাছ থেকে আমি শিখেছি—কীভাবে সৎ লক্ষ্যে অবিচল থেকে নির্ভিকভাবে কাজ করতে হয় এবং সবকিছুতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে হয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সেলিম আজাদ

অন্যদিকে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সেলিম আজাদ স্যার দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে নীরবে গড়ে তুলেছেন অসংখ্য সেনা কর্মকর্তাকে। তাঁর সকল কোর্সে তিনি ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছেন এবং বিদেশ থেকে অর্জন করেছেন উচ্চতর ডিগ্রি।

দেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন প্রশিক্ষক হিসেবে তাঁর অগাধ ধৈর্য, পেশাদারিত্ব এবং শিক্ষার্থীদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনা খুঁজে বের করার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে আমাদের কাছে অভিভাবকতুল্য করে তুলেছে।

# # ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলা

৫ আগস্টের পর দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর সকল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই দুই কর্মকর্তা সেনাপ্রধানের খুব কাছ থেকে ছায়ার মতো সহায়তা করেছেন।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি তাঁদের সেনাপ্রধানের ‘ছায়া’ হিসেবে ট্যাগ, প্রকারান্তরে তাদের প্রশংসাই প্রকাশ কেরেছে। প্রকৃতপক্ষে এটি তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নয়; বরং এক অর্থে তাঁদের দায়িত্ব, দক্ষতা ও অবদানের স্বীকৃতিই প্রকাশ করে।

কারণ, সেনাপ্রধান ওয়াকার স্যারের মতো একজন মানুষের আস্থাভাজন হওয়াকে আমি ব্যক্তিগত অর্জন এবং উন্নত চরিত্র ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি বলেই মনে করি।

কিন্তু ঐ বিতর্কিত ব্যক্তিরা যে রাজনৈতিক ট্যাগিং ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, বিষয়টি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সস্তা গুঞ্জন বা গল্পের বাইরে গিয়ে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি তাঁদের খুব কাছ থেকে দেশপ্রেম, সততা, পেশাদারিত্ব ও মেধার গভীরতা দেখেছি। এই দুই অভিভাবক ও মেন্টরের দেখানো পথই আজ আমার কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি।

শেষ কথা

কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে অবশ্যই তদন্ত হবে এবং আইন অনুযায়ী বিচার হবে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আদালতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।

সেনাপ্রধান কিংবা যেকোনো সামরিক কর্মকর্তার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য নয়; বরং নথি, কমান্ড কাঠামো, দায়িত্ব, কর্মদক্ষতা, পেশাদারিত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং বাস্তব ফলাফলই হওয়া উচিত আসল মাপকাঠি।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা সহজ, কিন্তু জাতির আস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা পুনর্গঠন করা অত্যন্ত কঠিন।

দেশের স্বার্থে সত্য যাচাই করুন। গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখুন।

**জয় হোক সত্যের।
জয় হোক বাংলাদেশের।**

— **একজন পদাতিক সেনা কর্মকর্তা**

Address

Chittagong
4000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when CHT Insiders posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share