26/06/2024
শুনুন এক মহানায়কের গল্প-
বাস্তবের হিরো তো এমন কাউকেই বলে!
★★ছবিতে উল্লাস করা মানুষটা হচ্ছেন আফগানিস্তান ক্রিকেটের প্রথম সুপারস্টার, পুরো আফগানিস্তান ক্রিকেট যার দিকে একটা সময় তাকায় থাকতো।
লোকটা কি দেখে নি জীবনে? যুদ্ধ দেখছে, যুদ্ধের সময় পরিবারের সাথে দেশ ছাড়ছে। ক্যাম্পে, সেখান থেকে পরে পাকিস্তান বসেই ক্রিকেটেই হাতে খড়ি।
বিভিন্ন অঞ্চলের ক্লাবের সাথে ক্রিকেট খেলছে তখন দলের ক্রিকেট সামগ্রী কেনার সামর্থ্য ছিলো না এই ফেজটাও দেখছে।
ডেনমার্কের সাথে পঞ্চম ডিভিশনে ম্যাচ খেলছে। ফিজি, ইরান খুব কম দলই বাকি আছে তার খেলার। প্রায় ৪৫ দলের সাথে জয়ে সে দলের অংশ ছিলো। ডিভিশন পাচঁ, চার, তিন এভাবে করে আস্তে আস্তে বিশ্বকাপে খেলছে এক যুগেরও আগে। আফগানিস্তান ক্রিকেট আজকে চারা থেকে যে গাছ হয়েছে তার পুরোটার সাক্ষী, সারথী এই মোহম্মদ নবী।
একটু পরিচিতি পাওয়ার পর ফ্রানচাইজি ক্রিকেটে ডাক পাওয়া শুরু করেন। আফগানিস্তানের ফেস, পোস্টার বয় সবটাই নবী তখন। তারপরও তার মধ্যে কোনো ঔদ্ধত্যপূর্ন মনোভাব আসে না।
দেশের ক্রিকেটকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে অনুমতির তোয়াক্কা না করে ফ্রানচাইজি ক্রিকেট খেলতে যান নি কখনোই। গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ বাদ দিয়ে ফ্রানচাইজি ক্রিকেট খেলার জন্য মিডিয়া ডেকে নাটকের পসরাও সাজান নি। যখন দলের সিরিজ ছিলো সবসময় সবার আগে নবী উপস্থিত।
দেশের ক্রিকেটের এত বড় নাম হয়েও কখনো বিতর্কে জান নি মাঠ এবং মাঠের বাইরে। শেয়ার বাজার, মানব পাচার, জুয়া আরও নানারকমের ঠকবাজি- বাটপারিতে তার নামটা শোনা যায় নি আফগানিস্তানে কখনো। ক্রিকেটার হিসাবেও আচারন বা কাজের জন্য কখনো আইসিসির ডাক পান নি।
বিশাল বড় ক্রিকেটার না হতে পারলেও Dignity এর সাথে খেলাটা রিপ্রেজেন্ট করার চেষ্টা করছেন। ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়াতে তার আচরন বা কর্মকান্ডের জন্য বাজেভাবে শিরোনাম হন নি।
দেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেটার। আগে যখন আফগান তরুন প্লেয়ারারে বিপিএল বা সিপিএলে আসতেন তাদের আগলায় রাখতেন।
অধিনায়ক হইছেন, অধিনায়কত্ব হারায়ছেনও, কখনও সেটা জুনিয়রের কাছে, কখনো তারই বয়সী কোনো সতীর্থের কাছে।
না এসবের জন্য কখনো আক্ষেপ করেন নি। ড্রয়িং রুমের নাটক সাজান নি, মিডিয়াতে এসে সতীর্থের নামে উপহাস করে যা তা এগুলোও বলেন নি। উল্টা নিজের সেরাটা দিয়ে, অধিনায়ককে পরমার্শ দিয়ে তাকে সাহায্য করতেন। সব সিরিজ খেলার চেষ্টা করতেন।
২০১৯ এর দিক রশিদ, আসগর, সিমন্স এদের মধ্যে অধিনায়কত্ব নিয়ে যে গোলমালটা হলো, তখনও সামনে এসে রশিদ খানকে সাপোর্ট করছেন।
মিডিয়াতে এসে সতীর্থদের ছোট করার নগ্ন মানসিকতা তিনি দেখান নি।
এখন তো বয়স হইছে। আগের মতো পারফর্ম করতে পারেন না। বেশির ভাগ সময়ই খারাপ করেন। তবে খারাপ খেলে বেহায়ার মতো ডাগআউট বসে দাঁত গুলো বের করে মজা করতে দেখা যায় না। খারাপ করলে শান্ত থাকেন, চুপ থাকেন, হতাশ থাকেন। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে বেশরম, নিলর্জ্জতা,বেহায়াভাবটা একদমই প্রকাশ করেন না।
বাংলাদেশের সাথে ম্যাচ হারার পর বলে দেন আমরা একটা ম্যাচ খেলতে আসে নি, আমরা সেমি ফাইনাল খেলতে এসেছি। পরে সেই সেমিফাইনালের জন্য ফাইট করেন। সেমি খেলতে না পারার হতাশা ব্যক্ত করেন।
লুজার কিংবদন্তী হয়ে মিডিয়াতে ইতিহাস পাঠ পড়াতে আসেন না। এসে বলেন না আমরা তো ২ টা ম্যাচ জিতি বিশ্বকাপে। আবার সুপার এইটে উঠার বা তিনটা ম্যাচ জয় করে ফেলার ঢেকুরও তোলেন না।
হয়তো সংখ্যা অনুযায়ী তাকে আপনার গ্রেট অলরাউন্ডারের মর্যাদা দিতে আপত্তি থাকবে। কিন্ত তার এই গ্রেট ক্রিকেট জার্নিটারে অস্বীকার কিভাবে করবেন?
পঞ্চম ডিভিশন থেকে খেলা শুরুর থেকে বিশ্বকাপের সেমি এই জার্নিটার জন্য বাহবা, অভিনন্দন বা ক্রিকেট ক্যারিয়ার তার আয়ুটা আরও বাড়ুক এগুলো মন থেকেই আসবে।
অভিনন্দন এবং শুভকামনা মোহম্মদ নবী।