22/08/2026
১. সমাবেশের অনুমতি পাওয়া মুক্তাঙ্গন থেকে সমাবেশ শুরু হওয়ার মাত্র ২ ঘণ্টা আগে কেন পুলিশকে না জানিয়ে কার অনুমতিতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে নিয়ে যাওয়া হলো?
একজন নেত্রী আসবেন, দলের সব বড় বড় নেতারা উপস্থিত থাকবেন, সেই সমাবেশে পুলিশকে না বলে তারা নিজেরা কেন হঠাৎ স্থান পরিবর্তন করলেন?
২. ৪ দিন আগে পুলিশের অনুমতি পাওয়ার পরও কেন স্টেজ না বানিয়ে ট্রাকের ওপর থেকে বক্তব্য দেওয়া হলো?
৩. শেখ হাসিনার বক্তব্যের সময় শেখ হাসিনার চারপাশে ঘেঁষাঘেঁষি করে কেন নেতারা ঘিরে ধরেছিলেন সেদিন? যা শেখ হাসিনার অন্য সমাবেশে দেখা যায় না। এমন ঘেঁষাঘেঁষি সমাবেশে শেখ হাসিনার এটাই প্রথম ছিল।
৪. শেখ হাসিনা অন্য সময় বক্তব্য দিলে আগে স্বজন হারানোর বেদনা, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের কথা বলে শুরু করেন। কিন্তু সেদিন এসব কিছুই বলেননি। সেদিন শেখ হাসিনার ১৮ মিনিটের বক্তব্য ছিল একদম অগোছালো, যেন তিনি কিছু একটার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বক্তব্য ছিল জাস্ট লোকদেখানো। সেদিন মাত্র ১৮ মিনিট বক্তব্য রেখেছিলেন শেখ হাসিনা, যা তাঁর স্মরণকালের সবচেয়ে কম সময়ের বক্তব্য ছিল।
৫. সেদিন হামলাকারীরা হাসিনার প্রতি এতটাই দয়ালু ছিল, শেখ হাসিনা কখন বক্তব্য শেষ করেন, সেটার জন্য তারা অপেক্ষা করছিল। শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই কেন গ্রেনেড মারা হলো? হামলাকারীদের যদি হাসিনাকে হত্যা করার উদ্দেশ্য থাকত, তাহলে বক্তব্য শুরু হওয়ার পর সব গ্রেনেড স্টেজে মারত। সেদিন ২১টার ওপরে গ্রেনেড মারলেও স্টেজের পাশের ২টি গ্রেনেড কেন ব্লাস্ট হলো না?
৬. কেন সেদিন ২৪ জনের মধ্যে আইভি রহমান ছাড়া আর কোনো কেন্দ্রীয় নেতা মারা গেলেন না?
৭. কেন সেদিন আইভি রহমানকে বলির পাঁঠা বানালেন শেখ হাসিনা?
মতিউর রহমান রেন্টু তাঁর বইয়ে লিখেছেন, ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর জিল্লুর রহমান তাঁর স্ত্রী আইভি রহমানকে নিয়ে শেখ হাসিনাকে দেখতে গিয়েছিলেন। আইভি রহমানকে দেখে শেখ হাসিনা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন। সেদিন হাসিনা আইভি রহমানকে বলেন, আমার মাকে একদিনও শান্তিতে থাকতে দেননি, এখন আমাকে দেখতে কেন এসেছেন? তখন জিল্লুর রহমান আইভি রহমানকে চলে যেতে বললে, আইভি রহমান সেখান থেকে চলে যান।
মূল ঘটনা, শেখ হাসিনার মা ফজিলাতুন্নেছা আইভি রহমানকে শেখ মুজিবের সাথে সন্দেহ করতেন। শেখ মুজিবের সব সময় আইভি রহমানের প্রতি একটা দুর্বলতা ছিল। অনেকে বলেন, আইভি রহমানকে খুশি করতে শেখ মুজিব ১৯৬৯ সালে যুব মহিলা লীগ নামের আওয়ামী লীগের শাখা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
৮. গ্রেনেড মারার পর শেখ হাসিনা স্টেজ থেকে হেঁটে হেঁটে অনেক দূরে গিয়ে গাড়িতে উঠেছেন। তখন শেখ হাসিনাকে আর কোনো গ্রেনেড কেন মারল না? আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, গ্রেনেড না মারলেও গাড়িতে গুলি করেছে। কিন্তু গাড়িতে ১২টি গুলি করলেও ১টি গুলিও কেন শেখ হাসিনার গায়ে লাগল না?
৯. সেদিন গাড়িতে যেগুলো গুলির দাগ ছিল, সেগুলো দেখলে বোঝা যায় গুলি ভেতরে ঢুকেছে। কিন্তু মার্সিডিজ বেঞ্জের গাড়ির মডেল অনুযায়ী গুলি ভেতরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই ঘটনার পর মার্সিডিজ গাড়ির কোম্পানি এবং এফবিআই শেখ হাসিনাকে চ্যালেঞ্জ জানালে আদালত যখন তদন্তের জন্য গাড়িটি জব্দ করার আদেশ দেন, তখন শেখ হাসিনা গাড়িটি পুড়িয়ে ফেলেন। তাহলে সেদিন গাড়ি কেন পুড়িয়ে ফেললেন শেখ হাসিনা? ভিডিওতে দেখা যায়, হাসিনাকে নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়িতে কোনো গুলির দাগ ছিল না। তাহলে গাড়িটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর গুলির দাগ কীভাবে এল?
আরও শত শত প্রশ্ন আছে ২১ আগস্টের ঘটনা নিয়ে, যেগুলোর কোনটার সঠিক উত্তর আওয়ামী লীগ দিতে পারেনি।
তথ্য ইলিয়াস হোসেনের ভিডিও থেকে নেওয়া।
#২১আগষ্টগ্রেনেডহামলা #শেখহাসিনা