27/01/2026
'এই জানোয়ারের! ফাঁ/সি হওয়া উচিত' - নিউজটা সামনে পড়ার পর মুখ থেকে বাক্যটা অটোমেটিক্যালি বেরিয়েছিলো।
নাম রায়হান কবির ইমন। স্বামী স্ত্রী দুজনেই টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক। বহু বছরের প্রেমের সম্পর্ক অতঃপর বিয়ে। কোন কিছুর অভাব নেই। আশেপাশের মানুষের কাছে তাঁরা আদর্শ দম্পতী।
অথচ এই জানোয়ারটাকে - হাসপাতালের বাথরুমে একাধিক গোপন পেন ক্যামেরা বসিয়ে, সিনিয়র/জুনিয়র নারী চিকিৎসক ও সহকর্মীদের নগ্ন ভিডিও ধারণের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
শুধু তাই নয় বিভিন্ন সময়ে মেডিক্যাল পড়ুয়া নারীদেরকে ব্যাড টাচ করতো বলে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
আজকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর মুখোমুখি হলে সে -
৭-৮ জন নারী চিকিৎসকের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ স্বীকার করে। কিন্তু মনে হয় না সংখ্যাটা এত কম। মোটেও নয়।
কিন্তু পৃথিবীতে ডাক্তার দ্বারা ঘটে যাওয়া এমন বিকৃত ঘটনা পূর্বেও কী কখনও ঘটেছে?
বাংলাদেশে কখনও ঘটেনি বা প্রকাশ হয়নি এটা সিওর। একটু ঘাটাঘাটি করতেই বেরিয়ে এলো পৃথিবীতে অসংখ্য ঘটনা।
১) অস্ট্রেলিয়ার রয়াল মেলবোর্ণ হাসপাতালের একজন জুনিয়র ডাক্তারকে গ্রেফতার করা হয়, হাসপাতালের ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর দায়ে। উদ্ধার করা হয়, ১০,০০০ ভিডিও ফাইলস, ভিক্টিম সংখ্যা প্রায় ৪৬০ জন নারী চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিক্স। (গত বছরের ঘটনা)
৪৬০জন ভিক্টিম! সংখ্যাটা দেখে রীতিমতো মাথা ঘুরাচ্ছে না? তাহলে রায়হান কবিরের ভিক্টিম মাত্র ৭-৮ জন নারী?
২) আমেরিকার ওহিওর ঘটনা। ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক এডভেইট দেশমুখকে গোপন ক্যামেরা রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। (১৪ জানুয়ারী ২০২৬ এর ঘটনা)
এরকম শত শত ঘটনা ঘটেছে পুরো পৃথিবীতে। কখনও পুরুষ চিকিৎসক, কখনও পুরুষ নার্সরা হাসপাতালের বাথরুমে গোপন ক্যামেরা বসিয়ে সহকর্মী, রোগীদের গোপন ভিডিও ধারণ করার মতো ন্যাক্কার জনক ঘটনার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে।
বিদেশী ভাষায় দেখলাম এদেরকে Vo**ur বলে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে বলা হয় Vo**urism।
যে ব্যক্তি অন্যের অজান্তে তাদের নগ্নতা/ব্যক্তিগত মুহূর্ত দেখে বা রেকর্ড করে যৌন তৃপ্তির জন্য এদেরকে Vo**ur বলে। Vo**uristic Disorder এটাকে মানসিক রোগ হিসেবে বলা হচ্ছে।
কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, এটা যদি মানসিক রোগ হয় -
সে পর্ণ সাইটে যাবে। কোটি কোটি পর্ণ রয়েছে। তুই কেন তোর কর্মস্থলের ক্লাসমেট, শিক্ষিকা, সিনিয়র, জুনিয়রদের নগ্ন দেহ রেকর্ড করে দেখবি?
তোর রেকর্ড করার ইচ্ছে হলে মা-বোন রেকর্ড করে দেখ! শুয়োরের বাচ্চা!
এখানে শুধুমাত্র বিকৃত মানসিকতাই নয়। থাকতে পারে আরও ভয়ঙ্কর কিছু। সেটা হতে পারে, এসব ফুটেজ বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেল/পর্ণ সাইটে বিক্রি। সেটি প্রশাসন আশা করি তদন্ত করে বের করবে।
ওর স্ত্রীর সাথে ওর অন্তত ৫ বছরের বেশী রিলেশন এবং অতঃপর বিয়ে। হ্যাপি এন্ডিং...ওর স্ত্রী নাকি নগ্নভাবে স্বামীকে শুরু থেকে সাপোর্ট করেই যাচ্ছিলো। কিন্তু কিছুক্ষণ আগে সে পোস্ট করেছে: এই ফকিরের বাচ্চার সাথে আমার পরিবার বিয়ে দিতে চায় নি। ওর মতো ভালো মানুষকে বিয়ে করার জন্য পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়েছি। অথচ আমাকে এমন একটি পজিশনে ফেলে দিলো, আমার জীবনটা ধ্বংস করে দিলো।
আমি মেয়েটিকে দোষ দিবো না। যেকোন স্ত্রীই স্বামীকে প্রমাণ না হওয়ার আগ পর্যন্ত ডিফেন্ড করবে স্বাভাবিক। কিন্তু দেখার বিষয় হলো: ওর স্বামীর স্বীকারোক্তির পর কী স্বামীকে ডিফেন্ড করেছিলো? যদি করে না থাকে। তাহলে তাকে আমরা বাজে না বলি। এক্ষেত্রে মেয়েটি নিজেও ভিক্টিম।
সবশেষে যেটা বলতে চাই -
প* আসক্ত! আমাদের সমাজটা প্রায় শেষ।
এখানে এমনও সন্তানকে আমরা দেখেছি যারা মা-বোনের-পরিজনের ঘুমন্ত অবস্থায় অপ্রীতিকর ছবি তুলে টেলিগ্রামে বেঁচে দেয়।
আমরা এমনও দেখেছি যেখানে বয়ফ্রেন্ড/স্বামী স্ত্রীর গোপন ছবি/ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে মান্থলি সাবস্ক্রিপশনের কাছে বিক্রি করে দেয়।
আমরা এমনও দেখেছি রাস্তাঘাটে, মার্কেটে - নারী/শিশুদের প্রাইভেট পার্টকে জুম করে রেকর্ড করে সেসব ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ছেড়ে দিতে।
আমরা এমনও দেখেছি -
বিভিন্ন শোরুমের ট্রায়াল রুম, হোটেল, রেস্তোরার বাথরুমে গোপন ক্যামেরা বসিয়ে নারীদের ভিডিও ধারণ করতে।
আমরা এসব বিকৃত মানসিকতার মানুষদেরকে এই সমাজে দেখতে চাই না। আমরা চাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। মৃত্যুদণ্ডও সত্যি বলতে এসব মানুষের জন্য কম হয়ে যায়।
আমার লেখা ইদানিং দেখি মাঝেমধ্যে 'কোটি খানেক' মানুষ পড়ে থাকে। তাই লেখার দায়বদ্ধতা থেকে আমার অনুরোধ রইবে মা বোনদের প্রতি - আপনারা সতর্ক হোন।
যেকোন স্থানের ওয়াশরুম: হতে পারে আবাসিক হোটেল, রেস্তোরা, শপিং মলের ওয়াশরুম ব্যবহার করার আগে একটু ভালোভাবে যাচাই বাছাই করে নিবেন। শোরুমের ট্রায়াল রুম ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকবেন।
ইদানিং কিছু আধুনিক ডিভাইস পাওয়া যায়।
যার মাধ্যমে আপনারা ওয়াশরুম/ট্রায়াল রুম/আবাসিক হোটেলের কোথাও গোপন ক্যামেরা রয়েছে কীনা এটি জানা যায়। সম্ভব হলে কিনে ফেলুন।
কী করবেন? আপনারা মেয়ে হয়ে জন্মেছেন। যতই শকুনের চোখ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন না কেন! শকুনের চোখ কোন না কোনভাবে পড়বেই। তাই সতর্কতার কোন বিকল্প নেই।
আমি আমার জীবনে যত ডাক্তার পেয়েছি। তাঁরা অত্যন্ত আন্তরিক ও অমায়িক মানুষজন। তারপরেও মাঝেমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কুলাঙ্গার ডাক্তারদেরকে দেখি। তাদের মধ্যে এই রায়হান কবির সবচেয়ে জঘন্য! সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
রায়হান কবিরকে উত্তম মাধ্যম দিয়ে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আপনারা শিশু সাহিত্যিক টিপু কিবরিয়ার নাম শুনেছেন?
তযে পথশিশুদেরকে দিয়ে ন//গ্ন ভিডিও বানিয়ে দেশে-বিদেশে বিক্রি করতো? সে ২০১৪ সালে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন জেল খাটার পর ২০২১ সালে মুক্ত হয়। তারপর আবার সেই একই পেশায় জড়িয়ে পড়ে এবং অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেলের নজরে এলে তাঁরা অভিযোগ জানায়। পুনরায় গ্রেফতার হয়। আমি শঙ্কিত! রায়হানের বেলাতেও এমন ঘটনাই ঘটবে।
আমি রায়হান কবিরের ভয়ঙ্কর শাস্তি কামনা করছি। সে যেন কখনও জেলখানার বাইরে বেরোতে না পারে। সে যেন কখনও আর চিকিৎসক হিসেবে প্রাক্টিস করতে না পারে।
তার কাছে থাকা প্রতিটি ফুটেজ সংগ্রহ করে চিরতরে ডিলিট করার মাধ্যমে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ট্রমাটাইজ নারী চিকিৎসকদের মন থেকে ভয় ও শঙ্কা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
✍ অন্তর মাশঊদ