01/10/2026
অপরাধ দমনের নামে আগে কথিত ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’-এর প্রচলন ছিল দেশে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে পটপরিবর্তনের পর সেই ‘ক্রসফায়ার’ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। কিন্তু ওই সময় অপরাধীরা আতঙ্কে থাকত ‘ক্রসফায়ার’-এর ভয়ে। যদিও সেটি বিতর্কিত ছিল। তখন যেসব ঘটনা ঘটেছিল, সবগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে দেশে অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেছে। অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এখন আগের মতো ভয় পাচ্ছে না। সাধারণ মানুষও আস্থায় নিতে পারছে না পুলিশকে। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে ঘটছে একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনা। এসব সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থার পরিবেশ তৈরি না হলে অস্থিরতা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে।
মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মর্নিং মিটিংয়ে (সভা) পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এ মত দেন। তারা বিরাজমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শক্ত হাতে অপরাধ দমনের প্রস্তাব করেন। প্রয়োজনে অপরাধীদের ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ডিটেনশনে নেওয়ার কথা বলেন। তারা নিজেদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করে গোটা বাহিনীকে স্ট্রিমলাইনিং (সুসংগঠিত) করা জরুরি বলে মত দেন। কর্মকর্তারা বলেন, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আসামিরা আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে জামিন পাচ্ছে।
মাদকের বিস্তার রোধে সভায় অতিরিক্ত আইজিপিকে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি করার পরামর্শও দেওয়া হয়। এছাড়া মাঠপর্যায়ের পুলিশিং জোরদার করা এবং পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রতি জোর দেওয়া হয়।
পুলিশের গোপনীয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। এ সময় সব অতিরিক্ত আইজিপি, বিভিন্ন ইউনিটপ্রধান, ডিআইজি (ক্রাইম) এবং ডিআইজি (প্রশাসন)সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।