Noymi Laha Noyu

Noymi Laha Noyu _কল্পনার রং, তুলিতে উপস্থাপন_😌📖🕊️

24/03/2026

🙂

 #মোহজাল  #পর্ব_০৫  সন্ধ্যার আলোটা ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছিল। পশ্চিম আকাশে সূর্য ডুবতে ডুবতে চারপাশে ছড়িয়ে দিয়েছিল হাল...
22/03/2026

#মোহজাল
#পর্ব_০৫


সন্ধ্যার আলোটা ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছিল। পশ্চিম আকাশে সূর্য ডুবতে ডুবতে চারপাশে ছড়িয়ে দিয়েছিল হালকা কমলা আর বেগুনি রঙের এক অপূর্ব মিশেল। বাতাসে ছিল দিনের ক্লান্তি ঝরানোর এক অদ্ভুত প্রশান্তি—গাছের পাতাগুলো হালকা দুলছিল, দূরে কোথাও পাখিরা শেষবারের মতো ডাক দিয়ে নিজেদের বাসায় ফিরছিল।

হঠাৎ করেই রিক্সাটা ধীরে ধীরে থেমে গেল।

ইয়ান মাথা তুলে তাকাতেই দেখতে পেল বিশাল এক গেট—অন্ধকার পুরোপুরি নামেনি, তবুও স্পষ্ট বোঝা যায় এর ব্যাপ্তি আর গাম্ভীর্য। গেটের উপরে বড় করে লেখা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নামটা ল্যাম্পপোস্টের আলোয় আধো-আধো ঝলমল করছে।

সে পকেট থেকে টাকা বের করে ভাড়া মিটিয়ে দিল। রিক্সাওয়ালা ধীরে ধীরে চলে যেতেই ইয়ান কিছুক্ষণ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে রইল—

চল আর দাঁড়িয়ে থাকিস না__ নিলয়

বড় গেট পেরিয়ে তারা ভেতরে ঢুকতেই পরিবেশটা যেন আরও বদলে গেল। সন্ধ্যার কারণে সব কিছু পুরোপুরি স্পষ্ট দেখা না গেলেও চারপাশের বিশালতা অনুভব করা যাচ্ছিল। দূরে কোথাও হলের দিক থেকে ভেসে আসছে ছাত্রদের কথাবার্তার শব্দ, আবার কোথাও নিস্তব্ধতা এতটাই ঘন যে নিজের পায়ের আওয়াজও স্পষ্ট শোনা যায়।

গাছপালায় ঘেরা প্রশস্ত রাস্তা, মাঝে মাঝে হলুদ আলোয় আলোকিত পথ—সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যেন এক আলাদা জগৎ। শহরের ব্যস্ততা থেকে অনেক দূরে, নিজের মতো করে বেঁচে থাকা এক নিঃশব্দ রাজ্য।

ইয়ান ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে গেল। অচেনা এই জায়গাটাকে নিজের করে নেওয়ার এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছিল তার ভেতরে—হালকা ভয়, একটু কৌতূহল,।

নিলয় হাতের ইশারা দেখিয়ে বললো —“ওই সামনে অফিস বিল্ডিং, আগে ওখানে যোগাযোগ করতে হবে।”

ইয়ান ধীরে ধীরে প্রশাসনিক ভবনের দিকে এগিয়ে গেল। ভেতরে ঢুকে সে একটু ইতস্তত করছিলো— তখন ই নিলয় তাকে আশ্বস্ত করলো ।

ভয় পাস না দারা আমি কথা বলছি আমি যখন এইখানে হোস্টেল এর জন্য এসেছিলাম তোর মতো ভয় পেয়েছিলাম তবে বাবা ছিলো তাই ভয় এতটা লাগে নি ।

তখন ই ইয়ান এর তার বাবা মায়ের কথা মনে পড়লো ঠিক করলো রুমে গিয়ে কল দিবে ।

কিছুক্ষণ পর একজন বয়স্ক লোক এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলো কি চাই ?

ইয়ান বললো স্যার, আমি নতুন ভর্তি হয়েছি… হোস্টেলে উঠতে চাই।”

অফিসে বসে থাকা কর্মকর্তা চশমার ফাঁক দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। “ভর্তি রসিদ, আইডি কার্ড বা কাগজপত্র আছে?”
ইয়ান দ্রুত ব্যাগ থেকে তার কাগজগুলো বের করে দিল।

কাগজপত্র দেখে কর্মকর্তা বললেন, “ঠিক আছে, তোমাকে একটা আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। তারপর নির্দিষ্ট হলের অফিসে গিয়ে জমা দেবে। সিট খালি থাকলে আজই ব্যবস্থা হয়ে যাবে, নাহলে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।”

ফর্ম হাতে নিয়ে ইয়ান এক কোণে গিয়ে বসলো। নিজের নাম, বিভাগ, রোল নম্বর—
ফর্ম পূরণ শেষ করে তারা নির্দিষ্ট হলের দিকে রওনা দিল। হলের সামনে পৌঁছে দেখলো, কিছু সিনিয়র ভাই দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে।

অফিস রুমে ঢুকে ইয়ান ফর্ম জমা দিল। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর তাকে একটি রুম নম্বর দেওয়া হলো। চাবিটা হাতে পাওয়ার মুহূর্তে নিলয় খুশিতে প্রায় চিৎকার দিয়ে উঠলো উৎসাহিত হয়ে বললো আরে এটা তো আমার রুম নাম্বার ।এখনো দুই জন রুম মেট আসে নি তার মানে তাদের মধ্যে তুই একজন

বাহ্ মাজা আহ্ গেয়া—

সে ইয়ান এর কাধ থেকে ব্যাগ নিয়ে হাটা ধরলো রুমের দিকে

রুমে ঢুকে সে দেখলো, দু’জন রুমমেট তন্ময় ,হিমেল ইতিমধ্যে আছে । তারা হাসিমুখে তাকে স্বাগত জানালো। ইয়ান বললো যা ফ্রেশ হয়ে আর আজ আর তোকে রান্না করে খেতে হবে না। অনেক দূর থেকে এসেছিস যা আছে চারজন ভাগ করে খেয়ে নিবো ।
ইয়ান হালকা হেসে ব্যাগ থেকে কাপড় নিয়ে চলে গেল ওয়াশ রুমে।

চলবে..?

( ব্যস্ততার কারনে বড় পর্ব লিখতে পারি নি তার জন্য দুঃখিত 🙂)

I am so lucky 🥹 after 3 years 🫶🖤
21/03/2026

I am so lucky 🥹 after 3 years 🫶🖤

 #বিধবা #অনুগল্প  বিধবা হয়ে মাছ খাচ্ছ ?ছি ছি ছি! কি অলক্ষুনে       কান্ড!  সবে মাত্র ভাত মুখে দেওয়ার জন্য তুলেছিলো মোহ...
20/03/2026

#বিধবা
#অনুগল্প


বিধবা হয়ে মাছ খাচ্ছ ?ছি ছি ছি! কি অলক্ষুনে কান্ড!

সবে মাত্র ভাত মুখে দেওয়ার জন্য তুলেছিলো মোহিনী নিজের পিসি শুশুড়ির মুখে এমন কথা শুনে তার হাত মাঝপথেই থেকে গেল ।সে বিস্ময় নিয়ে বড় বড় চোখে তাকালো তার পিসি শাশুড়ির দিকে।

ততক্ষণে তিনি হুলুস্থুল বাঁধিয়ে বাড়ি মাথায় তুলে ফেলেছেন। অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করতে ও ভুলছেন না।

মাথায় হাত দিয়ে হায় হায় করে বললো। আমার সরেশ মরলো ১ মাস পেড়োতে না পেড়োতেই এই মুখপুরি মাছ খাচ্ছে!
আমার ছেলের সর্বনাশ করে দিলো গো ! আমার ছেলে স্বর্গে যাবে কীভাবে? মরে ও শান্তি পাবে না আমার ছেলেটা। বলে কান্না জুড়ে দিলেন।

মোহিনী ভেবে পেলে না তার মাছ খাওয়ার সাথে তার স্বামীর স্বর্গে যাওয়ার সম্পর্ক কোথায়।
ততক্ষনে বাড়ির সবাই উঠানে জড়ো হলো । লজ্জা, অপমান আর বিস্ময়ে তার আর খাওয়া হলো না। ধীরে ধীরে সে উঠে এলো পাত থেকে।

তার শুশুর ইশ্বররায় গলা উঁচিয়ে বললো কি হয়েছে? এত হুলুস্থুল কিসের !

তখন ই মোহনীর পিসি শাশুড়ি ললিতা এসে মুখ ঝামটা মেরে বললো ।তোর ছেলের বউ মাছ খাচ্ছে বিধবা হয়ে
__দেখ দেখ কি কান্ড ঘটিয়েছে এই মেয়ে । তার চোখ মুখে তিক্ততা ।

ঈশ্বররায় তাকালেন তার পুত্র বধুর দিকে সাদা শাড়ি পরা, ঘোমটা টানা সেই কিশোরী মেয়েটা স্থির দৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।

কতই বাহ্ বয়স হবে ? ১৬ কিংবা ১৭ এই বয়সেই মেয়েটা স্বামী হারা হলো ‌।

মোহিনী কে সে ছেলের বউ কম মেয়েই বেশী মনে করে ।
কি বলবেন এখন মেয়েকে! সে নিজেই তো পছন্দ করে তার ছেলে সরেশ এর জন্য মোহিনী কে পছন্দ করেছিলো । কিন্তু কে জানতো বিয়ের ছয় মাসের মাথায় বিধবা হতে হবে?

সরেশ এর বয়স যখন ১৯ তখন ই তার মা চিত্রা মারা যায়। চিত্রা মারা যাওয়ার পর ঈশ্বররায় আর বিয়ে করেননি সরেশ ,এবং তার ছোট বোন রজনীকে নিজে বড় করেছেন। রজনীর বিয়ে হয়েছে আজকে চার বছর একটা সন্তান ও আছে।

ললিতা তার বড় বোন বিয়ের ১ বছরের মাথায় অন্তঃস্বত্ত্বা থাকা অবস্থায় ললিতার স্বামী মারা যায় কলেরায় আক্রান্ত হয়ে তখন শশুর, শাশুড়ি তাকে অলক্ষি বলে কম নির্যাতন করে নি ! তাই ইশ্বররায় তাকে নিয়ে এসেছিলেন পরে তার দুই জমজ ছেলে হয় সুমন আর রাজন তাদের ও তিনি নিজ সন্তান এর মতোই বড় করেছেন ।

এই কি করলে তুমি মোহিনী বিবাদের আমিষ খাওয়া পাপ ! তুমি এত বড় পাপ করতে যাচ্ছিলে !

সুনম এর বউ জয়ার কথা শুনে ইশ্বররায় এর ধ্যান ভাঙলো তিনি কিছু বলার আগেই।

মোহিনী মাথার ঘোমটা টিক করে বললো কোন শাস্ত্রে লেখা আছে দিদি যে বিধবা মাছ খাওয়া পাপ..? কোন শাস্ত্র বলে বিধবা আমিষ খেতে পারবে না? এমন কোন শাস্ত্র আছে বলে তো আমার মনে হয় না।

তার এমন কথায় সকলের মাঝে যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত ঘটলো ।

ললিতা এগিয়ে এসে বললো দেখলে দাদা আমি তোমাকে আগেই বলেছিলাম এই মেয়ে একটা অলক্ষী। প্রথমে ছেলেটাকে খেয়েছে এখন এই বাড়ির সকলকের উপর পাপের বোঝা চাপাতে চাইতে । কোন অলুক্ষনে তুমি এই মেয়েকে বাড়ির বউ করেছিলে কে জানে!

মোহিনীর দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো এই মেয়ে পাপ করে এখন এত চেটাং চেটাং কথা বের হয় কীভাবে তোমার ? মুখ থেকে লজ্জা শরম সব কি বিসর্জন দিয়েছো.?

মোহিনী ললিতার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো কেন লজ্জা শরম লাগবে পিসি? লজ্জা শরম পাওয়ার মতো কাজ তো আমি করি নি। আপনারা এই এক মাস ধরে আমার উপর যে নির্যাতন করেছেন তার জন্য আপনাদের লজ্জা শরম পাওয়ার উচিত । আপনারা যখন পাচ্ছেন না আমি কেন পাবো ।এতদিন আমি অনেক সহ্য করেছি কিন্তু আর পারছি না।

চারপাশে নিস্তব্ধতা নেমে এলো।

সে আবার বলতে শুরু করল,

—“আমি জানি, আপনি আমার স্বামীকে নিজের ছেলের মতো ভালোবাসতেন। তার মৃত্যুতে আপনার কষ্ট হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন—সে আমার স্বামী ছিল। আমার কষ্ট কি কম?”

তার কণ্ঠ কেঁপে উঠল, কিন্তু থামল না—

—“স্বামী মারা গেছে বলে আপনারা আমার শখের চুল কেটে দিয়েছেন, রঙিন কাপড় কেড়ে নিয়ে রংহীন কাপড় পরিয়েছেন, ঠান্ডা মাটিতে শুতে বাধ্য করেছেন। দিনে একবার খাবার দিয়েছেন —তাও ভাত আর নুন, নয়তো সামান্য ফল!এখন যদি আমি মারা যেতাম আমার স্বামীর সাথে ও কি এমন করতেন ..?

মোহিনীর এমন প্রশ্নে সকলে নিশ্চুপ হয়ে গেল কি জবাব দেবে ভেবে পেলো না ।

“এই সমাজের নিয়মগুলো যেন এক অদৃশ্য শিকল—যার প্রতিটি কড়া কেবল নারীদের হাত-পা জড়িয়ে ধরে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, কত শত বিধিনিষেধ, কত অলিখিত আইন—সবই যেন শুধু মেয়েদের জন্য। তারা কী খাবে, কী পরবে, কখন হাসবে, কখন কাঁদবে—সবকিছুর ওপরেই সমাজের কড়া নজর ।

এই সকল নিয়ম শুধু মেয়েদের জন্যই তৈরি সমাজের সকল নিয়ম আষ্টে পৃষ্ঠে শুধু নারীরাই বাঁধা।

ললিতা মুখ বিক্রিত করে বললো এত জ্ঞান দিও না মেয়ে এই সব নিয়ম আমরা ও পালন করেছি। এবং করে যাচ্ছি আর বিধবা দের এত শখ আহ্লাদ থাকতে নেই। তোমার এখন একমাত্র কাজ দিন রাত ঈশ্বর এর নাম জপ করা আর স্বামীর জন্য প্রার্থনা করা যাতে সে স্বর্গে ভালো থাকতে পারে ।

—“মৃত মানুষের ভালো চাওয়ার নামে আপনারা জীবিত মানুষকে মেরে ফেলছেন। যে নেই, তার কথা ভাবছেন; আর যে বেঁচে আছে, তার কষ্ট একবারও ভাবছেন না!”

মৃত্য ব্যাক্তির ভালোর জন্য আপনারা জীবিত মানুষকে মেরে ফেলছেন সেটা কি বুঝতে পারছেন না। যে মারা গেছে তার ভালোর কথা চিন্তা করছেন কিন্তু যে বেঁচে আছে তার কথা একবার ও চিন্তা করবেন না..?

এটাই কি আপনাদের শাস্ত্র ? শাস্ত্রে এ এটাই লেখা আছে ? যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে এমন শাস্ত্র আমি মানি না। যে শাস্ত্র একজন বিধবা থেকে জীবনের রং কেড়ে নেই, শাস্ত্রের দোহাই দিয়ে বিধবার থেকে তার স্বাধীনতা কেড়ে নেয় এমন শাস্ত্র আমি মানবো না। শাস্ত্র না মানলে আমাকে যদি অপয়া,অলক্ষী হয়ে থাকতে হয় তাহলে তাই থাকবো । তবে এমন শাস্ত্র মেনে লক্ষ্মী হাওয়ায় চেয়ে অলক্ষী হয়ে বাঁচা ডের ভালো।

এ পর্যায়ে ললিতা বিষন রেগে গেলেন তিনি মোহিনীর চুলের মুঠি ধরে হিসহিসিয়ে বললো

মাগির বাচ্চা অনেকক্ষন ধরে তোর চেটাং চেটাং কথা সয্য করছি, স্বামী মরার পর তোর গাঁয়ের তেল দেখছি বেড়ে গেছে । এই তেল কীভাবে বের করতে হয় এই ললিতা খুব ভালো করে জানে।

মোহিনী ব্যাথায় চোখ মুখ কুঁচকে ফেললো তখন ই তার ছেলে রাজন এসে ছাড়িয়ে নিলো নিজের মায়ের হাত থেকে মোহিনী কে ।

কি করছো মা? উনি তো ভুল কিছু বলেননি। কোনো শাস্ত্রেই তো লেখা নেই যে বিধবারা আমিষ খেতে পারবে না।”
কণ্ঠে দৃঢ়তা এনে ধীরে ধীরে বলল সে।
“অনেক আগেই রাজা রাম মোহন রায় সতীদাহ প্রথা বন্ধ করে দিয়েছেন। আর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহের মতো প্রথা চালু করেছেন। তাহলে আজও কেন এই অযৌক্তিক নিয়মগুলো আঁকড়ে ধরে থাকবে"

এই দেখে তিনি আবার হায় হায় করে বিলাপ শুরু করলেন।

ঈশ্বররায় এর দিকে তাকিয়ে বললো দেখ দেখ তোর ছেলের বউ কি করেছে ।ঐ মাগি রুপ দিয়ে আমার ছেলেকে বস করতে চাইছে স্বামী মারা গেছে তবুও গায়ের জ্বালা কেমেনি মাগির।

এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শুনে মোহিনীর গা গুলিয়ে উঠলো বিয়ের প্রথম দিন থেকেই আজানা কারনে পিসি তাকে পছন্দ করে না তাই বলে মেয়ের বয়সী একটা মেয়েকে এমন মন্তব্য করতে তার মুখে বাঁধছে না।

ঈশ্বর বায় বোনের কথা শুনে ধমক দিয়ে বললো অনেক হয়েছে তোমাদের এইসব এখন বন্ধ করো ।

মোহিনীর দিকে তাকিয়ে বললো এইদিকে আয় মা মোহনী চলচল চোখে ধীরপায়ে গিয়ে দাঁড়ালো শশুর এর পাশে এই একটা মানুষ কে সে ভীষণ ভালোবাসে বিয়ের পর থেকে এই মানুষ টা থাকে মেয়ের মতো আগলে রেখেছে ভালোবেসেছে ।

ঈশ্বর রায় ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে মোহিনীর মাথায় স্নেহভরা হাত রাখলেন। তাঁর কণ্ঠ ভারী, চোখে টলমল করছে অশ্রু।

“মোহিনী আমার ছেলের বউ নয়… আমার মেয়ে,” তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বললেন।

চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কেউ যেন কথা বলার সাহস পেল না।

তিনি আবার বললেন,
“আমার ছেলে মারা গেছে—এই সত্য আমি মেনে নিয়েছি।তাই বলে আমি আমার মেয়েকে তো মেরে ফেলতে পারি না । তার সব রঙ, সব ইচ্ছা, সব আনন্দ কেড়ে নেবো? না, তা আমি কখনোই করতে পারি না।”
একফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো তাঁর গাল বেয়ে। তিনি সবার দিকে তাকিয়ে আরও দৃঢ়ভাবে বললেন—

“ও যা ইচ্ছে খাবে, যা ইচ্ছে পরবে। কোন শাস্ত্রে লেখা নেই যে বিধবা রঙিন কাপড় পরতে পারবে না? আমিষ খেতে পারবে না? এসব মানুষের বানানো নিয়ম—নিষ্ঠুর, অমানবিক নিয়ম!” কোন সমাজের নিয়মে আমি আমার মেয়েকে বেঁধে রাখবো না সে মুক্ত, মুক্ত পাখির মতো সে ঊরব। আমার মেয়ের স্বাধীনতা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

ললিতার দিকে তাকিয়ে ঈশ্বর রায় ধীর ও গভীর কণ্ঠে বললেন,

“যুগ এখন আর আগের মতো নেই, দিদি। চারদিকে সমাজ তার নিষ্ঠুর আচার-অনুষ্ঠান, কুসংস্কার শিকড়ে বেঁধে রাখা নিয়মের পরিবর্তনের গান গাইছে। মানুষ আজ বুঝছে যে কেবল বিধি-বিধান মানলেই জীবনের অর্থ পূর্ণ হয় না।

তাহলে এই যুগে দাঁড়িয়ে, আপনি কীভাবে এত ছোট্ট একটি মেয়ের কাছ থেকে তার স্বাভাবিক অধিকার, তার আনন্দ, তার স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছেন?”

ললিতা কিছুক্ষণ চুপ থেকে ভারাক্রান্ত চোখে তাকালেন। মনে হচ্ছিল, সময়ের বায়ু যেন তার ভেতরের কষ্ট ও পুরোনো স্মৃতির আবছা ছায়া উড়িয়ে নিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত ভারী গলায় বললেন,

“ওর বয়সেই আমার স্বামী মারা গিয়েছিল, । আমি তখনও তো কেবল একটি ছোট্ট মেয়ে, ছিলাম আমার জীবনও অন্ধকারে ঢেকে ছিল রংহীন । আমার বেলায়, সেই সময়ে, কেন সমাজ আমাকে এত নিয়মে বেঁধে রেখেছিল? — তখন কেন কেউ এগিয়ে এসে এই নিয়ে ভাঙেনি?

ঈশ্বর রায়ের চোখে গভীর দৃষ্টি, মুখে শান্ত কিন্তু দৃঢ় অনুভূতি। তিনি ধীরে ধীরে বললেন,

“আপনি যে কষ্ট সহ্য করেছেন, দিদি… আপনি কি সত্যিই চান সেই একই কষ্ট মোহিনীও ভোগ করুক? ওর যন্ত্রণা হয়তো কেউ বুঝবে না, কিন্তু আপনার তো বোঝার কথা ছিল। কারণ সেই পথের পথিক তো আপনি নিজেই হয়েছেন। আজ যে পথে হেঁটে চলেছে এই ছোট্ট মেয়ে— আপনি কি সত্যিই চান, সে-ও সেই সমস্ত কষ্ট ভোগ করুক, যা একদিন আপনাকে সহ্য করতে হয়েছিল?”

কোনো কথাই যেন ললিতার কানে পৌঁছাচ্ছে না। তার মনে একটাই ভাব: যেমন সে নিজে বিধবা হয়ে বিধবার মতো জীবন কাটিয়েছে—নিরামিষ খেয়েছে, ফল খেয়েছে, সাদা থান পড়েছে, এবং সকল আচার অনুষ্ঠান থেকে নিজেকে দূরে রেখেছে—মোহিনীকেও ঠিক তেমনই থাকতে হবে। নিজের সিদ্ধান্তে সে অটল।

কথায় আছে "নারীই নারীর আসল শত্রু" কথাটা যেন মিলে গেল মোহীনির জীবনে ।একটা নারী কখনো অন্য নারীর শুখ সহ্য করতে পারে না। ললিতাও এমন ই এক নারী তিনি চান সে যেমন সামাজের নিয়মে পিষ্ট হয়েছে। মোহিনী ও তাই হোক সে যখন সব মানতে পেরেছে মোহনীর বেলায় কেন তা হবে না ।

তখন ই ঈশ্বর চন্দ্র অবিশ্বাস্য একটা কাজ করে বসলেন মোহিনীর ফেলে আসা ভাতের থালাটা তুলে নিলেন নিজের হাতে লোকমা বানাতে বানাতে বললেন ক্ষুদার কোন সদবা বিধবা নেই।

উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ গুলো নিরব হয়ে গেল

ঈশ্বর চন্দ্র মোহিনীর দিকে তাকিয়ে বললো হা করতে মোহিনী চোখ থেকে আঝোর ঝায়ায় জল পড়ছে যেখানে তার বাবা মা সে বিধবা হয়েছে বলে তাকে একটা বার দেখেই চলে গেল গিয়ে আর খোঁজ ও নিলো না তাদের ঘারে গিয়ে উঠবে বলে সেখানে এই মানুষ টা নিজের বাবা না হয়ে ও সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে সকল নিয়ম কানুন থেকে মুক্ত করতে চাইছে ।

মোহিনী হা করলো ঈশ্বররায় মাছ দিয়ে মোহিনীর মুখে ভাত তুলে দিতে দিতে বললো ।

অলুক্ষনে কাজ মাছ খাওয়া নয় ।অলুক্ষনে হলো মানুষের উপর অন্যায় নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া।

(সমাপ্ত)

এইভাবেই হয়তো সমাজে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে নারীরা সামাজিক নিয়মের বঞ্চনায় আবদ্ধ ছিল, তাদের স্বাধীনতা বন্ধনবদ্ধ, তাদের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা সমাজের কঠোর বিধিনিষেধের পায়ে পিষ্ট। ক্ষুদ্রতম অসঙ্গতি-ও কুসংস্কারের চোখে অপরাধ, আর নারীরা প্রায়শই নিজের স্বপ্ন আর আনন্দ ত্যাগ করতে বাধ্য হত।
কিন্তু ধীরে ধীরে, সাহসী মনগুলো উঠে দাঁড়ালো। তারা চ্যালেঞ্জ করল পুরোনো রীতি-নীতি, উপেক্ষা করল নিপীড়নের আওয়াজ। এই প্রতিবাদ, এই অদম্য আত্মবিশ্বাস, ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে সমাজে আলো ছড়াতে লাগল। একেবারে সাধারণ নারীরাও দেখল, নিজের স্বাধীনতা দাবি করা কোনো পাপ নয়, বরং মানবতার মৌলিক অধিকার।
এভাবেই হয়তো সমাজের নিষ্ঠুর নিয়মের কড়া থেকে নারীরা মুক্তি পেতে শুরু করল, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, নতুন স্বাধীনতার পথে এক-একটি পদক্ষেপে। সেই যাত্রার প্রতিটি ছোট গল্পই ছিল সমাজ পরিবর্তনের অদৃশ্য শক্তিশালী সোপান।

 #মোহজাল  #পর্ব_০৪  ট্রেন ছেড়ে দিতেই ধীরে ধীরে পিছিয়ে যেতে লাগলো শহরের চেনা দৃশ্যগুলো। যেন প্রতিটা দৃশ্য, প্রতিটা স্মৃ...
19/03/2026

#মোহজাল
#পর্ব_০৪


ট্রেন ছেড়ে দিতেই ধীরে ধীরে পিছিয়ে যেতে লাগলো শহরের চেনা দৃশ্যগুলো। যেন প্রতিটা দৃশ্য, প্রতিটা স্মৃতি হাত নেড়ে বিদায় জানাচ্ছে তাকে। জানালার পাশে বসে ইয়ান নিঃশব্দে তাকিয়ে রইলো বাইরের দিকে। সবুজ মাঠ, দূরে ছড়িয়ে থাকা টিনের ঘর, কোথাও আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা কংক্রিটের দালান—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত চলমান ছবির মতো লাগছিল।

মাঝে মাঝে ছোট ছোট স্টেশন পড়ছে। কোথাও দু’একজন লোক দাঁড়িয়ে, কোথাও বা ভিড়—কেউ নামছে, কেউ উঠছে। ট্রেন থামে, আবার চলতে শুরু করে।

সামনের সিটে বসে থাকা এক বৃদ্ধ ধীরেসুস্থে পান চিবোচ্ছেন। তার চোখেমুখে কোনো তাড়া নেই, কোনো দুশ্চিন্তা নেই—যেন তিনি এই যাত্রার বহু পুরোনো সঙ্গী। ইয়ান একবার তাকিয়ে আবার দৃষ্টি সরিয়ে নিলো। তার নিজের ভেতরেই এত কিছু চলছে যে বাইরের কিছুই যেন পুরোপুরি ধরা পড়ছে না।

হঠাৎ করেই মায়ের কথা মনে পড়তেই বুকটা হালকা কেঁপে উঠলো। সে ফোনটা বের করে বাবাকে কল দিলো।
—“বাবা, বাসায় পৌঁছেছো?”
—“হ্যাঁ, পৌঁছে গেছি। তুই ঠিক আছিস তো?”

বাবার কণ্ঠে এক ধরনের নিশ্চিন্ততা থাকলেও, ইয়ান বুঝতে পারছিলো—ভেতরে ভেতরে তিনিও চিন্তিত।
—“আমি ঠিক আছি,” ছোট করে উত্তর দিলো সে।

মায়ের কথা জিজ্ঞেস করতেই বাবা হালকা হেসে বললেন,
—“তোর মা আবার কেঁদেছে … এখন ঘুমাচ্ছে।”

ইয়ানের গলাটা শুকিয়ে গেল। সে জোর করে হাসির সুরে বললো,
—“মাকে বলো আমি ঠিক আছি, চিন্তা না করতে।”

কল কেটে দেওয়ার পর কিছুক্ষণ সে ফোনটা হাতে নিয়ে বসে রইলো। চারপাশের শব্দ—ট্রেনের ঝনঝন, মানুষের কথাবার্তা—সব যেন দূরের কোনো আওয়াজ হয়ে গেল।

ব্যাগ খুলে মায়ের গুছিয়ে দেওয়া খাবারগুলো বের করলো সে। ছোট ছোট ডিব্বায় ভরা আচার, বিস্কুট, মুড়ি, আর নিজের হাতে বানানো সন্দেশ। মায়ের সেই বড় বড় চোখ, জোর করে ব্যাগে ঢুকিয়ে দেওয়া—সবকিছু যেন চোখের সামনে ভেসে উঠলো।

একটু করে খেতে খেতেই তার চোখ ভিজে উঠলো। এত দূরে চলে আসার পর বুঝতে পারছে—বাসা মানে শুধু একটা জায়গা না, একটা অনুভূতি । নিরাপদ শান্তির স্থান।

খাওয়া শেষ করে ব্যাগটা মাথার কাছে রেখে সে শুয়ে পড়লো। ট্রেনের দুলুনিতে চোখ দুটো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে এলো। বাইরে তখনও পৃথিবী ছুটে চলছে, আর ভেতরে ইয়ানের মন ঘুরে বেড়াচ্ছে স্মৃতির ভেতর।

__________________________

দীর্ঘ ছয়-সাত ঘণ্টার পথ পেরিয়ে বিকেল প্রায় সাড়ে তিনটার দিকে ট্রেন এসে থামলো চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে। হঠাৎ থেমে যাওয়া সেই গতির সঙ্গে সঙ্গেই যেন ইয়ানের ভেতরের ভাবনাগুলোও থেমে গেল।

স্টেশন থেকে নামতেই এক অচেনা শহরের গন্ধ পেলো সে। বাতাসটা আলাদা—ঢাকার মতো ভারী না, যেন একটু হালকা, একটু খোলা। চারপাশে মানুষের আনাগোনা, রিকশার টুংটাং শব্দ, হকারদের ডাক—সব মিলিয়ে এক জীবন্ত অথচ শান্ত শহরের ছোঁয়া।

ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো সে। এই শহর তার কাছে সম্পূর্ণ নতুন।তবে এইখানে ঢাকার মতো বড় বড় বিল্ডিং নেই। তুলনা মূলক কম ।

স্টেশন থেকে বের হয়ে সে একটা সিএনজি অটোরিকশার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।
—“চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যাবেন?”

ড্রাইভার মাথা নেড়ে বললো,
—“যাবো, বসেন।”

ঠিক তখনই আরেকটা ছেলে এগিয়ে এলো।
—“ভাইয়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যাবেন?”

ড্রাইভার বললো,
—“সেইখানেই যাচ্ছি, বসেন।”

ছেলেটা উঠে বসতেই ইয়ানের দিকে তাকালো। মাথা থেকে পা পর্যন্ত একবার দেখে নিয়ে বললো ।

চট্টগ্রামে নতুন?

ইয়ান একটু ইতস্তত করে মাথা নাড়লো।
—“হ্যাঁ…
—“আমি নিলয়। চট্টগ্রামেরই ছেলে। বড় বোনকে স্টেশনে নামাতে এসেছিলাম।”

তা তুমি কোথা থেকে আসছো ?

ইয়ান কিছুটা সংকোচ বোধ করলো চট্টগ্রাম এর মানুষ কেমন হয় তার জানা নেই।কেউ হুট করে এত প্রশ্ন করলে সে কি জবাব দেবে ভেবে পেলোনা।

কিছুটা সংকোচ কাটিয়ে বললো আমি ঢাকা থেকে এসেছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে ।

নিলয় বললো ঢাকা থেকে এতদুর এসেছো ?সে বিস্ময় নিয়ে তাকালো ।এখানকার ছেলে মেয়েরাই তো ঢাকাই যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য ‌।

ইয়ান বললো আমার ইচ্ছা ছিলো চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার।

নিলয় বললো তা এইখানে কেউ আছে নাকি হোস্টেলেই থাকবে ।

ইয়ান বললো এইখানে পরিচিত কেউ নেই হোস্টেলে ই থাকবো ।বাবা মা ঢাকায় ।

তাদের আরো টুকটাক কথা হলো।

তার কথাবার্তায় এক ধরনের সহজ ভাব ছিল, যা ইয়ানের অস্বস্তিটা একটু কমিয়ে দিলো।তবে নিলয়ের স্বাভাবিক আচরণে সে কিছুটা ভরসা পেল।

কথা বলতে বলতে সিএনজি শহরের ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে এগিয়ে চললো। ধীরে ধীরে কোলাহল কমে এলো, চারপাশে নেমে এলো এক ধরনের প্রশান্তি।
____________________

প্রায় এক ঘণ্টার পথ পেরিয়ে, সূর্য তখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে, সোনালি আলোয় ভেসে উঠেছে চারপাশ। সিএনজি এসে থামলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে । বাকি রাস্তা তারা রিক্সায় যাবে বলে সিদ্ধান্ত নিলো।

রাস্তার দুই পাশে সারি সারি চায়ের দোকান আর প্রসস্থ বিল যার কিনারায় সারি সারি বিভিন্ন ধরনের গাছ।

নিলয় প্যান্ট এর পকেটে হাত দিয়ে ‌হাটতে হাঁটতে বললো এই দেখো এত কথা হলো তোমার নামটাই তো জানা হলো না ।

আমার নাম ' নিলয় '।সাথে সাথে নিজের হাত বাড়িয়ে দিলো ইয়ান এর দিকে ইয়ান খানিক ভেবে হাত মিলিয়ে বললো "ইয়ান সিকদার" ।

নিলয় বললো চল কিছু খেয়ে নেওয়া যাক এর পর হোস্টেলে গিয়ে রান্না করে খেতে অনেক দেরি হবে।

ইয়ান বললো আপনি ও কি হোস্টেলে থাকেন নিলয় বললো হ্যা আমার বাড়ি রাউজান তাই হোস্টেলেই থাকি সপ্তাহে গিয়ে ঘুরে আসি বাড়ি থেকে।

আর তুই আমাকে আপনি বলা বন্ধ করে তুই বলবি আমরা একই মানবিক ডিপার্টমেন্টে। একই হোস্টেলে তাহলে আপনি কিসের? আমরা এখন বন্ধু ।

ইয়ান হেসে বললো ঠিক আছে চলুন ওহ্ সরি চল কিছু খেয়ে নেই আমার সত্যি ই অনেক খিদে পেয়েছিলো।

নিলয় হেসে এগিয়ে গেল চায়ের দোকানে। দোকানির উদ্দেশ্যে বললো মামা দুই কাপ করা লিকার দেওয়া চা দিয়ে যাও।

তারা বসলো দোকানের একটা চেয়ারে ।খানিক্ষন পর একটা ১৫/১৬ বছরের ছেলে এসে চা দিয়ে দিয়ে গেল। তারা চা আর হালকা নাস্তা খেয়ে বিল মিটিয়ে একটা রিক্সায় উঠে পড়লো।

রিস্কা চলতে শুরু করলো। রাস্তার চারপাশে সারি সারি গাছ পালা বিস্তৃত মাঠ , মাঝে মাঝে ছোট ছোট ঘর আর দোকান—সবকিছু মিলিয়ে এক শান্ত, নির্মল পরিবেশ।

বাইরের ঠান্ডা বাতাস বারবার এসে ছুঁয়ে দিচ্ছিল ইয়ানকে। সে চোখ বন্ধ করে সেই বাতাস অনুভব করলো।

চলবে..?

 #মোহজাল  #পর্ব_০৩  সময়টা যেন অদ্ভুত এক ভার নিয়ে নেমে এলো ইয়ানের জীবনে। চট্টগ্রাম যাওয়ার দিন অবশেষে চলে এসেছে। গত রা...
18/03/2026

#মোহজাল
#পর্ব_০৩


সময়টা যেন অদ্ভুত এক ভার নিয়ে নেমে এলো ইয়ানের জীবনে। চট্টগ্রাম যাওয়ার দিন অবশেষে চলে এসেছে। গত রাতেই মনোরমা সব গুছিয়ে রেখেছিলেন—ইয়ানের জামাকাপড় থেকে শুরু করে তার পছন্দের আচার, বিস্কুট, মুড়ি আর ঘরে বানানো সন্দেশ পর্যন্ত। ইয়ান বারবার না করতে চাইলেও মায়ের সেই বড় বড় মায়াভরা চোখের চাহনির সামনে আর কিছু বলার সাহস পায়নি।

সকালটা ছিল অদ্ভুত নীরব। বাড়ির প্রতিটা কোণ যেন জানে—আজ ইয়ান চলে যাবে। বের হওয়ার আগে মনোরমা এক নিশ্বাসে কত কথা যে বলে দিলেন!
“খারাপ ছেলেদের সাথে মিশবি না… রোজ তিনবেলা ফোন দিবি… কি খাস সব ছবি তুলে পাঠাবি… রাতে বাইরে থাকবি না… মন দিয়ে পড়াশোনা করবি…”
একটু থেমে, কণ্ঠটা আরও নরম হয়ে এলো—
“আর… কোনো মেয়ের পাল্লায় পড়িস না।”

শেষ কথাটা বলতেই নিজেকে আর সামলাতে পারলেন না তিনি। ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন।

ইয়ানের বাবা এই দৃশ্য দেখে হালকা হাসি দিয়ে বললেন,
“তোমার ছেলে এখন আর ছোট নেই, রমা। বড় হয়েছে। স্কুলে যাচ্ছে না যে, সব শিখিয়ে দিতে হবে!”

মনোরমা কাঁদতে কাঁদতেই উত্তর দিলেন,
“তুমি বুঝবে না… নয় মাস গর্ভে রেখেছি। আমার নাড়ি ছেঁড়া ধনটা এত দূরে যাচ্ছে… আমার মন কিছুতেই মানছে না…”

মায়ের কথা শুনে ইয়ানের বুকটাও হাহাকার করে উঠলো। সে বাবার দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় চুপ করতে বলল, তারপর মাকে ধীরে ধীরে শান্ত করল। অনেক বুঝিয়ে, সান্ত্বনা দিয়ে অবশেষে বাবার সাথে বেরিয়ে এলো।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এসে দাঁড়াতেই চারপাশের কোলাহল যেন আরও তীব্র লাগতে লাগলো। লোকজনের ভিড়, ট্রেনের শব্দ, ঘোষণার আওয়াজ—সবকিছু মিলিয়ে এক অদ্ভুত আবহ। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ট্রেন আসবে।

ইয়ান ব্যাগটা শক্ত করে ধরে বাবার দিকে তাকালো, তারপর হঠাৎই জড়িয়ে ধরলো তাকে। নিজের চোখও ভিজে উঠেছে টের পেল সে। এই প্রথমবারের মতো এত দূরে যাচ্ছে—মা-বাবাকে ছেড়ে।

গলা ভারী হয়ে এলো, তবু বলল,
“বাবা, ঠিক মতো ওষুধ খেয়ো… স্কুল থেকে তাড়াতাড়ি বাসায় চলে আসো… মা একা থাকবে… বেশি রাত জেগে বই পড়ো না… মাকে দেখো রেখো … নিজেরও খেয়াল রেখো… আমি দিনে তিন-চারবার করে ফোন করবো…”

বাবা কিছুক্ষণ কিছু বলতে পারলেন না। শুধু ছেলেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখলেন। তারপর ধীরে ধীরে তার চোখ থেকেও কয়েক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। এতদিনের আদরের একমাত্র ছেলেকে বিদায় দেওয়া— কি সহজ !

ট্রেনের হুইসেল বেজে উঠলো। সময় আর থামলো না। ইয়ান সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠে নিজের সিটে ব্যাগ রেখে আবার দৌড়ে এলো দরজার কাছে। ততক্ষণে ট্রেন চলতে শুরু করেছে।

দরজায় দাঁড়িয়ে সে তাকিয়ে রইলো তার বাবার দিকে।
বাবা পাঞ্জাবির আঁচলে চশমাটা মুছে আবার চোখে পড়লেন, তারপর হাত নেড়ে বিদায় জানালেন।

ট্রেন ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে লাগলো…ইয়ান প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো হাত নাড়ালো। তার চোখে এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি—স্বপ্নের টান আর আপনজনকে ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট। ট্রেনটা ধীরে ধীরে গতি নিতে শুরু করতেই চারপাশের কোলাহল যেন এক অচেনা নীরবতায় ঢেকে গেল। মানুষের ভিড়, চিৎকার, হকারদের ডাক—সবকিছু যেন দূরে সরে যেতে লাগলো। শুধু শোনা যাচ্ছিল লোহার চাকার সঙ্গে রেলের লাইনের ঝনঝন শব্দ,।

ইয়ানের বাবা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। তার চোখ একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে সেই ট্রেনের দরজার দিকে, যেখানে একটু আগেও ছেলের মুখটা দেখা যাচ্ছিল। সময় যেন তার জন্য থমকে গেছে। ট্রেন যত দূরে যেতে লাগলো, ইয়ানের অবয়ব তত ছোট হতে হতে একসময় দৃষ্টিসীমার বাইরে মিলিয়ে গেল। তবুও তিনি তাকিয়ে রইলেন—হয়তো আশা করছিলেন, আরেকবার ছেলেকে দেখা যাবে, আরেকবার হাত নাড়ার সুযোগ মিলবে।

তার বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠলো, কিন্তু ঠোঁট শক্ত করে চেপে রাখলেন তিনি। চোখের কোণে জমে ওঠা অশ্রু তিনি মুছে ফেললেন নিঃশব্দে। ছেলেকে শক্ত করে বড় করেছেন, আজ তারই স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার দিন—তাই এই কষ্টটুকু তাকে একাই বহন করতে হবে।

চলবে..?

 #মোহজাল    #পর্ব_০২সময়—এক অদৃশ্য স্রোত, যার কোনো বিরাম নেই।সে কারো জন্য থেমে থাকে না, কারো অপেক্ষায় দাঁড়ায় না। নিজে...
17/03/2026

#মোহজাল

#পর্ব_০২

সময়—এক অদৃশ্য স্রোত, যার কোনো বিরাম নেই।
সে কারো জন্য থেমে থাকে না, কারো অপেক্ষায় দাঁড়ায় না। নিজের গতিতেই বয়ে চলে নিরবচ্ছিন্নভাবে।

নরওয়ের আকাশে তুষারপাত কিছুটা কমেছে। তবুও চারপাশে সাদা বরফের আস্তরণে ঢেকে আছে শহরটা—যেন এক নিঃশব্দ বরফের রাজ্য। প্রকৃতি নিজের মতো করে সেজেছে, শান্ত, স্থির, অপার্থিব সুন্দর।

কিন্তু এই সৌন্দর্যের মাঝেও সময় যেন থমকে গেছে ইয়ান এর জন্য।

সে এখনো বিছানার উপর নিথর হয়ে বসে আছে। চোখে কোনো দৃষ্টি নেই, মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই। কিছুক্ষণ আগেই তার মা, মনোরমা সিকদার, ফোন কেটে দিয়েছেন—ছেলের কাছ থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে।

দূরের কোনো গির্জা থেকে ভেসে আসছে ভোরের প্রার্থনার সুর। সেই মৃদু, পবিত্র সুর এসে আঘাত করলো ইয়ানের শ্রবণেন্দ্রিয়ে। যেন এক মুহূর্তের জন্য সে বাস্তবে ফিরে এলো।

ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো সে। ভারী পায়ে এগিয়ে গিয়ে টেনে খুলে দিলো জানালার পর্দাগুলো। বিশাল কাঁচের দেওয়ালের ওপারে দেখা যাচ্ছে নরওয়ের সেই অপরূপ শহর—সাদা বরফে মোড়ানো, নিঃশব্দ, স্থির।

কিন্তু আজ আর এই শহরটাকে সুন্দর লাগছে না তার।

একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে সোফার দিকে এগিয়ে গেল। সেখান থেকে তুলে নিলো সিগারেটের প্যাকেট আর লাইটার। কাঁপা হাতে একটা সিগারেট ধরিয়ে নিলো ঠোঁটে।

একটার পর একটা টান।
একটার পর একটা সিগারেট।

মিনিট কয়েকের মধ্যেই পুরো ঘরটা ধোঁয়ায় ভরে উঠলো।

ধোঁয়ার ঘনত্বে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিলো এলরার। ঘুমের মধ্যেই সে কেঁপে উঠে হালকা কেশে উঠলো। নিঃশ্বাস নিতে না পেরে কিছুটা অস্থির হয়ে উঠলেও গভীর ঘুমের টানে আবার ও তলিয়ে গেলো।

কিন্তু ইয়ানের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই।
সে সিগারেটে টান দিতে দিতেই মোবাইল হাতে নিয়ে কিছু একটা করলো।

তারপর শেষ সিগারেটের অংশটা পায়ের নিচে পিষে নিভিয়ে ফেললো। দ্রুত শরীরে একটা শার্ট জড়িয়ে নিলো। পাসপোর্টটা হাতে তুলে নিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে গেলো ১০৩ নম্বর রুম থেকে।

একবারও পেছনে ফিরে তাকালো না।

বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা এলরা যেন নিহাত কোন তুচ্ছ জিনিস, । এই মুহূর্তে এলরা তার কাছে কেবলই এক তুচ্ছ, অপ্রয়োজনীয় উপস্থিতি।

_________________

এয়ারপোর্টের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্লেনে উঠে বসলো ইয়ান। সময় তখন ভোর ৫টা।

শেষ মুহূর্তে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে বাংলাদেশগামী ফ্লাইট বুক করতে হয়েছে তাকে—কারণ শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট পাওয়া সম্ভব ছিলো না।

তার অগোছালো চুল, কুঁচকে যাওয়া শার্ট, ক্লান্ত আর বিধ্বস্ত মুখ—সব মিলিয়ে আশেপাশের যাত্রীরা বারবার তার দিকে তাকাচ্ছে।

সে বুঝতে পারলো, কিন্তু কিছু বলার বা বোঝানোর মতো শক্তি তার নেই।

মোবাইলটা বারবার কেঁপে উঠছে—মা কল দিচ্ছেন, আত্মীয়স্বজনরাও। কিন্তু সে কোনো কল রিসিভ করলো না।

শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে মোবাইলটাই বন্ধ করে দিলো।

কিছুক্ষণের মধ্যেই প্লেন উড্ডয়নের প্রস্তুতি নেবে।

আর ইয়ান—ফিরে যাবে সেই দেশে, যেখান থেকে তার গল্প শুরু হয়েছিল।

_____________________

শৈশব থেকেই ইয়ানের স্বপ্ন ছিল—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার।

কিন্তু ঢাকা থেকে এত দূরে ছেলেকে পাঠাতে কিছুতেই রাজি ছিলেন না তার মা, মনোরমা সিকদার।

তার মনে হাজারো চিন্তা—
ছেলে কীভাবে থাকবে? কী খাবে?
যে ছেলে এখনো নিজের জামাকাপড় ঠিকমতো গুছাতে পারে না, সে কীভাবে একা এত কিছু সামলাবে?

এই চিন্তাগুলোই তাকে আটকে রেখেছিল।

একদিন সকালে চা খেতে খেতে ইয়ানের বাবা, রশিদ সিকদার, শান্ত স্বরে বললেন,
“তুমি তো জানোই, সবাই চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে। আর আমাদের ছেলে উল্টো চট্টগ্রামে যেতে চাচ্ছে। এত ভালো রেজাল্ট করেছে—শুধু তোমার এই তুচ্ছ কিছু ভয়ের জন্য কি ওর স্বপ্নটা ভেঙে যাবে?”

মনোরমা কিছু বললেন না। শুধু আঁচলে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন। কান্নায় যেন নারীর একমাত্র অস্ত্র।

সেই মুহূর্তেই ইয়ান এগিয়ে এসে মাকে জড়িয়ে ধরলো।

নরম গলায় বললো,
“তুমি চিন্তা করছো আমি একা কীভাবে সব সামলাবো, তাই না মা?”

একটু থেমে হালকা হাসি দিয়ে আবার বললো,
“চিন্তা করো না। চট্টগ্রামে গিয়ে একটা সুন্দর মেয়ে পটিয়ে বিয়ে করে ফেলবো। তারপর সে-ই আমার সব কাজ করে দেবে!”

ছেলের কথা শুনে কান্নার মাঝেই হেসে ফেললেন মনোরমা। সঙ্গে সঙ্গে ইয়ানের কান টেনে বললেন,
“খুব শখ হয়েছে বিয়ে করার? খাওয়াবি কী ওকে? পড়াশোনা করার ইচ্ছা আছে আধেও ?”

ইয়ান মুখ বাঁকিয়ে বললো,
“আহ মা, লাগছে! আমি কি কোনো ফুড ব্লগারকে বিয়ে করবো নাকি? যে সারাদিন শুধু খাবে! আমি এমন মেয়েকে বিয়ে করবো, যে রান্না জানবে, সব কাজ জানবে । তোমাকে যাতে আমাকে নিয়ে আর কোন চিন্তা করতে না হয় ।আর পড়াশোনা কেন নষ্ট হবে? আমি কি বাচ্চা বিয়ে করবো নাকি? যে আমার বইয়ের উপর হিসু করে আমার বই নষ্ট করবে ,?

তার কথায় রশিদ সিকদার হেসে উঠলেন।
মুহূর্তেই ঘর ভরে উঠলো হাসিতে।

আর ইয়ান—মাকে জড়িয়ে ধরে সেই হাসির মাঝেই নিজের স্বপ্নটাকে আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো।

চলবে..??

 #মোহজাল  #সূচনা_পর্বজনরা🚫 পরকিয়া প্রেম / সমাজের বাস্তবিকতা ( পরকিয়া প্রেম যে একটা সুন্দর সংসার, পরিবার, এবং অনেক গুলো...
17/03/2026

#মোহজাল


#সূচনা_পর্ব

জনরা🚫 পরকিয়া প্রেম / সমাজের বাস্তবিকতা

( পরকিয়া প্রেম যে একটা সুন্দর সংসার, পরিবার, এবং অনেক গুলো মানুষের জীবন নষ্ট করে দেই। সেটাই এই গল্পে মূল উৎস। )

কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ❌

সুইজারল্যান্ডের নরওয়ের ছোট শহরটি আজ সকাল থেকে যেন এক ধূসর স্বপ্নের মধ্যে ডুবে আছে। ঘন সাদা তুষারপাত ধীরে ধীরে সবকিছু ঢেকে দিয়েছে—রাস্তাঘাট, ছাদ, ট্রাফিক সাইন, এমনকি বাতি জ্বলানো ল্যাম্পপোস্টও।

মানুষেরা কষ্টের মধ্যে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। কেউ ঠান্ডায় কাঁপছে, কেউ হাত জড়িয়ে ধরে বাচ্চাদের সামলে রাখছে, আর কেউ গাড়ির উইন্ডশীল্ডের বরফ চিড়ে শান্তির মতো চোখে তাকাচ্ছে। তুষারের বালি নয়, বরফের কণা যেন প্রতিটি পদক্ষেপকে আরও ভারী করে তুলছে।

রাস্তার ধারে দাঁড়ানো গাড়িগুলোও যেন জীবন হারিয়েছে। একের পর এক গাড়ি তুষারে আটকে আছে। হর্ন বাজছে, চালকরা হতাশ, আর শহরটি ধীরে ধীরে নিঃশব্দের চাদরে ঢেকে যাচ্ছে।

শহরের এক কোণ থেকে অন্য কোণে যাওয়া মানুষগুলো যেন হিমবাহের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া প্রাণীর মতো। তুষারের প্রলয়ময় পরিবেশে, এক নতুন ধরণের ধীর নীরবতা শহরের উপর নেমে এসেছে—একই সাথে সৌন্দর্য আর কষ্টের মিলন, যা কেবল শীতকালের একাকীত্বে উপলব্ধি করা যায়।

ধীরে ধীরে দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতে শুরু করল। আকাশের ধূসরতা আরও গাঢ় হয়ে উঠল, যেন সাদা তুষারের শহরটিকে কেউ নরম কালো চাদরে ঢেকে দিচ্ছে। সারাদিনের কষ্টের পথ পেরিয়ে মানুষগুলো একে একে ঘরে ফিরতে লাগল। ঠান্ডায় লাল হয়ে যাওয়া হাতগুলো দরজার উষ্ণতা খুঁজে পেল, শিশুরা মায়ের কোলের নিরাপত্তায় মাথা রাখল, আর ব্যস্ত রাস্তাগুলো ধীরে ধীরে নিঃশব্দ হয়ে গেল।

বিকেলের ব্যস্ততা মিলিয়ে গেলে শহরটিও যেন ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিশ্রাম নিতে চাইল। দোকানের আলো একে একে নিভে গেল, কেবল রাস্তার ল্যাম্পপোস্টগুলো তুষারের ভেতর মৃদু আলো ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে রইল। দূরের পাহাড়গুলো কুয়াশা আর বরফের স্তরে ঢেকে গিয়ে যেন কোনো নিঃশব্দ পাহারাদারের মতো শহরটিকে ঘিরে রাখল।

রাত গভীর হতে লাগল।
একসময় ঘড়ির কাঁটা ধীরে ধীরে রাত তিনটার দিকে এগিয়ে গেল।

নরওয়ের সেই বিলাসবহুল হোটেলটি ততক্ষণে প্রায় সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ। বড় কাচের জানালার ওপাশে এখনো তুষার পড়ছে, আর হোটেলের করিডোরগুলোতে নরম আলো ঝুলে আছে।

হঠাৎ—

নিস্তব্ধতার বুক চিরে একটি শব্দ ভেসে উঠল।

ট্রিং... ট্রিং... ট্রিং...

হোটেলের রুম নাম্বার ১০৩-এ রাখা একটি মোবাইল ফোন হঠাৎ করেই বেজে উঠল।
নিঃশব্দ রাতের মধ্যে সেই শব্দ যেন অস্বাভাবিকভাবে জোরে প্রতিধ্বনিত হলো।

ঘরের ভেতর অন্ধকার।
বিছানার পাশে টেবিলের ওপর মোবাইলটির আলো বারবার জ্বলে উঠছে, নিভে যাচ্ছে।

ফোনের শব্দে এক প্রকার বিরক্ত হয়ে ইয়ান চোখ মেললো... ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে উঠতে গেলেই সে বুঝলো কেউ থাকে আঁশটে পিশটে জড়িয়ে ধরে আছে সে পাশে ফিরেই দেখলো অর্ধনগ্ন এলরা তাকে জড়িয়ে ধরে আছে। সে এলরা কে নিজে থেকে ছাড়িয়ে উঠে বসলো । তখনো ফোনটা বেজেই যাচ্ছে।ইয়ান ফোনটা হাতে নিতেই তার
ভ্রু কুঁচকে গেলো—এত রাতে মা কেন কল করছে? হৃদয়টা অস্থির, মস্তিষ্ক দ্বিধায় বিভ্রান্ত। দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতে ভুগতেই সে কল রিসিভ করে কানে দিল।

বিপরীত পাশ থেকে যে শব্দগুলো আসলো, তা যেন মুহূর্তেই ইয়ানের রক্ত জমাট করে দিল। নিঃশ্বাস আটকে গেল। বুকের ভেতর হৃদযন্ত্র যেন নিজেই অস্বাভাবিক গতিতে ধক-ধক করে উঠলো। অচেনা অনুভুতিতে পিষ্ট হতে লাগলো হ্নদয়ন্ত্রটা ।হাত-পা কাপাকাপি, শরীর কাঁপছে—মনে হচ্ছিল, কোনও অদৃশ্য চাপ সবকিছু চেপে ধরেছে।

হঠাৎ মোবাইলটি ইয়ানের হাত থেকে পড়ে গেল। বিপরীত পাশের কণ্ঠ এখনও কথা বলছে, কিন্তু তা যেন ইয়ান এর কানে পৌঁছাচ্ছে না। মনে হচ্ছে শব্দগুলো হওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু তার কানে এক বাক্য বারবার প্রতিধ্বনি করতে লাগল—
“বাবা… নয়মী… নয়মী আত্মহত্যা করছে…”

শব্দগুলো যেন বিষাক্ত সুঁই হয়ে বুকের ভেতর ঢুকে প্রতিটি ধমনী ছিঁড়ে দিচ্ছে। ঘরের অন্ধকার, রাতের নীরবতা সব কিছুতে বিষাক্ততা ছড়িয়ে গেল মুহুর্তে।

চলবে...?

( শখের বশে লিখেছিলাম কয়েকটা পর্ব। ভাবলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করি। ভুল ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।লেখালেখি জগতে আমি নতুন। গল্প কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন 😌)

Address

Agrabad
Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Noymi Laha Noyu posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share