20/03/2026
#বিধবা
#অনুগল্প
বিধবা হয়ে মাছ খাচ্ছ ?ছি ছি ছি! কি অলক্ষুনে কান্ড!
সবে মাত্র ভাত মুখে দেওয়ার জন্য তুলেছিলো মোহিনী নিজের পিসি শুশুড়ির মুখে এমন কথা শুনে তার হাত মাঝপথেই থেকে গেল ।সে বিস্ময় নিয়ে বড় বড় চোখে তাকালো তার পিসি শাশুড়ির দিকে।
ততক্ষণে তিনি হুলুস্থুল বাঁধিয়ে বাড়ি মাথায় তুলে ফেলেছেন। অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করতে ও ভুলছেন না।
মাথায় হাত দিয়ে হায় হায় করে বললো। আমার সরেশ মরলো ১ মাস পেড়োতে না পেড়োতেই এই মুখপুরি মাছ খাচ্ছে!
আমার ছেলের সর্বনাশ করে দিলো গো ! আমার ছেলে স্বর্গে যাবে কীভাবে? মরে ও শান্তি পাবে না আমার ছেলেটা। বলে কান্না জুড়ে দিলেন।
মোহিনী ভেবে পেলে না তার মাছ খাওয়ার সাথে তার স্বামীর স্বর্গে যাওয়ার সম্পর্ক কোথায়।
ততক্ষনে বাড়ির সবাই উঠানে জড়ো হলো । লজ্জা, অপমান আর বিস্ময়ে তার আর খাওয়া হলো না। ধীরে ধীরে সে উঠে এলো পাত থেকে।
তার শুশুর ইশ্বররায় গলা উঁচিয়ে বললো কি হয়েছে? এত হুলুস্থুল কিসের !
তখন ই মোহনীর পিসি শাশুড়ি ললিতা এসে মুখ ঝামটা মেরে বললো ।তোর ছেলের বউ মাছ খাচ্ছে বিধবা হয়ে
__দেখ দেখ কি কান্ড ঘটিয়েছে এই মেয়ে । তার চোখ মুখে তিক্ততা ।
ঈশ্বররায় তাকালেন তার পুত্র বধুর দিকে সাদা শাড়ি পরা, ঘোমটা টানা সেই কিশোরী মেয়েটা স্থির দৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
কতই বাহ্ বয়স হবে ? ১৬ কিংবা ১৭ এই বয়সেই মেয়েটা স্বামী হারা হলো ।
মোহিনী কে সে ছেলের বউ কম মেয়েই বেশী মনে করে ।
কি বলবেন এখন মেয়েকে! সে নিজেই তো পছন্দ করে তার ছেলে সরেশ এর জন্য মোহিনী কে পছন্দ করেছিলো । কিন্তু কে জানতো বিয়ের ছয় মাসের মাথায় বিধবা হতে হবে?
সরেশ এর বয়স যখন ১৯ তখন ই তার মা চিত্রা মারা যায়। চিত্রা মারা যাওয়ার পর ঈশ্বররায় আর বিয়ে করেননি সরেশ ,এবং তার ছোট বোন রজনীকে নিজে বড় করেছেন। রজনীর বিয়ে হয়েছে আজকে চার বছর একটা সন্তান ও আছে।
ললিতা তার বড় বোন বিয়ের ১ বছরের মাথায় অন্তঃস্বত্ত্বা থাকা অবস্থায় ললিতার স্বামী মারা যায় কলেরায় আক্রান্ত হয়ে তখন শশুর, শাশুড়ি তাকে অলক্ষি বলে কম নির্যাতন করে নি ! তাই ইশ্বররায় তাকে নিয়ে এসেছিলেন পরে তার দুই জমজ ছেলে হয় সুমন আর রাজন তাদের ও তিনি নিজ সন্তান এর মতোই বড় করেছেন ।
এই কি করলে তুমি মোহিনী বিবাদের আমিষ খাওয়া পাপ ! তুমি এত বড় পাপ করতে যাচ্ছিলে !
সুনম এর বউ জয়ার কথা শুনে ইশ্বররায় এর ধ্যান ভাঙলো তিনি কিছু বলার আগেই।
মোহিনী মাথার ঘোমটা টিক করে বললো কোন শাস্ত্রে লেখা আছে দিদি যে বিধবা মাছ খাওয়া পাপ..? কোন শাস্ত্র বলে বিধবা আমিষ খেতে পারবে না? এমন কোন শাস্ত্র আছে বলে তো আমার মনে হয় না।
তার এমন কথায় সকলের মাঝে যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত ঘটলো ।
ললিতা এগিয়ে এসে বললো দেখলে দাদা আমি তোমাকে আগেই বলেছিলাম এই মেয়ে একটা অলক্ষী। প্রথমে ছেলেটাকে খেয়েছে এখন এই বাড়ির সকলকের উপর পাপের বোঝা চাপাতে চাইতে । কোন অলুক্ষনে তুমি এই মেয়েকে বাড়ির বউ করেছিলে কে জানে!
মোহিনীর দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো এই মেয়ে পাপ করে এখন এত চেটাং চেটাং কথা বের হয় কীভাবে তোমার ? মুখ থেকে লজ্জা শরম সব কি বিসর্জন দিয়েছো.?
মোহিনী ললিতার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো কেন লজ্জা শরম লাগবে পিসি? লজ্জা শরম পাওয়ার মতো কাজ তো আমি করি নি। আপনারা এই এক মাস ধরে আমার উপর যে নির্যাতন করেছেন তার জন্য আপনাদের লজ্জা শরম পাওয়ার উচিত । আপনারা যখন পাচ্ছেন না আমি কেন পাবো ।এতদিন আমি অনেক সহ্য করেছি কিন্তু আর পারছি না।
চারপাশে নিস্তব্ধতা নেমে এলো।
সে আবার বলতে শুরু করল,
—“আমি জানি, আপনি আমার স্বামীকে নিজের ছেলের মতো ভালোবাসতেন। তার মৃত্যুতে আপনার কষ্ট হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন—সে আমার স্বামী ছিল। আমার কষ্ট কি কম?”
তার কণ্ঠ কেঁপে উঠল, কিন্তু থামল না—
—“স্বামী মারা গেছে বলে আপনারা আমার শখের চুল কেটে দিয়েছেন, রঙিন কাপড় কেড়ে নিয়ে রংহীন কাপড় পরিয়েছেন, ঠান্ডা মাটিতে শুতে বাধ্য করেছেন। দিনে একবার খাবার দিয়েছেন —তাও ভাত আর নুন, নয়তো সামান্য ফল!এখন যদি আমি মারা যেতাম আমার স্বামীর সাথে ও কি এমন করতেন ..?
মোহিনীর এমন প্রশ্নে সকলে নিশ্চুপ হয়ে গেল কি জবাব দেবে ভেবে পেলো না ।
“এই সমাজের নিয়মগুলো যেন এক অদৃশ্য শিকল—যার প্রতিটি কড়া কেবল নারীদের হাত-পা জড়িয়ে ধরে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, কত শত বিধিনিষেধ, কত অলিখিত আইন—সবই যেন শুধু মেয়েদের জন্য। তারা কী খাবে, কী পরবে, কখন হাসবে, কখন কাঁদবে—সবকিছুর ওপরেই সমাজের কড়া নজর ।
এই সকল নিয়ম শুধু মেয়েদের জন্যই তৈরি সমাজের সকল নিয়ম আষ্টে পৃষ্ঠে শুধু নারীরাই বাঁধা।
ললিতা মুখ বিক্রিত করে বললো এত জ্ঞান দিও না মেয়ে এই সব নিয়ম আমরা ও পালন করেছি। এবং করে যাচ্ছি আর বিধবা দের এত শখ আহ্লাদ থাকতে নেই। তোমার এখন একমাত্র কাজ দিন রাত ঈশ্বর এর নাম জপ করা আর স্বামীর জন্য প্রার্থনা করা যাতে সে স্বর্গে ভালো থাকতে পারে ।
—“মৃত মানুষের ভালো চাওয়ার নামে আপনারা জীবিত মানুষকে মেরে ফেলছেন। যে নেই, তার কথা ভাবছেন; আর যে বেঁচে আছে, তার কষ্ট একবারও ভাবছেন না!”
মৃত্য ব্যাক্তির ভালোর জন্য আপনারা জীবিত মানুষকে মেরে ফেলছেন সেটা কি বুঝতে পারছেন না। যে মারা গেছে তার ভালোর কথা চিন্তা করছেন কিন্তু যে বেঁচে আছে তার কথা একবার ও চিন্তা করবেন না..?
এটাই কি আপনাদের শাস্ত্র ? শাস্ত্রে এ এটাই লেখা আছে ? যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে এমন শাস্ত্র আমি মানি না। যে শাস্ত্র একজন বিধবা থেকে জীবনের রং কেড়ে নেই, শাস্ত্রের দোহাই দিয়ে বিধবার থেকে তার স্বাধীনতা কেড়ে নেয় এমন শাস্ত্র আমি মানবো না। শাস্ত্র না মানলে আমাকে যদি অপয়া,অলক্ষী হয়ে থাকতে হয় তাহলে তাই থাকবো । তবে এমন শাস্ত্র মেনে লক্ষ্মী হাওয়ায় চেয়ে অলক্ষী হয়ে বাঁচা ডের ভালো।
এ পর্যায়ে ললিতা বিষন রেগে গেলেন তিনি মোহিনীর চুলের মুঠি ধরে হিসহিসিয়ে বললো
মাগির বাচ্চা অনেকক্ষন ধরে তোর চেটাং চেটাং কথা সয্য করছি, স্বামী মরার পর তোর গাঁয়ের তেল দেখছি বেড়ে গেছে । এই তেল কীভাবে বের করতে হয় এই ললিতা খুব ভালো করে জানে।
মোহিনী ব্যাথায় চোখ মুখ কুঁচকে ফেললো তখন ই তার ছেলে রাজন এসে ছাড়িয়ে নিলো নিজের মায়ের হাত থেকে মোহিনী কে ।
কি করছো মা? উনি তো ভুল কিছু বলেননি। কোনো শাস্ত্রেই তো লেখা নেই যে বিধবারা আমিষ খেতে পারবে না।”
কণ্ঠে দৃঢ়তা এনে ধীরে ধীরে বলল সে।
“অনেক আগেই রাজা রাম মোহন রায় সতীদাহ প্রথা বন্ধ করে দিয়েছেন। আর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহের মতো প্রথা চালু করেছেন। তাহলে আজও কেন এই অযৌক্তিক নিয়মগুলো আঁকড়ে ধরে থাকবে"
এই দেখে তিনি আবার হায় হায় করে বিলাপ শুরু করলেন।
ঈশ্বররায় এর দিকে তাকিয়ে বললো দেখ দেখ তোর ছেলের বউ কি করেছে ।ঐ মাগি রুপ দিয়ে আমার ছেলেকে বস করতে চাইছে স্বামী মারা গেছে তবুও গায়ের জ্বালা কেমেনি মাগির।
এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শুনে মোহিনীর গা গুলিয়ে উঠলো বিয়ের প্রথম দিন থেকেই আজানা কারনে পিসি তাকে পছন্দ করে না তাই বলে মেয়ের বয়সী একটা মেয়েকে এমন মন্তব্য করতে তার মুখে বাঁধছে না।
ঈশ্বর বায় বোনের কথা শুনে ধমক দিয়ে বললো অনেক হয়েছে তোমাদের এইসব এখন বন্ধ করো ।
মোহিনীর দিকে তাকিয়ে বললো এইদিকে আয় মা মোহনী চলচল চোখে ধীরপায়ে গিয়ে দাঁড়ালো শশুর এর পাশে এই একটা মানুষ কে সে ভীষণ ভালোবাসে বিয়ের পর থেকে এই মানুষ টা থাকে মেয়ের মতো আগলে রেখেছে ভালোবেসেছে ।
ঈশ্বর রায় ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে মোহিনীর মাথায় স্নেহভরা হাত রাখলেন। তাঁর কণ্ঠ ভারী, চোখে টলমল করছে অশ্রু।
“মোহিনী আমার ছেলের বউ নয়… আমার মেয়ে,” তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বললেন।
চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কেউ যেন কথা বলার সাহস পেল না।
তিনি আবার বললেন,
“আমার ছেলে মারা গেছে—এই সত্য আমি মেনে নিয়েছি।তাই বলে আমি আমার মেয়েকে তো মেরে ফেলতে পারি না । তার সব রঙ, সব ইচ্ছা, সব আনন্দ কেড়ে নেবো? না, তা আমি কখনোই করতে পারি না।”
একফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো তাঁর গাল বেয়ে। তিনি সবার দিকে তাকিয়ে আরও দৃঢ়ভাবে বললেন—
“ও যা ইচ্ছে খাবে, যা ইচ্ছে পরবে। কোন শাস্ত্রে লেখা নেই যে বিধবা রঙিন কাপড় পরতে পারবে না? আমিষ খেতে পারবে না? এসব মানুষের বানানো নিয়ম—নিষ্ঠুর, অমানবিক নিয়ম!” কোন সমাজের নিয়মে আমি আমার মেয়েকে বেঁধে রাখবো না সে মুক্ত, মুক্ত পাখির মতো সে ঊরব। আমার মেয়ের স্বাধীনতা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।
ললিতার দিকে তাকিয়ে ঈশ্বর রায় ধীর ও গভীর কণ্ঠে বললেন,
“যুগ এখন আর আগের মতো নেই, দিদি। চারদিকে সমাজ তার নিষ্ঠুর আচার-অনুষ্ঠান, কুসংস্কার শিকড়ে বেঁধে রাখা নিয়মের পরিবর্তনের গান গাইছে। মানুষ আজ বুঝছে যে কেবল বিধি-বিধান মানলেই জীবনের অর্থ পূর্ণ হয় না।
তাহলে এই যুগে দাঁড়িয়ে, আপনি কীভাবে এত ছোট্ট একটি মেয়ের কাছ থেকে তার স্বাভাবিক অধিকার, তার আনন্দ, তার স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছেন?”
ললিতা কিছুক্ষণ চুপ থেকে ভারাক্রান্ত চোখে তাকালেন। মনে হচ্ছিল, সময়ের বায়ু যেন তার ভেতরের কষ্ট ও পুরোনো স্মৃতির আবছা ছায়া উড়িয়ে নিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত ভারী গলায় বললেন,
“ওর বয়সেই আমার স্বামী মারা গিয়েছিল, । আমি তখনও তো কেবল একটি ছোট্ট মেয়ে, ছিলাম আমার জীবনও অন্ধকারে ঢেকে ছিল রংহীন । আমার বেলায়, সেই সময়ে, কেন সমাজ আমাকে এত নিয়মে বেঁধে রেখেছিল? — তখন কেন কেউ এগিয়ে এসে এই নিয়ে ভাঙেনি?
ঈশ্বর রায়ের চোখে গভীর দৃষ্টি, মুখে শান্ত কিন্তু দৃঢ় অনুভূতি। তিনি ধীরে ধীরে বললেন,
“আপনি যে কষ্ট সহ্য করেছেন, দিদি… আপনি কি সত্যিই চান সেই একই কষ্ট মোহিনীও ভোগ করুক? ওর যন্ত্রণা হয়তো কেউ বুঝবে না, কিন্তু আপনার তো বোঝার কথা ছিল। কারণ সেই পথের পথিক তো আপনি নিজেই হয়েছেন। আজ যে পথে হেঁটে চলেছে এই ছোট্ট মেয়ে— আপনি কি সত্যিই চান, সে-ও সেই সমস্ত কষ্ট ভোগ করুক, যা একদিন আপনাকে সহ্য করতে হয়েছিল?”
কোনো কথাই যেন ললিতার কানে পৌঁছাচ্ছে না। তার মনে একটাই ভাব: যেমন সে নিজে বিধবা হয়ে বিধবার মতো জীবন কাটিয়েছে—নিরামিষ খেয়েছে, ফল খেয়েছে, সাদা থান পড়েছে, এবং সকল আচার অনুষ্ঠান থেকে নিজেকে দূরে রেখেছে—মোহিনীকেও ঠিক তেমনই থাকতে হবে। নিজের সিদ্ধান্তে সে অটল।
কথায় আছে "নারীই নারীর আসল শত্রু" কথাটা যেন মিলে গেল মোহীনির জীবনে ।একটা নারী কখনো অন্য নারীর শুখ সহ্য করতে পারে না। ললিতাও এমন ই এক নারী তিনি চান সে যেমন সামাজের নিয়মে পিষ্ট হয়েছে। মোহিনী ও তাই হোক সে যখন সব মানতে পেরেছে মোহনীর বেলায় কেন তা হবে না ।
তখন ই ঈশ্বর চন্দ্র অবিশ্বাস্য একটা কাজ করে বসলেন মোহিনীর ফেলে আসা ভাতের থালাটা তুলে নিলেন নিজের হাতে লোকমা বানাতে বানাতে বললেন ক্ষুদার কোন সদবা বিধবা নেই।
উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ গুলো নিরব হয়ে গেল
ঈশ্বর চন্দ্র মোহিনীর দিকে তাকিয়ে বললো হা করতে মোহিনী চোখ থেকে আঝোর ঝায়ায় জল পড়ছে যেখানে তার বাবা মা সে বিধবা হয়েছে বলে তাকে একটা বার দেখেই চলে গেল গিয়ে আর খোঁজ ও নিলো না তাদের ঘারে গিয়ে উঠবে বলে সেখানে এই মানুষ টা নিজের বাবা না হয়ে ও সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে সকল নিয়ম কানুন থেকে মুক্ত করতে চাইছে ।
মোহিনী হা করলো ঈশ্বররায় মাছ দিয়ে মোহিনীর মুখে ভাত তুলে দিতে দিতে বললো ।
অলুক্ষনে কাজ মাছ খাওয়া নয় ।অলুক্ষনে হলো মানুষের উপর অন্যায় নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া।
(সমাপ্ত)
এইভাবেই হয়তো সমাজে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে নারীরা সামাজিক নিয়মের বঞ্চনায় আবদ্ধ ছিল, তাদের স্বাধীনতা বন্ধনবদ্ধ, তাদের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা সমাজের কঠোর বিধিনিষেধের পায়ে পিষ্ট। ক্ষুদ্রতম অসঙ্গতি-ও কুসংস্কারের চোখে অপরাধ, আর নারীরা প্রায়শই নিজের স্বপ্ন আর আনন্দ ত্যাগ করতে বাধ্য হত।
কিন্তু ধীরে ধীরে, সাহসী মনগুলো উঠে দাঁড়ালো। তারা চ্যালেঞ্জ করল পুরোনো রীতি-নীতি, উপেক্ষা করল নিপীড়নের আওয়াজ। এই প্রতিবাদ, এই অদম্য আত্মবিশ্বাস, ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে সমাজে আলো ছড়াতে লাগল। একেবারে সাধারণ নারীরাও দেখল, নিজের স্বাধীনতা দাবি করা কোনো পাপ নয়, বরং মানবতার মৌলিক অধিকার।
এভাবেই হয়তো সমাজের নিষ্ঠুর নিয়মের কড়া থেকে নারীরা মুক্তি পেতে শুরু করল, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, নতুন স্বাধীনতার পথে এক-একটি পদক্ষেপে। সেই যাত্রার প্রতিটি ছোট গল্পই ছিল সমাজ পরিবর্তনের অদৃশ্য শক্তিশালী সোপান।