27/01/2026
টেকনাফে ARSA সন্ত্রাসীর মাদক পাচারের চেষ্টা ভেস্তে দিল বিজিবি
নাফ নদী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে আটক ১ ARSA সদস্য, উদ্ধার ৪০ হাজার ইয়াবা ও ১৪৭ রাউন্ড গোলাবারুদ
টেকনাফ সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র পাচারের মাধ্যমে নাশকতার একটি বড় পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নাফ নদী সীমান্তে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মিয়ানমারভিত্তিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ARSA (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি)-এর এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বিজিবি। এ সময় তার কাছ থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১৪৭ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) ধারাবাহিকভাবে সফল অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে আজ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ গভীর রাতে টেকনাফ উপজেলার দমদমিয়া বিওপি সংলগ্ন নাফ নদীর অভ্যন্তরে বাংলাদেশের জলসীমায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, কুয়াশার আড়ালে নাফ নদী ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ও অস্ত্রের একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর পরিকল্পনা করছে সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিরা। এই তথ্যের প্রেক্ষিতে ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি-এর পরিকল্পনা ও সরাসরি নেতৃত্বে একটি বিশেষ রণকৌশলগত অভিযানের ছক প্রণয়ন করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যাটালিয়নের নিয়মিত নৌ-টহল দলকে দমদমিয়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে মোতায়েন করা হয়। অত্যাধুনিক সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তির সহায়তায় রাত আনুমানিক ০২টা ১০ মিনিটে দমদমিয়া বিওপি’র বিআরএম-৯ পয়েন্ট থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে জাদিমুরা নেচার পার্ক সংলগ্ন নাফ নদীর অভ্যন্তরে একজন ব্যক্তিকে সাঁতরে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করতে দেখা যায়।
পরবর্তীতে নৌ-টহল দল প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালনা করে রাত আনুমানিক ০২টা ৪০ মিনিটে ওই ব্যক্তিকে বিশেষ কৌশলে আটক করতে সক্ষম হয়। আটকের পর তার সঙ্গে থাকা দুটি প্যাকেট তল্লাশি করে এক প্যাকেট থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং অপর প্যাকেট থেকে ১৪৪ রাউন্ড ভারী অস্ত্রের গুলি, ৩ রাউন্ড ক্ষুদ্রাস্ত্রের গুলি ও একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি ARSA সন্ত্রাসী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে। উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ মাদক ও গোলাবারুদ সীমান্ত এলাকায় নাশকতা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং মাদক বাণিজ্যে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন,
“সীমান্ত এলাকায় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সন্ত্রাসবাদ, অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদক ও মানব পাচারসহ সকল প্রকার আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির এই কঠোর ও কার্যকর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
উদ্ধারকৃত মাদক, অবৈধ গোলাবারুদ এবং আটক ARSA সদস্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
#বিজিবি
#টেকনাফ
#নাফনদী
#সীমান্তনিরাপত্তা
#সন্ত্রাসবাদ
#মাদকবিরোধীঅভিযান
#ইয়াবা
#মাদকপাচার
#অবৈধঅস্ত্র
#নাশকতারছক