25/07/2026
# জন্ম থেকে কবর পর্যন্ত: মানুষের জীবনচক্র
একটি ছোট্ট কান্নার মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে আসে একটি নতুন প্রাণ। সেই কান্নাই তার প্রথম পরিচয়, প্রথম ভাষা। মায়ের বুকে মাথা রেখে, বাবার স্নেহে আর পরিবারের ভালোবাসায় শুরু হয় তার জীবনের পথচলা।
শৈশব কেটে যায় হাসি, কান্না, খেলাধুলা আর হাজারো স্বপ্নে। ছোট ছোট পায়ে হাঁটা শেখা, প্রথম কথা বলা, প্রথম স্কুলে যাওয়া—প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে জীবনের অমূল্য স্মৃতি।
তারপর আসে কৈশোর। নতুন নতুন স্বপ্ন, নতুন চিন্তা আর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সে বড় হতে থাকে। পড়াশোনা, বন্ধুত্ব, সংগ্রাম আর নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা—সব মিলিয়ে জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
যৌবনে মানুষ নিজের লক্ষ্য ঠিক করে। কেউ চাকরি করে, কেউ ব্যবসা গড়ে, কেউ পরিবার তৈরি করে। সুখ-দুঃখ, সফলতা-ব্যর্থতা, ভালোবাসা-বিচ্ছেদ—সবকিছুর মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলে জীবন। এই সময়েই মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীতে কোনো সুখই চিরস্থায়ী নয়, আবার কোনো কষ্টও চিরদিন থাকে না।
ধীরে ধীরে বার্ধক্য আসে। মাথার চুল পেকে যায়, মুখে ভাঁজ পড়ে, শরীরের শক্তি কমে আসে। যে মানুষ একদিন অন্যের হাত ধরে পথ দেখিয়েছিল, আজ সে-ই অন্যের হাতের ভরসা খোঁজে। পুরোনো স্মৃতিগুলোই তখন তার সবচেয়ে বড় সঙ্গী হয়ে ওঠে।
একদিন আসে জীবনের শেষ মুহূর্ত। শেষ নিঃশ্বাসের সঙ্গে শেষ হয়ে যায় পৃথিবীর সব ব্যস্ততা, সব পরিচয়, সব অহংকার। মানুষ রেখে যায় তার প্রিয়জন, স্মৃতি আর কিছু অসমাপ্ত গল্প।
তারপর শুরু হয় শেষ যাত্রা। আপনজনেরা অশ্রুসজল চোখে তাকে বিদায় জানায়। জানাজা শেষে তাকে শায়িত করা হয় ছোট্ট একটি কবরের মাটিতে। যে মানুষ একদিন বিশাল পৃথিবীতে নিজের জন্য জায়গা খুঁজেছিল, শেষ পর্যন্ত তার ঠিকানা হয়ে যায় কয়েক হাত মাটি।
সেই কবরই হয়ে ওঠে দুনিয়ার জীবনের শেষ অধ্যায় এবং পরকালের যাত্রার সূচনা। তাই মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—জন্ম যেমন নিশ্চিত, তেমনি মৃত্যু-ও অনিবার্য। এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে ভালো কাজ, মানবতা, সততা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসাই এমন সম্পদ, যা মৃত্যুর পরও মানুষের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখে।
আল্লাহ পাক সবাইকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার তৌফিক দান করুক। আমিন