08/11/2025
প্রায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ একটি /দুটি করে সরকারি মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে (সারা দেশে ৬৯৩টি)। এইসব স্কুল প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী। যুগের পর যুগ সরকারি স্কুলগুলো ভালো রেজাল্ট করে এসেছে, সচেতন অভিভাবকরাও সন্তানদের এই স্কুলগুলোতে ভর্তি করিয়ে আসছিলেন।
স্কুলগুলোর শিক্ষকদেরও প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে হয়েছে। শিক্ষকগণও অত্যন্ত যোগ্যতা সম্পন্ন। এই স্কুলগুলোতে রয়েছে পরিপূর্ণ অবকাঠামো, তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পছন্দ এই স্কুলগুলো।
ভালো স্কুল গুলো ঠিক একই কারণে অভিভাবকদের পছন্দের তালিকায় থাকে। লটারি সিস্টেম এর আগে, মা-বাবারা ছোট ছোট বাচ্চাদের অমানবিক একটি ভর্তি যুদ্ধের মাধ্যমে এসব স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। কিছু কিছু অভিভাবক বাচ্চাদের বার্থ সার্টিফিকেট প্রতিবছর পরিবর্তন করে করে দুই তিন বছর কোচিং করিয়েও এসব স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। যেহেতু ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে স্টুডেন্টরা ভর্তি হচ্ছিল, তাই প্রতিটা স্টুডেন্ট স্বাভাবিক কারণেই কিছুটা প্রস্তুত হয়ে স্কুলে ভর্তি হচ্ছিল।
একদিকে কিছুটা এগিয়ে থাকা স্টুডেন্ট, অন্যদিকে সচেতন অভিভাবক। আবার এইসব সচেতন অভিভাবকরা স্কুলের বাইরে শিক্ষার্থীদের কোচিং করিয়ে, প্রাইভেট পরিয়ে হলেও পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত করেছেন। ফলাফল, শিক্ষকরা ক্লাসে খুব এফোর্ট না দিলেও ছাত্রছাত্রীদের রেজাল্ট ভালো হচ্ছিল।
সমস্যার শুরু, লটারিতে স্টুডেন্ট ভর্তি করার পর থেকে। স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেয়া যায় লটারিতে ৫০% স্টুডেন্ট কিছুটা প্রস্তুত হয়ে স্কুলে ভর্তি হয়েছে আর ৫০% স্টুডেন্ট প্রস্তুত না। তাই যেভাবে স্টুডেন্ট ও অভিভাবকদের চেষ্টায় এই স্কুলগুলোর রেজাল্ট ভালো হচ্ছিল, লটারিতে ভর্তি করার কারণে এই সরকারি স্কুলগুলোসহ ঢাকার নামিদামি কয়েকটা স্কুল আর আগের রেজাল্ট বজায় রাখতে পারছে না। স্কুলগুলোর পক্ষ থেকে রেজাল্ট খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে এরা লটারির বাচ্চা!
বিগত কয়েক বছরে প্রায় প্রতিটা সরকারি স্কুলের রেজাল্ট অন্যান্য বেসরকারি ও প্রাইভেট স্কুলের রেজাল্ট এর চেয়ে দিন দিন খারাপ হচ্ছে। যেহেতু এদের রেজাল্ট খারাপ হচ্ছে, তাই এসব সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের মার্কেটে কোচিং টিচার হিসেবে ডিমান্ড কমে যাচ্ছে। প্রাইভেট টিচার হওয়া দৌড়ে উনারা পিছিয়ে পড়ছেন। এতে এসব মেধাবী শিক্ষকদের বাজারে সুনাম নষ্ট হচ্ছে। একটুর জন্য বিসিএস ক্যাডার না হতে পারা এসব মেধাবী সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের ইগোতে লেগেছে এই ব্যাপারগুলো। তাই এখন উঠে পরে লেগেছে, লটারিতে ভর্তির বিরুদ্ধে।
কিভাবে বাকি ৫০% শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে নার্সিং করে রেজাল্ট ভালো করা যায় ওই দিকে এইসব ইগোধারী শিক্ষকদের মনোযোগী হওয়া উচিত। লটারি খুব ভালো একটা সিস্টেম। আরামে বসে বসে খাওয়ার দিন শেষ। এবার স্যাররা একটু পরিশ্রম করুন, তাহলে দেখবেন লটারি আর খারাপ লাগবে না।
দেখবেন, লটারির বাচ্চাগুলোও ভালো রেজাল্ট করবে, আপনারা আবার আপনাদের হারানো গৌরব ফিরে পাবেন।
ChatGpt কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেন লটারির মাধ্যমে ভর্তি শুরু করা হয়?
ChatGpt উত্তর দিয়েছে, লটারির মাধ্যমে ভর্তি চালুর পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ ছিল:
1. ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতা ও কোচিং নির্ভরতা কমানো:
ভর্তি পরীক্ষার জন্য অনেক অভিভাবক ছোট ছোট শিশুদের কোচিং সেন্টারে পাঠাতেন, যা শিশুদের ওপর অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ তৈরি করত।
2. সমান সুযোগ নিশ্চিত করা:
লটারির মাধ্যমে ভর্তি পদ্ধতি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে সব শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পায়, তাদের আর্থিক অবস্থা, কোচিং সুবিধা, বা পূর্বপ্রস্তুতি যাই থাকুক না কেন।
3. স্বচ্ছতা ও অনিয়ম রোধ করা:
ভর্তি পরীক্ষায় ঘুষ, প্রভাব খাটানো বা অনিয়মের অভিযোগ প্রায়ই উঠত। ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ভর্তি করলে এই অনিয়মের সুযোগ অনেকটাই কমে যায়।