16/05/2026
মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী (২০৪৩০) প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ পদে কর্মরত। তিনি ২৪তম বিসিএসের একজন কর্মকর্তা। ফরিদী মূলত ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন। পরবর্তীতে প্রশাসন ক্যাডারে মার্জ হন।
১) পরিচয় দিলেও ছাত্রদল নন:
ফরিদী নিজেকে বুয়েটের সাবেক ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও বুয়েটের সাবেক ছাত্রদল নেতারা তাকে কখনো ছাত্রদলের নেতা হিসেবে দেখেননি। সাবেক শিবির সভাপতি, বর্তমান এ বি পার্টির আহবায়ক মুজিবুর রহমান মঞ্জু প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপচারিতা বলেছেন,"তিনি যখন শিবিরের সভাপতি ছিলেন, তখন বর্তমান ফরিদী বুয়েটে শিবিরের গুপ্ত নেতা ছিলেন।"
ডিজিএফআই তাদের মূল্যায়ন রিপোর্টে লিখেছে, “মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী ছাত্রজীবন ও বিগত কর্মজীবনে কখনো বিএনপির রাজনীতির সাথে তার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলে জানা যায়।”
----------
২) আওয়ামী আমলে গুপ্ত:
ডিজিএফআই রিপোর্টে আরও লেখা হয়, “বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি উপসচিব হিসেবে স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়িত ছিলেন বলে জানা যায়।” অথচ সে সময়ে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো কর্মকর্তা সচিবালয়ে পদায়ন পাওয়া তো দূরের কথা, ঢাকা শহরের কোনো অধিদপ্তরেও চাকরি করার সুযোগ পাননি। এ অবস্থায় ফরিদী গুপ্ত না হলে কি আওয়ামী আমলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়ন লাভ করতে পারে?
----------
৩) তদবীর ও দুর্নীতি:
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে (৭/৮/২০২৪ তারিখে) ফরিদী গুপ্ত অবস্থায় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি উইংয়ে উপসচিব হিসাবে যোগ দেন মূলত ’৮৫ ব্যাচের কামরুজ্জামানের (বর্তমান চুক্তিভিত্তিক স্বাস্থ্য সচিব) চেষ্টায়। ৫ আগস্টের পরে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর সাহেবের পিএস কামরুজ্জামান গুলশান অফিসে বেশ দৌড়ঝাপ করতেন, চেয়ারপারসনের পিএস সাত্তারের বাধ্যগত হয়ে চলতেন। সেই সুবাদে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে তয়তদবীর করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছেন। মূলত এই ফরিদীর কাছে লিস্ট দিয়ে আসলে অর্ডার করে দিতো, এবং দু’জনেই আর্থিকভাবে লাভবান হতো। এক পর্যায়ে দুর্নাম ছড়িয়ে পড়ে, ফরিদীকে জনপ্রশাসন থেকে বের করে দেয়া হয়। কিন্তু সাত্তার এবং কামরুজ্জামান এসে আবার একই দিনে অর্ডার বাতিল করে ফরিদীকে জনপ্রশাসনে পোক্ত করে যায়। এখানে থেকে ফরিদী যুগ্মসচিব পদোন্নতি নেন।
এ নিয়ে ডিজিএফআই রিপোর্টে লেখা হয়, “যুগ্মসচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী ০৫ আগষ্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সাবেক সচিব ও বিএনপি চেয়ারম্যান এর একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এর জোর সুপারিশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি উইংয়ে উপসচিব হিসেবে পদায়ন লাভ করেন। উক্ত সময় থেকে তিনি জনপ্রশাসনে এবিএম আব্দুস সাত্তার-এর সকল প্রকার সুপারিশ/তদবির পরোক্ষভাবে বাস্তবায়ন করতেন। এবিএম আব্দুস সাত্তার এর সাথে তৎকালীন জনপ্রশাসন সচিব মোখলেসুর রহমান ও এপিডি উইং এর অতিরিক্ত সচিব এরফানুল হকের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ছিল বিধায় মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী এবিএম আব্দুস সাত্তারকে সকল বিষয়ে সহযোগিতা করতেন বলে জানা যায়। “
----------
৪) জামায়াতের হয়ে কাজ করা:
যুগ্মসচিব হিসেবে জনপ্রশাসনের এপিডি উইংয়ে থেকে ফরিদী জামায়াত-এনসিপির হয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে (জামায়াতের রোকন) কেবিনেট সচিব শেখ আবদুর রশিদের খুব প্রিয়পাত্র ছিল এই ফরিদী। কেবিনেট সচিব যেমন ফরিদীকে ডেকে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর চাহিদাপত্র ফরিদীর হাতে দিয়ে অর্ডার করিয়ে নিতো, পাশাপাশি ফরিদীকে দিয়ে গুপ্ত অফিসার বাছাই করে মাঠপ্রশাসনে বসায় কয়েক’শ অফিসার। এদের ওপর ভর করেই জামায়াত ক্ষমতায় যাওয়ার নীল নকশা প্রনয়ণ করেছিল। ফরিদীর হাত দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রায় ৮৫ শতাংশ ডিসি-ইউএনও পদে গুপ্ত-জামাতি অফিসারদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা বর্তমান এনএসআইয়ের রিপোর্টেও উঠে এসেছে। ওই সময়ে ফরিদী ছাত্রদল ব্যাকগ্রাউন্ডের অফিসারদের কোনঠাসা করে রেখেছিলেন।
ডিজিএফআই রিপোর্টে বলা হয়েছে, “এপিডি উইংয়ে কর্মরত থাকাকালে তার স্বেচ্ছাচারিতা ও একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রদর্শনের কারণে বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ এর মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার/নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান। তার বিরুদ্ধে নির্বাচনের পূর্বে জেলা প্রশাসক ও সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদায়নের ক্ষেত্রে লটারির নামে নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করে পদায়ন করার অভিযোগ রয়েছে। যা নিয়ে তৎসময়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। “
----------
৫) গুলশান অফিসে অঘোষিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়:
মজার কান্ড করে ২০২৪এর ৫ আগস্টের আগে। তখন শীষ হায়দার নামে এক জামাতি অতিরিক্ত সচিবের সাথে মিলে দীর্ঘদিন জামায়াতের পারপাস সার্ভ করেছে ফরিদী। কিন্তু যেই না হাসিনা সরকার পতন ঘটেছে, সাথে সাথেই সে গুলশান বিএনপি অফিসে চেয়ারপারসনের পিএস এবিএম আবদুস সাত্তারের সাথে ভিড়ে যায়। সেখানে এক ভয়াবহ কান্ড করে বসে ফরিদী। ঐ অফিসের কম্পিউটারে বসে সচিবালয়ের (সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে সচিব পর্যন্ত) ২০০ অফিসারের ট্রান্স/ পোস্টিংয়ের জিও তৈরি করে ফেলে সরকাররে বা কতৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে। মানে এখন থেকে অর্ডার নিয়ে সচিবালয়ে বসে যাবে। কিন্তু বিএনপির হাইকমান্ড এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেয়নি।
ডিজিএফআই রিপোর্ট বলছে, “এপিডি উইং এ কর্মরত থাকাকালীন মাঠ প্রশাসনসহ সকল পদোন্নতি/পদায়নে দলীয় ও ইকোনমিক ক্যাডার প্রীতি এবং এক্ষেত্রে একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রদর্শন/স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টি বেশ সমালোচনা সৃষ্টি করে।”
----------
৬) ডুয়াল গেম:
তবে এর আগে অন্তর্বর্তী আমলে ডুয়াল খেলতে থাকেন ফরিদী। কথিত আছে, তিনি লন্ডনে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করে আসেন সাত্তারের আয়োজনে, এবং পিএসগিরি নিশ্চিত করে আসেন। অন্যদিকে জামায়াতকে চাহিদামত পোস্টিং দিয়ে খুশি রাখতো, যদি তারা ক্ষমতায় চলে আসে তখন সুবিধা নেয়া যাবে গুপ্ত হিসাবে। তবে ২৬এর নির্বাচনের মাসখানেক আগে ফরিদী তার নিজের লোকদের কাছে ঘোষণা দেয়, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের