28/01/2026
ডিম, জুতা, কিল, ঘুষির রাজনীতি—
কে শুরু করেছিল, সত্যিই ভুলে গেছ ভাইয়া?
তখন এই তথাকথিত ‘জনতার রাগ’
তোমাদের কাছে কতই না বিনোদন মনে হয়েছিল।
হাততালি পড়েছিল, মজা লেগেছিল,
ভেবেছিলে—রাগটা একমুখীই থাকবে।
লাখো শিক্ষককে জুতা-পেটা,
কোর্ট-কাছারি থেকে শুরু করে সর্বত্র ডিম নিক্ষেপ—
সবকিছুর নাম দিয়েছিলে ইনসাফ, বা জনতার বিচার,
আর তোমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেছিলে।
আজ যখন সেই একই রাগ একই মব
ঘুরে এসে উল্টো দিক থেকে আঘাত করছে,
তখন তোমরা বিস্মিত! কেন?
ইতিহাসকে কি এতটাই নিরীহ ভেবেছিলে?
যাদের একসময় তোমরা জুতা-পেটা করেছ,
ডিম নিক্ষেপ করেছ বাহিনী দিয়ে—
তাদেরও তো পরিবার আছে,
ভালোবাসার মানুষ আছে।
আজ তোমাদের দিকে যখন ডিম ছুটে আসে,
হতে পারে সেই ভিড়ের মধ্যেই আছে
তাদের পরিবারের কেউ আছে, থাকতেই পারে,
কারণ একদিন তার ভালোবাসার মানুষকে তার আদর্শকে তুমি জুতা পিটা করে দিলে, তার বাবাকে জোর করে জুতার মালা দিয়ে গ্রামে ঘুরিয়ে ছিলে,
এটা নিয়তি।
এটাই ন্যাচারাল রিভেঞ্জ।
এটাই ইতিহাসের ঘূর্ণনচাকা—
কারও জন্য থেমে থাকে না,
কারও অনুমতির অপেক্ষাও করে না।
আইনের মাধ্যমে বিচার প্রতিষ্ঠা না করে
তোমরা আগেই মব-বিচার কায়েম করেছ।
তাই তা ফিরে আসবে—এটাই স্বাভাবিক।
আফসোস করো না ভাইয়া,
আরও অনেক কিছুই হবে।
কারণ এগুলো তোমাদেরই তৈরি করা
ফ্রাংস্টাইনের দানব—
যা আজ তোমাদেরই গিলে খাচ্ছে।
একাকীত্বে বসে ভাবো—
সত্যিই কি তোমরা বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে পেরেছ,
নাকি বৈষম্যই তৈরি করেছ?
একদল ভোট চাইতে গেলে
মানুষ বারান্দা থেকে ফুল ছিটায়,
আরেক দলকে ছিটানো হয় পচা ডিম।
এই হলো তোমাদের দেড় বছরের অর্জন।
কষ্ট লাগে তোমাদের এমন অবস্থা দেখে..
অথচ এই জায়গায়
তোমাদের জন্য ফুলের ঝুড়ি হাতে
মানুষের দাঁড়িয়ে থাকার কথা ছিল।
কিন্তু তোমরাই শুরু করেছিলে—
আইন, কোর্ট, বিচার—কিছুই মানোনি,
নিজেরাই বিচার কায়েম করেছ।
যে সন্তানের সামনে
তার বাবাকে জুতার মালা পরিয়ে
গণপিটুনিতে হ/ত্যা করা হয়েছে,
সে সন্তান সারা জীবন অভিশাপ দেবে।
সুযোগ পেলে ডিম ছুড়বেই—
দল বদলে হোক, ভিড় বদলে হোক।
তোমরা শিক্ষিত—
এটা তো জানা উচিত ছিল।
আজ জনগণের কাছে গিয়ে বলছ
বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চাও,
আর জনগণ মুখের ওপর বলে দিচ্ছে—
তোমরা বৈষম্যই তৈরি করেছ।
ভরসা ছিল,
কিন্তু তা রাখতে পারোনি।
মবক্রেসি কায়েম করে
কখনো টেকসই সুফল আসে না।
সাময়িক আনন্দ আসে,
কিন্তু কষ্টের হিসাব জমে থাকে।
সুযোগ পেলেই
সেই কষ্ট তোমাদের দিকেই ফিরবে—
এটাই স্বাভাবিক।
কারণ ইতিহাস কৃতজ্ঞ হয় না—
হিসাব ঠিকই বুঝে নেয়,
সময়মতো।