23/05/2025
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই সংস্কারগুলো মূলত প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে কেন্দ্রীভূত।
✅ সম্পন্ন বা অগ্রগতি হওয়া সংস্কারসমূহ:
1. সংস্কার কমিশন গঠন: প্রথমে ছয়টি এবং পরে আরও চারটি কমিশন গঠন করা হয়েছে, মোট ১০টি। এই কমিশনগুলো নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন, সংবিধান, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, শ্রমিক অধিকার এবং নারী বিষয়ক খাতে কাজ করছে। বেশিরভাগ কমিশন ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং ডিসেম্বর ২০২৪-এর মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ।
2. স্বাস্থ্যখাত সংস্কার: স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন পুরনো আইন পর্যালোচনা করে নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে রোগী সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ও রোগী নিরাপত্তা আইন, এবং স্বাস্থ্যখাতে টেকসই অর্থায়ন আইন প্রণয়ন ।
3. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বৃদ্ধি এবং নতুন মুদ্রা ছাপানো বন্ধ করা হয়েছে। তেল ও চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্কহার কমানো হলেও বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে ।
4. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন: জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহায়তা অর্জন করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে ।
5. গুরুত্বপূর্ণ আইন সংস্কার: ধর্ষণের তদন্ত ১৫ দিনের মধ্যে এবং বিচার ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩২ বছরে উন্নীত করা হয়েছে ।
⏳ চলমান বা অসম্পন্ন সংস্কারসমূহ:
1. সংবিধান সংস্কার: সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিশন গঠন করা হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের অভাবে এই প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে ।
2. দুর্নীতি দমন: দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং ন্যায়পাল নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে আরও সময় প্রয়োজন ।
3. নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার: নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন কাজ শুরু করেছে, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার অভাবে এই প্রক্রিয়াও ধীরগতিতে চলছে ।
🔍 সারসংক্ষেপ:
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক ঐকমত্যের অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনেক সংস্কারকে ধীরগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। সফল সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।