14/08/2026
আজ ১৫ আগস্ট। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম প্রয়াণ দিবস।
তো, গোলাম আযমকে সুযোগ্য পিতা মানা বদরগঞ্জের বদরুল অনেক ভেবে-চিন্তে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে,
«“শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায় নাই, শেখ মুজিবের বিচার চাই। মুজিবপ্রেমী থাকলে আমার লিস্ট থেকে বের হয়ে যাও।”»
অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিশ্বনেতাদের মূল্যায়ন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ফিদেল ক্যাস্ট্রো বলেছিলেনঃ-
“আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটি হিমালয়ের সমান।”
ইন্দিরা গান্ধীর ভাষায়ঃ-
“তিনি ছিলেন একজন মহান নেতা। তাঁর অসাধারণ বীরত্ব এশিয়া ও আফ্রিকার মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।”
ক্রিশ্চিয়ান উলফ, জার্মানির সাবেক রাষ্ট্রপতি, বলেছেনঃ-
“শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন মহান রাষ্ট্রনায়ক, যিনি তাঁর জনগণের অধিকার ও মর্যাদার জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং স্বাধীনতার প্রতি অবিচল ছিলেন।”
ইয়াসির আরাফাতের মতেঃ-
“মুজিবের চরিত্রের বিশেষত্ব ছিল তাঁর আপসহীন সংগ্রামী নেতৃত্ব ও উদার হৃদয়।”
হ্যারল্ড উইলসন, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর হত্যার সংবাদ শুনে বলেছিলেনঃ-
“এটি আপনাদের জন্য এক চরম জাতীয় ট্র্যাজেডি। আর আমার জন্য এটি ব্যক্তিগতভাবে এক বিরাট ক্ষতি।”
লক্ষ্মণ কাদিরগামার, সাবেক শ্রীলঙ্কান পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বলেছিলেনঃ-
“গত কয়েক শতাব্দীতে দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বকে বহু শিক্ষক, দার্শনিক, রাষ্ট্রনায়ক, রাজনৈতিক নেতা ও যোদ্ধা দিয়েছে। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন; সর্বোচ্চ স্থানে তাঁর স্থান নির্ধারিত।”
সোনিয়া গান্ধী লিখেছেনঃ
“তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা ও রাষ্ট্রনায়ক, যিনি অদম্য সাহসে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন।”
জন এফ. কেরি, সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বলেছেনঃ
“এমন এক উজ্জ্বল ও সাহসী নেতৃত্বকে সহিংসতা ও কাপুরুষতার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া কতটা দুর্ভাগ্যজনক!”
প্রণব মুখার্জি, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি, বলেছেন,
“শেখ মুজিব ছিলেন জনগণের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত। ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি তাঁর দেশপ্রেমের অসাধারণ প্রকাশ।”
ইতিহাসকে অস্বীকার করা যায়, ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক করা যায়, কিন্তু ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না।
একজনের ফেসবুক পোস্ট আর বিশ্বনেতাদের ইতিহাসসম্মত মূল্যায়নের মধ্যে পার্থক্যটা বুঝতে হলে খুব বেশি কিছু বলার প্রয়োজন হয় না।
— Tanvir Hassan Tuhin