29/09/2026
উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে কলাতলীতে খাস জমিতে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ
২৫ ফুট টিনের বেড়ার আড়ালে দিনে-রাতে উঠছে ২০ দোকান, কোটি টাকার ‘সালামি’ বাণিজ্যের অভিযোগ
কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজার শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা কলাতলীতে উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) অমান্য করে সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২৫ ফুট উঁচু টিনের বেড়া দিয়ে জায়গাটি আড়াল করে দিনে-রাতে দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি খাস জমি দখল করে সেখানে প্রায় ২০টি দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দোকান বরাদ্দ বা দখলের বিপরীতে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি। সব মিলিয়ে এই জায়গাকে কেন্দ্র করে কোটি টাকার ‘সালামি’ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের বেলায় সাধারণ মানুষের চলাচল ও প্রশাসনের নজর এড়াতে নির্মাণকাজ সীমিত রাখলেও রাতের আঁধারে কাজের গতি বাড়ানো হচ্ছে। এভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই টিনের কাঠামো তৈরি করে দোকানগুলো দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি জমিতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করতে পারে না। বিশেষ করে আদালতের নির্দেশনা বা স্থিতাবস্থা বহাল থাকলে সেখানে নতুন করে নির্মাণকাজ চালানো আদালতের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তারপরও প্রভাবশালী একটি মহল প্রশাসনের নজর এড়িয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণাধীন এলাকাটি প্রায় ২৫ ফুট উঁচু টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ফলে বাইরে থেকে ভেতরের কাজ সহজে দেখা যায় না। এই সুযোগে দ্রুত দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজ বন্ধ না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে প্রায় ২০টি দোকান স্থায়ী রূপ পেতে পারে। পরে এসব দোকান উচ্ছেদ করা কঠিন হয়ে পড়বে এবং সরকারি জমি উদ্ধারে প্রশাসনকে জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, নির্মাণাধীন দোকানগুলো আগাম বরাদ্দ বা দখলের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের আলোচনা চলছে। কোনো কোনো দোকানের বিপরীতে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নথি বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র বের করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রশ্ন, সরকারি খাস জমিতে যদি সত্যিই দোকান নির্মাণ করে অর্থের বিনিময়ে বরাদ্দ বা দখল দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে সরকারি জমি দখলের সুযোগ তৈরি হলো—তা খতিয়ে দেখা দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নির্মাণকাজ বন্ধ করে জায়গাটি সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালতের আদেশের কপি, জমির খতিয়ান, দাগ ও শ্রেণি এবং নির্মাণকাজের অনুমোদন রয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানান। সরকারি খাস জমিতে অবৈধ দখল বা নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি জমি দখলের পেছনে কারা রয়েছে এবং কথিত ‘সালামি’ বাণিজ্যের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
কলাতলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় সরকারি জমি দখল করে একের পর এক স্থাপনা গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে সড়ক, পরিবেশ, পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও জনসাধারণের চলাচলে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।