19/04/2026
এই মেয়েকে বিয়ে করবে কে?”
এই প্রশ্নটা যারা করে, তারা আসলে প্রশ্ন না, নিজেদের লেভেলটাই প্রকাশ করে।
পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় ৮৩০ কোটি।
এই ৮৩০ কোটির ভিড়ে এমন মানুষও আছে যারা পাহাড়ে একা থাকে, আবার এমনও আছে যারা সমুদ্রের তলায় ডুব দিয়ে জীবন কাটায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, চিন্তাভাবনা-সব মিলিয়ে পৃথিবীটা এক বিশাল বৈচিত্র্যের জায়গা।
কেউ নিজের স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত, কেউ নিজের শান্তি নিয়ে, কেউ পৃথিবী বদলাতে চায়, কেউ মহাকাশ নিয়ে ভাবে।
মানে পৃথিবীটা বিশাল।
অপশনও বিশাল।
সম্ভাবনাও বিশাল।
কিন্তু এই বঙ্গে, কিছু “লিমিটেড এডিশন” ব্যাঙ আছে।
যাদের কাছে পৃথিবী মানে তাদের পুকুর, আর জ্ঞান মানে কুয়ার দেওয়ালে ধাক্কা খাওয়া ইকো।
ওরা খুব সিরিয়াসলি বসে হিসাব করে,
এই মেয়েটা বেশি কথা বলে, বিয়ে হবে না।
এই মেয়েটা নাচে, বিয়ে হবে না।
এই মেয়েটা ঘুরে বেড়ায়, বিয়ে হবে না।
এই মেয়ের বয়স বেশি,বিয়ে হবে না।
মেয়ে মানুষ কি করবে, কি পরবে, কিভাবে হাসবে, কাকে বিয়ে করবে।
এমনকি কিভাবে নিঃশ্বাস নেবে- সবই এদের “লাইফ ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট”।
সাল ২০২৬,
মানুষ মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার প্ল্যান করছে,
আর এরা এখনো “মেয়ে মানুষ আর বিয়া” এই টপিকেই থিসিস লিখে যাচ্ছে।
ওদের সবচেয়ে বড় ট্যালেন্ট, নিজেদের লেভেলকে ইউনিভার্সাল স্ট্যান্ডার্ড ধরে নেওয়া।
তাদের পুকুরে যে ফিট হবে না,
সে “সমস্যা”।
তাদের মাথায় যে ঢুকবে না,
সে “অযোগ্য”।
সমুদ্রের তিমি দেখলে বলবে
“এত বড় হয়ে লাভ কী? আমাদের পুকুরে নামতেই পারবে না!”
ডলফিন দেখলে বলবে,
“এইটা বেশি লাফায়, সংসার টিকবে না!”
আপনি রংপুরের রফিক হয়ে যদি ভাবেন, নোরা ফাতেহীকে বিয়ে করবে কে?
তাহলে দুঃখিত, এই চিন্তায় নোরা ফাতেহীর জীবনে ০.০০% ইমপ্যাক্ট পড়ে। কারণ আপনার চিন্তা তার লাইফের লেভেলে পৌঁছানোর আগেই আউটডেটেড হয়ে যায়।
পৃথিবীতে কেউ বিয়ের অভাবে পড়ে থাকে না। ঘিলুর অভাবে পড়ে, যখন তাদের চিন্তা শুধু কারো জীবনকেন্দ্রিক আটকে যায়।
তাই এখনো যদি কাউকে দেখে মনে হয়,
“এই মেয়েকে বিয়ে করবে কে?”
তাহলে একটু আপডেট হয়ে নেন-
আপনার পুকুরের হিসাব দিয়ে সমুদ্র মাপতে যাইয়েন না।
আপনি যাকে ‘অযোগ্য’ ভাবছেন,
সে আপনার জন্য না, বরং
আপনার দুনিয়াটাই তার জন্য ছোট আর শ্যাওলাময়, যেখানে সে ভুলেও আছাড় খাবেনা।