13/05/2026
রাত প্রায় শেষের দিকে। চারদিকে নীরবতা। ছোট্ট ঘরের এক কোণে বসে ছিল যুবকটির নাম—সায়েম। বয়স বেশি না, মাত্র ২২। কিন্তু অল্প বয়সেই জীবনের চাপ তাকে যেন অনেক ক্লান্ত করে ফেলেছিল।
চাকরি নেই, পরিবারে অভাব, মনে অশান্তি। নামাজও আগের মতো ঠিকমতো হচ্ছিল না। মাঝে মাঝে সে ভাবত, “আল্লাহ কি আমাকে ভুলে গেছেন?”
একদিন ফজরের পর মসজিদের ইমাম সাহেব সবার সামনে একটি কথা বললেন—
“যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তেগফার করবে, আল্লাহ তার প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির পথ বের করে দেবেন।”
তিনি তখন একটি হাদিস শোনালেন।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তেগফার করবে, আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেবেন যা সে কল্পনাও করেনি।”
— সুনানে আবু দাউদ
কথাগুলো সায়েমের হৃদয়ে গভীরভাবে আঘাত করল। সে ভাবল,
“আমি তো সব চেষ্টা করেছি… কিন্তু কখনো সত্যিকারভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইনি।”
সেদিন থেকেই সে ছোট্ট একটি আমল শুরু করল।
প্রতিদিন ফজরের পরে, রাতে ঘুমানোর আগে, হাঁটতে হাঁটতে—চুপচাপ পড়ত:
“আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহ”
(আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসি)
প্রথম কয়েকদিন তেমন কিছু অনুভব হয়নি।
কিন্তু ধীরে ধীরে তার ভেতর বদল আসতে শুরু করল।
আগের মতো রাগ হতো না।
নামাজে মন বসতে লাগল।
মায়ের সাথে কথাবার্তা কোমল হয়ে গেল।
হৃদয়ের অস্থিরতাও কমতে লাগল।
এক রাতে তাহাজ্জুদের পরে সে কান্না করে বলল,
“হে আল্লাহ, আমি ভুল করেছি। আপনি আমাকে মাফ করে দিন।”
সেই রাতের পর যেন তার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করল।
কিছুদিনের মধ্যেই একটি ছোট চাকরির সুযোগ পেল। খুব বড় কিছু না, কিন্তু হালাল উপার্জন। ঘরে শান্তি ফিরল।
তখন সে বুঝল—
ইস্তেগফার শুধু মুখের শব্দ না, এটা হৃদয়ের ফিরে আসা।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেনঃ
“তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করবেন…”
— সূরা নূহ, ১০-১২
সায়েমের জীবন আমাদের শেখায়—
গুনাহ যত বড়ই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বড়।
কখনো কখনো আমাদের দুশ্চিন্তা, অশান্তি আর বন্ধ হয়ে থাকা রিজিকের দরজা খুলে যায় শুধু একটি আমলের মাধ্যমে—
সত্যিকার ইস্তেগফারের মাধ্যমে।
আজ হয়তো আপনার মনেও অনেক কষ্ট।
হয়তো এমন কিছু ভুল আছে যা কাউকে বলতে পারেন না।
তাহলে আজ থেকেই ধীরে ধীরে বলুন—
“আস্তাগফিরুল্লাহ…”
হয়তো এটাই হবে আপনার নতুন জীবনের শুরু, ইনশাআল্লাহ।