Mahmud Bin Ahmad

Mahmud Bin Ahmad বায়োহীন মানুষ!
(5)

কুরবানী ঈদ কেমন কাটলো আপনাদের?
29/05/2026

কুরবানী ঈদ কেমন কাটলো আপনাদের?

25/05/2026

গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদিসের ব্যাখ্যা....

গ্রামের এক যুবক ছিল। নাম রায়হান।ছোটবেলায় খুব নামাজ পড়ত, কুরআন তিলাওয়াত করত। কিন্তু ধীরে ধীরে দুনিয়ার ব্যস্ততায় বদলে গেল।...
20/05/2026

গ্রামের এক যুবক ছিল। নাম রায়হান।
ছোটবেলায় খুব নামাজ পড়ত, কুরআন তিলাওয়াত করত। কিন্তু ধীরে ধীরে দুনিয়ার ব্যস্ততায় বদলে গেল।

রাত জেগে ফোন, গান, আড্ডা—সব ছিল।
কিন্তু তাহাজ্জুদ?
সেটা বহু আগেই হারিয়ে গেছে।

এক রাতে হঠাৎ তার ঘুম ভাঙল।
চারপাশ একদম নীরব।
ফোন হাতে নিয়ে সময় দেখল—রাত ৩টা ১৭।

হঠাৎ পাশের মসজিদ থেকে খুব ধীর কণ্ঠে কুরআনের তিলাওয়াত ভেসে আসতে লাগল।
ইমামের কণ্ঠে একটা আয়াত—

> “তোমরা কি এখনো সময় আসেনি আল্লাহর স্মরণে হৃদয় নরম হওয়ার?”

রায়হানের বুকটা কেঁপে উঠল।

সে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।
দেখল, অন্ধকার রাস্তায় এক বৃদ্ধ মানুষ লাঠি নিয়ে মসজিদের দিকে হাঁটছেন।
বৃষ্টি পড়ছে হালকা।
তবুও তিনি থামেননি।

রায়হান মনে মনে ভাবল—
“এই বয়সেও মানুষ আল্লাহর ডাকে ছুটে যায়… আর আমি?”

সেদিন অনেক বছর পর সে অজু করল।
সিজদায় গিয়ে শুধু একটা কথাই বলল—

> “ইয়া আল্লাহ… আমি অনেক দূরে চলে গেছি। আমাকে ফিরিয়ে নিন।”

সে রাতে তার কান্না থামছিল না।

পরদিন ফজরের পর গ্রামের একজন বলল—
“জানেন? যে বৃদ্ধকে প্রতিদিন তাহাজ্জুদে দেখা যেত, উনি আজ ফজরের আগেই ইন্তেকাল করেছেন…”

রায়হান স্তব্ধ হয়ে গেল।

কারণ—
সেদিন রাতেই প্রথমবার সে ওই বৃদ্ধকে লক্ষ্য করেছিল।
আর হয়তো আল্লাহ সেই বৃদ্ধকে মাধ্যম বানিয়েই তাকে ফিরিয়ে এনেছেন।

শিক্ষা:
কখন, কাকে, কোন দৃশ্যকে আল্লাহ হিদায়াতের কারণ বানাবেন—আমরা জানি না। তাই হৃদয় নরম হলে দেরি না করে ফিরে আসাই সবচেয়ে বড় সফলতা।

এক গ্রামে একজন যুবক ছিল। নাম তার হাবিব। বাইরে থেকে দেখলে সবাই ভাবত — ছেলেটা খুব হাসিখুশি। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, মোবাইল, ঘ...
20/05/2026

এক গ্রামে একজন যুবক ছিল। নাম তার হাবিব। বাইরে থেকে দেখলে সবাই ভাবত — ছেলেটা খুব হাসিখুশি। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, মোবাইল, ঘুরাঘুরি — সবই ছিল।
কিন্তু রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে যেত, তখন তার বুকের ভিতরটা অদ্ভুত খালি লাগত।

নামাজ ঠিকমতো পড়ত না। মাঝে মাঝে গুনাহ করত।
তবুও একটা জিনিস সে লুকিয়ে লুকিয়ে করত…

প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলত—

> “আল্লাহ… আমি খুব খারাপ মানুষ। কিন্তু আপনি যদি আমাকে ছেড়ে দেন, তাহলে আমার আর কে আছে?”

এক রাতে গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেব একটা কথা বললেন—

“বান্দা যত বড় গুনাহগারই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বড়।”

কথাটা হাবিবের মনে গেঁথে গেল।

সেই রাতেই সে প্রথমবার সিজদায় পড়ে কাঁদতে লাগল।
এত কান্না, এত অনুশোচনা— যেন বুকের সব পাপ বের হয়ে যাচ্ছে।

সে শুধু একটা কথাই বলছিল—

> “ইয়া আল্লাহ… আমি ফিরে আসতে চাই…”

তারপর থেকে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল সে।
ফজরের নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, মায়ের সাথে ভালো ব্যবহার— সবকিছু।

মানুষ অবাক হয়ে গেল।

কেউ একজন তাকে জিজ্ঞেস করল—

— “হঠাৎ এত পরিবর্তন কিভাবে?”

হাবিব হেসে বলল—

> “আমি বুঝে গেছি…
মানুষ আমাকে ক্ষমা না করলেও, আল্লাহর দরজা এখনো বন্ধ হয়নি।”

শিক্ষা 🌙

আল্লাহর কাছে ফিরে আসার জন্য “পারফেক্ট” হতে হয় না।
ফিরে আসার নিয়তটাই সবচেয়ে বড় শুরু।

📖 আল্লাহ বলেন:

> “তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।”
— Al-Quran

রাত তখন প্রায় ২টা।পুরো শহর ঘুমিয়ে। কিন্তু রায়হান জেগে আছে।মোবাইলের স্ক্রিনের আলো তার মুখে পড়ছে। চোখ লাল। বুক ভারী।হারাম ...
15/05/2026

রাত তখন প্রায় ২টা।
পুরো শহর ঘুমিয়ে। কিন্তু রায়হান জেগে আছে।

মোবাইলের স্ক্রিনের আলো তার মুখে পড়ছে। চোখ লাল। বুক ভারী।
হারাম সম্পর্ক, নামাজ ছেড়ে দেওয়া, মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার— সব মিলিয়ে তার জীবনটা যেন অন্ধকারে ডুবে গেছে।

একসময় সে আয়নায় নিজেকে দেখে হঠাৎ থেমে গেল।

নিজেকেই বলল,
“আল্লাহ… আমি কি এতটাই খারাপ হয়ে গেছি?”

ঠিক তখন পাশের মসজিদ থেকে তাহাজ্জুদের হালকা তিলাওয়াত ভেসে আসছিল।

রায়হানের বুকটা কেঁপে উঠল।

তার হঠাৎ মনে পড়ল একটা আয়াত—

> “হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।”
— আল কুরআন।

এই আয়াতটা যেন সরাসরি তার হৃদয়ে আঘাত করল।

সে ধীরে ধীরে ওযু করল।
অনেকদিন পর জায়নামাজে দাঁড়ালো।

প্রথম সিজদায় গিয়েই সে কাঁদতে শুরু করল।

এমন কান্না…
যেটা কেউ দেখেনি।

সে শুধু বলছিল—
“ইয়া আল্লাহ… আমি ক্লান্ত… আমাকে মাফ করে দাও…”

সেই রাতের পর বদলাতে শুরু করল রায়হান।

একদিনে না।
ধীরে ধীরে।

হারাম গান বাদ দিল।
ফজরের নামাজ শুরু করল।
মায়ের হাতে পানি এগিয়ে দিতে শিখল।
মোবাইলের গোপন পাপগুলো ডিলিট করে দিল।

তার বন্ধুরা হাসত—
“হুজুর হয়ে গেছিস নাকি?”

সে শুধু মুচকি হাসত।

কারণ সে এমন একটা শান্তি পেয়েছিল…
যেটা আগে কখনও পায়নি।

কয়েক মাস পর একদিন তার মা তাহাজ্জুদের পর কাঁদতে কাঁদতে বললেন—

“আল্লাহ… আমার ছেলেটাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ…”

রায়হান দরজার আড়াল থেকে কথাটা শুনে ফেলল।

তার চোখ ভিজে গেল।

সেদিন সে বুঝল—
তওবা মানে শুধু “আস্তাগফিরুল্লাহ” বলা না।
তওবা মানে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা।

আর আল্লাহ এমন রব—
বান্দা এক কদম এগিয়ে এলে, তিনি রহমত নিয়ে অনেক বেশি এগিয়ে আসেন।

সহীহ মুসলিমে- এসেছে, আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি আনন্দিত হন, যে মরুভূমিতে হারানো উট ফিরে পায়।

👉আমাদের জন্য শিক্ষা:

কেউ যত বড় গুনাহগারই হোক, আল্লাহর দরজা কখনো বন্ধ হয় না।
আজকের একটা সত্যিকারের তওবা পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।

রাত প্রায় ২টা।আকাশ নামের এক তরুণ বিছানায় বসে ছিল মাথা নিচু করে। জীবনে যেন একের পর এক সমস্যা—টাকার টানাপোড়েন, মায়ের অসুস্...
15/05/2026

রাত প্রায় ২টা।

আকাশ নামের এক তরুণ বিছানায় বসে ছিল মাথা নিচু করে। জীবনে যেন একের পর এক সমস্যা—টাকার টানাপোড়েন, মায়ের অসুস্থতা, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়… সব মিলিয়ে বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে ছিল।

ফোনে স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ সে একটি কথা পড়ল—
“যে ব্যক্তি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার দুঃখ দূর করেন এবং রিজিক সহজ করে দেন।”
কথাটা তার হৃদয়ে লেগে গেল।
সে ভাবল,
“আমি তো অনেক কিছুই চেষ্টা করেছি… এবার একটু দরুদ পড়ে দেখি।”
তারপর সে ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করল—
“اللهم صلِّ على محمدٍ وعلى آلِ محمد”
প্রথমে ১০ বার…
তারপর ৫০ বার…

এরপর না বুঝতেই চোখ ভিজে গেল।
সে আল্লাহর কাছে বলল,
“হে আল্লাহ, আমি খুব ক্লান্ত… আপনি আমার জন্য সহজ করে দিন।”

পরদিন সকালে আশ্চর্যজনক কিছু ঘটল না।
আকাশের হাতে হঠাৎ কোটি টাকা চলে আসেনি।
কিন্তু তার হৃদয়ের অস্থিরতা কমে গিয়েছিল।

অনেকদিন পর সে ফজর নামাজ পড়ে এক অদ্ভুত শান্তি অনুভব করল।
কয়েকদিন পর এক বড় ভাই তাকে একটা কাজের সুযোগ করে দিল।
মায়ের শারীরিক অবস্থাও ধীরে ধীরে ভালো হতে লাগল।

আর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—আকাশ বুঝতে পারল, দরুদ শুধু মুখের আমল না, এটা হৃদয়ের প্রশান্তি।
সে এখন প্রতিদিন হাজার ব্যস্ততার মাঝেও দরুদ পড়তে ভোলে না।
কারণ সে বুঝে গেছে—
দরুদ এমন এক আমল, যা বান্দাকে ধীরে ধীরে আল্লাহর রহমতের দিকে টেনে নেয়।

রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার উপর দশটি রহমত নাযিল করেন।”
— সহিহ মুসলিম

🌿 আমাদের জন্য শিক্ষা:
দুঃখ, ভয়, অস্থিরতা—সবকিছুর মাঝেও দরুদ হতে পারে অন্তরের শান্তির দরজা।
আজ থেকেই প্রতিদিন কিছু সময় রাসূল ﷺ এর উপর দরুদ পাঠ করার অভ্যাস করি।

13/05/2026

কখনো শয়তানকে হারিয়ে দেখেছেন?

রাত প্রায় ২টা।ঢাকার ছোট্ট এক গলির ভাঙাচোরা বাসার ছাদে বসে ছিল নাঈম।চারদিকে নীরবতা। আকাশে মেঘ। আর তার চোখে ক্লান্তি।মোবাই...
13/05/2026

রাত প্রায় ২টা।
ঢাকার ছোট্ট এক গলির ভাঙাচোরা বাসার ছাদে বসে ছিল নাঈম।
চারদিকে নীরবতা। আকাশে মেঘ। আর তার চোখে ক্লান্তি।

মোবাইলের স্ক্রিনে একের পর এক মেসেজ আসছে—
“ভাই, টাকা কবে দিবেন?”
“অনেক দিন হয়ে গেছে…”
“আপনার উপর ভরসা করেছিলাম।”
নাঈম ফোনটা বন্ধ করে দিল।

তার ছোট্ট অনলাইন ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।
বন্ধুরা দূরে সরে গেছে।
বাড়িতে অভাব।
মায়ের ওষুধ কেনার টাকাও নেই।

সে আকাশের দিকে তাকিয়ে ধীরে বলল—
“আল্লাহ… আমি আর পারছি না…”
কিন্তু সমস্যা শুধু টাকার ছিল না।

নাঈম বহুদিন নামাজ থেকে দূরে ছিল।
ফজরের সময় ঘুম।
যোহরে ব্যস্ততা।
আসরে আড্ডা।
মাগরিবে মোবাইল।
এশায় ক্লান্তি।
একসময় নামাজ তার জীবনে “পরে পড়বো” হয়ে গিয়েছিল।

সেদিন রাতে ছাদ থেকে নামার সময় পাশের মসজিদ থেকে এক বৃদ্ধ মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ ভেসে এলো—
“বাবা… যত দূরেই যাও, শান্তি নামাজ ছাড়া পাবে না।”
কথাটা অদ্ভুতভাবে হৃদয়ে আঘাত করল।

সেদিন বহু মাস পর নাঈম ফজরের জন্য অ্যালার্ম দিল।
ঘুম ভাঙলো কষ্টে।
চোখ খুলতেই শয়তান যেন কানে বলল—
“আজ না, কাল থেকে…”
কিন্তু সে উঠে দাঁড়াল।
ওযু করল।
ঠান্ডা পানি মুখে পড়তেই বুকটা কেঁপে উঠল।

মসজিদে গিয়ে যখন সিজদায় মাথা রাখল…
হঠাৎ তার চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল।
সে কাঁদতে কাঁদতে বলল—
“ইয়া আল্লাহ… আমি অনেক দূরে চলে গেছি। আমাকে ফিরিয়ে নিন…”
সেদিনের সেই সিজদা ছিল তার জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত।
দিন যেতে লাগল।

নাঈম নিয়মিত নামাজ শুরু করল।
প্রথমে শুধু ফজর।
তারপর পাঁচ ওয়াক্ত।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—
তার জীবনে পরিবর্তন আসা শুরু হলো এমনভাবে, যা সে কল্পনাও করেনি।
তার রাগ কমে গেল।
হৃদয়ের অস্থিরতা কমে গেল।
ঘুমে শান্তি আসতে লাগল।

একদিন হঠাৎ পুরোনো এক কাস্টমার ফোন দিল—
“ভাই, আবার কাজ শুরু করবেন? আমি বড় একটা অর্ডার দিতে চাই।”
নাঈম অবাক হয়ে গেল।

কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার ছোট ব্যবসাটা আবার দাঁড়াতে শুরু করল।
মা একদিন ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন—
“বাবা… তোর মুখে আগের সেই অন্ধকারটা আর নেই।”
নাঈম শুধু মুচকি হাসল।
কারণ সে বুঝে গিয়েছিল—
রিযিক শুধু টাকা না।
রিযিক হলো শান্তি।
রিযিক হলো হেদায়েত।
রিযিক হলো আল্লাহর কাছে ফিরে আসা।

একদিন ফজরের নামাজ শেষে সেই বৃদ্ধ মুয়াজ্জিন তাকে জিজ্ঞেস করলেন—
“কেমন আছো বাবা?”
নাঈম চোখ ভিজে বলল—
“হুজুর… আমার সমস্যা সব শেষ হয়নি। কিন্তু এখন আমার বুকটা শান্ত।”

বৃদ্ধ লোকটি হেসে বললেন—
“যে মানুষ নামাজে আল্লাহকে পেয়ে যায়, তার জীবন কখনো একা থাকে না।”
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।”
— সূরা আনকাবুত : ৪৫

আর রাসূল ﷺ বলেছেন—
“বান্দা ও কুফরের মাঝে পার্থক্য হলো নামাজ ত্যাগ করা।”
— সহিহ মুসলিম

হয়তো আজ তুমি খুব ক্লান্ত।
হয়তো তোমার জীবনেও ঝড় চলছে।
হয়তো কেউ তোমার কান্না বুঝে না।
কিন্তু বিশ্বাস করো—
একটা সত্যিকারের সিজদা মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।
কারণ আল্লাহর দরজা এখনো খোলা আছে।

👉আমাদের জন্য শিক্ষা:

নামাজ শুধু একটি ইবাদত নয়, এটা মানুষের ভাঙা হৃদয়ের শান্তি এবং জীবনের পরিবর্তনের দরজা।
যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে এক কদম ফিরে আসে, আল্লাহ তার জীবনে রহমত, বরকত ও হেদায়েতের অসংখ্য দরজা খুলে দেন।

রাত প্রায় শেষের দিকে। চারদিকে নীরবতা। ছোট্ট ঘরের এক কোণে বসে ছিল যুবকটির নাম—সায়েম। বয়স বেশি না, মাত্র ২২। কিন্তু অল্প ব...
13/05/2026

রাত প্রায় শেষের দিকে। চারদিকে নীরবতা। ছোট্ট ঘরের এক কোণে বসে ছিল যুবকটির নাম—সায়েম। বয়স বেশি না, মাত্র ২২। কিন্তু অল্প বয়সেই জীবনের চাপ তাকে যেন অনেক ক্লান্ত করে ফেলেছিল।

চাকরি নেই, পরিবারে অভাব, মনে অশান্তি। নামাজও আগের মতো ঠিকমতো হচ্ছিল না। মাঝে মাঝে সে ভাবত, “আল্লাহ কি আমাকে ভুলে গেছেন?”
একদিন ফজরের পর মসজিদের ইমাম সাহেব সবার সামনে একটি কথা বললেন—

“যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তেগফার করবে, আল্লাহ তার প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির পথ বের করে দেবেন।”

তিনি তখন একটি হাদিস শোনালেন।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তেগফার করবে, আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেবেন যা সে কল্পনাও করেনি।”
— সুনানে আবু দাউদ

কথাগুলো সায়েমের হৃদয়ে গভীরভাবে আঘাত করল। সে ভাবল,
“আমি তো সব চেষ্টা করেছি… কিন্তু কখনো সত্যিকারভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইনি।”
সেদিন থেকেই সে ছোট্ট একটি আমল শুরু করল।
প্রতিদিন ফজরের পরে, রাতে ঘুমানোর আগে, হাঁটতে হাঁটতে—চুপচাপ পড়ত:
“আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহ”
(আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসি)

প্রথম কয়েকদিন তেমন কিছু অনুভব হয়নি।
কিন্তু ধীরে ধীরে তার ভেতর বদল আসতে শুরু করল।
আগের মতো রাগ হতো না।
নামাজে মন বসতে লাগল।
মায়ের সাথে কথাবার্তা কোমল হয়ে গেল।
হৃদয়ের অস্থিরতাও কমতে লাগল।

এক রাতে তাহাজ্জুদের পরে সে কান্না করে বলল,
“হে আল্লাহ, আমি ভুল করেছি। আপনি আমাকে মাফ করে দিন।”
সেই রাতের পর যেন তার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করল।
কিছুদিনের মধ্যেই একটি ছোট চাকরির সুযোগ পেল। খুব বড় কিছু না, কিন্তু হালাল উপার্জন। ঘরে শান্তি ফিরল।

তখন সে বুঝল—
ইস্তেগফার শুধু মুখের শব্দ না, এটা হৃদয়ের ফিরে আসা।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেনঃ
“তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করবেন…”
— সূরা নূহ, ১০-১২

সায়েমের জীবন আমাদের শেখায়—
গুনাহ যত বড়ই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বড়।

কখনো কখনো আমাদের দুশ্চিন্তা, অশান্তি আর বন্ধ হয়ে থাকা রিজিকের দরজা খুলে যায় শুধু একটি আমলের মাধ্যমে—
সত্যিকার ইস্তেগফারের মাধ্যমে।

আজ হয়তো আপনার মনেও অনেক কষ্ট।
হয়তো এমন কিছু ভুল আছে যা কাউকে বলতে পারেন না।

তাহলে আজ থেকেই ধীরে ধীরে বলুন—
“আস্তাগফিরুল্লাহ…”
হয়তো এটাই হবে আপনার নতুন জীবনের শুরু, ইনশাআল্লাহ।

“যে ব্যক্তি ফজর হারায়, সে যেন দিনের সবচেয়ে বড় বরকত হারায়।”রাত প্রায় শেষ। আকাশে তখনো অন্ধকারের ছাপ। শহরের সব শব্দ থেমে গে...
11/05/2026

“যে ব্যক্তি ফজর হারায়, সে যেন দিনের সবচেয়ে বড় বরকত হারায়।”

রাত প্রায় শেষ। আকাশে তখনো অন্ধকারের ছাপ। শহরের সব শব্দ থেমে গেছে। শুধু দূরে কোথাও একটা মসজিদের মাইকে ধীরে ধীরে ভেসে আসছে—

“আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাউম...
নামাজ ঘুমের চেয়ে উত্তম...”

রাহাত কম্বল মুড়িয়ে শুয়ে ছিল। চোখ আধা খোলা। মনে মনে বলল,
“আর পাঁচ মিনিট...”

পাঁচ মিনিট কখন আবার ঘুমে হারিয়ে গেল, সে বুঝতেই পারল না।

সকাল ৯টায় ঘুম ভাঙতেই ফোনে একটা মেসেজ দেখল। তার দাদা লিখেছে—

“যে ব্যক্তি ফজর হারায়, সে যেন দিনের সবচেয়ে বড় বরকত হারায়।”

মেসেজটা পড়ে সে একটু চুপ হয়ে গেল। কারণ গত কয়েক মাস ধরে তার জীবন অদ্ভুতভাবে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল। কাজ ঠিকমতো হচ্ছিল না, মন শান্ত থাকত না, সবসময় একটা অস্থিরতা।

সেদিন রাতে রাহাত ঠিক করল—
“আগামীকাল যাই হোক, ফজর পড়ব।”

রাতেই তিনটা অ্যালার্ম দিল।
কিন্তু ভোরে অ্যালার্ম বাজতেই আবার শয়তান কানে ফিসফিস করল—

“আজকে না হয় বাদ দাও...”

রাহাত চোখ খুলল। বাইরে তখন ঠান্ডা বাতাস। বিছানা ছেড়ে উঠতে কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ তার দাদার একটা কথা মনে পড়ল—

“ফজরের সময় বিছানা ছাড়তে যে যুদ্ধ লাগে, সেই যুদ্ধটাই আল্লাহ সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন।”

সে ধীরে ধীরে উঠে ওযু করল। ঠান্ডা পানি মুখে পড়তেই বুকটা কেমন শান্ত হয়ে গেল।

মসজিদে পৌঁছে দেখে মাত্র কয়েকজন মানুষ। একজন বৃদ্ধ চুপচাপ তাসবিহ পড়ছেন। একজন ছোট ছেলে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে।

ইমাম সাহেব তাকবির দিলেন।

রাহাত নামাজে দাঁড়াল।

সিজদায় গিয়ে তার হঠাৎ মনে হলো—
এই পৃথিবীতে এত দৌড়ঝাঁপ, এত টেনশন… কিন্তু এই মুহূর্তে সে সবচেয়ে নিরাপদ জায়গায় আছে। আল্লাহর সামনে।

নামাজ শেষে মসজিদের বাইরে বের হতেই সূর্যের আলো ধীরে ধীরে আকাশে উঠছিল। পাখির ডাক, ঠান্ডা বাতাস, ফাঁকা রাস্তা— সবকিছু অন্যরকম সুন্দর লাগছিল।

সেদিন পুরো দিনটা অদ্ভুত শান্তিতে কাটল।

কয়েক সপ্তাহ পর রাহাত বুঝতে পারল—
তার জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে।
মন আগের মতো অস্থির না। কাজে বরকত আসছে। মুখে প্রশান্তি।

একদিন তার ছোট ভাই জিজ্ঞেস করল,
“ভাইয়া, তুমি এত বদলে গেলে কিভাবে?”

রাহাত মুচকি হেসে বলল—

“আমি শুধু একটা জিনিস বদলেছি…
দিন শুরু করছি আল্লাহর সাথে।”

আপনিও যদি আল্লাহর সাথে দিন শুরু করতে পারেন তাহলে কমেন্টে লিখুন- আলহামদুলিল্লাহ!

Address

Cumilla

Telephone

+8801877502378

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mahmud Bin Ahmad posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Mahmud Bin Ahmad:

Share

Category