Ali Hasan

Ali Hasan আল্লাহ তুমি ঐ মদিনায় করো আমার ঠিকানা

কুরআনের তিলাওয়াত শোনার ৮টি অনবদ্য উপকারিতা▬▬▬ ◈❥◈▬▬▬আল কুরআন মহান আল্লাহর মর্যাদাপূর্ণ বাণী সমষ্টির এক অবিস্মরণীয় ও বিস্...
31/07/2026

কুরআনের তিলাওয়াত শোনার ৮টি অনবদ্য উপকারিতা
▬▬▬ ◈❥◈▬▬▬
আল কুরআন মহান আল্লাহর মর্যাদাপূর্ণ বাণী সমষ্টির এক অবিস্মরণীয় ও বিস্ময়কর গ্রন্থ। এটি এমন এক গ্রন্থ তা পাঠ করলে প্রতিটি অক্ষরে একটি করে সওয়াব লেখা হয় যা দশটির সমান। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لاَ أَقُولُ الم حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلاَمٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ
“যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করবে তার একটি সওয়াব হবে। আর একটি সওয়াব দশটি সওয়াবের অনুরূপ। আমি বলি না যে, “আলিফ-লাম-মীম” একটি হরফ বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম আরেকটি হরফ। (অর্থাৎ তিনটি হরফে রয়েছে তিনটি সওয়াব যা ত্রিশটি সওয়াবের সমান)।” [সুনান তিরমিজী, হা/২৯১০, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পড়বে তার সাওয়াব কী হবে? অধ্যায়: ৪৮/ কুরআনের ফযিলত -সনদ সহিহ]

সুতরাং যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করবে সে উক্ত সওয়াব লাভ করবে ইনশাআল্লাহ- চাই বুঝে পড়ুক অথবা না বুঝে পড়ুক, দেখে পড়ুক অথবা মুখস্থ পড়ুক, মুসহাফ দেখে পড়ুক অথবা মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি ডিভাইস থেকে পড়ুক, নামাজের মধ্যে পড়ুক অথবা নামাজের বাইরে পড়ুক। অনুরূপভাবে তিলাওয়াত শোনাতেও রয়েছে
বিশাল সওয়াব, অসীম কল্যাণ ও অতুলনীয় উপকারিতা।

নিম্নে কুরআন শ্রবণের ৮টি অনবদ্য উপকারিতা তুলে ধরা হল:

● ১. আল্লাহর রহমত ও অনুকম্পা লাভ।
● ২. হেদায়েত (সঠিক পথের নির্দেশনা) লাভ।
● ৩. ঈমান বৃদ্ধি।
● ৪. সত্যকে চেনার উপলব্ধি সৃষ্টি।
● ৫. জ্ঞানার্জন।
● ৬. আল্লাহর সহজ ইবাদত।
● ৭. কুরআন তিলাওয়াত শোনা সুন্নত।
● ৮. মনে অনাবিল প্রশান্তি ও স্বস্তি লাভ।

নিম্নে কুরআন তিলাওয়াত শোনার মর্যাদা ও উপকারিতার বিষয়গুলো সংক্ষেপে দলিল সহ উপস্থাপন করা হল:

◈◈ ১. আল্লাহর রহমত ও অনুকম্পা লাভ:

মনোযোগ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত শুনলে আল্লাহর রহমত ও অনুকম্পা লাভ হয়। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
“আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করো এবং নীরবতা অবলম্বন করো যাতে তোমরা রহমত (দয়া) প্রাপ্ত হও।" (সূরা আরাফ: ২০৪)
তাফসিরে ত্ববারীতে এসেছে: আবু জাফর বলেন: “তোমরা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করো” এ কথার অর্থ হল:
أصغوا له سمعكم، لتتفهموا آياته، وتعتبروا بمواعظه
“তোমরা কান লাগিয়ে শোনো যেন আয়াতের অর্থ বুঝতে পারো এবং উপদেশ বার্তাগুলো থেকে উপদেশ গ্রহণ করো।” (তাফসিরে ত্ববারী)

ইবনে কাসির রাহ. বলেন:
أمر تعالى بالإنصات عند تلاوته إعظاما له واحتراما
“আল্লাহ তাআলা কুরআন তিলাওয়াতের সময় নীরবতা অবলম্বন করার আদেশ করেছেন তার প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনার্থে।” (তাফসিরে ইবনে কাসির)

◈◈ ২. হেদায়েত (সঠিক পথের নির্দেশনা) লাভ:

মনোযোগ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত শোনার পাশাপাশি তার অনুসরণ করলে আল্লাহ তাআলা হেদায়েত (সুপথ) দেখান। যেমন: তিনি বলেন,

الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ ۚ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّـهُ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمْ أُولُو الْأَلْبَابِ

“যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সুপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।" (সূরা যুমার: ১৮)
- আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا- يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ ۖ
“জিনদের একটি দল কুরআন শ্রবণ করেছে, অতঃপর তারা বলেছে: আমরা বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি; যা সুপথ প্রদর্শন করে। ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি।” (সূরা জিন: ১ -২)

- তিনি আরও বলেন,
وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنصِتُوا ۖ فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَىٰ قَوْمِهِم مُّنذِرِينَ - قَالُوا يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَابًا أُنزِلَ مِن بَعْدِ مُوسَىٰ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ وَإِلَىٰ طَرِيقٍ مُّسْتَقِيمٍ
“যখন আমি একদল জিনকে আপনার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম, তারা মনোযোগ সহকারে কুরআন পাঠ শুনছিল। তারা যখন কুরআন পাঠের জায়গায় উপস্থিত হল, তখন পরস্পর বলল, চুপ থাক। অতঃপর যখন পাঠ সমাপ্ত হল, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ক কারী রূপে ফিরে গেল।” (সূরা আহকাফ: ২৯ ও ৩০)

সুতরাং যে ব্যক্তি মনোযোগ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত শুনবে তার জীবন আল্লাহর দয়া ও অনুকম্পায় সিক্ত হওয়ার পাশাপাশি লাভ করবে হেদায়েত তথা সঠিক দিকনির্দেশনা। সে কুরআনের মধ্যে খুঁজে পাবে তার ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, নানা প্রশ্নের উত্তর, চরিত্রিক উন্নয়ন, মানসিক প্রশান্তি ও আনন্দ মুখর জীবনের রূপরেখা, পারিবারিক সুখ, সামাজিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্নতা, আত্মিক পরিশুদ্ধতা, রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সভ্যতা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে সর্বোত্তম নীতি এবং সর্বোপরি আল্লাহর ইবাদতে সুগভীর পরিতৃপ্তি।
তবে আমাদের ভাষা যেহেতু আরবি নয় সেহেতু কুরআন থেকে যথার্থভাবে হিদায়েত ও ফায়দা অর্জন করতে চাইলে তরজমা ও তাফসির সহ শোনার চেষ্টা করা উচিৎ।

◈◈ ৩. ঈমান বৃদ্ধি:

তিলাওয়াত শ্রবণ করার মাধ্যমে অন্তরে ঈমান বৃদ্ধি পায়। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا
“আর যখন তাদের সামনে (কুরআন) তিলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়।” (সূরা আনফাল: ২)

◈ ৪. সত্যকে চেনার উপলব্ধি সৃষ্টি:

গভীর মনোযোগ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করার পাশাপাশি তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করার ফলে অন্তরে আল্লাহ ভীতি সৃষ্টি হয় এবং সত্য উপলব্ধির অন্তর চক্ষু উন্মোচিত হয়। ফলে এই উপলব্ধি থেকে দুচোখ বেয়ে অশ্রু বিগলিত হয়। যেমন: আল্লাহ তা'আলা সাহাবীদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে গিয়ে বলেন,
وَإِذَا سَمِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَى الرَّسُولِ تَرَىٰ أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوا مِنَ الْحَقِّ
“আর তারা রসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা যখন শুনে তখন আপনি তাদের চোখ অশ্রু সজল দেখতে পাবেন; এ কারণে যে, তারা সত্যকে চিনে নিয়েছে।” (সূরা মায়িদা: ৮৩)

◈◈ ৫. জ্ঞানার্জন:

যে কোন বিষয়ে জ্ঞানার্জনের চাবিকাঠি হল, মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা রহ. বলেন:
أوّل العلم الاستماع، ثم الفهم، ثم الحفظ، ثم العمل ثم النشر]فإذا استمع العبد إلى كتاب الله تعالى وسنّة نبيه ﷺ بنيّة صادقة على ما يحب الله؛ أفهمه كما يحب، وجعل له في قلبه نوراً ].
تفسير القرطبي ١٧٦/١١.

“জ্ঞানের প্রথম ধাপ হল, মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা। তারপর বুঝা, তারপর মুখস্থ করা, তারপর কর্মে বাস্তবায়ন করা, তারপর প্রচার ও প্রসার করা। সুতরাং বান্দা যখন আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রসূলের সুন্নাহ সত্য নিয়তে মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করে আল্লাহ তাকে তা বোঝার ক্ষমতা দান করেন যেভাবে তিনি পছন্দ করেন এবং তার অন্তরে নূর (আলো) ঢেলে দেন।” [তাফসিরে কুরতুবী ১১/১৭৬]

সুতরাং মনোযোগ দিয়ে শুনার মাধ্যমে হ্নদয়ে অনেক অজানা তথ্যের উন্মেষ ঘটে, জ্ঞান-বুদ্ধি ও বোধশক্তির উন্নতি সাধিত হয় এবং বিচক্ষণতা বৃদ্ধি পায়। এভাবে মানুষ নানাভাবে উপকৃত হয়। তাই তো আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَذِكْرَىٰ لِمَن كَانَ لَهُ قَلْبٌ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ
“এতে (কুরআনে) উপদেশ রয়েছে তার জন্যে, যার অনুধাবন করার মত অন্তর রয়েছে অথবা যে নিবিষ্ট মনে শ্রবণ করে।” (সূরা ক্বাফ: ৩৭)

◈◈ ৬. সহজ ইবাদত:

কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করা একটা ইবাদত। কারণ তিনি আমাদেরকে কুরআন শোনার নির্দেশ দিয়েছেন। (যেমনটি উপরোক্ত কুরআনের আয়াত ও হাদিস সমূহ)। সুতরাং শুনার মাধ্যমেও আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যায় এবং অর্জিত হয় অবারিত সওয়াব।
(যদিও তিলাওয়াত শুনলে তিলাওয়াত করার সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যাবে কি না সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন হাদিস পাওয়া যায় না।)

আর এটি এত সহজ ইবাদত যে, আমরা বাড়িতে, গাড়িতে, অফিসে, দোকানে, রাস্তায় চলতে চলতে, দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে যে কোন অবস্থায় খুব সহজে তা করতে পারি। বর্তমানে আধুনিক টেকনোলোজি, অডিও, মেমরি আর স্মার্ট ফোনের যুগে তা আরও সহজ হয়ে গেছে আল হামদুলিল্লাহ।

৭. কুরআন তিলাওয়াত শোনা সুন্নত:

হাদিসে এসেছে:
عن عبدالله بن مسعود قال: "قال لي رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم - وهو على المنبر: ((اقرأْ عليّ))، قلتُ: أَقْرَأُ عليك وعليك أُنْزل؟ قال: ((إني أحبُّ أنْ أسمعَه من غيري))، فقرأتُ سورة النساء، حتى أتيتُ إلى هذه الآية: ﴿ فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا ﴾ [النساء: 41].
قال: ((حَسْبُك الآن))، فالْتَفَتُّ إليه، فإذا عيناه تذرفان؛ متفق عليه

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, “আমাকে তুমি তিলাওয়াত করে শুনাও।”

আমি বললাম: আমি আপনাকে তিলাওয়াত শোনাব অথচ আপনার ওপরই এটি অবতীর্ণ হয়েছে?
তিনি বললেন: “আমি অন্যের তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করি।”
অতঃপর আমি তাঁকে সূরা নিসা পড়ে শুনাতে লাগলাম। যখন আমি فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا “অতএব কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকে উপস্থিত করব তাদের উপর সাক্ষী রূপে? ” [সূরা নিসা: ৪১] পর্যন্ত পৌঁছলাম তিনি বললেন: “ব্যস, যথেষ্ট হয়েছে।”
তখন আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম তাঁর চোখ থেকে অঝোর ধারায় অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে।” [সহিহ বুখারী : ৫০৫০ ও মুসলিম : ১৯০৩]

◈◈ ৮. মনে অনাবিল প্রশান্তি ও স্বস্তি লাভ:

কুরআন নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা, পরস্পরে অধ্যয়ন, তিলাওয়াত করা ও শুনা ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহর দয়ায় সিক্ত হওয়ার পাশাপাশি হৃদয়ে নেমে আসে অনাবিল প্রশান্তি ও অভূতপূর্ব স্বস্তির সুবাতাস। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ تَعَالَى يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ إِلاَّ نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَحَفَّتْهُمُ الْمَلاَئِكَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ ‏
আবু হুরায়রা রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: “যখন কিছু লোক আল্লাহর কোন এক ঘরে একত্রিত হয়ে কুরআন পাঠ করে এবং একে অপরের সাথে কুরআন নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা ও অধ্যয়ন করে তখন তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হয়, আল্লাহর রহমত তাদেরকে আচ্ছাদিত করে, ফেরেশতারা তাদেরকে ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তাআলা ঐ সমস্ত বান্দাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের সামনে উল্লেখ করেন।” [সুনানে আবু দাউদ, হা/১৪৫৫ অধ্যায়ঃ ২/ সালাত, পরিচ্ছদ: ৩৫৫. কুরআন তিলাওয়াতের সাওয়াব সম্পর্কে (ইফা)]

মোটকথা, কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণের মধ্যে সওয়াব অর্জনের পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন দিক দিয়ে উপকার লাভ করতে পারি। শোনার মাধ্যম যাই হোক না কেন। কেউ যদি ক্বারি সাহেবের সরাসরি তিলাওয়াত শুনে অথবা তার ধারণকৃত তিলাওয়াত ইউটিউব, মোবাইল মেমরী, সিডি, ল্যাপটপ ইত্যাদিতে থেকে মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে তাহলে আল্লাহর সর্ববৃহৎ নিয়ামত হিদায়েত বা সুপথ প্রাপ্তি এবং তাঁর অসীম দয়া ও অনুকম্পার শীতল বারি বর্ষণে জীবন হয়ে উঠবে ফুল-ফলে সুশোভিত ও সঞ্জীবিত। মনের মধ্যে অর্জিত হবে অনাবিল জান্নাতি সুখ ও প্রশান্তি এবং দূর হবে সকল অন্ধকার, হতাশা, অস্থিরতা, কষ্ট এবং দু:শ্চিন্তা।
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﺟْﻌَﻞِ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﺭَﺑِﻴﻊَ ﻗَﻠْﺒِﻲ ﻭَﻧُﻮﺭَ ﺻَﺪْﺭِﻱْ ﻭَﺟِﻼَﺀَ ﺣُﺰْﻧِﻲْ ﻭَﺫَﻫَﺎﺏَ ﻫَﻤِّﻲْ
“হে আল্লাহ, কুরআনকে তুমি আমার হৃদয়ের প্রশান্তি, আমার বক্ষের জ্যোতি,আমার চিন্তা-ভাবনার অপসারণকারী এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিদূরীত কারীতে পরিণত করো।” আমিন।
▬▬▬ ◈❥◈▬▬▬

21/07/2026

১। রূহের প্রথম জগৎ বা আলামুল আরওয়াহ-

আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য রূহ সৃষ্টি করে আগত ও অনাগত সকল রূহকে তিনি আলামুল আরওয়াহতে সংরক্ষিত রেখেছেন। যার কোনো একটা আমার রূহ, কোনো একটা আপনার।

আমাদের অনেক সময় অপরিচিত কাউকে দেখে খুব পরিচিত মনে হয়, কিন্তু স্মরণ করতে পারি না তাকে কোথায় যেন দেখেছিলাম; বস্তুতঃ তাকে দেখিনি।
এ সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) বর্ণনা করেছেন- হতে পারে এমন যে, আলামুল আরওয়াহতে তাকে দেখেছিলে।
সেখানে আমরা লক্ষ কোটি বছর অবস্থান করেছিলাম, আল্লাহই জানেন তা কত দীর্ঘসময় !

রূহদের সেই মহা সমাবেশে আমরা কেউ কারো আত্মীয় ছিলাম না। এমনকি নারী-পুরুষ বা কোনোকিছুই ছিল না। ছিল শুধুই রূহ বা আত্মা। সেই জগতে আমরা শুধুমাত্র আল্লাহকেই চিনতাম, আর কিছু না। আমরা আমাদের আশেপাশে আরো আত্মাকে দেখতে পেতাম কিন্তু ফেরেস্তাদের মতো শুধু আল্লাহর যিকিরই তখন একমাত্র কাজ ছিল।
( #২)

২। মাতৃগর্ভ (রূহের দ্বিতীয় জীবন)

রূহের দ্বিতীয় জীবন তথা মায়ের গর্ভে আমরা স্বেচ্ছায় যেতে পারিনি। আল্লাহ তাঁর ইচ্ছায় যখন যে রূহকে নির্বাচন করেন, আলামুল আরওয়াহ (রূহের জগৎ) থেকে মায়ের ভ্রূণে স্থাপনের জন্য সে রূহকেই পাঠান। কোন রূহ আলামুল আরওয়াহ থেকে যাওয়ার জন্যে নির্বাচিত হবে, তা সে কিছু আগেও জানতে পারে না।

যখন আল্লাহ আমাদের রূহকে আলামুল আরওয়াহ থেকে মায়ের ভ্রূণে স্থাপন করার জন্য নির্বাচন করেন , ততদিনে আমাদের মায়ের গর্ভে ভ্রূণের বয়স ৪ মাস হয়ে যায়।
(সূরা মু'মিনুন 23:12-14 ও সহীহ বুখারীর হাদিসের বর্ণনা থেকে পাওয়া, ভ্রূণের বয়স ১২০ দিন হওয়ার পর তাতে রূহ দেওয়া হয়।)

যদিও দেড় মাসের মধ্যেই ভ্রূণের হার্টবিট শুরু হয়ে যায় কিন্তু রূহ দেওয়ার আগ পর্যন্ত তা জীবনের শুরু নয়।

মাতৃগর্ভেও আমরা আরামে ছিলাম। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা পরবর্তী জীবনে আসতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ।।।

( #৩)
৩। রূহের তৃতীয় জীবন বা দুনিয়ার জিন্দেগী

আদম (আঃ) ও হাওয়াকে দুনিয়ায় প্রেরণের সময় মহান আল্লাহ বলে দিয়েছেন, তিনি দুনিয়ার জীবন দিয়েছেন এতে তাদের মৃত্যু হবে এবং মহান আল্লাহর কাছেই আবার ফেরত যেতে হবে।

এই দুনিয়ার মোহে যেন আমরা আমাদের সত্যিকারের গন্তব্য ভুলে না যাই তাই আল্লাহ আমাদেরকে সালাত, সাওম এই ইবাদাতগুলো দিয়েছেন। ৫ ওয়াক্ত সালাত দিনের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া হয়েছে, যেন রূহ নির্দিষ্ট বিরতির পর পর আল্লাহর সাথে সংযুক্ত থাকতে পারে।

দুনিয়ায় ৬০-৭০ বছর বা তার কিছু বেশী সময় অর্থাৎ দুনিয়ার জীবনের যেই পরিসমাপ্তির সাথে সাথেই মালাকুল-মাউত চলে আসে জান কবজ করতে। তখন সকলেরই (বিশ্বাসী/অবিশ্বাসী) মনে পড়ে যাবে যে, সে একটি রূহ, কোথায় তার আদিবাস ছিল এবং দুনিয়া থেকে সে কোথায় যাচ্ছে! এ ও উপলব্ধি হবে যে, দুনিয়ায় ফিরে আসার কোনো পথ নেই।

আর তাই যে নিজের মৃত্যুর সময় ফেরেশতাকে দেখতে পেল, তৎক্ষণাৎ তার জন্যে তওবার দরজা বন্ধ হয়ে গেল। অন্তিম মুহূর্তে কারও তওবা কবুল হয় না।

মৃত্যু হওয়ার সাথে সাথেই দেহ থেকে রূহ পৃথক হয়ে চতুর্থ জীবনে চলে যাবে।
( #৪)
৪। #রূহের_চতুর্থ_জীবন- বারযাখ।

আরবী ‘বারযাখ' শব্দের অর্থ পর্দা, আবরণ, ঢাকনা, বেড়া।
মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামতের জন্য শিঙ্গায় ফু দেওয়ার আগ পর্যন্ত এই জীবনের ব্যাপ্তি।

মানুষের মৃত্যুর পর পরিবার পরিজন সবার সাথেই যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। দেহকে কবরে দাফন করে দেওয়া হয়। কবর শুধু মাটির গর্তের অর্থেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং যেখানেই মানুষের মরদেহ বা তার অংশসমূহ থাকবে, সেটাই তার কবর। কাউকে কবর দেওয়া হোক বা নাই হোক, আত্মাকে বারযাখের জীবন-যাপন করতেই হবে।

কর্মফল অনুযায়ী রূহকে বারযাখের ইল্লিয়্যিন অথবা সিজ্জীনে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুণ্যবান রূহকে ইল্লিয়্যিনে এবং পাপী রূহকে সিজ্জীনে রাখা হবে। সূরা মুতাফফিফীন -83 এর অধিকাংশ জুড়েই উভয়ের বর্ণনা করা হয়েছে।

আমরা দুনিয়ার জীবনে পরিবার-পরিজন বন্ধুবান্ধব ছেড়ে চলে যাবো। তেমনি ইল্লিয়্যিনে একটি নতুন পরিবারের সাথে মিলিত হবো। রাসূল (সাঃ) বর্ণনা করেছেন, ইল্লিয়্যিনের সদর দরজায় থাকা ফেরেশতাদেরকে সেখানের অধিবাসীরা বার বার জিজ্ঞাসা করতে থাকে দুনিয়া থেকে কেউ এসেছে কিনা। যখনই নাম ঘোষণা করা হয়, তার পূর্বপুরুষ ও আগে মারা গিয়েছিলেন এমন রূহ সবাই স্বাগতম জানাতে সদর দরজায় ছুটে আসে। সে তখন উপলব্ধি করতে পারে এখানেই আসলে সবচেয়ে বড় পরিবার তার জন্যে অপেক্ষা করছিলো। পূর্বপুরুষ যাদেরকে সে দুনিয়াতে দেখেছে শুধু তারাই নয় বরং প্র-প্র-পিতামহসহ সকল আত্মীয়ের এক মহা-পূণর্মিলনী ঘটবে। পূর্বের ওরা নতুনের কাছে সবার খবর জানতে চাইবে। তবে, এটা শুধুমাত্র ইল্লিয়্যিনের ক্ষেত্রেই হবে। আল্লাহ আমাদেরকে ইল্লিয়্যিনে যাওয়ার সৌভাগ্য দান করুন, আমীন।

সিজ্জীনে এ ধরণের সুখকর কিছুই ঘটবে না। কতই না দুর্ভাগ্য যার জীবন সিজ্জীনে এসে শেষ হয়। আল্লাহ আমাদেরকে এ থেকে রক্ষা করুন, ক্ষমা করুন, আমীন ।

ইল্লিয়্যিনের রূহ্গণ সকলের সাথে মিলিত হয়ে আরামদায়ক জীবনযাপন করতে থাকে এবং দুনিয়ার লোকদের জন্যে অপেক্ষা করতে থাকে। আশাকরে যেন ইল্লিয়্যিনে আসে। দুনিয়ার কারো সাথে স্বপ্নের মাধ্যমে সাক্ষাৎ করার জন্যে আল্লাহর কাছে দুআ করে। আল্লাহ যদি সেই দুআ কবুল করেন, তাহলে দুনিয়ার ব্যক্তির ঘুমন্ত রূহের সাথে ইল্লিয়্যিনের ঐ রূহের সাক্ষাৎ ঘটান। প্রকৃতপক্ষে, আমরা প্রতিদিন ঘুমাতে গেলে আমাদের রূহ দেহ থেকে সাময়িকের জন্যে বের হয়। কুরআনে এসেছে, আল্লাহ মানুষের প্রাণ হরণ করেন তার মৃত্যুর সময়। সবাই তার নিদ্রাকালে মরে না। অতঃপর আল্লাহ যার মৃত্যু অবধারিত করেন, তার প্রাণ ছাড়েন না এবং অন্যান্যদের ছেড়ে দেন এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। [সূরা যুমার 39:42]
অনেক সময় জীবিত মানুষকেও আমরা স্বপ্নে দেখি, তা নিছক কল্পনার কারণেও হতে পারে। তার অর্থ সবসময় এই নয় যে সেই রূহ গতরাতে আমার রূহের সঙ্গে ছিল! কেবলমাত্র যখন এটা আল্লাহ-প্রদত্ত একটি সত্যিকারের স্বপ্ন, তখন আল্লাহ রূহগুলোকে আলামুল আল-আহলাম বা স্বপ্নের জগতে নিয়ে যান ও সাক্ষাৎ করান। এভাবেই আমরা মৃত মানুষকে স্বপ্নে দেখতে পাই।

প্রথম তিনটি জীবন ছেড়ে কেউ যেতে চায়নি, বারযাখে ইল্লিয়্যিনের সুখ ছেড়েও কেউ যেতে চাইবে না।

কিন্তু সিজ্জীনের রূহ আজাব ও অশান্তির স্থান ছেড়ে বাঁচতে চাইবে। সিজ্জীনের আজাব চলতে চলতে হয়তো একটা মেয়াদ শেষে আল্লাহ তা বন্ধও করে দিতে পারেন, তা শুধু আল্লাহই জানেন।

আমাদের মৃত্যু অবধারিত। দুনিয়াতে ভাল আমলের দ্বারা আমরা আল্লাহর কাছে চাই, যেন তিনি আমাদেরকে ইল্লিয়্যিনে যাওয়ার সৌভাগ্য দান করেন। আমীন।।
( #৫)
৫। রূহের পঞ্চম জীবন - হাশর

বারযাখের পর আমরা হাশরের মাঠে (রূহের পঞ্চম জীবন) উপস্থিত হবো।

আল্লাহ ফেরেস্তাকে শিঙ্গায় ফু দিতে বলবেন। প্রথম শিঙ্গায় ফু দিলে দুনিয়ার যত প্রাণী মারা যাবে, ইল্লিয়্যিন ও সিজ্জীনের যত রূহ আছে- তাদের কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যাবে। আল্লাহ পৃথিবীর সবকিছু ভেঙে চুরমার করে এক
সমতল করে পুনঃনির্মাণ করবেন। আল্লাহ আমাদের দেহ (যেখানেই ছিল) এনে ভূপৃষ্ঠের নিচে জমা করবেন এবং রূহগুলোকে যার যার দেহে ফেরত দিবেন। আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতা দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফু দিবেন এবং আমরা সবাই জেগে উঠবো ও পঞ্চম জগতে এসে পৌঁছাবো।

মানুষ, জীন, পশুপাখি, পোকামাকড় সবাইকে একত্রে জড়ো করা হবে সেদিন এক অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। সদ্য জন্মানো শিশু যেমন নিজে থেকে কোনো কিছু করার ক্ষমতা থাকে না, তেমনি আমাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর খুব সীমিত পরিমান নিয়ন্ত্রণ থাকবে। আমরা কোনো এক শক্তির টানে নির্দিষ্ট দিকে হেঁটে কেয়ামতের মাঠে এসে মিলবো। এই মহামিলন খুবই অদ্ভুত, কে আমার মা, কে বাবা কেউ কারো খোঁজ করবে না, জানতেও চাইবে না। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, অতঃপর যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে, সেদিন তাদের পারস্পরিক আত্নীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে না। [সূরা মু'মিনুন 23:101]
আমরা সেইদিন কেউ কারো জন্যে সহানুভূতি অনুভব করবো না, কাউকে সাহায্য করতে চাইবো না, কাউকে দেখামাত্র দ্রুত পালাবো পাছে সে যদি আমাকে সাহায্যের অনুরোধ করে বসে। অতঃপর যেদিন কর্ণবিদারক নাদ আসবে, সেদিন পলায়ন করবে মানুষ তার ভ্রাতার কাছ থেকে, তার মাতা, তার পিতা, তার পত্নী ও তার সন্তানদের কাছ থেকে। সেদিন প্রত্যেকেরই নিজের এক চিন্তা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে। অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে উজ্জ্বল, সহাস্য ও প্রফুল্ল এবং অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে ধুলি ধূসরিত। তাদেরকে কালিমা আচ্ছন্ন করে রাখবে। তারাই কাফের পাপিষ্ঠের দল। [সূরা আবাসা 80:33-42]

সেদিন আমি একটি রূহ, নিজের চিন্তায় নিজে ব্যস্ত থাকবো। লক্ষ বছরের রূহের জগৎ, হাশরের মাঠের পঞ্চাশ হাজার বছর ও অনন্ত-অসীম জান্নাত/জাহান্নামের তুলনায় - মাতৃগর্ভে কয়েকমাস এবং দুনিয়ার ৬০-৭০ বছরের জীবনকে খুবই খুবই নগন্য মনে হবে এবং আফসোস লাগবে। তাই কুরআনের বিভিন্ন স্থানে (রূহের এই সুদীর্ঘ জীবনের সাথে তুলনায়) দুনিয়ার ৬০-৭০ বছরের পুরো জীবনকে ১ দিন বা ১ বেলার সমান গণ্য করা হয়েছে। এখন হাশরের ময়দানের ওই পঞ্চাশ হাজার বছরকে, আমলভেদে বিভিন্ন রকম অনুভূত হবে।

যদি পুণ্যবান হন, রাসূল (সাঃ) এর সান্নিধ্যে আরশের নিচে ছায়ায় কাওসারের পানি পান করবেন। আবুবকর, ওমর, উসমান প্রমুখ সাহাবীগণ (রাঃ) হবেন আপনার সঙ্গী। আদম (আঃ) থেকে শুরু করে নবী রাসূলগণ একত্রিত হয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশে ঐসময়টুকু পার করবেন। পঞ্চাশ হাজার বছরকে তখন ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজের মতো ছোট সময় মনে হবে।

অার যারা পাপাচারী তারা ওই সুদীর্ঘ সময় খোলা মাঠে উদভ্রান্তের মতো ছুটাছুটি করবে। সূর্য মাথার এক বিঘৎ উপরে থাকবে। তারা এতটাই অস্থির থাকবে যে, তারা চাইবে ভালোমন্দ যাইহোক বিচার করে রায় দিয়ে দেওয়া হোক - এখান থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া দরকার। আর এটাই প্রথমবার, যখন মানুষ এক জগৎ ছেড়ে পরবর্তী জগতে যেতে চাইবে। কেউ হাশরের মাঠে থাকতে চাইবে না - যে শাস্তি পাচ্ছে, সে পালতে চাইবে।

আর যে ভালোসময় কাটাচ্ছে সে জান্নাতে গিয়ে আরো ভালোসময় কাটানোর জন্যে অধীর হয়ে অপেক্ষা করবে।
( #৬)
৬।রূহের ষষ্ঠ জীবন- জান্নাত/জাহান্নাম

আল্লাহ আমাদেরকে রূহের পঞ্চম জীবন থেকে রূহের ষষ্ঠ জীবন জান্নাত/ জাহান্নামে ভিন্ন ভিন্ন দেহে স্থানান্তরিত করবেন।
জান্নাতির দেহ ও জাহান্নামির দেহ একরকম হবে না। জাহান্নামির দেহ বড় হবে যেন শাস্তির ভোগান্তিও বেশি হয়। সেখানে সীমাহীন আজাব চলতে থাকবে। আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং এ থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন, আমীন।

ঈমানদার কেউ জাহান্নামে গেলেও শাস্তির মেয়াদ শেষ হলে জান্নাত পাবে। জান্নাতে যাওয়ার আগে তাকে মা-উল হায়াতের পানি ঢেলে পরিশুদ্ধ করা হবে। এটা মানুষকে অনন্ত হায়াৎ দিবে। আল্লাহ একটি নতুন সুন্দর দেহ দিবেন, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান বর্ণনা শুনেনি এবং কোনো হৃদয় কখনো কল্পনাও করতে পারেনি।

জান্নাতে সবাই উৎসবমুখর সময় কাটাবে। খাওয়া ও গল্পে মশগুল থাকবে। এ সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা কুরআনে পাওয়া যায়, তাদের জন্যে রয়েছে নির্ধারিত রুযি, ফল-মূল এবং নেয়ামতের উদ্যানসমূহ। তারা সম্মানিত। তারা মুখোমুখি হয়ে আসনে আসীন থাকবে। তাদেরকে ঘুরে ফিরে পরিবেশন করা হবে স্বচ্ছ পানপাত্র। সুশুভ্র, যা পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু। তাতে মাথা ব্যথার উপাদান নেই এবং তারা তা পান করে মাতালও হবে না। তাদের কাছে থাকবে নত, আয়তলোচনা তরুণীগণ। যেন তারা সুরক্ষিত ডিম।

জান্নাতে আমাদের আর মৃত্যু হবে না। আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া এবং আমরা শাস্তি প্রাপ্তও হব না। নিশ্চয় এটাই মহা সাফল্য। [সূরা আস-সফ্ফাত 37:41-60]

মূলকথাঃ
আমরা দুনিয়ার যা কিছুকেই সাফল্য ভাবি না কেন চূড়ান্ত সাফল্য হচ্ছে বারযাখে আরামে থাকা, হাশরের মাঠে রাসূল (সাঃ) এর সান্নিধ্য পাওয়া এবং জান্নাতে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ। সুবহানাল্লাহ।।
আল্লাহ আমাদের সকলকে জান্নাতের ভাগীদার করুন, আমীন।।

20/07/2026

আর্জেন্টিনা সমর্থকদের চোখের পানি

প্রবাসী কার্ড আগামী মাসে পরীক্ষামূলক উদ্বোধন; মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধাপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রবাসী ...
19/07/2026

প্রবাসী কার্ড আগামী মাসে পরীক্ষামূলক উদ্বোধন; মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠিত বৈঠকে জানানো হয়েছে, আগামী মাসে পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসী কার্ড চালু করা হবে। কার্ডের মাধ্যমে বিমানবন্দর সেবা, চিকিৎসায় ছাড়, মরদেহ দেশে আনা, পুনর্বাসন, রেমিট্যান্স সুবিধা, ব্যাংকিং, বিনিয়োগ, সরকারি সেবায় অগ্রাধিকারসহ ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন প্রবাসীরা।

প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংক প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করবে। ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

07/07/2026

হাহাহা

আপনি সত্যিই জিতে গেছেন
07/07/2026

আপনি সত্যিই জিতে গেছেন

07/07/2026

বেছাড়া বিলাই জুতা পরার জন্য কত চেষ্টা

04/07/2026
রাউন্ড অফ ৩২ এর শেষ ম্যাচ কলম্বিয়া বনাম ঘানা
04/07/2026

রাউন্ড অফ ৩২ এর শেষ ম্যাচ কলম্বিয়া বনাম ঘানা

17/03/2026

স্বর্ণের বাগান দেখেন
রমজানের প্রথম দিকে যে পরিমাণ দাম বেড়েছে

Ali Hasan

Address


Telephone

+8801837523135

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ali Hasan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share