01/08/2026
ডাক্তার হতে বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন লাগে।
উকিল হতে বার কাউন্সিল রেজিষ্ট্রেশন লাগে।
ইঞ্জিনিয়ার হতে আইইবি রেজিষ্ট্রেশন লাগে।
একজন নার্স, একজন স্থপতি,একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, একজন ফার্মাসিস্ট প্রত্যেকের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে একটা নিয়ন্ত্রক সংস্থা, একটা যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া, একটা জবাবদিহিতার কাঠামো।
অথচ যে পেশাকে বলা হয় "গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ", যাকে ডাকা হয় "জাতির বিবেক" নামে, সেই সাংবাদিকতায় ঢোকার জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বাধা নেই। একটা কার্ড, একটা মোবাইল, একটা মাইক্রোফোন; ব্যস, হয়ে গেলেন সাংবাদিক।
অথচ এই পেশার একটা ভুল সংবাদ, একটা মিথ্যা তথ্য, একটা যাচাইবিহীন বিবৃতি লক্ষ মানুষের বিশ্বাস, একটা রাষ্ট্রের সামাজিক স্থিতিশীলতা, এমনকি একটা মানুষের জীবন পর্যন্ত ধ্বংস করে দিতে পারে।
একজন ডাক্তারের ভুল প্রেসক্রিপশনে একজন মানুষ মরে; একজন কোয়াক সাংবাদিকের ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদে দাঙ্গা লাগে, গণপিটুনি হয়, একটা পুরো জাতি বিভ্রান্ত হয়। ক্ষতির পরিধি বরং এখানে অনেক বেশি বিস্তৃত।
নিয়ন্ত্রণহীনতার এই ফাঁকটাই ব্যবহার করছে একদল অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত সুযোগসন্ধানী। প্রকৃত সাংবাদিকতার শিক্ষা নেই, অনুসন্ধানের ধৈর্য নেই, তথ্য যাচাইয়ের নূন্যতম জ্ঞান বুদ্ধি নেই কিন্তু ক্যামেরার সামনে চটকদার ভঙ্গি, আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ আর ভাইরাল হওয়ার তীব্র তাড়না আছে। ফলাফল: মনগড়া তথ্য, অর্ধসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিকৃতি যা লাইক-শেয়ার-সহমত কমেন্টের বন্যায় ভেসে যায় সহজেই।
এই টিআরপি-নির্ভর অপসাংবাদিকতাই আজ বাংলাদেশের সামাজিক অস্থিরতা, গুজব-নির্ভর সহিংসতা আর তথ্য-বিভ্রান্তির সবচেয়ে বড় উৎস।
অথচ এর সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরাই। যারা বছরের পর বছর সাংবাদিকতা পড়াশোনা করে, মাঠে নেমে সোর্স যাচাই করে, নিরপেক্ষতার নীতি মেনে কাজ করেন তাদের সবার গায়েই লেগে যাচ্ছে "সাংবাদিক মানেই অবিশ্বস্ত" এই তকমা।
অন্য সব পেশায় লাইসেন্স যেখানে যোগ্যতার প্রমাণ আর জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা সেখানে সাংবাদিকতা এখনো উন্মুক্ত মাঠ। সময় হয়েছে এই মাঠে বেড়া দেওয়ার। নিবন্ধন, যোগ্যতা যাচাই, লাইসেন্সিং পরীক্ষা চালু হোক প্রিন্ট ইলেকট্রনিক কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া সব ধরনের সাংবাদিকতা প্ল্যাটফর্মের জন্য।
'জাতির বিবেক' দের বিবেক জাগ্রত হোক।
-আরেফিন রুশো