10/09/2026
একটা জাহেলি রসম
বোন তার অংশ গ্রহণ করলে বাপের বাড়ি আসা-যাওয়া বন্ধ 🔴
পৃথিবীর কোনো কোনো ভূখণ্ডে যে জাহেলি রসম প্রচলিত রয়েছে, আমাদের দেশেও কোনো কোনো অঞ্চলে সেটা অনুসৃত হতে দেখা যায়। রসমটা হল, বোনদেরকে পিতা-মাতার পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে কোনো অংশ প্রদান না করা। না ভাই নিজে বোনের অংশ বোনকে বুঝিয়ে দেয়, আর না বোন তা দাবি করার সাহস করে। ঈমানি কমজোরি ও সহীহ ইল্মের প্রচার-প্রসার না থাকার কারণে মুসলিম সমাজেও এই জাহেলি রসম অনুপ্রবেশ করেছে এবং এতটাই প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে যে, ভালো ভালো 'দ্বীনদার' পরিবারেও এ বিষয়ে যথেষ্ট উদাসীনতা লক্ষ করা যায়। এমনকি (আল্লাহ্র পানাহ) কেউ এটাকে একটা নীতি বানিয়ে নিয়েছেন যে, মীরাস গ্রহণ করার পর তাদের আর আসা-যাওয়ার অধিকার থাকে না। আসা-যাওয়া যদি করতেই হয়, তাহলে মীরাস তারা পাবে না।
অথচ বোন-ফুফুদের ব্যাপারে আত্মীয়তার দায়িত্ব পালন করা একটি স্বতন্ত্র ফরয; মীরাসের অংশের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। মীরাসে তাদের যে অংশ নির্ধারিত রয়েছে সেটা তাদের প্রাপ্য। এর সঙ্গে আত্মীয়তার দায়িত্ব পালন করার বিষয়টিকে যুক্ত করা কীভাবে বৈধ হতে পারে?
তারা যদি মীরাসের অংশ গ্রহণ করেন, তাহলে উত্তম কাজ করেছেন। এজন্য তাদেরকে মুবারকবাদ দেওয়া উচিত এবং তাদের দেখা-শোনা, আদর-আপ্যায়ন আরও বেশি করে করা উচিত।
মনে রাখা উচিত, মীরাসের অংশ দাবি করা বা গ্রহণ করার কারণে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যে, এখন আর আত্মীয়তার কোনো দায়িত্ব নেই, আত্মীয়তার সকল দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্তি মিলেছে-এটা শুধু চরম ধরনের ভ্রান্তিই নয়, জঘন্য ধরনের জাহেলি রসম, যার সামনে অন্য বহু রসম ম্লান হয়ে যায়। আল্লাহ্ তাআলাই আমাদের অবস্থার ওপর রহম করনেওয়ালা।