06/06/2026
৬ জুন: এক না-ফেরার দিনের স্মৃতি
____________________________
২০১২ সালের ৬ জুন—তারিখটি আমাদের পরিবারের জন্য শুধু একটি দিন নয়, এটি এক গভীর শোকের নাম, এক অপূরণীয় শূন্যতার নাম। এই দিনেই সৌদি আরবে এক আকস্মিক দুর্ঘটনায় আমার বড় ভাই নজরুল ইসলাম আমাদের ছেড়ে না-ফেরার দেশে চলে যান।
এতগুলো বছর পেরিয়ে গেছে, তবুও ৬ জুন এলেই মনে হয় ক্ষতটা যেন নতুন করে রক্তাক্ত হয়ে ওঠে। সেই দুঃসহ স্মৃতিগুলো আজও হৃদয়ের গভীরে কাঁটার মতো বিঁধে থাকে। ভাইয়ের কথা মনে পড়লে বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে। আমি জানি, আমার আব্বা-আম্মার হৃদয়ের ব্যথা আরও গভীর। সন্তানের মৃত্যু যে কত বড় বেদনা, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবুও প্রতি বছর এই দিনে আব্বা তাঁর প্রিয় সন্তানের রুহের মাগফিরাতের জন্য মিলাদের আয়োজন করতে কখনো ভুল করেন না।
আমাদের বাড়ির কাছে বড় ভাইয়ের কবরের মাঝামাঝি স্থানে একটি গোলাপি জবা ফুলের গাছ আছে। প্রতিদিন চলার পথে গাছটি চোখে পড়লে মনে হয়, সে যেন নীরবে ভাইয়ের স্মৃতির পাহারায় দাঁড়িয়ে আছে। ফুলগুলো বাতাসে দুলতে দুলতে যেন অজানা ভাষায় স্মৃতির গল্প বলে যায়। তখন মনটা ভারী হয়ে ওঠে, চোখের কোণে জমে ওঠে অশ্রু।
একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষের আকস্মিক মৃত্যু যে কত ভয়াবহ বাস্তবতার জন্ম দেয়, তা আমরা নিজের জীবনে অনুভব করেছি। বড় ভাই ছিলেন আমাদের পরিবারের শক্তি, সাহস আর নির্ভরতার প্রতীক। তাঁর চলে যাওয়ার পর পরিবারের ওপর নেমে এসেছিল অনিশ্চয়তার দীর্ঘ ছায়া। তিনি রেখে গেছেন দুই সন্তান ও একজন স্ত্রী। তাদের বুকের ভেতরের শূন্যতা, তাদের প্রতিদিনের নীরব কান্না, তাদের অদেখা কষ্ট—হয়তো আল্লাহ ছাড়া আর কেউ পুরোপুরি জানেন না।
আমার বড় ভাই শুধু একজন মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের মাথার ওপরের একটি বিশাল ছাতা। যে ছাতার নিচে আমরা নিরাপত্তা, স্নেহ আর আশ্রয় খুঁজে পেতাম। সেই ছাতা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে যেন প্রতি বছরের ৬ জুন আমাদের জীবনে অদৃশ্য বৃষ্টি নেমে আসে। বাইরে হয়তো আকাশ পরিষ্কার থাকে, কিন্তু আমাদের হৃদয়ের আকাশ ভিজে ওঠে অশ্রুতে।
হে আল্লাহ, তুমি আমার বড় ভাই নজরুল ইসলামকে ক্ষমা করে দাও, তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগানে পরিণত করো। তাঁর রুহের মাগফিরাত দান করো এবং জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করো। আমিন।
— মো. ইউনুছ
সম্পাদক,খোশবাস বার্তা।