09/09/2026
গিরিশচন্দ্র সেনের পূর্বেও বেশ কয়েকজন কুরআনের বাংলা অনুবাদ করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন, তবে তাঁদের কাজগুলো ছিল আংশিক (যেমন শুধু আমপারা বা নির্দিষ্ট কিছু পারা) [১.১.১, ১.৩.৮]। গিরিশচন্দ্র সেনই প্রথম ব্যক্তি যিনি পুরো ৩০ পারা বা সম্পূর্ণ কুরআনের একটি সফল পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করতে পেরেছিলেন [১.১.১, ১.৩.৭]।গিরিশচন্দ্র সেনের পূর্বে যাঁরা অনুবাদ করেছিলেন বা উদ্যোগ নিয়েছিলেন:শাহ মুহম্মদ সগীর (১৪শ শতক): প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের এই বিখ্যাত কবি প্রথম প্রাচীন বাংলা ভাষায় কুরআনের কিছু সূরার পদ্যানুবাদ করেছিলেন [১.৩.৪]।মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া (১৮০৮ খ্রিষ্টাব্দ): গিরিশচন্দ্র সেনের জন্মের আগেই তিনি প্রথম বাংলায় কুরআনের ৩০তম অংশ বা 'আমপারা'র আংশিক অনুবাদ ও প্রকাশ করেন [১.১.১, ১.৩.৮]।রাজেন্দ্রনাথ মিত্র (১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দ): গিরিশচন্দ্র সেনের পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রকাশের কয়েক বছর আগে তিনি কুরআনের কিছু অংশের একটি খণ্ডকালীন অনুবাদ প্রকাশ করেছিলেন [১.৩.৫]।একটি ঐতিহাসিক বিতর্ক ও ভুল ধারণাঅনেক জায়গায় একটি বিভ্রান্তি ছড়ানো হয় যে, মৌলভী নাঈমুদ্দীন ১৮৩৬ সালে প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন এবং গিরিশচন্দ্র সেন কেবল তার প্রকাশক ছিলেন [১.১.২]। গবেষকদের মতে এই দাবিটি ঐতিহাসিকভাবে ভুল। কারণ মৌলভী নাঈমুদ্দীনের জন্মই হয়েছিল ১৮৩২ সালে (মতান্তরে ১৮৪৫)। ১৮৩৬ সালে তাঁর পক্ষে অনুবাদ করা অসম্ভব ছিল [১.৩.৮]। মূলত মৌলভী নাঈমুদ্দীন কুরআনের প্রথম মুসলিম অনুবাদকদের একজন ছিলেন, যিনি ১৮৮৭ থেকে ১৮৯৯ সালের মধ্যে কুরআনের প্রথম ৯ থেকে ১০টি পারার (আংশিক) বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেছিলেন, যা গিরিশচন্দ্র সেনের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদের (১৮৮৬) পরে সম্পন্ন হয়েছিল [১.১.১, ১.৩.৮]।
source: geminiai, wikipedia, quora, shikkhok batayon.