04/05/2026
গতকাল ডাক্তারের মুখে পুরো ঘটনাটা শুনে কি লিখবো বুঝতেছিনা 😰
মেয়েটি এতিম। ৪-৫ বছর আগে বাবা মারা গেছেন। মা সিলেটে অন্যের বাসায় কাজ করেন শুধু মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য। নানীর কাছে থেকেই বড় হচ্ছিল সে।
ভালো মানুষ হবে, ধর্মীয় শিক্ষা পাবে এই আশায় মা তাকে ভর্তি করিয়েছিলেন এলাকার "ফাতেমা তুজ জোহরা কওমি মহিলা মাদ্রাসায়"
ঘটনাটা গত নভেম্বরের। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আমানুল্লাহ সাগর ছুটির পর মেয়েটিকে বারান্দা ঝাড়ু দিতে বলেন। এরপর কৌশলে নিজের রুমে ডাকেন। রুমে ঢোকার পর দরজা বন্ধ করে দেন… তারপর শুরু হয় এক ভয়ংকর অধ্যায়।
শুধু একবার না ৫ থেকে ৭ বার এই জঘন্য কাজ করা হয় শিশুটির সাথে।
বাচ্চাটা কাউকে কিছু বলেনি। কারণ তাকে ভয় দেখানো হয়েছিল৷ সে জন্যে চুপ করে ছিল সে৷
মার্চ মাসে নানীর সন্দেহ হয়, যখন মেয়েটার পেট অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে থাকে। তাকে ডাক্তারের কাছে নেওয়া হয়।
ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন, কী হয়েছে?
মেয়েটি প্রথমে কিছুই বলতে চায়নি। শুধু কাঁপা কাঁপা গলায় বলেছিল, “ম্যাডাম… পেটে ভার লাগে… কিছু একটা নড়ে…”
আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর ডাক্তার যখন জিজ্ঞেস করলেন— “এই কাজ কে করেছে?”
মেয়েটি শুধু দুবার বলেছিল “হুজুর…” তারপর আতঙ্কে চারদিকে তাকাতে থাকে৷
বর্তমানে মেয়েটি ২৭ সপ্তাহের গর্ভবতী। ১১ বছরের একটি শিশু… যার নিজের ওজনই ৩০ কেজি হয়নি তার শরীরে এখন আরেকটা প্রাণ।
ডাক্তাররাও দিশেহারা। তার শরীরে হিমোগ্লোবিন মাত্র ৮.৫। শারীরিক গঠন পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় নরমাল ডেলিভারি সম্ভব নয়। আবার ২৭ সপ্তাহে সিজার করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
হয়তো ক্রানিওটমি অর্থাৎ গর্ভস্থ শিশুর মাথা ছোট করে বের করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই৷
ভাবুন একবার! যে মা-বাবা ধর্মীয় শিক্ষার আশায় সন্তানকে মাদ্রাসায় পাঠান, তারা এখন কাকে বিশ্বাস করবেন?
এই ১১ বছরের শিশুটির ভবিষ্যৎ কী? সে কি কোনোদিন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে?
কিছু বলার ভাষা নেই… এ কেমন দেশ, কেমন মানুষ! ইয়া আল্লাহ… তোমার কাছেই বিচার দিলাম। 🙂