12/04/2026
বিএনপির সম্ভবত প্রথম ফেইল্ড মন্ত্রী হতে পারেন এসানুল হক মিলন। তার কথাবার্তা শুনলে মনে হচ্ছে, তিনি এখনও ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে আটকে আছেন। সারাক্ষণ শুধু “নকল, নকল, নকল”—এই এক কথাই বলে যাচ্ছেন।
অথচ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার মূল সমস্যা কিন্তু নকল না। বিষয়টি এখন অনেক বেশি জটিল।
দেখুন, ২০০১ সালে যখন তিনি দায়িত্ব নেন, তখন নকলই ছিল আমাদের প্রধান সমস্যা। প্রচুর পরিমাণে নকল হতো এবং সেটাকে সামলানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই সময় তিনি এটি বেশ ভালোভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছিলেন।
কিন্তু বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থা ধাপে ধাপে সিস্টেমেটিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
প্রথমত, কারিকুলাম নিয়ে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাংলা মিডিয়ামের কারিকুলামটি আপডেটেড নয় এবং যুগোপযোগীও নয়।
দ্বিতীয়ত, ভালো মানের শিক্ষকের ভয়াবহ অভাব দেখা যাচ্ছে। শিক্ষকদের বেতন যথাযথভাবে বাড়ানো হয়নি। শিক্ষকদের আগের মতো সম্মানও নেই। সো এখন এই পেশায় যারা আসছেন, তারা মূলত ভালো কোন অপশন না পেয়েই আসছেন। ফলে যারা পড়াচ্ছেন, তাদের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
যারা পড়াবে তারাই যথেষ্ট যোগ্য না হয়, তাহলে তারা কীভাবে যোগ্য মানুষ তৈরি করবে?
তৃতীয়ত, সরকারি স্কুল-কলেজগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। ঠিকমতো ক্লাস হয় না। স্কুল প্রচুর পরিমানে বন্ধ থাকে। শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাসে আসছেন কিনা—তারও কার্যকর মনিটরিং নেই।
একসময় সরকারি স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা ছিল। ভালো ছাত্রছাত্রীরা সেখানে পড়তে চাইত। কিন্তু এখন যার মিনিমাম সামর্থ্য আছে, সে আর সরকারি স্কুলে পড়ানোর কথা চিন্তাও করে না। বরং যেভাবেই হোক ইংলিশ মিডিয়ামে ভর্তি করানোর চেষ্টা করে।
কারণ বাংলা মিডিয়ামের কারিকুলাম মানসম্মত না। ইংলিশ মিডিয়ামের কারিকুলামের সাথে তুলনা করলে স্পষ্ট বোঝা যায় আমরা কতটা পিছিয়ে আছি।
কিন্তু এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না তুলে মিলন সাহেব সারাক্ষণ শুধু নকল বন্ধ করার কথাই বলছেন—সিসিটিভি লাগাবেন, এটা করবেন, সেটা করবেন।
বাস্তবতা হলো, এখন নকলের ধরনই বদলে গেছে। এখন পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায়। প্রিন্টিং প্রেস থেকে লিক হয়, অথবা বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে নকল করা হয়।
অর্থাৎ, এটি আর ২০০১–২০০৬ সালের সমস্যা নয়। আর বর্তমানের মূল সমস্যাও নকল নয়।
এই সমস্যাগুলো এড্রেও না করে যদি সেই ২৫ বছরের আগের গানই গাইতে থাকেন তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান সংকট থেকে যাবে।
কারো যদি মিলন সাহেবের সাথে যোগাযোগে থাকে, তাহলে তাকে এই বিষয়গুলো বোঝানোর চেষ্টা করা উচিত। যেন তিনি পুরোনো চিন্তা থেকে বের হয়ে বর্তমান বাস্তবতা অনুযায়ী পরিকল্পনা করেন।
কারণ, বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর এই মুহূর্তে শিক্ষা। এই সেক্টরকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার উপরই নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ সাফল্য বা ব্যর্থতা।
এখানে যদি কেউ এখনও ২০০১–২০০৬ সালের চিন্তায় আটকে থাকে, তাহলে তা দেশের জন্য কোনোভাবেই ভালো ফল বয়ে আনবে না।
-শাহরিয়ার আহমেদ সাদিব