26/12/2025
কথা ঘুরিয়ে বলার কিছু নেই। সব দেশগুলোতে সরকার আর বিরোধী দল—এই দুইটাই আসলে একই এলিট ক্লাবের সদস্য। শুধু চেয়ার বদলায়, খেলাটা একই থাকে।
এক দল ৫–১০ বছর ক্ষমতায় থাকে। এই সময়ে লুটপাট, দুর্নীতি, ক্ষমতার দম্ভ—সব শেষ। মানুষ বিরক্ত হয়ে বলে, “আচ্ছা, এবার বিরোধীদের দেই।” বিরোধীরা আসে, কিছুদিন ভালো ভালো কথা বলে, তারপর তারাও একই পথে হাঁটে। আবার লুট, আবার নাটক। এভাবেই চক্র ঘুরতে থাকে।
বাংলাদেশে তো এই নাটক আরও পুরোনো। আওয়ামী লীগ আর বিএনপি—এই দুই দল মিলে দেশের রাজনীতি একেবারে ঘুর্ণায়মান দরজায় পরিণত করেছে। এক দল ঢোকে, আরেক দল বের হয়। কিন্তু দেশ যেখানে ছিল, সেখানেই থাকে।
আওয়ামী লীগ গত সতের বছর ধরে কী করেছে—সেটা আলাদা করে বলার দরকার নেই। ফ্যাসিবাদ, বাকস্বাধীনতার কবর, দুর্নীতির মহোৎসব—সবই জনগণ নিজের চোখে দেখেছে। আর বিএনপি? ওরা ক্ষমতায় থাকলে দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড ভেঙেছে। তখন পত্রিকা খুললেই বিএনপির কীর্তি।
এখন আবার শোনা যাচ্ছে—“আমরা প্ল্যান নিয়ে এসেছি I HAVE A PLAN ”, “আর কোনো বৈষম্য হবে না।” এই গল্প মানুষ আগেও শুনেছে। শেষ পর্যন্ত যা হয়—একই লোক, একই এলিট, একই লুটপাট।
এই দুই দল আসলে পরিবর্তন চায় না। কারণ তৃতীয় কোনো শক্তি এলে তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই সিস্টেম এমনভাবে বানানো হয়েছে, যেন নতুন কেউ ঢুকতেই না পারে। নির্বাচন, প্রশাসন, মিডিয়া—সবকিছু তাদের দখলে।
কিন্তু একটা সত্য তারা ভুলে যায়—জনগণ যদি একবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, তাহলে এই দুই দলের কাউকেই আর দরকার পড়ে না।
বাংলাদেশের জন্য দরকার তৃতীয় একটা অপশন। এমন কেউ, যাকে মানুষ সুযোগ দিলে সে জানে—এই সুযোগ শেষ সুযোগও হতে পারে। তাই দেশ গড়তে না পারলে ইতিহাস তাকে ক্ষমা করবে না।
আওয়ামী লীগ–বিএনপির এই ঘুরপাক রাজনীতি থেকে বের হতে না পারলে, সামনে শুধু নাম বদলাবে—দুর্ভোগ বদলাবে না।
অর্থাৎ, এই দুই দলই ক্ষমতায় গেলে একই গল্পের পুনরাবৃত্তি হয়। তাই বাস্তব পরিবর্তনের জন্য তৃতীয় একটি শক্তির প্রয়োজন। এমন একটি বিকল্প, যার উপস্থিতিতেই এই দুই দল বুঝবে—মানুষের সামনে আরেকটা অপশন আছে। না হলে তাদের ভোট হারানোর ভয় থাকবে না।
এই কারণেই এতদিন ধরে সিস্টেম এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে তৃতীয় কোনো শক্তি মাথা তুলতেই না পারে। কিন্তু যদি মানুষ এবার বিষয়টা বোঝে এবং নতুন কাউকে—যেমন জামায়াতে ইসলামীর মতো কোনো বিকল্পকে—একটা সুযোগ দেয়, তাহলে হয়তো সত্যিকারের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
পরিবর্তন আসবে কি না, তা নির্ভর করবে জনগণের সিদ্ধান্তের ওপর। জনগণ যদি বদলাতে চায়, তবেই বাংলাদেশ বদলাবে।